03/09/2026
ঘোড়াঘাট দূর্গ থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিণে, এই প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। বালুপাড়া, ফুলহার, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।
ঘোড়াঘাট দূর্গের আর কিছুই বাকি নেই, হাইওয়ে লাগোয়া ভাঙা মসজিদ কবরস্থান হওয়ায় খানিকটা টিকে আছে, যদিও সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোনও নীল সাইনবোর্ড নেই। আরও কিছুর খোঁজ করতে পাওয়া গেল কোনও রকমে অস্তিত্ব জানান দেয়া চিত্তিপাড়ার গম্বুজ (সেটার ইটও পাশের বাড়িতে লেগেছে), আর বালুপাড়া গ্রামে এক মসজিদের। এককালে এখানেই ছিল ঘোড়াঘাট দূর্গের এক প্রান্ত, পাশ দিয়ে বয়ে যেত বাঙালি নদী।
মসজিদ কমিটির উৎপাতে, ভেতরে আধুনিকায়ন হয়েছে। দোতলা করতে গিয়ে আগেকার প্রবেশ তোরণ আর দৃশ্যমান নেই, তবে এমনভাবে সেটাকে ঢেকে দেয়া হয়েছে যেন সহজেই ভেঙে ফেলা যায়, যেকোনও অজুহাতে। দোচালা এক কুড়েঘরের আকার দেয়া মুল ফটকের দুপাশে দুটো ছোট ঘর ছিল গম্বুজ/ছত্রী দেয়া- কি ছিল বলার উপায় নেই। মসজিদের দোতলা আবার গিয়ে থেমেছে ঠিক দোচালা ঘরের উপর। ফটকের পেছনে মরা নদীর খাত ধরে নেমেও দেখার উপায় নেই, সেখানে আবার তারা তৈরি করেছে নতুন ঘর।
মসজিদ কমিটির এক সদস্য সেখানে বসে ছিলেন (নাম-ধাম কিছুই বলতে চাননি)। ‘বাংলাদেশে এমন মসজিদ বহু আছে’…. ‘আল্লায় এটা চাননি তাই এইটা টিকে নাই’… ‘আপনে যেটারে গেট বলতেসেন সেইটা আসলে মন্দির ছিল, মসজিদের সামনে মন্দির কেন থাকবে’ এই ধরনের ফাচুকি আলাপ দিতে লাগলেন। পরিচয় দেয়ার পর একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, ‘কমিটি আছে, শুক্কুরবার করে আসেন, সবার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন’…. ‘অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেই সব করা হয়েছে’ বলতে লাগলেন। কে কার সঙ্গে কথা বলে করেছে এগুলো, ফোন নাম্বার জানতে চাওয়ার পর পর আবারও আরেকদিকে হাঁটা ধরলেন তিনি।
কি আর করা….
মসজিদের লাগোয়া পুরানো একটি ঘর সংস্কার করে ইমামের থাকার জায়গা করা হয়েছে, ভেতরটা আগের মতই আছে, আড়াইফুটি দেয়াল নিয়ে। মসজিদ খুলে দেখা সম্ভব হয়নি, যদিও আগের মত কিছু নেই, মিহরাব নতুন করে করা হয়েছে। দেখার মত আছে কেবল সেই প্রবেশ তোরণটাই। মসজিদটি মুঘল আমলের হলেও পরবর্তী সময়ে (অন্তত বৃটিশ আমলে) নানা ধরনের সংস্কার করা হয়েছিল বলেই মনে হয়। মসজিদের গম্বুজে চিনি টিকরির কাজ করা হয়েছে বছর দশেক আগে। আর উত্তরদিকে একটা কবর আছে, চিরাগদানসহ।
#ঘোড়াঘাট
#ঘোড়াঘাটদুর্গ
#প্রাচীনমসজিদ
#বাংলারইতিহাস
#ঐতিহাসিকস্থাপনা