গল্প

গল্প { আসসালামু আলাইকুম }আমাদের এই নতুন পেইজে আপনাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন,,,আমাদের সাথে থাকুন~[[[ গল্প ]]]

Plz ভাইয়া ও আপুরা পুরোটা পড়বেন।🙏🙏প্লীজ কেউ বাজে ভাবে নিবেন নাহ 😓ছেলে : বাবু কি করো?মেয়ে : এইতো জান গোসল করে আসলাম!ছেলে :...
01/09/2023

Plz ভাইয়া ও আপুরা পুরোটা পড়বেন।🙏🙏প্লীজ কেউ বাজে ভাবে নিবেন নাহ 😓
ছেলে : বাবু কি করো?
মেয়ে : এইতো জান গোসল করে আসলাম!
ছেলে : তাই তো একটা ফটো দাও তো তোমার ভেজা ন/গ্ন শরীরের!
মেয়ে : যাহ... ফাজিল কোথাকার..!
ছেলে : শুনো না বাবুণী... আজকে কি রঙের ব্রা পড়বা..?
মেয়ে : উমমমমম..কালো রঙের!
ছেলে : সত্যি..? ফর্সা দেহে তোমাকে শুধু কালো রঙের ব্রা তে ভীষণ সে/ক্সি লাগবে আমাকে কিন্তু অবশ্যই ফটো দিবা!
মেয়ে : চুপ শয়তান!
ছেলে : বলোনা দিবা..?
মেয়ে : যাহ... দুষ্টু কোথাকার!
Now there is a question...? এটা কি আদৌ ভালোবাসা...? নাকি ভালোবাসার নামে নোং/রামি?
অনেকেই তো বলেন ভালোবাসা স্বর্গীয় আল্লাহ প্রদত্ত।(নাউজুবিল্লাহ)
আল্লাহ কি আমাদের এভাবে ভালোবাসতে শিখাইছেন...? নাকি তিনি স্বর্গ থেকে মানুষের জন্য রহমত রুপে এমন ভালোবাসা আমাদের জন্য পাঠান...?কোনটা রে ভাই বোনেরা...?
দেখ ভাই...ভালোবাসা মানে গার্লফ্রেন্ডের ব্রা প্যা/ন্টি না...। সে কি রঙের ব্রা পড়ছে... তার ফিগারের সাইজ কতো কোন ব্রা তে তাকে কেমন লাগে বা ব্রা প্যা/ন্টি পড়া ফটো চাইবার নাম ভালোবাসা না...। এইটা শুধু নোং/রামি এখানে ভালোবাসা বলতে কিছু নেই..।
বরং এসব জিজ্ঞেস না করে সারাদিন তোর ভালোবাসার মানুষটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লো কিনা...তিন বেলা খেলো কিনা... গোসল করে মেয়েটা তাড়াতাড়ি চুল শুকালো কিনা...ঠান্ডা লাগছে বা জ্বর আসছে ঠিকমতো ঔষধ খেলো কিনা,,, এগুলার বারবার খোঁজ নেওয়ার নামই ভালোবাসা..।
কারণ ভালোবাসা সেটা না যেখানে কেয়ারিং বা আদর সোহাগের নাম করে গার্লফ্রেন্ডের বুকে পাছায় হাত বুলাতে ইচ্ছে করে।
আর মেয়েরা
এইযে যা দুষ্টু,,,চুপ শয়তান,, ফাজিল একটা..!!
এই কথাগুলোর মানে কিন্তু নোং/রামি করতে তুমি ছেলেটাকে বারণ করছো তা কিন্তু মোটেই না..! বরং এ কথাগুলোর মানে হলো তাকে তোমার আরো কাছে ডাকার নিরব আহ্বান। এই কথাগুলো কোনো ছেলের নোংরামি কে আরো প্রশ্রয় দেয়।
ইজ্জত হারানোর পর সে দোষ কোনো ছেলের ঘাড়ে না চাপিয়ে বরং সবসময় এইটা মনে রেখো যে তুমি না চাইলে কোনো ছেলে তোমার কাছে ঘেষা তো দূরের কথা তোমার ছায়াও মারাতে পারবে না..।
ভাইরে ১৮+ যুগে এসে সবাই কে নৈতিক কথা শুনালে কেউই তাতে কান দিবেনা..।
তবুও লিখে রাখলাম..কারণ আমি জানি আর বিলিভ করি পৃথিবীর সব ছেলে মেয়ে নষ্ট হয়ে যায়নি। এখনো অনেকেই ভালো আছে।
দোয়া করি তারা তাদের জীবন স/ঙ্গী সাথে আজীবন ভালো থাকুক!🥰

পিরিয়ড অবস্থায় বিয়ের সাজে বসে আছে তেরো বছরে ছোট্ট  বালিকা নাঈমা। হঠাৎ করেই তার পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলো। নাঈমা পিরিয়ডের অসহ্...
04/06/2023

পিরিয়ড অবস্থায় বিয়ের সাজে বসে আছে তেরো বছরে ছোট্ট বালিকা নাঈমা। হঠাৎ করেই তার পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলো। নাঈমা পিরিয়ডের অসহ্য যন্ত্রণায় পেটে হাত দিয়ে কাতরাতে থাকে। নাঈমার চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়ছে। মেয়েটা কাওকে কিছু বলতেও পারছেনা। নাঈমা এমন অবস্থা দেখে তার মা শিউলি বেগম এগিয়ে আসে। শিউলি বেগম নাঈমার মাথায় হাত রেখে বলল -- মা কি হয়েছে তোর?

নাঈমার সামনে সবাই বসে আছে তাই নাঈমা কোনো উত্তর না দিয়ে তার ঠোঁট দিয়ে নিজের ঠোঁট চাপ দিয়ে ব্যাথা সহ্য করার চেষ্টা করে। ব্যপার টা শিউলি বেগম কিছুটা বুঝতে পারে। সে নাঈমাকে নিয়ে অন্য ঘরে চলে যায়।

ঘরে নিয়ে শিউলি বেগম নাঈমাকে বলল -- কিরে তোর কি কিছু হয়েছে নাকি?

তখন নাঈমা বলল -- মা আমার পিরিয়ড শুরু হয়েছে। পেটে অসহ্য ব্যাথা করছে। আমি এই ভাবে বিয়ে করতে পারবোনা। তুমি একটু বুঝার চেষ্টা করো।

শিউলি বেগম বুঝতে পারে ব্যপার টা কিন্তু তার তো কিছুই করার নাই। সে চাইলেও বিয়েটা ভেঙে দিতে পারেনা। হটাৎ করে শোনা যায় বর এসেছে। বর এসেছে কথাটা শুনে নাঈমা আঁতকে উঠল। তার মনের ভিতরে ভয় ঢুকে গেলো। নাঈমা কান্না করতে করতে তার মাকে বলল - মা তুমি বিয়েটা ভেঙে দাও প্লিজ। আমি এই অবস্থায় বিয়ে করতে পারবোনা।

তখনই ঘরে চলে আসে নাঈমার বাবা মিজান সাহেব। মিজান সাহেব ঘরে এসে দেখে নাঈমা কান্না করছে। তখন মিজান সাহেব নাঈমার দিকে এগিয়ে আসে আর বলতে থাকে -- মারে মেয়েদের আসল ঠিকানা হলো তার শ্বশুর বাড়ি। সব মেয়েদের এটা মেনে নিতে হয়।

মিজান সাহেব আসল ঘটনা টা বুঝতে পারেনি। নাঈমা তার বাবাকে কিছু বলতেও পারছেনা। বাবাকে সে করে বলবে তার কি হয়েছে। তখন শিউলি বেগম মিজান সাহেবকে নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলো আর তাকে সব কিছুই খুলে বলল। মিজান সাহেব এমন কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো। কিন্তু কি করা যায় সে বুঝতে পারছেনা। মিজান সাহেব অনেক্ষন চেয়ারের উপরে বসে থেকে ভাবতে থাকে। আর যদি এখন বিয়েও ভেঙে দেয় তাহলে তো আর কেউ নাঈমাকে বিয়েও করবেনা। সবাই ভাববে নাঈমার কোনো সমস্যা আছে। আর নানাজন নানান কথা বলবে। তাই মিজান সাহেব সব চিন্তা বাদ দিয়ে তার স্ত্রীকে বলল -- তোমার মেয়েকে বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলো।

এই কথা বলে মিজান সাহেব চলে গেলো। শিউলি বেগম তার স্বামীর এমন ব্যবহার দেখে মোটেও অবাক হলোনা কারণ সে জানে। মিজান সাহেব যেটা বলে সেটাই করে। তারপর শিউলি বেগম নাঈমার রুমে চলে যায়।

অন্য দিকে দেখা যায়। নাঈমার হবু স্বামী রাকিব বরযাত্রী নিয়ে নাঈমা দের বাসায় চলে আসছে। মিজান সাহেব সবাইকে এনে পেন্ডেলের ভিতরে বসালো। রাকিব এই বিয়ের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। এক কথা বলতে গেলে তাকে জোর জড়বস্তু করেই বিয়ে করানো হচ্ছে। রাকিবের বাবা-মা জোরে করেই তাকে বিয়ে দিচ্ছে। মিজান সাহেব সবার সাথে কথা বলে পরিচয় হয়ে নিল।

এই দিকে নাঈমা মা তার রুমে এসে দেখে নাঈমা বসে আছে। নাঈমা তার মাকে দেখে বলল -- মা বাবা কি বলল? বিয়েটা কি ভেঙে দিয়েছেন?

শিউলি বেগম বলল -- না মা, তোর বাবকে তো চিনিস তিনি এক কথার মানুষ। যা কিছু হয়ে যাক তিনি তার কথার নড়চড় হতে দিবেনা।

-- মা, তোমার কেন এতো তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে দিতে চাইছ? আমি কি তোমাদের কাছে অনেক বোজা হয়ে গিয়েছি? আনার তো এখন পড়াশোনা করার বয়স আমি এই বয়সে কি ভাবে একটা সংসার সামলাবো? বাবা কে বলোনা বিয়ে টা ভেঙে দিতে আমি এই বিয়ে করতে চাই না মা। আবার এই দিকে আনার এই অবস্থা। আমি কি ভাবে এসব অন্য একটা লোক কে বলব মা? তুমি কিছু একটা করো প্লিজ।

-- আমি আর কিবা করতে পারি? চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে৷

-- মা একটা কাজ করো আমাকে তোমরা গলা টিপে মেরে পেলো। আমার আর এসব ভালো লাগছে না।আমি বুঝতে পারছি তোমারা আমাকে তাড়াতে চাইছ তাইনা? আমি বিয়ের পরে কি ভাবে একটা অচেনা মানুষকে এই সব বলব? তারউপর ওনার পুরো অধিকার আছে আমার উপর। যদিও আমারও আছে তার প্রতি। তবুও সে যদি চায় আমি কি না করতে পারবো। সে তো আর একটা মেয়ের এই অসহ্যনীয় যন্ত্রণার কথা টা বুঝতে পারবে না। সে তো নিজের ক্ষুদা টা নিবারন করবে। এতে যে আমার জীবনটা বেরিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যাবে মা৷ এমনিতেই আমার বয়স অনেক কম। আমি কি ভাবে এতো কিছু সামলে নেবো?

হঠাৎ করে শিউলি বেগমকে ডাক দিলেন তার স্বামী। সে উঠে চলে গেলো। একা একা রুমের মধ্যে বসে থাকে নাঈমা। মেয়েটা অঝোরে কান্না করতে থাকে। নাঈমা বুঝে গিয়েছে তার এই বিয়ে আর আটকানো সম্ভব না। তাকে এই অল্পবয়সে স্বামীর সংসার করতে হবে। শিউলি বেগম মিজান সাহেবের কাছে গিয়ে বলল -- মেয়েটা অনেক কান্নাকাটি করছে। এমনি তেই মেয়েটির বয়স অনেক কম আবার এখন এই অবস্থা।

-- কিছু করার নেই। বরপক্ষ চলে আসছে। কাওকে কোনো কিছু বুঝতে দেওয়া যাবেনা। মেয়েকে রেডি করে নিয়ে আসো তাড়াতাড়ি। বরপক্ষ অপেক্ষা করে বসে আছে। সময় নষ্ট করে লাভ নেই যাও নাঈমাকে নিয়ে আসো।

এই কথা বলতে বলে মিজান সাহেব চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে নাঈমাকে নিয়ে পেন্ডেলের ভিতরে চলে আসলো। নাঈমাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। ছোট্ট মেয়েটাকে অসাধারণ সুন্দরী লাগছে।নাঈমাকে এনে রাকিবের পাশে বসানো হলো। পিরিয়ডের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে বসে আছে। একটু পর পর পেটে হাত দিচ্ছে নাঈমা। তারপর ইসলামিক নিয়মে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বিয়ের সব কাজ শেষ করে এখন কোণে বিদায় করার সময় হয়ে গিয়েছে। নাঈমা তা মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।

শিউলি বেগম তার মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল -- মা কান্না করিস না। আমাদের কথা মনে পড়লেই চলে আসিস। এটাই তো নিয়ম, সব মেয়েদের বিয়ের পরে আসল ঠিকানা হলো তার স্বামীর বাড়ি। আমিও তো আগে অন্য বাড়ির মেয়ে ছিলাম। দেখবি কিছুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।

তারপর মিজান সাহেব নাঈমাকে রাকিবের হাতে তুলে দিয়ে বলল -- বাবা নাঈমা আমার এক মাত্র মেয়ে। তুমি ওঁকে দেখে রেখো।

এই কথা বলতে বলতে মিজান সাহেবের চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করলো। নাঈমা তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। কিছুক্ষণ পরে নাঈমাকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি দিকে রওনা দিল। ত্রিশ মিনিটের মধ্যে রাকিবের বাড়িতে পৌছে গেলো। দেখতে দেখতে রাত হয়ে গেলো। গাড়ি রাত ১২টা ছুঁই ছুঁই কিন্তু রাকিব এখনো বাসর ঘরে আসেনি। একটা রুমে মধ্যে একা একা বসে আছে নাঈমা। প্রায় এক ঘন্টা পার হয়ে গেলো নাঈমাকে বাসর ঘরে এনে বসিয়ে রেখেছে। কিন্তু রাকিবের আশার কোনো নাম নেই। এই দিকে নাঈমার মনে ভিতরে অজানা ভয় আর পিরিয়ডের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে বসে আছে। শরীর টাও ভালো লাগছে না। মনে এতটা আশঙ্কা থাকতো না। যদি না শরীর টা ভালো থাকতো। আতঙ্ক টা ক্ষনে ক্ষনে বেড়েই চলেছে। অচেনা একজন মানুষ। তার উপর ওনার পুরো অধিকার আছে আমার উপর। সে যদি চায় আমি কি না করতে পারবো। সে তো আর একটা মেয়ের এই অসহ্যনীয় যন্ত্রণার কথা টা বুঝতে পারবে না। সে তো নিজের ক্ষুদা টা নিবারন করবে। এতে যে আমার জীবনটা বেরিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়ে যাবে। এসব ভাবতে নাঈমার ভয় যেনো বেড়েই যাচ্ছে। হঠাৎ করে কারোর আশার শব্দ শুনে বুঝতে আর বাকি রইলো না রাকিব আসছে। দরজার শব্দ শুনেই নাঈমার বুকের ভিতর কেঁপে উঠলো। ভয়ে তার পুরো শরীর কাপতে থাকে। অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করলো রাকিব।

চলবে,,

#বালিকা_বধূ_
[সূচনা পর্ব]
শহিদ উল্লাহ সবুজ

১ম পর্ব যার যার কাছে পৌছাবে সকলেই লাইক কমেন্ট করবেন প্লিজ।

(((গল্প)))..

শাড়ির আচলটা এক টানে খুলে ফেললাম। তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠে সুমাইয়ার অর্ধ উলঙ্গ দেহ। আমি জানোয়ারের মত তার উপর ঝাপিয়ে পড়লা...
02/06/2023

শাড়ির আচলটা এক টানে খুলে ফেললাম। তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠে সুমাইয়ার অর্ধ উলঙ্গ দেহ। আমি জানোয়ারের মত তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। এক্ষুনি তাকে ভোগ করতে হবে। তার ধবধবে সাদা নরম দেহ অনেক আগ থেকেই ভোগ করার ইচ্ছে। আজ তা পূরণ হতে যাচ্ছে। বিছানায় তাকে ফেলেই তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। ব্লাউজটা টেনে ছিড়ে ফেলি। ভিতরেরটাও টান দিয়ে খুলবো,তখনি জানালায় কারো দাঁড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত পাই আমি। মাথাটা তুলে আমি জানালার দিকে তাকাই। সুমাইয়া বলল," কি হইছে রে। করবি না? "। আমি সুমাইয়ার কথায় কান না দিয়ে উঠে দাড়ালাম। ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগিয়ে যাই। জানালাটা কাচের। তাই বাহিরে কিছু দেখতে পাচ্ছিনা। আস্তে করে জানালাটা খুলে বাহিরে তাকাতেই দেখি,কেও একজন দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
তৎক্ষণাৎ আমি দৌড়ে দরজা খুলে বাহিরে আসলাম। ততক্ষণে পালিয়ে গেছে। কিছুই বুঝলাম না। রাত প্রায় ১ টা বাজে। এতো রাতে এই জায়গায় আসবে কে। যাইহোক আমি আবার রুমে চলে গেলাম। সুমাইয়া অর্ধ উলঙ্গই শুয়ে আছে। আমি আবার ওর গায়ের দিকে উঠতে যাবো,তখনি আবার জানালায় সেম শব্দ। আচমকা জানালার দিকে নজর দিয়ে ফেলি আমি। আর দেখতে পাই, একটা বাচ্চা ছেলে জানালায় দাঁড়িয়ে আছে।বয়স ৫ বা ৬ ছুঁই ছুঁই। তার মুখ খুবি নিষ্পাপ। আর দেখে মনে হচ্ছে সে কান্না করছে। সুমাইয়া এইবার বিরক্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে যায়। আমি সুমাইয়ার দিকে তাকাতেই সুমাইয়া বলল,
- তুই কি বা* করতে এসেছিস। কিছুই করছিস না। আমি চলে যাচ্ছি বাসায়।
- দাড়া, তোরে সারারাতের জন্য ২ হাজার টাকায় ভাড়া করেছি। এখন মাত্র ১ টা বাজে। এখনি যাবি কেন। আর জানালায় এই বাচ্চাটা কে। তোর সাথে এসেছে?
- কই বাচ্চা। মদ কি বেশি খেয়ে ফেলছিস?

সুমাইয়ার কথা শুনে হতভাগ হয়ে গেলাম। আমি আবার জানালায় তাকিয়ে দেখি কেওই নাই। সুমাইয়াকে বললাম,
-এইমাত্র একটা বাচ্চা ছিল যে, দেখিস নি?
- সর তো? কিসের বাচ্চা। আর ঘড়ি দেখ,এখন ভোর ৪ টা বাজে। রাত শেষ,আমি গেলাম।

আমার গেঞ্জিটা আমার মুখে ছুড়ে মেরে সুমাইয়া চলে গেলো। কনফিউজড হয়ে বসে গেলাম বিছানায়। রুমে ঢুকার আগে ঘড়িতে দেখেছি ১১ টা বাজে।।চোখের পলকে ৪ টা বেজে গেলো কিভাবে। মাথাটা কেমন ঝিম মেরে উঠেছে। ওমনি বিছানায় পড়ে ঘুমিয়ে গেছি।

কিন্তু এরপর থেকেই নেমে এসেছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি অভিশাপ। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘড়িতে ১১:২৫ বাজে। গতকাল রাতে সুমাইয়া নামের মেয়েটিকে ভোগ করার জন্য ভাড়া করেছিলাম। এলাকায় নামকরা বেশ্যা। তাকে নাকি যতই ভোগ করুক,তৃপ্তিই কমেনা। সবার রিভিউ শুনে আমিও ভাড়া করলাম। বন্ধুর বাসা খালি করে নিয়েও আসলাম। কিন্তু কি ঘটে গেলো। যাইহোক বাসায় যাওয়া যাক।

শোয়া থেকে উঠে বাহিরে চলে আসলাম। বাজারের একটা কোনায় এসে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাই। তখনি চোখের তলে পড়ে,রাস্তার ওপাশে কাল রাতের ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। চোখ আমার কপালে উঠার অবস্থা। ছেলেটা আমাকে ফলো করছে নাকি। একেবারে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। আমি খেয়াল করছি ছেলেটা বিড়বিড় করে কি যেনো বলতেছে। অনেক দূরে তাই শুনতে পাচ্ছিনা । কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটে গেলো ভয়াবহ একটা ঘটনা।
ছেলেটা হুট করেই রাস্তার মাঝে চলে আসে। আমি সিগারেট ফেলে ছেলেটাকে ডাক দিচ্ছি। জোরে জোরে চিল্লাচ্ছি। ছেলেটা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে হেসে যাচ্ছে। আমি দৌড়ে ওর কাছে যেতে চাইলাম,তখনি একটা ট্রাক এসে ছেলেটাকে উড়িয়ে দিলো। আমার চোখ মুখ যেনো নিমিষে অবশ হয়ে যায়। সিনটা দেখে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। সেখানেই জ্ঞান হারাই।

সব কিছু ঝাপসা । স্পষ্ট কিছু দেখছিনা। কয়েকজন মানুষ আমার চারপাশে দাড়িয়ে আছে। আমি ধীরে ধীরে উঠে বসি। ভাল ভাবে তাকিয়ে দেখি রাস্তার পাশে বসে আছি আমি। আশেপাশে লোকজন ভিড় করে আছে। একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশে হাটুগেড়ে বসে। আর জিজ্ঞেস করে," তুমি কে বাবা? হটাৎ চিৎকার দিয়ে ঘুরে পড়ে গেলে কেনো? " লোকটির কথা শুনে আমি নিজেকে নিজে চিনতে পারছিনা। একটা বাচ্চা ছেলে এক্সিডেন্ট হয়েছে, ওখানে লোক নেই,অথচ আমার চারপাশে এত ভিড় কেনো। আমি মাথা তুলে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম," একটা বাচ্চা ছেলে যে একটু আগে এক্সিডেন্ট করছে,সে কোথায়? " লোকটি আমার কথা শুনে যেনো খানিকটা অবাক'ই হয়। উনি বললেন," কই,এখানে তো গত ৩ মাস যাবত কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি। ৩ মাস আগে একটা হয়েছিলো,তাও একটা কুকুর। তুমি কি ঠিক আছো? তোমার শরীর খারাপ হয়তো। বাসায় যাও তুমি"। লোকটির কথাশুনে আমি আরো বেশি বিষ্টম্ভ হলাম। পকেট হাতিয়ে দেখি মোবাইল ফোন নাই। বুঝেছি তখন আমার হাতে মোবাইল ছিলো। কেও চুরি করে নিয়েছে। আমি উঠে দাঁড়িয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম," আঙ্কেল,কয়টা বাজে এখন? " উনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন," ১১:২৫ মিনিট"।
মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আমার। আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম ১১:২৫ এ। এখনও ১১:২৫ কিভাবে বাজবে। আমি লোকটিকে, ভাল করে দেখে আবার টাইম বলতে বললাম। উনি বললেন,১১:২৫। এদিকে আরেকজন বলল," ঠিকি তো। এখন তো ১১:২৫ বাজে। আমি হতভাগ হয়ে উনাদের ছেড়ে একটু সামনে এলাম। পকেট হাতিয়ে দেখি একটা সিগারেট আছে। ওটা ধরিয়ে আরেকটু সামনে এসে একটা রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম," মামা কয়টা বাজে দেখেন তো?" উনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমাকে উত্তর দিলেন," ১১:২৫ মিনিট"। আমি এইবার ভয় পেয়ে গেলাম।।

এক দৌড়ে চলে এসেছি নিজের বাড়ির সামনে।।বাসায় ঢুকেই বউকে ডাক দিলাম। বউ রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে। পুরো শরীরে ঘাম ওর। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- তাজকিয়া কয়টা বাজে দেখো।
- কেনো রিয়াজ? কি হয়েছে?
- দেখো তো আগে।
- ১১:২৫।

ধুপ করে বিছানায় পড়ে যাই। তাজকিয়া আমার পাশে এসে বসে। আমার কপালে ছোট ছোট ঘামের ফোটা জমে গেছে।।তাজকিয়া শাড়ির আচল দিয়ে ঘাম মুছে দেয়। প্রায় ২ মিনিট চুপ থেকে আমি আবার তাজকিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম," কয়টা বাজে? " তাজকিয়া ঘড়িতে তাকিয়ে বলল," ১১:২৫ "। লাফিয়ে উঠে আমি বললাম, " মাত্র বললা ১১:২৫। এখনও বলতেছো ১১:২৫। ঘড়ি এদিকে আনো। " তাজকিয়া ভয়ে হাতের ঘড়ি খুলে দিলো। আমি ঘড়ির দিকে এক মনে তাকিয়ে আছি। টিকটিক করে কিছুক্ষণ পর ১১:২৬ বাজে। আমি খুশিতে তাজকিয়াকে জড়িয়ে ধরলাম।।তাজকিয়ার কোনো রিয়েকশন নেই। আমি আবার ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১১:২৫ বাজে।

জ্ঞান হারাই। আবার চোখ ঝাপসা। চারপাশে বাড়ির লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ঘড়ি ঝাপসা দেখাচ্ছে। স্পষ্ট দেখছিনা। তাজকিয়াকে বললাম ঘড়িতে কয়টা বাজে,তাজকিয়া আবার উত্তর দেয় ১১:২৫।
জেদ করে আমি বসা থেকে উঠে দাড়াই। সবাই ভয়ে সরে যায়। আমি বাসা থেকে বের হয়ে দরজায় দাড়াই। মাথাটা পুরো ঝিম ধরে আছে। কি হচ্ছে আমার সাথে। ঠিক তখনি আমার চোখ উল্টানো আরেকটা ঘটনা ঘটে। আমার বাড়ির ঠিক সামনেই সেই বাচ্চা ছেলেটা দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে। এইবার আমি বুঝে গেছি,এই বাচ্চাটাই মূল নষ্টের গোড়া। দরজা থেকে দৌড়ে বাচ্চাটাকে ধরতে এগিয়ে যাই। বাচ্চাটা আমার দৌড়ে আসা দেখে উল্টো দৌড় দেয়। আমি ওর পিছু নিতে থাকি। দৌড়াতে দৌড়াতে চলে আসি এলাকার পাশের জঙ্গলে। হুট করে দাঁড়িয়ে যাই আমি। নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম,বাচ্চাটা তো সাধারণ কোনো বাচ্চা নয়। সে কাল রাত ১ টায় জানালায় কেন ছিলো,আবার নিজেই দেখলাম এক্সিডেন্ট করেছে। এরপর আবার মানুষ বলল কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি। আবার যদি এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে আমি কার পিছু নিচ্ছি।।সে তাও আমাকে জঙ্গলে নিয়ে এসেছে। আমার সাথে ভাল কিছু হতে যাচ্ছেনা। তখনি আমাকে পিছন থেকে কেও ডাক দেয়। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি কেও নেই। আবার আমাকে পিছন থেকে সেম কন্ঠে কেও ডাক দেয়। আমি পিছু ঘুরে দেখি,সেখানেও কেও নেই। তখনি ডান পাশ থেকে আরেকটা ডাক পড়ে। আমি তাকিয়ে দেখি, দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গাছটা আমাকে বলতেছে," মৃত্যুর ডাক তোর এতোই পছন্দ? ডাকার সাথে সাথেই তাকাইলি"।

গল্প- মৃত্যুর_ডাক
( পর্ব-০১)
লেখক রিয়াজ_রাজ
সবার আগে গল্প পেতে নিচের পেইজটি ফলো দিয়ে রাখুন
👉 https://www.facebook.com/profile.php?id=100085155971779&mibextid=ZbWKwL

গল্পের গ্রুপ লিংক
👉 https://facebook.com/groups/985984408460727/

পাত্রী দেখতে এসে পাত্রীর ডিভোর্সি বড়বোনকেই পছন্দ হয়ে গেল। পাত্রীর ঠিক পাশেই তার ডিভোর্সি বোন নবনী দাঁড়িয়ে আছে। আমি বিয়ের...
24/05/2023

পাত্রী দেখতে এসে পাত্রীর ডিভোর্সি বড়বোনকেই পছন্দ হয়ে গেল। পাত্রীর ঠিক পাশেই তার ডিভোর্সি বোন নবনী দাঁড়িয়ে আছে। আমি বিয়ের পাত্রীকে না দেখে নবনীর দিকে চেয়ে আছি-এই ব্যাপারটা দুইপক্ষের সবাই টের পাচ্ছে। শুধু নবনীই এখনও খেয়াল করছে না। ইশশ! মেয়েটা আমার দিকে কখন তাকাবে?

পাত্রীর ঠিক সামনের সোফায় বসে একমনে ভাবছে আমান ফাহমি। গত বছর ইন্টার্নি শেষ করতে না করতেই মাত্র এক বছরের মধ্যেই প্রফেশনাল ডাক্তার তকমা পেয়ে গেছে। বিয়ের পাত্রী রিতুও মেডিকেল স্টুডেন্ট। এ বছর থার্ড ইয়ারে উঠেছে মেয়েটা। ডাক্তারে ডাক্তারে দারুণ মিলবে ভেবেই পরিবারের কথায় রিতুকে দেখতে আসা। কিন্তু এখন কি-না তার পাত্রীর বড়বোনকেই পছন্দ হয়ে গেছে।

রিতুর বাবা ফরিদ হোসেন বেশ বিব্রত হয়ে বলে উঠলেন,
-আমার মেয়ে কিন্তু মেডিকেল কলেজে ওর ব্যাচের মধ্যে সেকেন্ড। ফার্স্ট পজিশনে আছে একটি ছেলে। তবে আশা করা যায়, রিতু তাকেও টপকে যাবে। আচ্ছা, আমরা বড়োরা তো কথা বলছিই। তোমরা বরং একটা কাজ করো বাবা। তুমি আর রিতু আলাদাভাবে কথা বলো। এই রিতু, আমানকে তোর ঘরে নিয়ে যা।

-তার আর দরকার নেই আংকেল। আমি রিতুকে নয়, রিতুর বড় বোনকে বিয়ে করতে চাই। উনাকে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

আমানের মুখে এ কথা শুনে এবার বাড়িসুদ্ধ সবাই চমকে উঠলো। পাত্রীর সামনে এ কী দুঃসাহসিক কথাবার্তা! এতক্ষণে নবনী আমানের দিকে তাকালো। মেয়েটার শান্ত দৃষ্টি, নরম পাতলা দুটি ঠোঁট। বুকের ভেতর সমুদ্রের জোয়ার তুলতে ওই দৃষ্টিই যথেষ্ট। আমানেরও তাই হলো। কিন্তু সেই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। আমানের বড় আপা ফৌজিয়া রহমান ধমক দিয়ে বলে উঠলেন,
-পাগল হয়েছিস নাকি? নবনী বিবাহিত। আর তাছাড়া গত দুইমাস আগে ওর ডিভোর্সও হয়ে গেছে। আমরা দেখতে এসেছি রিতুকে। আর তুই কি-না এখন নবনীকে পছন্দ করছিস?

ফরিদ হোসেন কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। তার কাছে তার দুটি মেয়েই কলিজার টুকরা। তাই বলে একটি মেয়ের জন্য আরেকটি মেয়ের জীবন তো তিনি নষ্ট করতে পারেন না। অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে তিনি রিতুর মুখের দিকে তাকালেন। মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে ঘরভর্তি মানুষগুলোর যুক্তিতর্ক শুনছে, যেন এখানে কোনো সার্কাসের আয়োজন হয়েছে আজ। ফৌজিয়া রিতুর হাত ধরে বললেন,
-রিতু, তুমি কিছু মনে করো না। আমরা আসলে তোমাকেই দেখতে এসেছি। আমান হয়তো বুঝতে পারছে না।

রিতু তার ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসির রেখা টেনে বললো,
-আমি আমানের সাথে একাকী কথা বলতে চাই। আপনার কি কোনো সমস্যা আছে আমান সাহেব?

আমান মাথা দুলালো। রিতু নিজেই উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলে আমান একপলক নবনীর দিকে চেয়ে চুপচাপ রিতুর পিছু পিছু ঘরে ঢোকে।
জানালার পাশে ছোট একটি চেয়ার পাতা। সেখানে বসে বাইরের দিকে চেয়ে আছে রিতু। মাথার উপর ফ্যান ঘোরার গড়গড় আওয়াজ ছাড়া যেন কারো নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে না। ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে সে রিতুর বিছানার উপর বসলো।

-আপনাকে কী বলেছিলাম, আর আপনি কী করছেন?
বেশ রুঢ় স্বরে প্রশ্ন করলো রিতু। আমান ওর দিকে তাকিয়ে দেখে, রেগেমেগে মেয়েটার নাক মুখ ফুলে গেছে। আমান কিছুটা বিব্রত হয়ে বললো,
-তোমাকে আমার পছন্দ নয়, এটা তো বললামই।

-না, আপনি শুধু এইটুকু বলেননি। আপনি নবনী আপুকে বিয়ে করতে চেয়েছেন। এটা কি আমাদের কথা ছিল?

আমান মৃদু হাসলো। কিছুদিন আগে রিতুকে দেখার জন্য বাড়ি থেকে রীতিমতো মাথাব্যথা ধরিয়ে দিয়েছিল। গতকাল চেম্বারে বসে রোগীর সিরিয়াল জানার জন্য কম্পাউন্ডারকে কল দিতে সে মোবাইল ফোন বের করে দেখে, নয়টা মিসড কল। অপরিচিত নাম্বার। জরুরি ভেবে সে কলব্যাক করে। ওপাশ থেকে একটা মিষ্টি নারীকন্ঠ বলে ওঠে,
-ডাক্তার আমান, আমি আপনার বিয়ের পাত্রী রিতু। এই মুহুর্তে আপনার চেম্বারের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। একটু জরুরি কথা ছিল। বাইরে আসবেন প্লিজ?

-রিতু! কিন্তু আমি তো একটু পরেই পেশেন্ট দেখবো। এই অবস্থায়… আচ্ছা, একটা কাজ করো। তুমি আমার চেম্বার রুমে চলে আসো। মানিককে বলে দিচ্ছি, ও তোমাকে নিয়ে আসবে।

তিন মিনিটের মধ্যেই মানিক নিজ দায়িত্বে রিতুকে ভিতরে নিয়ে আসে। আমান চেয়ে দেখে-পাতলা ছিপছিপে শরীর, লেয়ার কাটিং করা চুল এবং ভিতরে ভিতরে যেন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত এক তরুণী। ধপ করে চেয়ারে বসেই সে প্রশ্ন করলো,
-আপনি কি রেগে আছেন? নাকি শান্ত? যদি শান্ত থাকেন, তবেই কথাটা বলবো।

-তুমি বলো। সমস্যা নেই।

-আমি একটি ছেলেকে ভালোবাসি। আমার মেডিকেল কলেজের ফার্স্ট বয়৷ কিন্তু এরমধ্যে বাবা আপনার সাথে আমার বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আমি যদি আমার প্রেমিকের কথা উনাকে বলি, উনি কোনোভাবেই আমার কথা শুনবেন না। কারণ একটাই, আপনার বাবাকে কথা দিয়ে ফেলেছেন।

-তুমি জরুরি কথার বিষয়ে যখন বলেছ, তখনই বুঝতে পেরেছি। বলো এখন কীভাবে সাহায্য করতে পারি? বিয়ে ক্যান্সেল করে দেবো?

-লাভ নেই। আপনার বাবার সাথে আমার বাবার বিশাল সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমার কথা তো শুনবেই না। আপনিও পারবেন না।

-তাহলে বিয়ে করে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া কীভাবে কী করবো?

-আগামীকাল আমাকে আপনার পরিবার থেকে দেখতে আসার কথা। আপনিও আসবেন, জানি আমি। আর সেজন্যই অনেক কষ্টে আপনার ফোন নাম্বার যোগাড় করেছি। কাল আমাকে দেখতে এসে শেষ পর্যায়ে সবার সামনে বলবেন- "পাত্রী আপনার পছন্দ নয়। আপনার সাথে ম্যাচ করছে না৷ " ব্যস, দুই পক্ষের সবাই বিশাল বিড়ম্বনায় পড়ে যাবে। বাবাও এই অপমান কিছুতেই মানবে না। আর বাকিটা আমি দেখে নেবো।

গতকাল রিতুর কথামতো আমান তাকে আশ্বস্ত করলেও আজ নবনীকে নিয়ে আরেক ঝামেলা বাধিয়ে ফেলেছে। নিজেদের চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে রিতু আবার প্রশ্ন করে,
-আমার আপুকে কেন এরমধ্যে জড়িয়ে ফেলছেন বলুন তো?

-কারণ তোমার আপুকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়েছে। আমি প্রথম দেখায় উনার শুভ্রতার প্রেমে পড়েছি। উনার চোখের গভীর দৃষ্টির প্রেমে পড়েছি। আর বিয়ে করলে উনাকেই করবো। এটাই সত্যি, এটাই আমার শেষকথা।

রিতু হতবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। এদিকে বাইরে ঘরের এককোণে লজ্জায় গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নবনী। ভদ্রলোক এতগুলো মানুষের সামনে এটা কী বললেন! তাছাড়া এরপরই বা কী করবে সে!

গল্প:- #জলনূপুর (পর্ব:-০১)
লেখা- Sharifa Suhasini

কলেজ থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে খুব ভালো লেগে গেল। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম। তারপর...
03/05/2023

কলেজ থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে খুব ভালো লেগে গেল। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম।
তারপর ভাবলাম,
" সাহস করে মোবাইল নাম্বার চেয়ে দেখি, আজকের পর আর যদি কোনদিন দেখা না হয়। "

যেই ভাবনা সেই কাজ।
আমি তার কাছে গিয়ে বললাম,
" আপনার নামটা জানতে পারি? "

" কেন? "

" কারণ আপনাকে আমার ভালো লেগেছে, আমি তো প্রথম দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেছি। "

মেয়েটা খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। আশেপাশে ভালো করে তাকিয়ে আবার আমার দিকে তাকালো।
বললো,
" আপনি কিসে পড়েন? "

" ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। "

" নিউটনের সূত্র তিনটা জানেন? "

" জানতাম ভুলে গেছি। "

" সামান্য তিনটি সূত্র মনে রাখতে পারেন না, আবার রাস্তায় মেয়েদের পছন্দ করেন। "

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম। আমাদের কাছে এক আঙ্কেল গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমি আরো লজ্জা পেলাম।

এরপর মেয়েটা তার কলম বের করলো। তারপর একটা কাগজে কি যেন লিখলো। লেখা শেষ করে সেই কাগজটা আমাকে দিয়ে বললো,

" বাসায় যাবার সময় সূত্র তিনটা মুখস্থ করতে করতে বাসায় যাবেন। এখন হচ্ছে পড়াশোনা করার বয়স, এসব প্রেম ভালো লাগা অনুভব করার বয়স নয়। "

আমি কাগজটা নিয়ে অপমানিত হয়ে চলে এলাম। বেশ খারাপ লাগছে, একটু পরে বাস আসে আর আমি তখন বাসে উঠে বসি।

বাসে বসে বসে কাগজটা বের করলাম। কি ঘোড়ার আন্ডা সূত্র লিখেছে দেখতে ইচ্ছে হলো। কাগজটা বের করে আমি বোকা হয়ে বসে রইলাম।
সেখানে লেখা ছিল,

" আমার পাশে আমার বাবা দাঁড়িয়ে আছে। চাইলেও আপনার সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারবো না। আপনি কিছু মনে করবেন না, আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম। বাসায় গিয়ে কল দিবেন। আপনাকেও আমার খুব পছন্দ হয়েছে। "🙂


বিঃদ্রঃ এই গল্প শুধু মাত্র বিনোদন এর জন্য।

🥰নিত্যনতুন গল্পের পেতে আমাকে ফলো করুন।🍁

কলেজ ছুটির পর পিউ তার বন্ধু পূর্বীর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো আজ যেন দলটা বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তাই না রে!!পূর্বী:- হ্যাঁ, তুই...
18/04/2023

কলেজ ছুটির পর পিউ তার বন্ধু পূর্বীর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো আজ যেন দলটা বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তাই না রে!!

পূর্বী:- হ্যাঁ, তুই একদম ঠিকই বলেছিস। কি আর করা যাবে বল তোর আর আমার তো হয়েছে যতো জ্বালা আমাদের দলের সবাই আজ কেমন বাড়িতে আছে কিন্তু, আমাদের প্রেজেন্টেশনের জন্য ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও আজ আসতে হলো।

পিউ:- যাই হোক, এখন শুধু বাসের জানালার ধারের সিটটায় বসার জায়গাটুকু পেয়ে শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারলে বাঁচি !!

(এসব কথাবার্তার মাঝে হাঁটতে হাঁটতে দুজনে প্রায়
বাসস্ট্যান্ডের কাছে এসে পৌঁছেছে।)

তবে ওই জানালার ধারের সিটটা আজ ভগ্যে জুটলো না কারোর। কোনোমতে শেষের দিকে দুইখানা সিটে জায়গা হলো দুজনার।

পিউ:- এবার, কড-টা ব্যাগ থেকে বের করে কানে দিলো তবে, সেটা আর পাঁচজনের মতো কারো সঙ্গে ফিসফিসিয়ে কথা বলার উদ্দেশ্য নয় বরং বাসে গা গুলিয়ে ওঠা থেকে নিজেকে সামলাতে।

নিজের পছন্দমতো অরিজিৎ সিং-য়ের কয়েকটা গান শোনার পরেই মনে হলো কেউ যেন কিছু বলছে ওকে। কান থেকে কড-টা সরিয়ে সে দেখলো এক বৃদ্ধ কোনো মতে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পিউকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইছেন কলেজের কোনো ইয়ার চলছে দিদিভাই?
অচেনা মানুষ হলেও পিউ উত্তর দিলো ফার্স্ট ইয়ার।
বৃদ্ধ এবার বলে উঠলো তা বেশ। ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে কিন্তু গ্র্যাজুয়েশান কমপ্লিট করার জন্য।

(পিউ এবার ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে কডটা
আবার কানে দিলো।)
তবে, এরপরেও সেই বৃদ্ধ থামলেন না এবার শুরু করলেন ওনার সময়কার পড়াশোনার গল্প শোনাতে।
দুটো সিট আগে বসা পূর্বী সেই বৃদ্ধর গল্প শুনে পিছন ফিরে পিউয়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে লাগল।
এদিকে পিউ ভাবছে এ কার পাল্লায় পড়লাম রে বাবা কথা তো থামছেই না এনার। ভদ্রতার খাতিরে তখন তার কথায় শুধু হ্যাঁ, হু দিয়ে চলেছে পিউ।
এমন সময় কন্ডাক্টর এসে ভাড়া চাওয়ায় বৃদ্ধ একটু চুপ করলেন। তারপর, বলে উঠলো আমি যে এতো বকে চলেছি তাতে খুব বিরক্ত হচ্ছো তাই না দিদিভাই!!

পিউ:- আরে না না!
বৃদ্ধ:- আসলে, কি আর করি বলো দিনে যে কারোর
সঙ্গে কটা কথা বলবো এমন মানুষের আমার বড্ড অভাব, বয়সের সাথে সাথে চাকরির মেয়াদটাও গেছে ফুরিয়ে। এখন শুধু মাস গেলে একবার পেনশনের কটা টাকা পাওয়ার আসায় কয়েক মাইল আসা আর যাওয়া।

এখন আপন বলতে আছে আমার একমাত্র মেয়ে। সে ও তার বিয়ে হয়ে যাওয়ার আমার থেকে দূরে। রোজ ফোন করে আমাকে বলে বটে যে তুমি একা একা না থেকে আমার বাড়িতে এসে থাকলে তো পারো।

কিন্তু, আমি বারংবারই তাকে বলি না রে মা, আমার পক্ষে নিজের বাড়ির মায়া কাটিয়ে অন্য কোথাও থাকা সম্ভব নয়।
আর কি করেই বা পারি বলতো দিদিভাই ও বাড়ি ছাড়তে! মানছি, এখন সেখানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই তবে যে ছিলো তাকে এতো সহজে ভুলে যাই কেমন করে!!

পিউ , এবার অবাক হয়ে জানতে চাইলো কে ছিলো??

বৃদ্ধ:- প্রায়, সাত বছর হলো আমাকে একা করে মানুষটা চলে গেছে জীবনের অপর প্রান্তে‌। তবে জানিস দিদিভাই আজ বয়সের দোষে সব কথা মনে না রাখতে পারলেও তার প্রতিটা কথা আমার স্মৃতির পাতায় একেবারে সোনালী অক্ষরে ক্ষরিত।
অফিস থেকে ফিরলে সে কি যত্নটাই না করতো।ভালো খারাপ সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিয়ে পাশে থেকেছে সর্বদা। এককথায় বলতে গেলে শুধু আমার স্ত্রী ছিলো না রে, ছিলো আমার ঘরের লক্ষী।

এমনকি ওর জন্য আমাদের বাড়িতে পাড়ার সব বাচ্ছাদের আনাগোনা লেগে থাকতো। ওদেরকে একেবারে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করতো যে আমার সরলা।

তবে সত্যি বলতে তার চলে যাওয়ার পর আমি
আরও বেশি করে বুঝতে পারছি যে সে আমার
ঠিক কতোটা আপন।
এখন আর বাড়ি ফিরতেও ইচ্ছা করে না কারন, অপেক্ষায় বসে থাকা কাছের মানুষটা যে আর নেই সেখানে। তবে, তাও জীবন কাটছে সরলার ওই ছবিখানা কে নিয়ে যেটা ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই যেন আমার সাথে কথা বলে ওঠে, দেরীতে ফেরার কৌফিয়ত চেয়ে বসে।

পিউ এবার লক্ষ্য করলো বৃদ্ধ মানুষটার কন্ঠস্বর ক্রমশ ক্ষীন হয়ে আসছে, চশমার মোটা ফ্রেমের ওপারের দুই চোখে জায়গা করে নিয়েছে বেদনার অশ্রু।
তৎক্ষণাৎ পাশের এক ভদ্রলোক উঠে যাওয়ার বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে বললেন আপনি এখানে বসুন আমি সামনেই নামবো।
নিজেকে কোনো মতে সামলে নিয়ে বৃদ্ধ
এবার সেখানে বসলো।

কিছুটা পথ যাওয়ার পরই পিউ নিজ গন্তব্যে পৌঁছালো। বাস থেকে নেমে দুই বান্ধবী মিলে রাস্তা পার হবার জন্য দাড়িয়ে এমন সময় অগ্ৰসররত বাসের জানালা দিয়ে ভেসে এলো সাবধানে বাড়ি যাস দিদিভাই। পিউ এবার চেনা অচেনার বাঁধন কাটিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো তুমিও সাবধানে বাড়ি ফিরো দাদাভাই আর নিজের খেয়াল রেখো।

পূর্বী এসবের পর অবাক হয়ে পিউকে জিজ্ঞাসা করলো
ওটা কে তোর দাদু ?
পিউ:- আরে না রে।
পূর্বী:- তাহলে দাদাভাই বলে ডাকলি কেন?
পিউ:- সে অনেক কথা পরে বলবো এখন বলতে শুরু করলে শেষ হবে না।

কথাবার্তার মাঝে চলতে চলতে প্রায় পূর্বীর বাড়ির কাছে পৌঁছেই গেছে তবে পিউকে আরও কিছুটা পথ হাঁটতে হবে বাড়ি পৌঁছোতে। এমন সময় পূর্বীর ফোনের রিংটা বেজে উঠলো -
"স্মৃতিরা গেছে পরবাশ কথারা হয়েছে নিঝুম
এবুকে তবু বারোমাস ভালোবাসার-ই মরশুম।" 🌻❤‍🩹

গানের কথাগুলো শুনেই পিউয়ের হঠাৎ করে কেমন যেন বৃদ্ধর সব কথাগুলো মনে পড়তে লাগলো।
পূর্বী:- আসি রে।
পিউ:- হ্যাঁ,
পিউ এবার একাই হাঁটতে হাঁটতে নিজের মনে ভেবে চলছে কি অদ্ভুত তাই না এই ভালোবাসা বিষয়টা।

একদিকে বহু বন্ধুবান্ধবকে দেখি সাতদিন যেতে না যেতেই তারা ব্রেকাপ শব্দটা প্রয়োগ করে কতো অনায়াসে প্রিয় মানুষটাকে ভুলে যায়।

অপরদিকে, "পৃথিবীতে এমন মানুষও রয়েছে যে কিনা নিজের স্ত্রীর মৃত্যুর ৭ বছর পরেও তাকে প্রথম
দিনের মতোই ভালোবাসে।"😅
এমন অনেক প্রেমিক আছে যারা নিজের প্রেমিকাকে সামান্য সন্মানটুকুও দিতে পারে না।

অপরদিকে, "এমন মানুষও আছে যার ৮০ বছর বয়সে
নিজের প্রেমিকাকে হারানোর দুঃখে চোখের
কোণে জল আসে।"❤‍🩹

এমনিতে বর্তমান যুগের ক্ষনস্থায়ী ভালোবাসার প্রতি একেবারেই বিশ্বাস নেই পিউ-য়ের। কারন ওর মতে এখনকার ভালোবাসায় বেটার কাউকে পেলে মানুষ মানুষকে অনায়াসে-ই ভুলে যায়।

তবে আর যাই হোক আজ ওকে মানতেই হলো যে বর্তমান ক্ষনিকের ভালোবাসার যুগে সত্যি ভালোবাসা কখনো ফুরোয় না।

তবে, এমন ভালোবাসা জোটেই বা কজনের
ভাগ্যে যে ভালোবাসা হারানোর ৭ বছর পরেও তার কথা বলতে গেলে কন্ঠস্বর কেঁপে ওঠে, চোখের কোণে জায়গা করে নেয় অশ্রু। আর মন নীরব শব্দের বার্তা হিসাবে বলে ওঠে স্মৃতির আরালে
"এ বুকে তবু বারোমাস
ভালোবাসার-ই মরশুম।" 🌻❤‍🩹🖤🥀
কলম ও কারুকার্যে:- পিউ
গল্প 😅🍁

-  কি গো মৌ, কাজ শেষ হলো তোমার?- না গো এখনো একটু বাকি আছে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক রাত হয়েছে।- ঘুমিয়ে তো পড়বো কিন্তু তুমি ...
17/04/2023

- কি গো মৌ, কাজ শেষ হলো তোমার?
- না গো এখনো একটু বাকি আছে। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক রাত হয়েছে।
- ঘুমিয়ে তো পড়বো কিন্তু তুমি একা একা জেগে থাকবে?
- কি আর করা যাবে বলো।
- বাকিটা কাল করলে হবে না?
- না গো। ঝুমা বৌদি কালকেই সেলাই করে দিতে বলেছে।
- একটা বাজতে যায়। আর তুমি বলছো এখনো কাজ করবে! বলছি শরীরটার দিকেও তো নজর দিতে হবে নাকি।
- শরীরের আবার কি হবে! শরীর তো একদম ফার্স্টক্লাস আছে।
- সে তো জানি। তোমার শরীর সবসময় ফার্স্ট ক্লাসই থাকে। কখনো সেকেন্ড ক্লাসে যায় না।
- (মুচকি মুচকি হাসছে মৌ)
- খুব হাসি পাচ্ছে? যত ইচ্ছে হাসো। কিন্তু মেশিন থেকে উঠে আগে রেস্ট নাও।
- শুভ আমার কাজ বাকি আছে। একটু পরে শোবো। আরে, আরে মেশিন সরিয়ে দিচ্ছো কেন?
- মেশিন না সরালে তো তুমি উঠবে না। পরপর সেলাই করেই যাবে।
- শুভ বোঝার চেষ্টা করো। কাল যদি ঝুমা বৌদিকে শাড়িগুলো দিতে না পারি তাহলে তো সে আর কখনো আমাকে ভরসা করে সেলাই করতে দেবে না।
- আমি জানি আমার আর্থিক অবস্থা খারাপ বলে তোমাকে এই কাজটা করতে হয়। কিন্তু আমি এতটাও অক্ষম নই যে রাত দুটো পর্যন্ত বউকে দিয়ে কাজ করাবো।
- আরে সেটা নয়। আসলে............
- চুপ। আর কোনো কথা নয়। চুপচাপ লক্ষ্মী মেয়ের মতো শুয়ে পড়ো।
- শুভ শোনো ..........
- তবে রে কথা শুনবে না। দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা। (মৌ কে কোলে তুলে নেয় শুভ)
- শুভ এইসব কি করছো? নামাও, নামাও। আজ নির্ঘাত তোমার মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে।
- (শোবার ঘরে এনে মৌ কে বিছানায় শুইয়ে) নাও এবার চেপে একটা ঘুম দাও।
- খুব ভালোবাসো না আমাকে?
- কই না তো। আমি তো পাশের বাড়ির চম্পাকে ভালোবাসি।
- (কাঁদো কাঁদো গলায়) কি!
- অমনি চোখে জল এসে গেল। আচ্ছা আমি আমার একমাত্র বউকে ভালোবাসবো না তো কাকে ভালোবাসবো?
- আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি।
- জানি। এবার দয়া করে চোখটা বন্ধ করো। আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। ঘুমানোর চেষ্টা করো।
(শুভর স্নেহের পরশে মৌ প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে গেল)

পরদিন সকালে............................................
মৌ ঘুম ভাঙলে খেয়াল করে ঝুমা বৌদির শাড়িগুলো সব সেলাই ও ইস্ত্রি করে সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখা আছে। তারপরেই শুভ স্নান করে ঘরে ঢোকে।
- কি ম্যাডাম কেমন ঘুম হলো?
- শুভ, এই সেলাইগুলো তুমি করেছো?
- কই না তো। স্বর্গ থেকে আমার ঠাকুমা এসে করে দিয়ে গেছে।
- তোমাকে এইসব করতে কে বলেছিল? সারাদিন তো অফিসে গাধার খাটুনি খাটছো, আবার বাড়িতে এসেও কাজ করবে!
- (মৌয়ের দু-কাঁধে হাত রেখে) তুমি যদি সারাদিন বাড়িতে গাধার খাটুনি খাটার পরেও এই কাজ করতে পারো, তাহলে আমি কেন পারি না? তাছাড়া আমি তো প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন করে ছুটি পাই, কোনো পুজো কিংবা কোনো অনুষ্ঠানেও ছুটি পাই কিন্তু তুমি তো কোনো ছুটি ছাড়াই 24×7 সব কাজ করে যাচ্ছো। আর আমাদের সংসারটাও কত সুন্দরভাবে আগলে রেখেছো তুমি। আমি কি তোমাকে তার বিনিময়ে এটুকু সাহায্য করতে পারি না?
- (শুভকে জড়িয়ে) থ্যাঙ্ক ইউ শুভ।
- পাগলি একটা। এবার রেডি হয়ে নিই। অফিসে বেরোতে হবে তো।
- হু।
- এই যা!
- কি হলো?
- দেখো না শার্টটার বোতাম ছিঁড়ে গেল।
- তো কি হয়েছে? আমি আছি কি করতে?
(মৌ বোতাম সেলাই করতে শুরু করে)
- সেই তো আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আমার বাড়িতে এত সুন্দর একজন সেলাইয়ের দিদিমণি আছে।
- সুঁচটা ফুটিয়ে দিলে না সেলাইয়ের দিদিমণি বলা বেরিয়ে যাবে।
- ঠিক আছে ক্ষমা করে দাও। আর কখনো এমন বলবো না সেলাইয়ের দিদিমণি।
- আবার!
কলমে:- দিশানী(বৃষ্টিলেখা)
গল্প 🥰🍁

16/04/2023

আর তুমিও একটা ছেলে হয়ে দেখো🥺

সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে......... "মা একটা কথা বলি? আমার একটা অনুরোধ রাখবে?"মা: "তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তো...
15/04/2023

সংসারী ছেলে মা কে ডেকে বলছে......... "মা একটা কথা বলি? আমার একটা অনুরোধ রাখবে?"
মা: "তুই চাইলে আমি কি না করতে পারি? বল তোর সব কথা আমি রাখবো।"
"তোমার বৌমা বলছিলো... তোমার তো বয়স হয়েছে। এখন তো তোমার শরীরের একটু বিশ্রাম প্রয়োজন... আর এই বাড়িটা তো খুব একটা ভালো না। ছোট ঘুপচি....... তোমার কাশিটাও বেড়ে গেছে। আরো তো ডায়বেটিকস আছেই, হার্টের সমস্যা, হাড়ের সমস্যা আরো কতো কি!"
মা: "হ্যাঁ রে... মনে হয় আর বেশিদিন..."
"আহ... থামো তো মা। তোমার সব সময় দেখাশোনার জন্য কাউকে রাখতে হবে। আচ্ছা তোমাকে তাহলে গ্রামের বাড়িতে... না না ওই যে বৃদ্ধাশ্রমের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চে ভর্তি করালে কেমন হয়?...... এটাই বলছিলো তোমার বৌমা। ওখানে অনেকে থাকবে তোমার মতোই। তাদের সাথে গল্প করতে পারবে আর এ বাড়িতে তো কেউই নাই, আমি ব্যবসায় দৌড়াচ্ছি, তোমার বৌমা অফিসে আর মিঠু তো সারাদিনই স্কুলে। ওখানে তুমি আরামেই থাকবে মা। মা এটাই আমার...... মানে আমাদের অনুরোধ ছিলো।"
"আচ্ছা তুই চাইলে তাই হবে"।
"থ্যাংকস মা...... আচ্ছা কালকে বিকেলেই কিন্তু তাহলে ওখানে যাচ্ছো। তোমার ব্যাগ গুছিয়ে রাখবে।"
পরের দিন: অস্বস্তিকর জ্যামে আটকে আছে মা-ছেলে। নীরবতা ভাঙলেন মা.......
"বাবা ওখানে আমাকে দেখতে যাবি তো? পারলে একটা ফোন কিনে দিস আমাকে..."
" হা হা হা... মা তুমি ফোন দিয়ে কি করবে? আহা... ওখানে ফোন আছে তো......"
কিছুক্ষন পরে একটা পাঁচতলা বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামালো। আবার বেশকিছুক্ষন নিরব থেকে এবার ছেলে বলে উঠলো...
"নামো মা..... এটাই তো ওই বৃদ্ধাশ্রম মা। দেখেছো! বলেছিলাম না তোমার পছন্দ হবে। তোমার জন্য দোতালার দক্ষিনের ঘরটা বুকিং করে রেখেছি।"
টিং ডং টিং ডং(দরজা খুললো):
"হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ! !
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ 'মা' ! ! !"
দরজা খুলতেই চমকে গেলেন মা। আরে ওই তো তার একমাত্র নাতি আর বৌমা বিশাল একটা কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এতো বেলুন আগে কখনো দেখেননি। এতো আয়োজন করে কখনো কেউ তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানায় নি। আরে ওই তো তার দুই মেয়ে আর তাদের জামাই দাঁড়িয়ে। ওদেরও ডেকে এনেছে তার পাগল ছেলেটা।
" হ্যাপি বার্থ ডে মা"
মা: "তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস(কান্নাভেজা কন্ঠে)
কিন্তু এটা কার ঘর?"
"বাড়ির ফলকে নাম দেখোনি! বাবার নামে রেখেছি। মা পুরো বাড়িটাই আমাদের। এবার তুমি আরামে থাকতে পারবে মা।
"তুই না ! ! এমন কি কেউ করে?(কান্না ভেজা চোখে জোরে জোরে মাথা নাড়ছেন। আনন্দে কথা বলতে পারছেন না)
পার্টি শেষে ঘুমাতে যাবে এমন সময় পেছন থেকে মায়ের ডাক। হাতের ব্যাগটা আঁতিপাঁতি খুঁজে একটা কৌটা বের করে ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন।
"নে এটার আর দরকার হবে না। ইঁদুরের বিষ! চিন্তা করেছিলাম যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসিস তাহলে সেদিনই খেয়ে নেবো।"
"ধুর মা কি যে বলো! এটায় তো সেইসব কাল রাতেই পাল্টে আমি তোমার ক্যালসিয়ামের ওষুধ ভরে রেখেছি। তুমি ঘুমাও।"
মার আজ আর কিছুই চাওয়ার নেই। আর কিছু না হোক তার ছেলেকে অন্তত মানুষ করতে পেরেছে সে। যাক আজকের ঘুমটা সত্যিই আরামের হবে, ঘুমের ঔষুধ খেতে হবে না ।...... :(Md Mahfuj R)

Address

Dhakadakshin

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category