14/02/2026
আমার আর মামুর নির্বাচনে ২০-২৫% ভোট পড়েছে, এটা একেবারে পরিস্কার.. গোপালগঞ্জ ৫% এর ও কম ভোট পড়েছে, কিংবা ফেনীর মতো জায়গায় ৩০-৩৫% ভোট পড়েছে.. বৃহত্তর ঢাকায়ও ভোটের হার ১৫-২০% ক্রস করেনি, ফরিদপুর অঞ্চলে ৭-৮% ভোট কাউন্ট হয়েছে। ভোটের হার একমাত্র বেশি হয়েছে উত্তরবঙ্গে তাও ৪০% এর আশপাশে... সবমিলিয়ে শতকরা ২৫ জনের আশেপাশে এই পাতানো নির্বাচনে ভোট হয়েছে। দেশের প্রায় ৭০% মানুষ নির্বাচন বর্জন করেছে।
অর্থাৎ ২৫% জনগণ এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে, কিন্তু এই ২৫% কারা? বিএনপি অনেক সমর্থক কিন্তু এই নির্বাচনে ভোট দেয়নি নির্বাচন অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন নয় বলে। এই ২৫% হচ্ছে বিএনপি জামাতের ফ্যানবেজ ,এদের ভোটই ভাগ হয়েছে...আওয়ামী লীগের ৯০% সমর্থক ভোট দিতেই যায়নি। বিএনপির ভোট ভাগ হয়েছে.. কোন আসনে বিএনপি ৩০ হাজার ভোট পেলে ,জামাত পেয়েছে ২০ হাজার, অর্থাৎ এরমধ্যে আবার আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক ৫% তাও তারা বিএনপি জামাতের ভোটার না, সামাজিক বাস্তবতায় অনেকে ভোট দিয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি আর জামাতের ভোট ব্যাংকের মধ্যেই নির্বাচন হয়েছে।
নির্বাচনের খেলা উপর দিয়ে ফেয়ার হয়েছে, কিন্তু আসলে খেলা হয়েছে নির্বাচনের পরে। ভোটের হার এত কম হওয়ায় ইউনূস ,নির্বাচন কমিশন, আর্মি, বিএনপি ,জামাতের ,এবং এনসিপির সাথে আলোচনায় বসে। সেটাও ফেয়ার ভাগ বাটোয়ারা... দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভোটের হার ১৫% এর নিচে ছিলো। তা হঠাৎ করেই ৬০% হয়ে যায় নির্বাচন শেষে।
কোন আসনে বিএনপি ৩০ হাজার ভোট পেলে সেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার ভোট দেখানো হয়, জামাত ২০ হাজার পেলে সেটা ১ লাখ ২০ হাজার ভোট দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ফেয়ার ভাগ বাটোয়ারা, কিন্তু যে আসনে অনেক ভোট পড়েছে সে আসনে বিএনপি জামাত উভয় প্রার্থীর সাথেই লাখ, ২৫-৫০ হাজার ভোট যোগ করা হয়েছে আসন প্রতি। অর্থাৎ মামুর সাথে ভাইগ্নার ফেয়ার ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে। এই বাড়িয়ে কৃত্রিম ভোটের হার দেখেন ,এতে ইউনূসের কিংবা আর্মির কি লাভ? দেখানো হয়েছে বিএনপি জামাত বেশি ভোট পেয়েছে, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। অর্থাৎ সবার উইন উইন সিচুয়েশন। বিএনপি জামাতের হাইকমান্ডের পূর্ণ সায় ছিল এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
উত্তরবঙ্গে জামাত জিতেছে দুইটা কারণে, বিএনপির গ্রুপিং , বিএনপির ভোট প্রায় সবগুলো আসনে দুই ভাগে ভাগ হয়েছে, এর বাইরে জাতীয় পার্টির ভোট ও দুই গ্রুপ হয়েছে। বিএনপি জাতীয় পার্টির ভোট চার গ্রুপে ভাগ হওয়ায় জামাত বের হয়ে এসেছে, কিন্তু সেখানেও ২৫-৫০ হাজার করে ভোট বাড়ানো হয়েছে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থীদের। যশোরে বিএনপির অমিত গ্রুপিং করে সব লোয়ার ক্লাস প্রার্থীদের নমিনেশন দেয় এবং আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালায় ... যার ফলে যশোরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক জামাত কে ভোট দেয়.. নড়াইলেও বিএনপির গ্রুপিংয়ে জামাত বের হয়ে আসে। বাগেরহাটে জামাত স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থন পায়, এরবাইরেও কিশোরগঞ্জে ও আব্দুল হামিদের সন্তানেরা জামাতের প্রার্থীদের সমর্থন দেয়।
এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন আসতে পারে এই
নির্বাচনের ভোটার হারের তথ্যপ্রমাণ কি? আমি উত্তর দেবো এই নির্বাচনে সারাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে ভোটাররা ভোট দিতে যায়নাই, দেশের ৮০% শতাংশের অধিক ভোট কেন্দ্র একেবারে ফাঁকা ছিল। লাখ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছে মিডিয়ায় আসবেনা এটা তো অবিশ্বাস্য, স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা ফেসবুক লাইভ নিউজ কভারেজগুলো তার প্রমাণ। ভোটের হার পুরোটা ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে সেটা একেবারে পরিস্কার, একাধিক সাংবাদিকের সাথে কথা হয়েছে তারাও এমনটা বলেছেন।
এবার গাণিতিক আলোচনায় যাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে, নির্বাচন কমিনশনের ভাষ্যমতে "
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন দেশের ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোটার এবং ‘না’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোটার। মোট ২৯৯ আসনে গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ৭০ লাখ ভোট আবার বাতিল হয়েছে? সারাদিনের গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে কি দেখা যায়? এত ভোট পড়েছে? নির্বাচনে
নির্বাচন কমিশন নির্বাচন শেষ হওয়ার ৭-৮ ঘণ্টা পর ভোটার হার প্রকাশ করা হয়... এটা নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রশ্ন রেখেছিলেন নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই.. এমনকি বিহারী ইশারাক ও রেজাল্ট প্রকাশের আগে জানিয়েছে "নির্বাচনের কি দরকার ছিল? আপনারা গুলশান এবং কচুক্ষেতে দুইটা মিটিং করেই নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে নিতেন। তাহলেই তো হইত।"
অর্থাৎ সাংবাদিক জামাত পন্থী এক্টিভিস্টরা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই নেগোশিয়েশন নিয়ে অবগত ছিল। এছাড়া নির্বাচনের রেজাল্ট আঁচ করতে পেরে বটর বাহিনী সন্ধ্যা সাতটার পর ডেড হয়ে যায়। এগুলো ইঙ্গিত দেয় জামাতের আসলেই ভূমিধ্বস ভরাডুবি হয়েছিল নির্বাচনে।
তবে, ইউনূস প্রশাসন তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মূলত ভোট কাস্টিং বেশি দেখাতে গিয়ে নির্বাচনের ভোট সংখ্যায় গড়মিল করে ফেলেছে...
মোট ভোট দুই আড়াই কোটিও পড়েনি সারাদেশে।
নির্বাচন কমিনশনের ভাষ্যমতে
" জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন দেশের ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোটার এবং ‘না’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোটার। মোট ২৯৯ আসনে গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া ৭০ লাখ ভোট আবার বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ গণভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে মোট ভোট বৈধ সংখ্যা ৭ কোটি ৭ লাখের মতো... নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বাতিল ভোটের হার ৭০ লাখ, তাহলে মোট ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৭৬ লাখ ভোট..
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন আবার বলছে মূল নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি ৫৬ লাখ, কিন্তু গণভোটের ভোটের ভোটার সংখ্যা মূল নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যার চাইতে ২০ লাখ বেশি হয় কিভাবে বেশি হয় কিভাবে? এই অতিরিক্ত ২০ লাখ ভোট কে দিয়েছে? কোথা থেকে আসলো? নির্বাচন কমিশন বলছে মূল নির্বাচনে ভোট ভোটের হার ৫৯.৪৪% , গণভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ! অর্থাৎ .৮২%ভোটের হার বেশি গণভোটের চাইতে। নির্বাচন কমিশনের ডাটা অনুসারে পার্থক্য হওয়ার কথা ৫-৬ লাখের কাছাকাছি, কিন্তু তা হয়ে গেলো ২০ লাখ ?
নির্বাচনের কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী গণভোটের হার কীভাবে নির্বাচনের মূল ভোটের হারের চাইতে বেশি হয়? যেখানে সাধারণ মানুষ জানতই না গণভোট কি, লাখ লাখ মানুষ ভোটই দেয়নাই গণভোটে। গণভোটের ভোটের সংখ্যা অবাস্তব।
আসলে নির্বাচন কমিশন জামাত, বিএনপি আর্মি বেশ বেকায়দায় পড়ে যায় ২০% লোক ভোট দিতে আসায়, ৮০% লোক ভোট বর্জন করার। তড়িঘড়ি করে ভোট ২০% থেকে ৬০% দেখাতে গিয়ে এই মহাচুরির লুকিয়ে রাখতে পারলো না আমার আর মামুর প্রশাসন.. চুরি করলে চোর প্রমাণ রেখেই যায়।
এর বাইরে যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে ... জামাত এনসিপির প্রধানের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ,কিন্তু দেখানো হয়েছে জিতেছে। অথচ নির্বাচনের মাঠে বাস্তবতা ভিন্ন ছিল জামাতের আমীর বিশাল ব্যবধানে হারে, এমনকি নাহিদ আরো বিশাল ব্যবধানে হারে, কিন্তু জামাত এনসিপিকে শান্ত রাখতে এই আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। স্থানীয় বিএনপি প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছে এলাকার জন সাধারণ নাহিদ শফিকের আসনে। ওদের স্থানীয় লোকজন ঠিক করে চিনেই না ,ভোট দিবে কি? নাহিদ জারার চাইতেও কম ভোট পায় নির্বাচনে। সার্জিসের আসনেও ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, কিন্তু বিএনপির প্রার্থী বিএনপির মধ্যপ্রাচ্য লবি মেনটেইন করে, ফলে উনাকে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগেই আর্মি এবং জামাত হাসনাতের জয় নিশ্চিত করে ফেলে বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী মুন্সীকে বাদ দিয়ে । এর বাইরে আরও ৮-১০ টা আসনে জামাতকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জামাতের আমির এবং এনসিপির নাহিদ গো হারা হারে,তবে নাহিদ শফিক এই হার মেনে নেয়নি, এই ঘটনা সমাধানে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় আর্মি ইউনূস, বিএনপি ,জামায়াতের আমিরের। বিএনপি এবং আর্মি দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরিস্থিতি এড়াতে নাহিদ আর শফিককে বিজয়ী দেখায় ইউনূস ও তারেক ।
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট জামাত এনসিপির হাতে সারাদেশে অনেক অস্ত্র এসেছে পাকিস্তান এবং তুরস্ক হয়ে। এই অবস্থায় শফিক,নাহিদকে গৃহযুদ্ধ যুদ্ধ এড়াতে জেতানো হয়, বিএনপি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় এই অবস্থায়। খুব সম্ভবত একজন ৮০ হাজার ভোটে আরেক জন ৪৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মধ্যরাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় ,বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের বলি দিয়ে।
এই নির্বাচনের ফলাফল প্রকৃতপক্ষে আমার আর মামুর ভাগ বাটোয়ারার সেরা উদাহরণ... সমস্যা নাই নতুন ধরণের ইঞ্জিনিয়ারিং শিখলাম আমরা, ভবিষ্যতে কাজে দেবে।
বিঃদ্রঃ - এই লেখাটা নির্বাচন নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এনালাইসিস... দ্বিমত থাকলে আমি আপনাদের দ্বিমত শুনতে আগ্রহী।