20/08/2019
১৯শে আগস্টে "জহির রায়হান" এর জন্মদিন চলে গেলো। মোটামুটি অবহেলিত ভাবেই লোকটির জন্মদিন আসে আবার চলেও যায়। অথচ এই গুনী চলচ্চিত্র পরিচালক, লেখক,উপন্যাসিক আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। তিনি যেমন "সোনার হরিন, সময়ের প্রয়োজনে, একটি প্রশ্ন, ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি, একুশের গল্প" এর মত গল্পগুলো লিখেছেন। আবার "শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে,কয়েকটি মৃত্যু, আরেক ফাল্গুন" এর মত উপন্যাস গুলোও তাঁরই লেখা। তবে এসকল কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে জহির রায়হানের সিনেমাগুলো। প্রতিটি চলচ্চিত্র যেনো মহাকাব্য। তিনি "জীবন থেকে নেয়া, কখনো আসেনি, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা"র মত চলচ্চিত্রগুলো নির্মান করেছেন। স্টপ জেনোসাইড, বার্থ অব আ নেশন / এ স্টেট ইজ বর্ন, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ, সারেন্ডার এর মত ডকুমেন্টরী ফিল্মগুলোতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতার চিত্র দেখিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি লেখায়, নির্মানে তৎকালীন সময়ে দেশের পরিস্থিতি উঠে এসেছে।
১৯৩৫ সালে ১৯শে আগস্ট ফেনী জেলার মজু গ্রামে তার জন্ম । তার আসল নাম মোঃ জহিরুল্লা। পিতা মাওলানা মোঃ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্য়ক্ষ ছিলেন । জহির রায়হানের শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউটে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হলে পুরো পরিবারের সাথে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দলের কুরিয়ারের কাজ করতেন। তার ছদ্মনাম ছিলো রায়হান। সেখান থেকে তিনি জহির রায়হান। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম দশজনের মাঝে অন্যতম। ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানেও সক্রিয় অংশগ্রহন করেন জহির রায়হান। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় জহির রায়হান "জীবন থেকে নেয়া"র বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী করেন। এবং এই প্রদর্শনী থেকে পাওয়া সকল অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দিয়ে দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার সাথে সাথেই ১৭ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনা বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে অপহৃত ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে শুরু করেন। ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারী ভাইকে খুঁজতে মিরপুরে যান কিন্তু তার পর থেকে জহির রায়হানের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিন মিরপুরে বিহারী এবং ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের উপরে গুলি চালায়। ধারনা করা হয় সেখানে এই ক্ষণজন্মা কিংবদন্তী শহীদ হন।
তবে আমরা অপেক্ষায় আছি জহির রায়হানের। তিনি ফিরে আসবেন।
"শুভ জন্মদিন জহির রায়হান।"