09/08/2024
ক্ষম অপরাধ- দুই
-মূর্শেদূল মেরাজ
এই সময়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে… অন্যকে কটাক্ষ্য করে সময় না কাটিয়ে… প্রশ্নগুলো এই ছবিটির মতো হতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে খুবই হালকা প্রশ্ন মনে হলেও। এটি বেশ গুরুত্ববহ্ এই নিঘুমকালে। প্রশ্নটা প্রশ্নকারী কোন্ অভিসন্ধি থেকে করেছেন। এর জবাবে লোকে কি লিখবে। আমরা কিছুই জানি না। কিন্তু এই সময়ে আমাদের উচিৎ নিজেদের হাস্যকর প্রমাণ না করে মেধার প্রমাণ দেয়ার।
কারণ এই আওয়াজটা শুরু হয়েছিলো ‘মেধা’কে গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টা নিয়ে। তাই এই সংকটে ‘মেধা’ বিষয়টা বেশ গুরুত্ব রাখে। এখানে কেবল চাকরির ক্ষেত্রেই নয়। গোটা সমাজের মেধার পরীক্ষাও বটে। আমরা আসলেই মেধাকে কাজে লাগাই। আসলেই কি আমরা মেধাবী? নাকি আমরাও অন্যের প্ররোচনাতেই চলতে পছন্দ করি? এ বিষয়গুলো ভাবতে হবে। অন্যকে দোষ দিয়ে আর কতোকাল আমরা তুড়ি মেরে জীবনটা যাপন করে যাবো?
পাশ কাটিয়ে আমরা যেতেই পারি। তারপরও প্রত্যেকেরই আরও একবার ভেবে দেখবার সময় এসেছে। আমরা আসলে কি চাই। যদি সত্যই সিস্টেম পরিবর্তন চাই। তাহলে আমাদেরকে সিস্টেমের সকল কিছু নিয়ে কেবল প্রশ্ন করেই কাজ শেষ হলো এ ভাববার আর কোনোরূপ সুযোগ নেই। এর সমাধানও আমাদেরই বের করতে হবে। তবে অবশ্যই তা যৌক্তিক, সম্প্রীতির, ভরসার হতে হবে।
কোন সময়ে আমরা কি করবো। সবচেয়ে যথার্থ হয় কি করলে। সেগুলো জাতিগতভাবে আমরা ঠিক করে নিতে পারি। কেউ ঘুষ চাইলে। কেউ চাঁদা চাইলে। কেউ তেলবাজি করলে। খাবারে ভেজাল দিলে। ইত্যাদি ইত্যাদি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়গুলো কিভাবে সমাধান সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে তার কিছু রূপরেখা তৈরি করতে হবে নতুন করে।
নতুনভাবে গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তে সকলকে স্বস্তি দেয়, কাউকে অসম্মান করা হয় না। এমন সমাধান কি কি হতে পারে সেগুলোর সাথে আমরা যদি যুক্ত না হই। যদি কিছু কেবল কিছুসংখ্যক বিশেষজ্ঞ বদ্ধ ঘরে বসে কিছু লিখে দিয়ে আবার চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে আসলে সমাধান কোথায়?
আমরা যদি একে অন্যকে কটাক্ষ্য করার চেয়ে যৌক্তিক কাজগুলো শুরু করি তাহলে যারা পরিচালনা করবে। তারাও কিছু আইডিয়া নিতে পারে। কারো কাছে বিচার দেয়ার আগে আমরা আসলে কিভাবে বিচার চাই। কি করে সর্বাত্মক সঠিক বিচার করা যেতে পারে সেগুলো আমাদের ভাবতে হবে।
হেলমেট মাথায় না থাকলে আসলে কতটাকা জরিমানা হতে পারে। সেটাও যৌক্তিকভাবে নির্দিষ্ট হওয়া জরুরী। তেমনই কৃষকের ফসল কি করে বাজারে এসে কয়েকগুণ দাম বেড়ে যায় সেগুলো আমাদের জানতে হবে। যিনি শ্রম দিচ্ছেন তিনিই সঠিক মূল্য পাবেন। নাকি মধ্যসত্ত্বা ভোগীরা ভাগ বসাবেই। এ সব কিছুই নির্দিষ্ট করতে হবে।
ডাকাতের আতঙ্ক মাথায় নিয়েও। নির্ঘুম রাত কাটানোর মাঝেও এই কাজগুলো আমাদের করতে হবে। যত বেশি যৌক্তিক রেফারেন্স থাকবে। ততই সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা। ততই আমরা বুঝতে পারবো কোথায় কোথায় আমাদের ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। বা কোথায় কোথায় আমাদের কথা মানা হয়েছে।
আমাদের কেনো কেবল সংবাদমাধ্যমগুলোর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। তারা কি বলে তা শুনে কেনো আমাদের জানতে হবে- নীতিনির্ধারণী আসলে কি হচ্ছে। নাগরিক যদি রাষ্ট্রের অংশ হয়। রাষ্ট্র যদি তার দিশা হারায় তখন একটা গোটা প্রজন্মকে নানান সব ত্যাগ তিতিক্ষার ভেতর দিতে যেতে হয়। যাতে আগামী প্রজন্ম সুফল ভোগ করতে পারে। অন্তত বলতে পারে। আমরা পালিয়ে যাইনি। কাজ থেকে বা দেশ থেকে। আমাদের যদি কিছু করার থাকে। যা অবশ্যই আছে সেই চেষ্টাটুকু করা প্রয়োজন বলেই সময় বলে দিচ্ছে।
সর্বোচ্চ আদালত বাংলায় কেনো চলবে না পুরোপুরি ভাবে সেটাও আমাদের জানা প্রয়োজন। সর্বোচ্চ আদালতের রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভাষা হওয়ায় সকল আসামীর পক্ষে তা বোঝাই মুশকিল। এই রকম লিখে গেলে লেখা শেষ হবে না। তবে কাজ শুরু করতে হবে সেটা জরুরী। খুব জরুরী। সেটা যতদ্রুত আমরা বুঝতে শুরু করবো। ততই আমাদের সকলের জন্য মঙ্গল। আর যদি অনেকটা দেরি করে ফেলে। তার ফলও আমাদেরই ভোগ করতে হবে। ফকিরকুলের শিরোমণি ফকির লালন সাঁইজি বলেছেন-
তুমি বা কার, কেবা তোমার, এই সংসারে- গি
মিছে মায়ায় মজিয়ে মন, কি করো রে।।
এতো পিরিত দন্তে-জিহ্বায়
কয়দা পেলে সেও সাজা দেয়,
স্বল্পেতে সব জানিতে হয়
ভাব নগরে।।
সময়ে সকলি সখা
অসময়ে কেউ না দেয় দেখা,
যার পাপে সে ভোগে একা
চার যুগে রে।।
আপ্নী যখন নয় আপনার
কারে বলো আমার আমার,
সিরাজ সাঁই কয় লালন তোমার
জ্ঞান নাহি রে।।
সর্বচরণে পাপীর মস্তক দন্ডপাত। ভুল-ত্রুটি নিজগুণে ক্ষমা করবেন।
-মূর্শেদূল মেরাজ
বৃহস্পতিবার, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ