14/11/2025
আলি আর অমি—দুই বন্ধু, কিন্তু বন্ধুত্বটা ছিল একটু অন্যরকম। কেউ তাদের আলাদা করতে পারত না, আবার কেউই ঠিক বুঝতে পারত না তারা কীভাবে এত ভিন্ন হয়েও এত ভালো বন্ধু হয়ে রইল।
গল্পটি শুরু
একটা ছোট্ট শহরের দুই পাশেই থাকত তারা—
আলি, শান্ত-স্বভাব, বই আর গোছানো পরিকল্পনায় বিশ্বাসী।
অমি, ঝড়ের মতো, যেকোনো মুহূর্তে যেকিছু করতে পারে—হঠাৎ ঘুরতে যাওয়া থেকে রাতের আকাশ দেখে গান ধরার মতো সবকিছু।
তাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল এক অদ্ভুত ঘটনায়।
স্কুলের মাঠে ছুটোছুটির সময়ে অমি হঠাৎ দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গেল, আর তার খাতাটা উড়ে গিয়ে আলির মাথায় পড়ল। সবাই হাসছিল, কিন্তু আলি খাতা তুলে বলেছিল—
"পড়লে ঠিক আছে, কিন্তু খাতাকে তো দোষ দিও না!"
এতেই অমির হাসি থামছিল না, আর সেদিনই শুরু হলো তাদের যাত্রা।
তাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অ্যাডভেঞ্চার:
সকালে অমি আলিকে টেনে নিয়ে যেত নদীর ধারে নাশতা করতে—চাপাটি আর ডিম ভাজি।
আলি অমিকে শেখাত—কীভাবে ঠিকমতো রুটিন বানাতে হয়, আর অমি শেখাত—রুটিন কখন ভাঙলে সবচেয়ে মজা হয়।
সন্ধ্যায় তারা দু’জনে বসত বাড়ির ছাদে, গল্প করত—স্টারডাস্ট, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের শহর নিয়ে।
একদিন অমি খুব মনখারাপ করে আসে।
বাড়িতে ঝামেলা, পড়াশোনায় চাপ—সব মিলিয়ে মাথা এলোমেলো।
আলি কিছু না বলে তার প্রিয় আইসক্রিম এনে দিয়ে শুধু বলল—
"সব ঠিক হবে। সামনে পথ অনেক লম্বা—আমি আছি।"
এই কথাটাই অমির কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত বাক্য হয়ে দাঁড়ালো।
শেষের দিকে…
দুজনেই বড় হতে লাগল, স্বপ্ন আলাদা পথে ডাক দিল।
কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব কখনও বদলায়নি।
হয়তো সপ্তাহে একদিন, হয়তো মাসে একদিন—আলি আর অমি এখনো এক কাপ চা ভাগ করে খায়, সেই একই অদ্ভুত হাসিতে ভর করে।
কারণ বন্ধুত্বের মাপকাঠি সময় নয়—মনের দরজা খোলা ।
#গল্প
কবিতা #বন্ধু #বন্ধুত্ব ।