07/05/2025
পলাশ সাহা নামে একজন সিনিয়র এএসপি নিজের পিস্তল দিয়ে আ*ত্মহ*ত্যা করেছেন। মারা যাওয়ার আগে চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ি না। আমিই দায়ি। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের উপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অডিনেট করে।'
সফল ক্যারিয়ার। সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান। তবুও এই পৃথিবী তাকে টানলো না। তিনি কাউকে অভিযুক্ত করলেন না। তবে, কোথায় যেন নিজের বিষাদের ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন।
এতদিন ভাবতাম, শুধু টিনেজারদের মধ্যেই এই প্রবণতা। পলাশ সাহার মতো একজন সফল মানুষের এমন সিদ্ধান্তে কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের কবিতা মনে পড়ে গেল 'আত্মীয় স্বজনই মানুষকে কবরে শুইয়ে দেয়। কাউকে মৃত আর কাউকে জীবিত।'। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে যারা জোর করে বেঁচে আছে। মরতে সাহস পায় না, তাই। আদতে তারা মরে গেছে। বেঁচে আছে কিছু দায়িত্ববোধের তাড়নায়।
আমি আগাগোড়া সু*ইসাই*ড বিরোধী মানুষ। তবে যাদের বেঁচে থাকা অসহ্য মনে হয়, তাদেরকে প্রভাবিত করে বাঁচিয়ে রাখার লোভ দেখাতে গিয়ে যখন নিজের দিকে তাকাই, মনে হয়-আমারও তো অনেক আগেই মরে যাওয়ার কথা ছিল।
জোর করে বেঁচে থাকা মানুষের মিছিলই দীর্ঘ। আ*ত্মা*হুতি কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ না। থাকলে বড় মিছিলেই থাকা উত্তম। চলো, জোর করেই বেঁচে থাকি।
©Lutfor Hasan