17/09/2019
অর্গানিক খাবারের ভোক্তা সংখ্যা বাড়ছেঃ
=============================
"বলদের চোখে কালো রঙ্গয়ের ঠোনা বাঁধা ,সে হেঁটেই যাচ্ছে ,দেশ থেকে দেশান্তরে চলে যাচ্ছে হেঁটে হেঁটেই ।শরীরের লোম ভিজে একাকার তুবুও তার চলা শেষ হচ্ছে না ,একটু থামতে চাইলেই পিছন থেকে হট হট আওয়াজ,তখন আবার জোড়ে পা ফেলে এগিয়েই যাচ্ছে ।বলদ জানে সে পাড়ি দিচ্ছে দেশ দেশান্তর কিন্তু সে ঘুরছে একই চক্রে বার বার ঘুরছে আর সেই সাথে ক্যাচ ক্যাচ শব্দে ঘুরাচ্ছে ঘানী ,সরিষা নিজের সব বিলিয়ে দিচ্ছে তেঁতুল কাঠের ঘানীর কাছে ।টপ টপ মৃদু শব্দ করে ঝরে পড়ছে ঝাঁঝালো সরিষার তেল ।"
এটা আমাদের চিরচেনা কুলু পাড়ার চিত্র,বলদ কে এমন পরিশ্রম করানো হত যে কৃষক কুলুদের কাছে তার সন্তান সম বলদ বিক্রি করতেই চাইত না ।
যত বদনামই থাকুক কুলুদের বিপক্ষে বা যত গাল শুনানো হোক তাদের,তবুও যখন হাটে তেল কেনা হত তখন কিন্তু খুঁজা হত ঘানী ভাঙ্গা তেল।
আজ ঘানী থাকলেও আপনি খাঁটি তেল পাচ্ছেন না ।
জমিতে প্রথম চাষ থেকেই দেয়া হচ্ছে নানা রকম রাসায়নিক সার ,ফসল একটু বড় হতেই দেয়া হচ্ছে ক্লোরিন ভিত্তিক রাসায়নিক কীটনাশক যার কার্যক্ষমতার সময় ৩০ বছর ।একটা সময় পর ফসল পাকছে ঘরে তোলা হচ্ছে ,কিন্তু ৩০ বছর মেয়াদ কালের কীটনাশক তাতে থেকেই যাচ্ছে ।
এখন সেই সরিষা বীজ ঘানীতে ভাঙ্গান বা আধুনিক মেশিনে ভাঙ্গান তাতে থেকেই যাচ্ছে এই কীটনাশক ।যা আমাদের শরীরের চলে আসছে তেল ব্যবহারের মাধ্যমে ।আর আমাদের শরীরে সৃষ্টি করছে নানা রকম মরণ ব্যাধি ।
এটা বললাম সরিষার গল্প ।শুধু সরিষা নয় সকল ফসলেই এভাবেই মিশে যাচ্ছে নানা রকম কীটনাশক আর আমরা দিন দিন হয়ে যাচ্ছি কমজোর ।
আধুনিক মানুষ নানা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক টাকা ইনকাম করছে কিন্তু যখন খাবার কিনতে যাচ্ছেন তখন খাচ্ছেন বিষ মাখানো খাবার ।
এই বেড়া জাল থেকে এখন অনেক ক্রেতাই বেড়িয়ে এসেছেন ,তারা নজর দিচ্ছেন ভাল তথা অর্গানিক খাবারের দিকে ,দাম বেশি হলেও তারা অর্গানিক খাবারই কিনছেন এবং খাচ্ছেন ।
আপনাদের এই ভাল প্রত্যাশার সাথে আমরা “শুদ্ধ বাজার” আছি সব সময় ।