22/11/2023
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে মুটামুটি সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর দেখা মেলে । মারমা,চাকমা,তঞ্চংগ্যা,ম্রো,লুসাই সহ আর অনেকেই আছে এই জেলায়। তবে জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় চাক সম্প্রদায়ের বসবাস। যাদের খাদ্য,পোশাক, ভাষা সহ সাংস্কৃতিক নিয়ম রীতির একটা বিশাল ভিন্নতা আছে। বিবাহের ক্ষেত্রে সেইটা আরো ভিন্ন । ছেলে এবং মেয়ের বিয়ে যদি পারিবারিক কিংবা প্রেম করেও শুরু হয় আর তা যদি বিবাহ পর্যন্ত গড়ায় তাহলে একটা নিয়মের মধ্যেই পালন করে বিবাহ সম্পন্ন করা লাগে। ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েকে আনতে গেলে মা বাবা যেতে পারে না। ছেলের গ্রামের মুরুব্বী এবং আত্মীয়স্বজন ও যুবকযুবতীরা সবাই মিলে সকাল সকাল রওনা দেয় বউ আনতে । এরপর মেয়ের বাড়ি পৌঁছায় ছেলে পক্ষ এবং সাথে নানা ঊপঢৌকোণ নিয়ে তারা আসে। আসার সময়ে মিষ্টি, পান-সিগারেট, মদ, সেদ্ধ করা গোটা একটা মুরগী এবং আখ সহ আরো অনেক কিছু নিয়ে আসে। নিয়ে আসা মুরগীটা সকলকে পাতায় করে খেতে দেওয়া হয় এবং সকলকে খেতে হয়৷ সকল অতিথিদের ওয়েলকাম ড্রিংস হিসেবে অতি সামান্য মদ প্রদান করা হয় । এরপর মেয়ের বাড়িতে আশির্বাদ এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেয়েকে নিয়ে ছেলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে সবাই রওনা দেয়। ছেলে পক্ষ যারাই সেইখানে বউ আনতে যায় সবাইকে ফেরার আগে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় এবং মাথায় ফুল গুঁজে দেওয়া হয়। এইটা চাকদের একটা বিশ্বাস , যেন কারোর কোন প্রকার অশুভ দৃষ্টি এবং বদনজর না পড়ে মতো ।
ছেলের গ্রামে পৌঁছানোর পর বউকে গ্রামের সকলে এসে বড় একটা ছাতার ভেতর লুকিয়ে এরপর গ্রামে প্রবেশ করায়। বউকে দেখার জন্য ছাতা টানাটানি করা হয় অনেক এবং ছাতা ভেঙে ফেলার মতন অবস্থা ঘটে বউকে শুধু এক পলক দেখবে বলে। প্রত্যেকটা মানুষ নেচে গেয়ে নতুন বউকে স্বাগতম জানায়। এরপর ছেলের পৈতৃক বাড়িতে বউ এবং বরের বৌদ্ধ ভিক্ষুর মাধ্যমে আশির্বাদ প্রদান করা হয় । পরের দিন সারা গ্রামের মানুষজন নিজেরাই খাবার রান্না করে এবং অতিথি ও বউ পক্ষের লোকজনদের খাওয়ায়। আর এইভাবেই সামাজিক একটা স্বীকৃতির মাধ্যমে বিয়ে হয় । বিয়ের দিন সহ মোট এক সপ্তাহ গ্রামে কাটিয়ে পরে গ্রামের বাহিরে যাইতে পারে নব দম্পতি 💜🥰
ছবিতে ছবিতে হ্লাথোয়াই এবং উখিং চাক এর বিয়ের পুরো গল্প সকলের সাথে শেয়ার করলাম 🙂
তাদের বৈবাহিক জীবন সুখী ও সুন্দর হোক সেই শুভ কামনা থাকলো 😍