05/03/2026
বই_রিভিউ
বই: দুই_বাড়ি
লেখক: বিভূতি-ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গ্রামবাংলার একখণ্ড নিসর্গ—খোলা আকাশ, আলুথালু মাঠ, নিঃশব্দ দুপুর আর সেই নরম অথচ গভীর অনুভবে ভেজা মানুষগুলো।
সার্থক নামকরণের পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের সহমর্মিতা, সদ্য পাশ করে বেরুনো এক ছেলের কর্মজীবনে প্রবেশের ঝক্কি, ঊষর হৃদয়ে হঠাৎ প্রীতির বীজ জেগে ওঠা–এইসব চিত্রও পড়ার সময় চোখের সামনে ফুটে ওঠে লেখাটিকে সার্থক করেছে। হা! কালে কালে কত নিধিরামই এভাবে যৌবনের শুরুতে হোঁচট খায়.
#কাহিনি_সংক্ষেপ:
রামতারণের অভাবের সংসারে অন্ধের যষ্টি নিধিরাম রায়চৌধুরী। নামের ভার আর বংশীয় ব্রাহ্মণ পরিচিতি যতই প্রবল মনে হোক না কেন দারিদ্র্যের পরাকাষ্ঠায় ধূসর জীবনে রঙের আঁচড় লাগেনি কখনও। মোক্তারি পাশ করে সবেমাত্র কর্মস্থলে পদচিহ্ন রাখতে শুরু করেছে নিধিরাম। অভিষেকেই হাকিমের স্নেহভাজন হিসেবে তার সংসর্গ আদালতপাড়ায় জন্ম দেয় নীরব রটনা। এর নেপথ্যে রয়েছে নিধিরামের প্রতিবেশী লালবিহারী চাটুয্যের কন্যা ষোড়শী মঞ্জু।
লালবিহারী চাটুয্যেও পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন মোক্তার। সময়ের পালাবদলে প্রতিপত্তি লাভের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনে তিনি হয়ে ওঠেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
সেই বাড়ির মেয়ে মঞ্জুর সাথে আলাপের পর যেন কেমন বদলে গেলো নিধুর জীবন। এত বড় বাড়ির মেয়ে, বড় বাড়ির লোক অথচ তাদের সাথে কী সুন্দর ব্যবহার। মঞ্জুর জন্য নিধুর মন কেমন করে! কিন্তু নিধুর সাথে কি ওমন ঘরের মেয়ের যায়? নিধু তো বলা যায় ঐ,
❛ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার❜। মঞ্জুরও এই সহজ নিধুর জন্য মন কেমন করে। কিন্তু এই প্রণয়ের পরিণতি তো খালি চোখেই দেখা যায় গড়ের মাঠ।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া:
পড়তে গিয়ে মনে হলো যেন একটাই রাস্তা, কিন্তু তার দুই পাশে দুটো আলাদা দুনিয়া। একদিকে নিধিরাম রায়চৌধুরীর জীর্ণ, দরিদ্র সংসার। অন্যদিকে লালবিহারী চাটুয্যের সুরম্য অট্টালিকা। নিধিরামের জীবন সংগ্রাম, মোক্তারি পাস করে কর্মজীবনের শুরু, আর মঞ্জুর সঙ্গে তার সম্পর্ক সব মিলিয়ে এক নিঃশব্দ টানাপোড়েন।
এই উপন্যাসে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূক্ষ্মতা খুবই সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। নিধিরাম আর মঞ্জুর সম্পর্কটা যেন এক অদৃশ্য সীমানার খেলা।
"করুণা ভালোবাসার সবচেয়ে মূল্যবান মসলা, তার গাঁথুনি বড় পাকা হয়।"
লেখকের ভাষা ছিল সহজ, সরল, কিন্তু গভীর। প্রতিটি চরিত্র জীবন্ত, প্রতিটি ঘটনা বাস্তব মনে হয়। বইটা পড়ে মনে হলো, জীবনের ছোট ছোট গল্পগুলোই আসলে সবচেয়ে বড়।
বেশ উপভোগ করেছি গল্পটা। সমাপ্তিটাই শুধু বলে গিয়েছে 'শেষ হয়েও হইলো না শেষ