04/03/2026
দজ্জালকে আমরা যে রকম মনে করি আসলে সে সেই রকম কিছু না।
একসময় হুজুর দজ্জাল সম্পর্কে বলতো যে, শেষ জমানায় একজন নিজেকে "আল্লাহ" দাবী করবে। এবং সেটা প্রমানের জন্য সে বিভিন্ন মুজেজা দেখাবে। দজ্জাল সকল ধরনের অবিশ্বাস্য ঘটনা দেখাবে। তাকে আল্লাহ বলে স্বীকার করানোর জন্য আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করবে, তাতে কাজ না হলে শারীরিক নির্যাতন করবে। যারা তাকে আল্লাহ মেনে নিবে তাদের সে পুরুষ্কৃত করবে। যারা মানবে না তাদের সে শাস্তি দিবে।
তখন আমি চিন্তা করতাম, "আমার ঈমান স্ট্রং। আমাকে যে যেভাবে ট্রাই করবে করুক, আমি বশ্যতা স্বীকার করবো না কখনো।"
কিন্তু এখন চিন্তা করি, এটাকি আসলেই এতো সহজ?
দজ্জালের কাজ হলো মানবসম্প্রদায়কে ধোঁকা দেওয়া, মানুষকে আরাম আয়েশে নিমজ্জিত করে রেখে নিজের কতৃত্ব ফলানো। মানুষ জানবে এবং বুঝতে পারবে যে এ দজ্জাল আমাদের ধোকা দিচ্ছে, তবুও তারা আরাম আয়েশ ছেড়ে সেটার প্রতিবাদ করবে না।
আমরা মনে করছি এগুলো এগুলো অনেক পরের হিসাব। ততদিন আমরা দুনিয়ায় থাকবো না, তাই এসব চিন্তা করে লাভ নাই।
কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখলাম ঐ যুগটা এখনই চলতেছে।
হ্যা, এক চোখ ওয়ালা দজ্জাল আসেনি এখনো, তবুও আরব বিশ্ব এ ইহুদিদের বশ্যতা স্বীকার করছে অনেক আগেই। আরাম আয়েশের বিনিময়ে তারা পশ্চিমা বিশ্ব ও ইহুদিদের কাছে আমরা মুসলিমরা অলরেডি নত হয়ে গেছি। ইহুদিদের মানচিত্র সামনে আরো বড় হবে। আরাম আয়েশের বিনিময়ে ইজরায়েল পুরো আরব বিশ্ব নিয়ে গ্রেট ইজরায়েল গঠন সময়ের ব্যপার মাত্র। কারণ কোন দেশের প্রতিবাদের ইচ্ছে নেই।
লাখ লাখ মুসলমান নারী শিশু হ*ত্যা করা হয়েছে এবং হচ্ছে, কেউ কিছু বলেছে? বলবে না, কারণ আরাম আয়েশ। মুসলিমদের উপর অন্যায় হচ্ছে জেনেও সেটার প্রতিবাদ না করা কি মুসলমানদের কাজ? দজ্জালের যেটা দেওয়ার কথা সেটা দজ্জাল আসার আগেই তার সাঙ্গপাঙ্গরাই দিয়ে দিচ্ছে মুসলিমদের।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই মার্কিন ঘাটি আছে, তারা মার্কিনিদের কথায় ওঠাবসা করে, ফেসিলিটি বাড়ালে তাদের পা চেটে পরিষ্কার করে দিতে বললেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোর কোন অসুবিধা নাই। তারা দিবে। তাদের দরকার শুধু দুনিয়ার আরাম আয়েশ।
তাহলে এবার চিন্তা করেন, দজ্জাল এসে তাদের যখন পুরুষ্কারের লোভ দেখিয়ে নিজেকে খোদা মেনে নিতে বলবে, এটা কি মেনে নেওয়া আমাদের মুসলমানদের জন্য অসম্ভব কিছু?
কারণ তাদেরতো শুধু দুনিয়াই লাগবে।
আরব বিশ্ব বাদ দেন, ব্যক্তিগত জীবনে আসি। আমার বা আপনার আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ থাকলে আমরা কি সে সুযোগ ছেড়ে দিবো?
শুধু পরিষ্কার মনে এটা চিন্তা করে দেখেন, আমাদের ঈমান কতটুকু দূর্বল বা শক্ত সেটা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।
ইরান এতো নিষেধাজ্ঞার পরও এসব আরাম আয়েশ গ্রহন না করে নিজেদের আলাদা রেখেছে এজন্য তাদের জন্য আমার একটা সফট কর্ণার আছে। তারা অন্তত চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করে, বা করার চেষ্টা অন্তত করে। এদিক থেকে ওরা আমাদের থেকে একটু হলেও বেটার।
যাইহোক, পৃথিবী তার ভবিষ্যতের দিকেই আগাচ্ছে। করার কিছু নাই। এটা যার যার ঈমানি পরিক্ষা।