02/07/2024
যখন আসমানডা ভাইঙ্গা আমার টিনের চালে ঝম-ঝমাইয়া বৃষ্টি নামে, তখন আমার ভিতরেও কেমন ভাঙচুর শুরু হয়। ভিত্রে কেমন অস্থির লাগে, এক যায়গায় ঠাহর হইয়া বসতেও পারিনা, শুইতেও পারিনা! মাইনষে কেমন গল্প করে, ভালো মন্দ খায়, পাতলা খেতা গায়ে দিয়া আবার ঘুমাইয়াও যায় আর আমি অস্থির হইয়া খারায় থাকি! মনে হয় কই যানি আমার যাইতে হইবো! দুনিয়ার তাবত কাম আমার পইড়া আছে সেগুলা সারতে হইবো, এই মড়ার বৃষ্টি থামে না কেন?
অথচ এই আমিও এমন ছিলাম না। বৃষ্টি দেখলে উদাস হইয়া যাইতাম একসময়, মনের ভিতরে সুখ হইতো খুব বৃষ্টি দেখলে। কাম না থাকলে নিজেরে সাজাইতাম মনের মতন কইরা। মাঝে মাঝে তো গুন-গুনাইয়া গান ও ধরতাম! সেসব ম্যালা আগের কথা অবশ্য।
তারপর আনেক কিছুই হইয়া গেলো জীবনে। সেই জীবন আর এই জীবন মেলেনা, জোর কইরা মিলাইতে চাইলেও মেলে না কেন জানি। মনে হয় সব বদলাইয়া গেছে। কৈশোরের সুখ আর এই যৌবনের সাথে মেলে না। দিনের পর দিন যেমন প্রিয় মুখগুলা বদলায় যায় তেমন কইরা শীত বর্ষার সুখ ও কেন হারায় যায়? ভালো লাগা গুলা অস্থিরতার চেহারা ধইরা লয় আর অস্থিরতা নিত্যকার সঙ্গী হইয়া যায় ঘরসংসারের মতোন! এইডা জানি কেমন কইরা ঘুরাঘুরি করে জীবনময়!
তারপর ও বৃষ্টি যে এখনো সময়ডারে অস্থির কইরা তুলতে পারে, অন্য আর দশটা দিনের চেয়ে আলাদা করতে পারে এই খুব সাধারণ জীবনডারে এইডাই বা কম কিসে। হোক এই বৃষ্টি সারাডা দিন, না সারাডা জীবন ধরে। মুশলধারায় না হইলেও ফোটায় ফোটায় ঘ্যানঘ্যানায়া পড়ুক দিন-রাত ধইড়া আর আমি অস্থির হইয়া অপেক্ষা করি কিছু একটার জন্য...
কলমে : Saimon Azad 🤍
চিত্রপাতা