05/02/2026
প্রচার করা হচ্ছে, ববি হাজ্জাজ সাহেব বেশি শিক্ষিত। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নেওয়া। বোঝাতে চাচ্ছেন, ইবনে শাইখুল হাদিস কম জানেন। আসুন দেখি, কার কত যোগ্যতা:
১. ভাষা
ইবনে শাইখুল হাদিস: বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফার্সি। মোট ৫টি.
ববি হাজ্জাজ: বাংলা, ইংরেজি। মোট ২টি।
ববি হাজ্জাজ যে ২টি ভাষা জানেন, ইবনে শাইখুল হাদিস সেগুলো জানেন, কিন্তু ইবনে শাইখুল হাদিস ৩টি ভাষা বেশি জানেন, ববি হাজ্জাজ সেগুলো জানেন না।
২. এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
ইবনে শাইখুল হাদিস: বাংলাদেশের সরকার স্বীকৃত সাধারণ শিক্ষাধারা থেকে (দাখিল আলিম নয়) তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।
ববি হাজ্জাজ: দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থায় পড়েননি। ইংলিশ মিডিয়ামে ও লেভেল, এ লেভেল পড়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও উচ্চশিক্ষা।
এ দৃষ্টিতে দুজন সমান। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আরেকজন অর্থনীতিতে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন।
৩. হিফজুল কুরআন
ইবনে শাইখুল হাদিস: ১৯৮৫ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে হিফজুল কুরআন সম্পন্ন করেন।
ববি হাজ্জাজ: এ যোগ্যতা নেই।
৪. দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স)
ইবনে শাইখুল হাদিস: ১৯৯৩ সালে শরহে বেকায়ায় (উচ্চ মাধ্যমিক)সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে পাস করেন, ১৯৯৪ সালে জাতীয় মেধাতালিকায় ৩য় হয়ে মিশকাত বা ফজিলত (স্নাতক) পাস করেন এবং ১৯৯৫ সালে জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে দাওরায়ে হাদিস বা তাকমিল (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি লাভ করেন।
ববি হাজ্জাজ: এর কোনোটিতেই তৃতীয় বিভাগেও পাস করেননি, বরং যোগ্যতা শূন্য।
৫. কর্মক্ষেত্র
ইবনে শাখুল হাদিস: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শাইখুল হাদিস, খতিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে শিক্ষকতা করতে পারবেন, মসজিদে পাঠালে ইমামতি করতে পারবেন, মাদরাসার ক্লাসে পাঠালে হাদিসের দরস দিতে পারবেন।
ববি হাজ্জাজ: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
মোটকথা: ববি হাজ্জাজ যা করতে পারবেন, ইবনে শাইখুল হাদিস অবশ্যই তা পারবেন। কিন্তু ইবনে শাইখুল হাদিস ভাষা জানেন ৩টি বেশি। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক বেশি। কর্মক্ষেত্রে এমন অনেককিছু করতে পারবেন, যা ববি হাজ্জাজ পারবেনা।
©️