সুকন্যা আহমেদ লিপি Life is full of beautiful Click

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • সুকন্যা আহমেদ লিপি Life is full of beautiful Click

সুকন্যা আহমেদ লিপি Life is full of beautiful Click সুকন্যা লিপি আহমেদ

মানুষ বলে ভালোবাসা নাকি ফুরিয়ে যায়,আমি দেখি— ফুরিয়ে যাই আমরা,ক্লান্ত হয়ে, অভিমান জমিয়ে,নিজের ভেতর নিজেই হারিয়ে গিয়ে।ভালো...
17/02/2026

মানুষ বলে ভালোবাসা নাকি ফুরিয়ে যায়,
আমি দেখি— ফুরিয়ে যাই আমরা,
ক্লান্ত হয়ে, অভিমান জমিয়ে,
নিজের ভেতর নিজেই হারিয়ে গিয়ে।

ভালোবাসা তো মরে না এত সহজে,
মরে যায় যত্নের ভাষা,
চোখের সেই আগের উজ্জ্বলতা,
হাত ধরে রাখার নীরব প্রতিশ্রুতি।

একসময় বুঝি—
ভালোবাসা মানে শুধু “ভালোবাসি” বলা নয়,
ভালোবাসা মানে
রাত জেগে থেকেও পাশে থাকা,
নিজের ইগো গিলে ফেলা,
অকারণে রাগ করে দূরে না সরে যাওয়া।

সম্পর্ক এক নরম কাঁচের মতো,
অবহেলার আঙুলে ফেটে যায় চুপচাপ।
তখন কান্না আসে,
কিন্তু সেই কান্না আর জোড়া লাগাতে পারে না ভাঙা বিশ্বাস।

ভুল করলে যে মাথা নত করতে জানে না,
সে ভালোবাসার উচ্চতা বুঝবে কীভাবে?
রাগ হলে যে আগুন ছড়ায়,
সে কখনো আশ্রয় হতে পারে না।

ভালোবাসা আসলে নিরাপত্তার আরেক নাম—
যেখানে কেউ ভেঙে পড়লে
অন্যজন তাকে জড়িয়ে বলে,
“তুমি একা নও, আমি আছি।”

সম্মান না থাকলে
ভালোবাসা শুকিয়ে যায় নিঃশব্দে,
মনে হয় সব আছে—
কিন্তু কোথাও যেন আর কিছুই নেই।

শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা তাদের হাতেই থাকে,
যারা ঝড় এলে পালায় না,
চোখ ভিজলেও হাত ছাড়ে না,
কান্নার ভেতর থেকেও বলে—
“চলো, আবার শুরু করি।”

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬

কবিতা : মানুষ বলে ভালোবাসা নাকি রঙ বদলায়আসলে বদলে যায় আমাদের ভেতরের মানুষটাই।ভালোবাসা যদি সত্যি হয়,তবে একসময় তার চেয়ে বড়...
17/02/2026

কবিতা : মানুষ বলে ভালোবাসা নাকি রঙ বদলায়

আসলে বদলে যায় আমাদের ভেতরের মানুষটাই।
ভালোবাসা যদি সত্যি হয়,
তবে একসময় তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় দায়িত্ব।

কারণ টিকে থাকা সম্পর্ক
শুধু অনুভূতিতে নয়, দায়িত্বের কাঁধেই ভর করে।

সম্পর্কে এমন হয়ে দাঁড়াতে হয়,
যেন তোমার পাশে থাকলেই
অন্যজনের ভেতরটা নিশ্চিন্তে নিঃশ্বাস ফেলে।

ভুল করলে নিঃশব্দে মাথা নত করা,
রাগ এলে একটু থেমে নিজেকে সামলে নেওয়া,
আর হঠাৎ কোনো সন্ধ্যায় ফিসফিস করে বলা—
“আমি আছি, ভয় নেই।”

একটি সম্পর্ক দাঁড়িয়ে থাকে চরিত্রের ওপর,
ভিতরের মানুষ যদি অস্থির হয়,
সে কখনও ভালোবাসার ভার বহন করতে পারে না।

সবচেয়ে জরুরি হলো সম্মান—
সম্মান হারালে ভালোবাসা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়,
একদিন শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা তাদের সঙ্গেই থাকে,
যারা শুধু বলতে জানে না—
ভালোবাসা কীভাবে আগলে রাখতে হয়,
তাও জানে।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ সাল 🇧🇩 🇫🇷 ☕

কবিতা : নারীর সৌন্দর্য বাড়ে অলংকারেদামি পোশাকে, বাহ্যিক সাজে,চকচকে আবরণে, রঙিন প্রলেপে,অলীক জৌলুসের ঝলকানিতে।মানুষ ভাবে—...
17/02/2026

কবিতা : নারীর সৌন্দর্য বাড়ে অলংকারে

দামি পোশাকে, বাহ্যিক সাজে,
চকচকে আবরণে, রঙিন প্রলেপে,
অলীক জৌলুসের ঝলকানিতে।

মানুষ ভাবে—সৌন্দর্য মানেই দৃশ্যমান দীপ্তি,
মানেই দৃষ্টির প্রলুব্ধতা,
মানেই শরীরের বিন্যাসে অলংকারের অনুরণন।

কিন্তু সত্যিটা এত সরল নয়,
এত প্রকাশ্যও নয়—
সত্যিটা সুগভীর, সুদূর, সুপ্ত এক অন্তর্লোকে নিবাসী।

নারীর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তখনই,
যখন তার পাশে থাকে
একজন সৎ, যত্নশীল ও দায়িত্ববান পুরুষ—
যার সততা অনড় শিলাস্তম্ভের মতো,
যার যত্ন স্নিগ্ধ বৃষ্টিধারার মতো প্রশান্তিদায়ক,
যার দায়িত্ববোধ প্রাচীন বৃক্ষের শিকড়ের মতো দৃঢ় ও অবিচল।

একজন ভালো মানুষ নারীর জীবনে শুধু সঙ্গী হয় না,
সে হয়ে ওঠে তার শক্তির উৎস,
তার নিরাপত্তার প্রাচীর,
তার আত্মবিশ্বাসের নীরব ভিত্তিস্তম্ভ।

তার উপস্থিতি নারীর ভাঙাচোরা আত্মাকে জোড়া দেয়,
তার কথার উষ্ণতা নিভে যাওয়া প্রদীপে পুনরায় শিখা জ্বালায়।

যে পুরুষ নারীর সম্মান রক্ষা করে
অদৃশ্য ঢালের মতো,
তার স্বপ্নগুলোকে গুরুত্ব দেয়
নক্ষত্রের মতো আকাশে স্থাপন করে,
তার কান্নাকে অবহেলা না করে
আবেগের মহাসাগরে সঙ্গী হয়ে ভাসে,
তার হাসির কারণ হতে চায়—
সেই পুরুষই পারে
একজন নারীকে সবচেয়ে সুন্দর করে তুলতে।

অলংকার হয়তো নারীর শরীরকে সাজায়,
দামি পোশাক হয়তো তাকে দেয় সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মায়া,
বাহ্যিক সাজ হয়তো সাময়িক বিস্ময় জাগায়—
কিন্তু একজন ভালো মানুষের ভালোবাসা
নারীর মনকে আলোকিত করে তোলে
অন্তর্গত অন্ধকারের অতল গহ্বর পর্যন্ত।

সে ভালোবাসা কেবল অনুভূতি নয়—
সে এক আলোকস্তম্ভ,
যা সংশয়, অবমাননা ও আত্মঅবিশ্বাসের ছায়াকে ভেদ করে
মনোজগতকে পরিশুদ্ধ করে।

আর মন যখন সুন্দর থাকে—
সেই সৌন্দর্য কোনো অলংকারের চেয়েও
হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে,
কোনো দামি পোশাকের চেয়েও অধিক মর্যাদাশীল,
কোনো বাহ্যিক সাজের চেয়েও গভীর ও স্থায়ী।

কারণ সত্যিকারের সৌন্দর্য
শরীরের নয়—
তা আত্মার,
তা বিশ্বাসের,
তা পারস্পরিক সম্মান ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক অনির্বচনীয় সমীকরণ।

আর সেই সমীকরণে
একজন সৎ, যত্নশীল ও দায়িত্ববান পুরুষ
শুধু সঙ্গী নয়—
সে হয়ে ওঠে আলো,
আশ্রয়,
অপরিহার্য আস্থা।
তখন নারী আর কেবল অলংকারে সজ্জিতা থাকে না

সে হয়ে ওঠে দীপ্তিমান,
মনোজ্যোতিতে উদ্ভাসিত,
অন্তর্লোকের প্রভায় আলোকিত এক অনির্বাণ সৌন্দর্য।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ সাল 🇧🇩 🇫🇷 🇧🇩 ☕

কবিতা :সবাই মনে করে—নারীর সৌন্দর্য বাড়ে অলংকারে,দামি পোশাকে, বাহ্যিক সাজে,ঝলমলে রঙে আর কৃত্রিম আলোয়।কিন্তু সত্যিটা অন্য ...
17/02/2026

কবিতা :সবাই মনে করে—

নারীর সৌন্দর্য বাড়ে অলংকারে,
দামি পোশাকে, বাহ্যিক সাজে,
ঝলমলে রঙে আর কৃত্রিম আলোয়।

কিন্তু সত্যিটা অন্য কোথাও লুকানো—
নরম, গভীর, নিঃশব্দ এক আলোর ভিতরে।
নারীর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তখনই,
যখন তার পাশে থাকে
একজন সৎ, যত্নশীল ও দায়িত্ববান পুরুষ—
যে শুধু সঙ্গী নয়,
হয়ে ওঠে তার শক্তি,
তার নিরাপত্তা,
তার আত্মবিশ্বাসের অবলম্বন।

যে পুরুষ নারীর সম্মান রক্ষা করে,
তার স্বপ্নগুলোকে গুরুত্ব দেয়,
তার ক্লান্ত চোখে স্বপ্ন আঁকে নতুন ভোরের,
তার হাসির কারণ হতে চায় প্রতিদিন—
সেই পুরুষই পারে
একজন নারীকে সবচেয়ে সুন্দর করে তুলতে।

অলংকার হয়তো নারীর শরীরকে সাজায়,
দামি পোশাক ঢেকে দেয় বাহ্যিক অভাব,
কিন্তু একজন ভালো মানুষের ভালোবাসা
নারীর মনকে আলোকিত করে তোলে—
অন্তরের অন্ধকারে জ্বেলে দেয় দীপশিখা।

আর মন যখন সুন্দর থাকে,
সেই সৌন্দর্য কোনো অলংকারের চেয়েও
হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে—
নিঃশব্দে, নিরাভরণে, অনন্ত আলোয়।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ সাল 🇧🇩 🇫🇷

কবিতা : সময়, জ্ঞান ও মানুষের পাশে মানুষসময়ের সাথে জ্ঞান থাকা ও দায়িত্ব পালন করা কি শুধু উপদেশ,নাকি মানুষের হয়ে ওঠার একমা...
17/02/2026

কবিতা : সময়, জ্ঞান ও মানুষের পাশে মানুষ

সময়ের সাথে জ্ঞান থাকা ও দায়িত্ব পালন
করা কি শুধু উপদেশ,
নাকি মানুষের হয়ে ওঠার একমাত্র পথ?
আমরা অল্পবয়স থেকে বুঝে ও না বুঝে বড় হয়ে যাই—
শরীর বড় হয়, বয়স বাড়ে, কিন্তু সবসময় মন বড় হয় না।
আমার ভিতরে যখন শৈশব ও কৈশোর ছিল,
মা-বাবা কিছু প্রাথমিক শিক্ষা দিয়েছিল —
কিন্তু অনেক পরিবার আছে,
যেখানে সন্তানরা বড় হয় দিশাহীন, দায়িত্বহীন, সম্পর্কহীন।
তখন তারা জানে না —
পরিবার কাকে বলে, দায়িত্ব কার জন্য, কেন পালন করা উচিত।
জ্ঞান না থাকলে মানুষ স্বাধীন হয়,
কিন্তু পথ হারায়।
পরিবর্তে তাদের অজ্ঞতা
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ পরিবার শিক্ষা হলো প্রধান শিক্ষা,
আদব-কায়দা মানুষের আসল পরিচয়।
একজন মানুষ শেখে —
একে অপরের সাহায্য করা,
পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী
ও গরিব অসহায় মানুষকে পাশে দাঁড়ানো।
এই জ্ঞান বই থেকে আসে না,
এটা হৃদয় থেকে আসে…
পরিবার থেকে অর্জন করতে হয়।
কিন্তু কিছু মানুষ আছে —
নিজের স্বার্থ খুব ভালো বোঝে,
নিজের সমস্যা বোঝে, নিজের অর্জন বোঝে,
কিন্তু অন্যের কষ্ট বোঝে না।
কেউ বিপদে পড়লে তারা তাকায় না,
কেউ সাহায্য চাইলে শোনে না।
একটা মানুষ, একটা পরিবার, একটা প্রতিবেশী
দুর্দশায় পড়লে কিভাবে পাশে দাঁড়াতে হয়
সেটা বুঝতে চায় না কেউ।
যে মানুষ সবসময় আর্থিক কষ্টে থাকে,
তাকে মাঝে মাঝে সাহায্য করাই যথেষ্ট নয়—
তাকে এমনভাবে পাশে দাঁড়াতে হয়
যাতে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
সুখ শুধু নিজের হলে সুখ নয়,
দুঃখ ভাগ না করলে মানুষ নয়।
আমরা মানুষ নামে শিক্ষিত,
কিন্তু পারিবারিক ও মানসিকভাবে অশিক্ষিত।
সবাই ভাবে —
আমার অবস্থা ভালো,
আমার বিপদ হবে না,
আমি কখনো কারো কাছে হাত বাড়াবো না।
কিন্তু সময় নীরব বিচারক…
দশ বছর পর, হঠাৎ একদিন
যখন শরীর ভেঙে পড়ে, অর্থ ফুরিয়ে যায়,
তখন দরজায় কড়া নাড়ে একাকীত্ব।
তখন মানুষ কাউকে পায় না—
কারণ একসময় সে কারো পাশে দাঁড়ায়নি।
যাদের চোখে সে ছিল সচ্ছল,
তাদের হৃদয়ে সে ছিল শূন্য।
শেষ সময়ে সে বুঝতে পারে—
তার সারাজীবনের ব্যর্থতা,
অবজ্ঞা, উদাসীনতা, না বোঝার ভান,
পারিবারিক শিক্ষা না জানা
এক নিমেষে জীবনকে শূন্য করে দেয়।
তাই বলা—
সবসময় সাহায্য করা নয়,
বিপদে স্থায়ীভাবে পাশে থাকা প্রয়োজন,
যাতে মানুষ আবার মানুষ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কারণ কেউ জানে না
কোন সময়ে কোন আত্মীয়, কোন প্রতিবেশী
জীবনের শেষ আশ্রয় হয়ে উঠবে।
আমরা একা বাঁচি না—
মানুষ মানুষকে প্রয়োজন।
সুখের দিনে পাশে থাকা সহজ,
দুঃখের দিনে পাশে থাকা মানবতা।
শেষ সত্য এটাই—
যে মানুষ অন্যের কান্না বোঝে,
তার জীবন কখনো একা শেষ হয় না।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ সাল 🇧🇩 🇫🇷

কবিতা : দায়বোধের অবশেষসময়ের প্রবাহে আমরা প্রৌঢ় হই,কিন্তু প্রজ্ঞা জন্মায় না সব হৃদয়ে।শৈশবের অবচেতন দিনগুলোতেযে আদর্শ রোপি...
17/02/2026

কবিতা : দায়বোধের অবশেষ

সময়ের প্রবাহে আমরা প্রৌঢ় হই,
কিন্তু প্রজ্ঞা জন্মায় না সব হৃদয়ে।

শৈশবের অবচেতন দিনগুলোতে
যে আদর্শ রোপিত হওয়ার কথা ছিল,
অনেক জীবনেই তা অনুর্বর মাটিতে বিলীন।

তাই তারা জানে না—
দায়িত্ব কার, কর্তব্য কেন, সম্পর্ক কত গভীর।
অজ্ঞতার এই নিঃশব্দ ব্যাধি
প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকার হয়ে থাকে।

পরিবারই প্রথম বিদ্যালয়,
আদবই মানুষের প্রকৃত পরিচয়;
যেখানে সহমর্মিতা শেখানো হয় না,
সেখানে মানুষ কেবল স্বার্থের ভাষা শেখে।

নিজের অর্জন, নিজের বেদনা, নিজের প্রয়োজন—
সব বুঝে, কিন্তু অন্যের আর্তি বোঝে না।
প্রতিবেশীর বিপর্যয়, আত্মীয়ের অবক্ষয়
তাদের বিবেকে কোনো আলো জ্বালে না।

অভাবগ্রস্তকে ক্ষণিক দান নয়,
দৃঢ় সহায়তায় পুনর্জীবন দেওয়া প্রয়োজন—
যাতে সে ভিক্ষুক নয়, স্বনির্ভর মানুষ হয়ে দাঁড়ায়।

মানুষ ভাবে—
তার সমৃদ্ধি চিরস্থায়ী,
তার দুয়ারে দুঃখ আসবে না কখনো;
কিন্তু সময় নির্দয় বিচারক।

একদিন যখন অবলম্বন ভেঙে পড়ে,
সঞ্চিত প্রাচুর্য ধুলোয় মিশে যায়,
তখন চারদিকে কেবল নীরবতা—
কারণ সে কারো আর্তিতে সাড়া দেয়নি।

শেষ প্রহরে মানুষ উপলব্ধি করে—
উদাসীনতার চেয়ে বড় দারিদ্র্য নেই,
আর সহমর্মিতার চেয়ে বড় সম্পদও নেই।

তাই পাশে থাকা মানে দয়া নয়,
মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা করা;
কারণ কেউ জানে না—
কোন হাত একদিন নিজের
জীবনরক্ষার শেষ অবলম্বন হবে।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ সাল
🇧🇩 🇫🇷

ছাদের ওই আকাশটুকু শূন্যতার নীল ছাদের ওই আকাশটুকুআজও আগের মতোই নীল,শুধু আমাদের চোখ দুটোতেজমে আছে অগণিত ধূলি আর শূন্যতার র...
14/02/2026

ছাদের ওই আকাশটুকু শূন্যতার নীল

ছাদের ওই আকাশটুকু
আজও আগের মতোই নীল,
শুধু আমাদের চোখ দুটোতে
জমে আছে অগণিত ধূলি আর শূন্যতার রীল।
মায়ের কাশির শব্দ ভেসে আসে
রাতের নিস্তব্ধতার ভেতর,
জলের গ্লাসে কাঁপে হাত—
অপূর্ণতার মতো কাঁপে অন্তর।

আমি যে কতবার ভেবেছি
ইলিশের ঝোল ফুটবে হাঁড়িতে,
শীতের সকালে চিতই পিঠা
তোমার হাতের হাসিতে—
সেই সব স্বপ্ন আজও বসে আছে
ছাদের কার্নিশ ধরে,
অপেক্ষায়, কবে আমি জিতব
এই অনাহারী ভোরে।
আমার হাতে ছিল কিছু টাকা—
তবু তা ছিল না আমার,
স্বাধীনতার বদলে পেয়েছি
শুধু শর্তের অন্ধকার।

যে ভবিষ্যতের নামে তারা
আজকে কেড়ে নেয় আজ,
সেই ভবিষ্যতে তুমি থাকবে না—
এই ভাবনাই সবচেয়ে লাজ।

মা, আমি কি তবে সত্যিই
এতটাই ব্যর্থ মেয়ে?
তোমার শাড়ির নতুন ভাঁজে
একটুখানি রঙও যে বুনতে পারিনি বেয়ে।
তোমার ওষুধের দামটুকু
গুনতে গিয়ে হেরে যাই,
নিজের কাছে মাথা নত করে
নিঃশব্দে শুধু কাঁদি তাই।

তবু তুমি বলো—
“আকাশটাকে কেউ বাঁধতে পারে না রে মা,”
তোমার কাঁপা হাতে মাথায় ছোঁয়া
হয়ে ওঠে আশ্রয়-ছায়া।

তুমি বলো, স্বপ্নেরা মরেনি,
ওরা শুধু অপেক্ষায়,
একদিন আমি হাসব আবার
এই ছাদের নীল প্রান্তর ছায়ায়।

যেদিন তুমি থাকবে না,
সেদিনও উঠব আমি ছাদে,
তারার ফাঁকে খুঁজব তোমায়
নীরব রাতের বাঁকে বাঁকে।

ইলিশের গন্ধে ভরে উঠবে
খালি ঘরের বাতাস,
পিঠার ভাঁজে লুকিয়ে রাখব
তোমার মায়াভরা নিঃশ্বাস।

যা দিতে পারিনি তোমায়
তার চেয়ে বেশি তুমি দিয়েছ আমায়—
সহ্য করার শক্তি,
অন্ধকারে আলো জ্বালার প্রার্থনায়।
ছাদের ওই আকাশটুকু
আজ আমাদের শেষ নয়,
সেখানেই আবার শুরু হবে
আমার নতুন জীবনের জয়।

কারণ তুমি আছ—
আমার রক্তে, আমার নিশ্বাসে,
আমার প্রতিটি স্বপ্নের ভেতর,
অদৃশ্য আকাশ হয়ে পাশে।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
লেখিকা
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ 🇫🇷🇧🇩☕

"ছাদের ওই আকাশটুকু"একটি মা-মেয়ের গল্পমা: (বৃদ্ধা, বিছানায় শুয়ে, কাশির পর কাশি) অ্যাই মা গো, জলটা একটু দে তো। গলা টা শুক...
13/02/2026

"ছাদের ওই আকাশটুকু"

একটি মা-মেয়ের গল্প

মা: (বৃদ্ধা, বিছানায় শুয়ে, কাশির পর কাশি) অ্যাই মা গো, জলটা একটু দে তো। গলা টা শুকিয়ে কাঠ।

মেয়ে: (ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, চোখ শূন্য) এই যে মা... জল।

(জল এগিয়ে দেয়, চোখ নামিয়ে)

মা: (জল খেয়ে, মেয়ের হাত ধরে) তোর হাত কাঁপে কেন রে মা? তুই কি সারারাত জেগে থাকিস?

মেয়ে: (চোখ মুছে) না মা, ঠিক আছি।

মা: তুই ঠিক নেই রে। তোর মুখ দেখে বুঝি। আমার মেয়ের মুখের হাসিটা কোথায় গেল? সেই যে ছাদে বসে আকাশ দেখতে দেখতে বলতি, "মা, আমি বড় হয়ে তোমাকে ইলিশ মাছ কিনে দেব, পিঠা খাওয়াব"... সেই হাসিটা আজ কোথায়?

মেয়ে: (ফুঁপিয়ে ওঠে, কিন্তু চেপে যায়) মা, ইলিশ মাছ... মনে আছে? তুমি কত পছন্দ কর। আর পিঠা... শীতের সকালে চিতই পিঠা... (কণ্ঠ ভারী)

মা: আয় রে, আমার পাশে আয়। (মেয়েকে জড়িয়ে ধরে) কি হয়েছে বল তোকে?

মেয়ে: (হঠাৎ ভেঙে পড়ে, মায়ের কোলে মাথা রেখে) মা, আমি ব্যর্থ। আমি তোমাকে কিছু দিতে পারলাম না। তুমি অসুখে পড়েছ, আমি তোমার ওষুধ কিনে দিতে পারলাম না। তুমি ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছিলে, আমি... আমি এক টুকরোও কিনে দিতে পারলাম না। একটা কাপড় কিনে দিতে পারলাম না, মা! একটা কাপড়! আমি কী দিয়ে মেয়ে হয়ে আছি?

মা: (মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে) ছি ছি, এমন কথা বলিস না রে। আমি কি তোর কাছে কিছু চেয়েছি? তুই আমার পাশে আছিস, এটাই কি কম?

মেয়ে: কিন্তু মা, আমি তোমার পাশেও থাকতে পারলাম না। যেদিন তোমার খুব অসুখ হয়েছিল, সেদিনও আমি কাজে আটকে ছিলাম। শুধু আটকে থাকা না, সেই টাকাও হাতে আসেনি। সেই টাকা... সেই টাকা নিয়ে একজন বলল, রাখো, ভবিষ্যতে লাগবে। কিন্তু মা, যে ভবিষ্যতে তুমি থাকবে না, সেখানে ওই টাকা দিয়ে কী হবে?

মা: কার কথা বলছিস তুই? কে তোকে বলল টাকা রাখতে?

মেয়ে: (চোখ মুছে, শূন্য দৃষ্টিতে) অফিসের বস ছিল মা। আমি ভেবেছিলাম সে আমাকে সাহায্য করবে, স্বপ্ন পূরণের পথ দেখাবে। কিন্তু সে আমার হাত-পা বেঁধে রাখল। টাকা দিত না ঠিক মত মাসের পর মাস বেতন আটকিয়ে রেখেছে, কিন্তু বলে দিত "এটা তোমার না, এটা তোমার ভবিষ্যতের জন্য"। আমি কি করতাম মা?

আমি অসহায় ছিলাম। টাকাটা দরকার ছিল। কিন্তু সেই টাকার বিনিময়ে সে নিয়ে নিল আমার স্বাধীনতা, আমার ইচ্ছে, আমার মেয়ে হয়ে ওঠার অধিকার। আমার হাতের মুঠোয় ছিল টাকা, কিন্তু সেই টাকা তোমাকে দিতে পারতাম না—কারণ ওই টাকা "আমার" ছিল না।

মা: (চোখে জল) রে বাছা, তুই এত কষ্ট করে রাখতি কেন? তুই আমাকে কিছু না দিলেও আমি তো খুশিই থাকতাম। তুই আমার মেয়ে, এটাই কি কম?

মেয়ে: না মা, কম না। কিন্তু আমি নিজের কাছে বড় লজ্জিত। আমি প্রতিদিন ভাবি, আমি কী করলাম জীবনে? শুধু ভুল সিদ্ধান্ত, শুধু ব্যর্থতা। আর এখন তুমি চলে যাবে—তোমার শেষ বয়সে আমি তোমার পাশে থাকতে পারলাম না, তোমার প্রিয় খাবার খাওয়াতে পারলাম না, তোমার অসুখের খরচ যোগাতে পারলাম না। যেদিন তুমি মরে যাবে, সেদিন তোমার মুখ দেখতে পাব কি না জানি না। তার আগেই আমি...

মা: (হঠাৎ জোর ধরে মেয়ের হাত) চুপ! এমন কথা বলবি না। তুই থাকবি। তোর জন্যেই আমি বেঁচে আছি। তুই আমার মেয়ে। সেই ছোট্ট মেয়ে, যে ছাদে বসে আকাশ দেখত, স্বপ্ন বুনত। সেই স্বপ্নগুলো ফুরিয়ে যায়নি রে। তুই আবার শুরু করতে পারবি।

মেয়ে: (মায়ের দিকে তাকায়, চোখ জলে ভরা) আবার শুরু? কিভাবে মা? আমার শরীরে প্রাণ নেই। আমি খাই, কিন্তু গলা দিয়ে নামে না। আমি ঘুমাই, কিন্তু স্বপ্ন দেখি না। শুধু একটাই স্বপ্ন ছিল—তোমাকে একটু ভালো খাওয়াব, তোমার পাশে থাকব। সেই স্বপ্নটাই তো পূরণ করতে পারলাম না।

মা: (মেয়ের মুখে হাত বুলিয়ে) তুই আমার পাশে আছিস না? এই মুহূর্তে? এটাই তো পাশে থাকা রে। তুই যে শুধু আমার পাশে বসে আছিস, এইটুকুতেই আমি স্বার্থক। তুই আমাকে জল দিচ্ছিস, আমার হাত ধরে রাখছিস—এইটাই তো দায়িত্ব পালন।

মেয়ে: কিন্তু মা, আমি তোমাকে সাহায্য করতে দিল না কেউ। আমার হাত-পা বেঁধে রাখল। সেই মানুষগুলো—ওদের আমি ক্ষমা করব না, মা। যেদিন তুমি চলে যাবে, সেদিনও আমি ওদের থুথু দেব। কারণ ওরা কেড়ে নিয়েছে আমার মেয়ে হয়ে ওঠার সময়গুলো। ওরা কৃপণতা করেছে একটু টাকা দিতেও, অথচ মানুষ কতটুকুই বা খায়?

মা: (চোখ মুছে) ক্ষমা কর, মা। নিজের জন্য না হোক, আমার জন্য কর। তুই যদি ওদের ক্ষমা না করিস, তাহলে তোর ভিতর এই জ্বালা থেকেই যাবে। আমি চাই না তোর মনে এই আগুন জ্বলুক। তুই মুক্ত হ, ওই ঘৃণা থেকে।

মেয়ে: (ফুঁপিয়ে) পারব না মা, পারব না। যে আমার তোমাকে দেওয়া টাকাটা পর্যন্ত আটকে রাখল, যে আমার স্বপ্ন চুরি করল—ওকে ক্ষমা? না মা, না।

মা: (অনেকক্ষণ চুপ থেকে, আকাশের দিকে তাকিয়ে) তুই জানিস, আমি প্রতিদিন ছাদের দিকে তাকাই। তোকে দেখি সেখানে বসে থাকতে। তোর চোখে সেই স্বপ্নগুলো আজও দেখি। ওরা তোর টাকা আটকে রাখতে পারে, তোর হাত-পা বাঁধতে পারে, কিন্তু তোর স্বপ্নগুলোকে বাঁধতে পারেনি রে। ওরা পারেনি তোর এই আকাশটাকে ঢেকে দিতে।

মেয়ে: (মায়ের দিকে তাকিয়ে) মা, আমি কি সত্যিই আবার স্বপ্ন দেখতে পারি?

মা: দেখবি রে। আমার মেয়ে পারবে। তুই একদিন না একদিন এই ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে হাসবি। আমার জন্য ইলিশ মাছ রান্না করবি, পিঠা বানাবি। সেদিন আমি হয়তো থাকব না, কিন্তু তুই জানবি—আমি ওপর থেকে দেখছি। তোর সেই হাসি দেখছি।

মেয়ে: (মাকে জড়িয়ে ধরে) মা, আমি যদি না পারি?

মা: পারবি রে। আমার মেয়ে পারবে। শুধু একটু সময় দে নিজেকে। তোর ভুলগুলোকে ক্ষমা করে দে। তুই যা করতে পারিসনি, সেগুলো ভুলে যা। যা করতে পারবি, সেদিকে তাকিয়ে থাক।

মেয়ে: (অনেকক্ষণ চুপ থেকে, মায়ের কাঁধে মাথা রেখে) মা, আমি চেষ্টা করব। তোমার জন্য।

মা: (মেয়ের চুলে হাত বুলিয়ে) না রে, তোর জন্য। তুই বাঁচবি তোর জন্য। তুই স্বপ্ন দেখবি তোর জন্য। তুই শুরু করবি তোর জন্য। আমি তো শুধু পাশে আছি—এই শেষ সময়টুকু।

মেয়ে: মা, তুমি চলে গেলে আমি কী করব?

মা: তখনও তুই ছাদে উঠবি। আকাশ দেখবি। আমার কথা মনে পড়বে। তারপর হাসবি। কারণ আমি তখনও তোর পাশেই থাকব, শুধু চোখে দেখা যাবে না।

মেয়ে: (আকাশের দিকে তাকায়) এই আকাশটুকুই তো আমাদের, মা। এখানে বসে আমি নতুন করে শুরু করব। তুমি দেখবে।

মা: (হাসে) আমি দেখব রে। আমি সব দেখব।

(অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে দুজনে। হাত ধরে থাকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় মা। মেয়ে মায়ের কোলে মাথা রেখে আকাশ দেখে।)

মেয়ে: (ধীরে ধীরে) মা, আমি তোমাকে কিছু দিতে পারিনি। কিন্তু তুমি আমাকে সব দিয়েছ। এই ভালোবাসা, এই আকাশ, এই স্বপ্ন দেখার শক্তি—সব তুমি দিয়েছ। আমি চেষ্টা করব, মা। সত্যিই চেষ্টা করব। তোমার মতো শক্ত থাকার চেষ্টা করব।

মা: (চোখ বুজে, শান্ত গলায়) আমার মেয়ে পারবে। আমার মেয়ে সব পারবে।

(রাত নামে। ছাদে বসে মা-মেয়ে। হাতে হাত। আকাশে তারা ফোটে। মেয়ে মায়ের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে যায়—অন্তহীন ভালোবাসায়।)

সমাপ্ত
সুকন্যা আহমেদ লিপি
ব কলম
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ 🇫🇷🇧🇩☕

কবিতা — “শিকলে বাঁধা আকাশের স্বপ্ন”সুকন্যা আহমেদ লিপিলেখিকা ব কলম আমি তো বেশি কিছু চাই নি—না রাজত্ব, না অগাধ সুখ,শুধু স্...
09/02/2026

কবিতা — “শিকলে বাঁধা আকাশের স্বপ্ন”

সুকন্যা আহমেদ লিপি
লেখিকা ব কলম

আমি তো বেশি কিছু চাই নি—
না রাজত্ব, না অগাধ সুখ,
শুধু স্বাধীন ভাবে, মুক্ত ভাবে
একটু আকাশে ডানা মেলতে চেয়েছিলাম,
যেখানে নিঃশ্বাস নেওয়াটাও অপরাধ না হয়,
যেখানে হাসলে জেরা হয় না।
আমি নীল শাড়ি, নীল চুড়ির টুংটাং স্বপ্ন,
মাথার খোপায় বেলি ফুলের শুভ্র মালা গেঁথে
সেই নরম সুগন্ধ বুকভরে নিয়ে
রিকশায় অলিগলি, শহরের বাঁক ঘুরে
নিজেকে একদিন নিজের মতো করে
বাঁচাতে চেয়েছিলাম—
অভিনয় না, সত্যি সত্যি বেঁচে থাকা।
সাদা আর হলুদ গোলাপের গন্ধে
মনটাকে আবার জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম,
কারণ ভিতরের প্রাণটা
প্রতিদিন নিঃশব্দে নিভে যাচ্ছিল।
পড়াশোনা করে জ্ঞান অর্জন,
ভালো একটা কাজ, সম্মানের জব—
নিজের উপার্জনের টাকায়
নিজেকে, প্রিয় মানুষকে, জীবনকে
একটু মর্যাদা দিতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু সেখানে ও বাধা,
মানসিক আঘাতের ঝড়,
শারীরিক কষ্টের অন্ধকার—
স্বপ্ন দেখাটাই যেন অপরাধ ছিল আমার নামে।
চেয়েছিলাম প্রিয়জনের পাশে
কিছু ছোট মুহূর্ত জমিয়ে রাখতে,
একটা প্রিয় ড্রেস পরে
নিজের টাকায় ঘুরব, খাব,
ভালবাসার মানুষকে উপহার দেব—
এই সামান্য সুখই ছিল আমার বিশাল স্বপ্ন।
কিন্তু শোনা গেল—
“তোমাকে দিয়ে হবে না, তুমি পারবে না।”
আমার পড়াশোনা, উপার্জন, কাজ, বুদ্ধি,
খাওয়া, হাসি, কান্না—
সবকিছুর ভেতর ভুল খোঁজা হলো,
নিকৃষ্ট ডমিনেশনের ভারে
আমার আত্মাটাকে ছোট করতে করতে
একসময় আমি নিজেই বিশ্বাস করলাম—
আমি বুঝি সত্যিই অক্ষম।
আমার স্বপ্নগুলোকে
ভেজা কাপড়ের মতো নিংড়ে
দুঃখে পরিণত করা হলো,
বহু বছর ধরে আমি
শিকলে বাঁধা, অন্ধকারে আটকানো—
চার হাত-পা বন্ধি এক জীবন,
যেন কোন স্বপ্ন
আমাকে দিয়ে পূরণ না হয়।
আমার রূহ কাঁদত, কষ্ট পেত,
তবু আমি স্বপ্ন দেখা ছাড়িনি,
প্রতিদিন গোপনে, নিঃশব্দে
স্বপ্ন বুনতাম, পরিকল্পনা আঁকতাম—
একদিন আমি পারব,
একদিন আমার আকাশ হবে।
অবশেষে বয়সের এক মোড়ে এসে
আমি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলাম,
এখন স্বপ্ন দেখা বারণ নিজের কাছেই—
কারণ সারাজীবন মরিচিকার পেছনে ছুটে
হাত ভরেছে শুধু শূন্যতায়।
আজ নেই স্বপ্ন,
না আছে উপার্জন,
না আছে শিক্ষা,
আমার মনটাকে ভেঙে, চুরমার করে
শূন্য করে দেওয়া হয়েছে।
আজ আমি স্বাধীন ভাবে
কথাও বলতে পারি না,
আমি ক্লান্ত—
আমার স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে গেল।
আজ আমি অন্ধকার ঘরে
পায়ে শিকল দেওয়া
এক স্বপ্নের রানী,
যার রাজ্য ছিল কল্পনায়,
বাস্তবে শুধু দেয়াল আর নিঃশব্দ রাত।
জীবন আজ জীবন্ত লাশ—
শ্বাস আছে, স্পন্দন আছে,
কিন্তু বেঁচে থাকার উষ্ণতা নেই।
এখনও স্বপ্ন দেখতে চাই না,
কারণ যারা স্বপ্নের ভেতর ঢুকে
আমার ঘুম ভেঙে দিয়েছিল,
স্বপ্ন ভাঙার সেই অপরাধ
আজও বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ তোলে—
কিছু ভাঙা স্বপ্ন
ক্ষমা করে দিয়ে ও জোড়া লাগে না।

প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ করা ২০২৬ 🇧🇩 🇫🇷

Pc clc

কবিতা — “বন্ধ দরজার ভেতর একটি নিঃশ্বাস”আমার চারপাশে সব দরজা বন্ধ,হাওয়ার পথগুলোও যেন শিখে গেছে নীরব থাকা,দেয়ালগুলো কানে ক...
09/02/2026

কবিতা — “বন্ধ দরজার ভেতর একটি নিঃশ্বাস”

আমার চারপাশে সব দরজা বন্ধ,
হাওয়ার পথগুলোও যেন শিখে গেছে নীরব থাকা,
দেয়ালগুলো কানে কানে বলে—
“তোমার চিৎকার এখানে পৌঁছায় না আর।”
মাঝে মাঝে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়,
বুকের ভেতর বাতাস ঢোকে,
কিন্তু বাঁচার মতো লাগে না,
মনে হয় শূন্যতা ফুসফুস ভরে রাখে।
কিছু মানুষ—মানুষ নামের ছায়া,
মানসিক আঘাত ছুড়ে দেয় শব্দের ছুরি হয়ে,
সারাক্ষণ দোষ, ভুল, মিথ্যা অপবাদ,
আমি কি তবে এতটাই অপরাধী
যে নিজের অস্তিত্বও এখন অজুহাত লাগে?
পুরাতন ক্ষত শুকোয় না,
নতুন ক্ষত রক্তে নিজের নাম লেখে,
হিংস্র উস্কানিরা এসে দাঁড়ায় ভোরের আগে,
ঘুম ভাঙার আগেই মন ভেঙে যায়।
সবকিছু এখন পাগল পাগল লাগে,
আয়নায় নিজের চোখও অপরিচিত,
মনে হয় মাথার ভেতর একটা ঝড় থাকে
যার কোন আকাশ নেই।
কিভাবে মুক্তি পাব—বুঝি না,
পথ আছে কি না তাও দেখি না,
যখন কষ্ট শোনার মানুষ নেই,
বোঝার মতো বুক নেই কোথাও,
তখন শব্দগুলো নিজের ভেতরেই মরে যায়।
সম্পদ নেই, অর্থ নেই,
বয়স যেন কাঁধে পাথর হয়ে বসে,
বয়স না হলেও
প্রতিটি আঘাত আমাকে একটু করে বৃদ্ধ বানায়,
নিস্তব্ধ হয়ে সময় চলে যায়—
আমি দাঁড়িয়ে থাকি একই জায়গায়।
মানসিক চাপ এখন অলসতার চাদর,
ঘাড়ে চেপে ধরে—
কোন কাজ মন বসে না,
শহরের অলিগলিও আজ অচেনা,
প্রিয়জনদের মুখেও উষ্ণতা খুঁজি না আর।
কাজের গতি কমে গেছে,
কারণ ভেতরে যে প্রাণ ছিল
সে এখন নীরব কবর,
হৃদয়ের ভেতরই তার শবযাত্রা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত নিতে পারি না,
ডান-বাম সব পথ কুয়াশা,
কি করব—এই প্রশ্নটাই
আমাকে প্রতিদিন শূন্য করে দেয়।
বেঁচে থাকার স্বপ্ন মরে গেছে—
এটা মৃত্যু না,
এটা দীর্ঘ এক সন্ধ্যা
যেখানে সূর্য ডোবে, কিন্তু রাতও আসে না।
ভালবাসা হারিয়ে গেছে,
প্রাণবন্ত মন কোথাও বসে আছে নিশ্চুপ,
স্বপ্ন দেখা বাদ দিয়েছি—
কারণ স্বপ্ন ভাঙার শব্দ
সহ্য করার শক্তিও নেই আর।
সব ছিল জীবনে—
কিন্তু মনে থাকে শুধু যন্ত্রণা,
যেন সুখ ছিল অতিথি,
দুঃখই ছিল আসল ঠিকানা।
তবু…
বন্ধ দরজার ঘরেও
একটা ছোট্ট ফাঁক থাকে কোথাও,
যেখান দিয়ে একফোঁটা আলো ঢোকে—
তুমি এখন সেটা দেখছো না,
কিন্তু আলোটা তোমাকে এখনও ছাড়েনি।

সুকন্যা আহমেদ লিপি
লেখিকা
প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ ২০২৬ 🇫🇷🇧🇩

শিক্ষা মূলক গল্প – ১🌹বরকতের গল্পকোরবানী ঈদের দিন রাজা তার প্রজাদের বলল—“মাংস সবাইকে ভাগ করে দাও।”প্রজারা তাদের সাধ্য অনু...
14/01/2026

শিক্ষা মূলক গল্প – ১

🌹বরকতের গল্প

কোরবানী ঈদের দিন রাজা তার প্রজাদের বলল—
“মাংস সবাইকে ভাগ করে দাও।”
প্রজারা তাদের সাধ্য অনুযায়ী ভাগ করে দিল।
কিন্তু রাজা নিজে বেশির ভাগ মাংস রেখে দিল এবং বাকি সব নিজেই ও পরিবারের লোকজন নিয়ে খেয়ে ফেলল।
প্রজা নরম স্বরে বলল,
“মহোদয়, যত বেশি মানুষকে মাংস ভাগ করে দেবেন, তত বেশি বরকত আসবে রিযিকে।”
রাজা কথাটা শুনেও শুনল না।
বলল,
“আমি বাকি মাংস নিজেই খাব।”
প্রজা চুপ করে গেল।
কয়েক দিন পর একদিন রাজাকে কাঁদতে দেখা গেল।
প্রজা জিজ্ঞেস করল,
“মহোদয়, কী হয়েছে?”
রাজা বলল,
“আমি অনেক মাংস খেলাম, কিন্তু তৃপ্তি পেলাম না । মনে শান্তি নেই, এ বছর বরকতও পেলাম না।”
তারপর রাজা লজ্জিত হয়ে বলল,
“আমি তোমার কথা শুনিনি। তুমি সব সময় আমার হয়ে মাংস ভাগ করে দিতে, মানুষকে উজার করে বিলিয়ে দিতে ও রান্না করতে। তোমার হাতে বরকত ছিল। আমি কৃপণতা করেছি, তোমার কথা শুনি নাই ও মূল্যায়ন করিনি। আজ বুঝতে পারছি—কৃপণতার ফল কত কঠিন।”
প্রজা নীরবে মাথা নত করল।
✦ গল্পের শিক্ষা (উক্তি)
“দান কমায় না, দান বাড়ায়।”
“বরকত আসে ভাগ করে দেওয়ায়, জমিয়ে রাখায় নয়।”
“কৃপণতা পেট ভরায়, মন ভরায় না।”
“যে উপদেশ অবহেলা করে, সে অভিজ্ঞতা দিয়ে শিখে।”

🌹 শিক্ষা মূলক গল্প – ২
বিশ্বস্ততা ও বিশ্বাসঘাতকতার গল্প

একদিন রাজা বলল,
“আমি আমার নৌকাকে রাজপ্রাসাদের মতো বানাবো, যেন সব জায়গায় ঘুরতে পারি আর সবাই প্রশংসা করে।”
প্রজা বলল,
“ঠিক আছে মহোদয়। আমি আগের মতোই মন দিয়ে কাজ করব। তবে একটু সময় দিন—আমার লোকবল ঠিক করতে হবে, আর আমার স্ত্রী অসুস্থ।”
রাজা হঠাৎ রেগে গেল।
বলল,
“তুই আগেও দায়িত্বে গাফিলতি করেছিস। ভালো কাঠ দিস নাই, টাকা নয়ছয় করেছিস। তোকে আর কাজ দেব না।”
প্রজা কাঁপা গলায় বলল,
“মহোদয়, আমি কিছু টাকা নিয়েছিলাম স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য। আপনার অনুমতি নিয়েই নিয়েছি। তারপরও আমাকে চোর বললেন ও মিথ্যা অপবাদ দিলেন? আমি জীবন দিয়ে আপনাকে রক্ষা করেছি, অথচ অপবাদ পেলাম। আমি সময়ে হলে আপনার জানমাল ও যা খরচ করেছি সময় হলে ফেরত দিতাম। কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারলেন না। আমাকে কিছুদিন পরীক্ষা করে দেখতেন। ”
রাজা রাগে বলল,
“বের হয়ে যা! তোর পরীক্ষা ও পুরস্কার আমার দরকার নেই।”
কান্নাভেজা চোখে প্রজা রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বনবাসে চলে গেল।
এরপর রাজা তার বিশ্বস্ত মনে করা মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল—
“এক বছরে নৌকা বানিয়ে দে।”
মন্ত্রী খুশি হয়ে বলল,
“অবশ্যই মহারাজ। তবে খরচ একটু বেশি হবে।”
কাজ শুরু হলো।
মন্ত্রী নিজের লোক বসাল, সস্তা কাঠ কিনল, হিসাব দেখাল দামী।
১০ টাকার কাজ ১০০ টাকায় দেখাল।
নৌকা বাইরে থেকে ঝকঝকে, ভেতরে ফাঁপা।
এক বছর বললেও কাজ শেষ হতে লেগে গেল দশ বছর।
প্রথম ভ্রমণেই মাঝ নদীতে নৌকা ফেটে পানি ঢুকতে লাগল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকা ডুবে গেল।
রাজা কোনোমতে প্রাণ বাঁচাল।
তখন বুঝল—
যে প্রজা নীরবে কাজ করত, সে ছিল সত্যিকারের বিশ্বস্ত।
আর যে মন্ত্রী তোষামোদ করত, মাঝে মধ্যে না জানিয়ে সম্পদ চুরি করত। তখন বুঝতে পারল,
সেই রাতে রাজা কাঁদল।
বলল,
“আমি বিশ্বস্ত মানুষকে অপমান করেছি, আর লোভীদের বিশ্বাস করেছি।”
কিন্তু তখন আর প্রজাকে ফিরে পাওয়া গেল না।
✦ গল্পের শিক্ষা (উক্তি)
“যে নীরবে কাজ করে, সে-ই আসল বিশ্বস্ত।”
“তোষামোদে কান দিলে সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।”
“অপবাদ দিলে সত্য চাপা পড়ে না, একদিন প্রকাশ পায়।”
“বিশ্বাস ভাঙলে সম্পদ থাকে না, নিরাপত্তাও থাকে না।”আপন মানুষ ও বিপদে পাওয়া যাই না।।

প্রবাসী জীবন লিপিবদ্ধ করা 2026 সাল 🇫🇷 🇧🇩 ☕ 💋

Address

Rampura
Dhaka
1209

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সুকন্যা আহমেদ লিপি Life is full of beautiful Click posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category