25/06/2024
কৈশোর আর যৌবনের মাঝামাঝি সময়টা ভারী অন্যরকম। একদম ঠিক ঠিক বয়স বলতে গেলে, এই ধরুন কুড়ি থেকে চব্বিশ, বড়জোর পঁচিশ। যদিও যৌবন বলতে আমরা কৈশোরের পরের সময় অর্থাৎ কুড়ি বছর বয়স থেকেই মেনে নিই। তবুও এতোটা পরিবর্তন হঠাৎ করেই আসে না। ছেলে হোক বা মেয়ে, শারীরিক পরিবর্তনের স্তরটা প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে এইখানেই এসে একদম স্থির হয়। বলতে গেলে এর পর থেকেই ফুরিয়ে যাওয়ার গননা শুরু। উদ্দাম ছন্নছাড়া জীবন বাদ দিয়ে একটা শান্ত জীবন, যা সবসময় ভয় জমিয়ে রাখে বুকের। ফুরিয়ে যাবার ভয়। সৌন্দর্য, অথবা ব্যক্তিত্বের বদল হতে থাকে ধীরে ধীরে। অল্প কিছু না জানা কথা জানার ইচ্ছে টা অল্প হতে থাকে তখন। আড্ডা, হই হুল্লোড় এর মধ্যে ছাপ রেখে যায় নির্মম বাস্তবতা আর অকাট্য যুক্তি। আমরা এই সময়েই বড়ো হতে শিখি। কত ছেলেমেয়ে এই সময় থেকেই বাড়ির দায়িত্ব কাঁধে নিচ্ছে, কত ছেলেমেয়ে নিজের স্বপ্নের দিকে দৌড়ে চলেছে। সবাই ব্যস্ত, সবাই পড়িমরি করে দৌড়াচ্ছে। পথচলতি ছেলেটা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে মাঠের মাঝে খেলতে থাকা কচিকাঁচাদের। কাঠের তৈরি ব্যাট কবেই জ্বালানি হয়ে পুড়ে গিয়েছে আগুনে। হয়তো একবেলার একটা তরকারি রাঁধা হয়েছে সেই আগুনের তাতে। কৈশোরের সমস্ত উদ্দাম থেকে অনেকটা জমে ছিল ওই ব্যাটে। তাত ওতে অনেক অনেক বেশী। মেয়েটা পথচলতি থমকে দাঁড়িয়ে বার্বি ডল দেখে। এত সুন্দর সাজ ওদের। দেখলেই নিতে ইচ্ছে করে। হয়তো টাকা ও আছে ব্যাগে। কিন্তু ওই দিয়ে ভাই এর টিউশনির ফিস্ দিতে হবে। ও থাক।
পাড়ার মোড়ে আড্ডা দেওয়া ছেলেটা সময় বেঁধে নিয়েছে এখন। সিগারেট ঠোঁটে থাকলে দুশ্চিন্তা কমে। তাই ঠোঁটে তাত লাগে কড়া তামাকের। বুকের কাছের জামাতে কড়া গন্ধ লেগে থাকে। ঘরের মধ্যে রাখলেও বেশ বোঝা যায়। সাহিত্য ভালোবাসা মানুষগুলো এই সময় টাকা জমিয়ে বই কেনে অনেক বেশী। একবার মনে মনে ঝালিয়ে নেয় জয় গোস্বামীর কবিতা। জীবনানন্দ অনেক প্রিয়। কিন্তু তিনি নিজের জীবনে অসহায় বলেই হয়তো তার প্রতি টান জন্মে একটু বেশী বয়সে। সম্পর্কে একেবারে পোক্ত হবার পর মানুষ জীবনানন্দ দাশ পড়ে। একেবারে মন দিয়ে অনুভব করতে চেষ্টা করে। কত মানুষ দিনে দিনে পরিণত হচ্ছে, কৈশোর থেকে যৌবনে পা দিচ্ছে। সবাই খুঁজে চলেছে একটা নতুন পৃথিবী। সবাই এক একটা নদী। দূর অবধি গিয়ে সেই সাগরেই মিলতে হবে। আলাদা হবার যো নেই। হয়ে কোনো লাভ ও নেই।