12/03/2025
বারবার চেয়েছি 'বোন আসিয়ার' বিষয়টা এড়িয়ে যেতে। চেয়েছি, এই কালো সত্যিটাকে নিজের হৃদয়ের বাইরে না আনতে। চেয়েছি, কলম না চালিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকি। কিন্তু পারলাম না!
পেশাদারিত্বের নামে 'স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে' আজ আমাকে সেই গল্প লিখতেই হলো— এক নিস্পাপ, নিরীহ, অসহায় বোনের সর্বনাশের গল্প। এক মৃত্যু-প্রতীক্ষায় শুয়ে থাকা আত্মার ওপর নেমে আসা নৃশংসতার কাহিনি।
কিবোর্ডে হাত চালিয়েছি ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি শব্দের সঙ্গে বুকের ভেতর যেন কেউ পাথর বসিয়ে দিচ্ছিল। প্রতিটি লাইন লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি নিজে যেন সেই নরকের সাক্ষী। আমি যেন নিজেই অনুভব করছি সেই অমানবিক যন্ত্রণা!
শেষ শব্দটা টেনে দিতেই বাম হাতটা কিবোর্ড থেকে সড়ে গেল। মনে হলো, কিবোর্ড থেকে শুধু হাত নয়, আমার সমস্ত শক্তি, আমার সমস্ত বিশ্বাসও পড়ে গেল। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে—আমি কাঁদলাম।
হয়তো কেউ বলবে, "তুমি তো কেবল একজন লেখক! তোমার কাজ লিখে যাওয়া!"
কিন্তু আমি জানি, এই লেখা লিখতে গিয়ে আমার হৃদয়ের প্রতিটি কোণা কতটা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। আমি জানি, একেকটা শব্দের সঙ্গে আমার চোখের পানি মিশেছে, মনের ভেতর সঞ্চিত রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।
আরও কষ্টের কথা হলো— উপস্থাপকের মুখে যে পাশবিকতা আমার কলমে ফুটে উঠল, সেই তিন অপরাধীর বিচার এখনো হয়নি! সেই নরপশুদের এখনো শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়নি!
আমার বোন, আমি একজন ব্যর্থ ভাই!
আমি জানি না, এই রাষ্ট্র, এই সমাজ, এই বিচারব্যবস্থা কবে তোমার প্রতি সুবিচার করবে। জানি না, তোমার আর্তনাদ কেউ শুনবে কি না। শুধু জানি, আজ এই রাতের গভীরে আমি একা বসে কাঁদছি। সবকিছু দূরে ঠেলে দিয়ে ভাবছি—
তুমি কি আমাকে ক্ষমা করবে, বোন?
মুহাম্মদ এনাম