27/05/2026
একবার ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন রাস্তায় প্রচুর কাদা জমে ছিল। অসাবধানতাবশত চলার পথে তাঁর পায়ের ধাক্কায় কিছুটা কাদা ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে থাকা এক ব্যক্তির বাড়ির দেয়ালে লেগে গেল।
সামান্য কাদা দেয়ালে লাগার এই দৃশ্যটি দেখে ইমাম সাহেব অত্যন্ত লজ্জিত ও পেরেশান হয়ে পড়লেন।
তিনি মনে মনে ভাবলেন, আমি যদি এখন কাদাটুকু টেনে তুলতে বা চেঁছে পরিষ্কার করতে যাই, তবে দেয়ালের কিছুটা মাটি খসে পড়ে দেয়ালটির ক্ষতি হতে পারে। আর যদি কাদাটি এভাবেই রেখে দিই, তবে তো অন্যের দেয়ালটি নোংরা হয়ে থাকবে!
এই গভীর পেরেশানি ও চিন্তায় মগ্ন হয়ে তিনি বাড়ির মালিককে বাইরে ডেকে পাঠালেন। ঘটনাক্রমে সেই বাড়ির মালিক ছিলেন একজন অগ্নিপূজক।
শুধু তা-ই নয়, তিনি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণও নিয়েছিলেন।
বাইরে এসে ইমাম সাহেবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেই লোকটির মনে ভয় ঢুকে গেল। সে ভাবল, ইমাম সাহেব হয়তো তাঁর পাওনা টাকা আদায় করার জন্য তাগাদা দিতে এসেছেন। তাই সে বেশ ঘাবড়ে গেল এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নিজের অভাবের কথা তুলে ধরে ক্ষমা চাইতে লাগল।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) মৃদু হেসে নরম সুরে বললেন,
"ভাই! ঋণের কথা বাদ দাও, ওটা কোনো বিষয় নয়। আমি তো এখন অন্য এক বড় চিন্তায় পড়েছি। আমার অসতর্কতার কারণে তোমার দেয়ালটিতে কাদা লেগে গেছে। আমি যদি এই কাদা এখন খুঁটে তুলতে যাই, তবে দেয়ালের কিছুটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে; আর যদি এভাবেই রেখে দিই, তবে তোমার দেয়ালটি নোংরা দেখাবে। আমি কীভাবে তোমার এই দেয়ালটি পরিষ্কার করব, সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে আছি!"
ইমাম সাহেবের মুখ থেকে এই অবিশ্বাস্য এবং কোমল কথাগুলো শুনে সেই অগ্নিপূজক ব্যক্তিটি নির্বাক হয়ে গেল। যে মানুষটি নিজের পাওনা টাকার কথা ভুলে গিয়ে অন্যের দেয়ালের সামান্য কাদার জন্য এতটা অনুতপ্ত হতে পারেন, তাঁর চরিত্র কতটা মহান হতে পারে— তা সে উপলব্ধি করতে পারল। লোকটি পরম শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বলে উঠল:
"হে ইমাম! দেয়াল তো পরেও পরিষ্কার করা যাবে, আপনি দয়া করে আগে আমাকে 'কালিমা তায়্যিবা' পড়িয়ে আমার অন্তরটাকে পরিষ্কার ও পবিত্র করে দিন!"
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর এই অসামান্য নৈতিকতা, সততা এবং সুন্দর আচরণের চাক্ষুষ প্রমাণ পেয়ে সেই ব্যক্তিটি ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলেন।
এটি ইমাম আজম (রহ.)-এর পবিত্র জীবনের অতি ছোট একটি উদাহরণ মাত্র। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) জ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রে যেমন নিজের কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ রাখেননি, ঠিক তেমনি ব্যক্তিগত আচার-আচরণ ও তাকওয়ার দিক থেকেও তিনি ছিলেন যুগের সেরা আদর্শ।
আজ শুধু আলেম সমাজই নয়, বরং গোটা মুসলিম উম্মাহ যদি তাঁদের জীবনে ইমাম সাহেবের এই মহান চরিত্রের সামান্য অংশও ধারণ করতে পারত, তবে পুরো সমাজ ও পৃথিবী সুন্দর হয়ে যেত।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সুন্দর চরিত্র, সততা এবং অন্যের অধিকারের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন। 🤲
© Salman Farsi
সূত্র: গুলিস্তানে আউলিয়া