26/08/2023
#জ্বীনের_রহস্য
Muhammad Nazrul Islam
Afwan Imtehana
কুহেক্বাফ ও পরীস্থানের অজানা কাহিনী.............
মো ইব্রাহীম খলিল
মাসিক আদর্শনারী
অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কুহেক্বাফ এবং পরীস্থান কি একই জায়গা?
আজ আমরা জ্বীন জাতির বাসস্থান কুহেক্বাফ কিবা পরিস্থান নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো।
শুরুতেই বলে রাখি, আমার এই টপিকটা নিতান্তই আমার মনগড়া কোনো গল্প কাব্য নয়। খানকা সালেহিয়া কমপ্লেক্স মাদ্রাসার বড় হুজুর জাহাঙ্গির আলম সালেহীর কাছ থেকেই শ্রবনকৃত তথ্য গুলো এখানে উল্লেখ করছি। ইতিপূর্বে আমি "জ্বীনের দেশ কুহেক্বাফ" নিয়ে দুই পর্বের একটা ধারা গল্প বিভিন্ন গ্রুপে পোষ্ট দিয়েছিলাম। আজ জাহাঙ্গির হুজুরের খাস জ্বীন ছাত্র ফারিজের তথ্যানুসারে পরীস্থান ও কুহেক্বাফের পরিচিতি, সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
আমরা সব মুসলমানরা অবগত আছি যে, মানবজাতী সৃষ্টির পূর্বেই মহান আল্লাহ এই জ্বীন জাতী সৃষ্টি করেছেন।
জ্বীন জাতির বিচরন দুটি স্থানেই বিরাজমান। মর্ত্যে এবং বায়ূস্থলে। এই দুনিয়াতে জ্বীনরা আসেন তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের জন্যে। মানুষ যে ভাবে সুক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি দিয়ে জৈবিক চাহিদার রসদ তৈরি করেন, তদ্রুপ জ্বীন জাতি তা পারেনা। এদের বুদ্ধিমত্বা মানুষের চেয়ে কম। তাদের বুদ্ধিমত্তার সীমারেখা মানুষের চেয়ে ৬০%কম। তবে এরা চরম শক্তিবান, এবং কুদরতিবান। যা আবার মানুষের শক্তির ১০০০গুন বেশি।
কথিত আছে--জ্বীনদের দেশ কুহেক্বাফে। হ্যা, কুহেক্বাফ নামক একটি জায়গা আছে। এটি কোনো দেশ নয়। অনেকেই মনে করতে পারে,কুহেক্বাফ নিশ্চই কোনো দেশ হবে। মূলত কুহেক্বাফ হলো একটি স্বতন্ত্র অদৃশ্য স্থান। যেখানে মানুষ নিজ ইচ্ছায় কখনোই যেতে পারেনা। সেখানে মানুষের বিজ্ঞান অচল। একমাত্র জ্বীনের কুদরত এর মাধ্যমেই সেই কুহেক্বাফে মানুষ যেতে পারে।
জ্বীনদের দেশে আছে একটি বিশাল বর্ডার। জ্বীনদের দেশ বায়ূস্থল।এই বায়ূস্থলকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।পুরুষ জ্বীনদের জন্য কুহেক্বাফ,এবং পরীদের(স্ত্রী লিঙ্গ)জন্য আছে পরীস্থান।
কোনো জ্বীন যদি কোনো পরীকে বিয়ে করে, তাহলে ঐ পরী যদি চায় সে কুহেক্বাফে আসবে,তাহলে তাকে আর কখনোই পরীস্থানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়না। কিবা কোনো জ্বীন যদি এই মর্মে সহমত থাকে যে,তার স্ত্রী পরীস্থানেই রবে,তাহলে উক্ত জ্বীন যে কোনো সময় তার বউয়ের কাছে পরীস্থানে যেতে পারবে। তবে বিনা কারনে আইন ভঙ্গ করে কোনো জ্বীন ঐখানে যেতে পারবে না।
পরীস্থানে হযরত সোলাইমান (আ)এর সময়কাল থেকে বর্তমান ৩০৯জন রাণী পরীর আর্বিভাব হয়েছে। বর্তমানে যে রাণী পরী আছেন, উনার নাম--উস্তুনে মারইয়ম। যার বয়স আনুমানিক ২০০০+বছর। (সূত্র জ্বীন ফারিজ)
পরীস্থানে আরেকটা আইন আছে। যেটা মুসলিম আইন দ্বারা নিবন্ধিত। এই আইন সোলাইমান নবীর সময়কাল থেকে গৃহিত।
পরীরা হলো শুভ্রতার প্রতীক।এরা ইচ্ছে করলেই দুনিয়ার কোনো আদম সন্তানকে বিয়ে করতে পারে। তবে সেটার একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে।
অনেক সময় দুনিয়া থেকে কোনো সুন্দর পুরুষকে জ্বীন(নারী)তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর আমরা শুনে থাকি। ৩,৪.৫,৬,৭দিন পর উক্ত জ্বীনে ধরা লোকটিকে আমরা বন জঙ্গলে অচেতন পড়ে থাকতে দেখি। আবার অনেকেই ফিরে আসেনা।
এখন প্রশ্ন হলো এমনটা হয় কেন?
যেসব সুন্দর ও সূদর্শন পুরুষকে পরীরা পরীস্থানে তুলে নিয়ে যায়,তখন ঐ আদম সন্তানকে একটা ফল দেওয়া হয়, এই ফলটার নাম মালাইজাম। এই ফলটা যদি কোনো আদম সন্তান খেয়ে ফেলে তখন সে আর দুনিয়ায় আসতে পারেনা। পরীস্থানেই পরীদের বিয়ে করতে হয়।
আর যদি ঐ মালাইজাম ফলটা না খায়,তাহলে উক্ত পরী ৩য় এবং ৫ম রজনী পর্যন্ত অপেক্ষা করে সপ্ত রজনীতে ঐ আদম সন্তানকে ফেরত দিয়ে যায়। এটা পরীস্থানের একটা হুকুমত। আদম সন্তানকে এনে মালাইজাম খাওয়াতে ব্যার্থ হলে তাকে মেরে ফেলা যাবেনা। বরং ঐ আদম সন্তানকে তার যথাস্থানে ফেরত দেওয়া পরীদের কর্তব্য।
আমরা অনেকেই জানি নির্জন বন জঙ্গলে জ্বীনদের আনাগোনা বেশি। কিন্তু তারা তাদের রাজ্যে ছেড়ে দুনিয়াতে এভাবে অবাধ বিচরন কেন করে?
আমি পূর্বেই বলেছি, এরা স্বতন্ত্র এবং এদের প্রয়োজনীয় রসদ পূরনের জন্য দুনিয়াতে আসে।
তবে জ্বীন প্রজাতির ভিতর আছে ৪ জাতের জ্বীন। এরা হলো----
মাকামে জিঞ্জার
মাকামে হাতুম
মাকামে সিক্তা
মাকামে হুবাইর।
কুহেক্বাফ এবং পরীস্থানে স্থায়ীভাবে দুই জ্বীনের রাজত্ব চলে। এরা হলো--মাকামে জিঞ্জার এবং মাকামে হাতুন।
বাকী দুই প্রজাতির জ্বীনরা স্থায়ীভাবে দুনিয়াতেই বিচরন করে। এরা বায়ূস্থল তথা কুহেক্বাফ ও পরীস্থান থেকে বিতারিত জ্বীন বদ স্বজাতি। এরা নোংরা, বদরাগী, অনিষ্টকারী এবং নিকৃষ্ট জ্বীন।
জ্বীন জাতির ভিতর প্রধান তিন ধর্মালম্বী জ্বীন আছে। এরা হলো--ইসলাম,সনাতন, এবং শিখ।
তবে ইসলাম ধর্মালম্বী জ্বীনের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি।
কুহেক্বাফ থেকে পরিস্থানের দূরত্ব দশ মক্র বর্গমাইল। জ্বীনদের হিসাব মতে এক মক্র দুনিয়ার হিসাবে এক লক্ষ মাইলের সমান। তাহলে মনে মনেই অনুমান করুন,দশ মক্র কত মাইল পথের দূরত্ব হতে পারে!
কুহেক্বাফ রাজ্যে হাটার জন্য কোনো রাস্তা নেই, কোনো বাড়িই ইটের নয়,সবই তুলার ঘর বাড়ি। ওখানে মসজিদ গুলো কাচের এবং মন্দির গুলো শ্বেত পাথরের।
পরীস্থানে হৃদ এর সংখ্যা বেশি। ঐখানে ফলের রাজ্যে বলে আলাদা একটা পরিচিতি আছে। কুহেক্বাফে যতো ফল ভোজনের জন্য সরবরাহ হয়, সবই পরীস্থান থেকে। হাদীয়া হিসাবে পরীস্থানের অধিপতি কুহেক্বাফে সেই ফল ফলাদী দিয়ে থাকেন।
কুহেক্বাফের বৎসর গননা হয় ৭০৫দিনে এক বৎসর। ঐখানেও মুসলিম জ্বীনরা শুক্রবারকে ফজিলতপূর্ণ মাস হিসাবে বিবেচিত করে থাকেন।
বিঃদ্র--পরের পর্ব কারো জানার ইচ্ছে থাকলে শেয়ার করব।
সূত্র--জ্বীন সহচর জাহাঙ্গির হুজুরের ছাত্র ফারিজ
-------সমাপ্ত------------ Nazrul Islam