30/05/2026
ঈদগাহ বাজারে হাসিল কালেকশনে কোটি টাকার বাণিজ্য? নীরব ইউএনও ও ভূমি অফিস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদগাঁও বাজার ইজারা দিতে চতুর্থ দফার দরপত্র আহ্বান করেও ইজারা সম্পন্ন করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। ফলে ঈদগাঁও গরু বাজারসহ উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন পশুর হাট এবার পরিচালিত হয়েছে ইউএনও ও ভূমি অফিসের অধীনে ইজারা কালেকশন” পদ্ধতিতে।
তবে হাসিল কালেকশনকে ঘিরে এখন জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঈদের আগ পর্যন্ত ঈদগাঁও গরু বাজারসহ বিভিন্ন পশুর হাটে অন্তত ৬ হাজার গরু-মহিষ বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি পশু বিক্রিতে বিক্রেতাদের কাছ থেকে গড়ে ১ হাজার টাকা করে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
সে হিসেবে শুধু পশু বিক্রি থেকেই সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা। অথচ এই বিপুল অর্থ আদায়ের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ইউএনও অফিস কিংবা ভূমি অফিস।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সত্যিই হাসিল কালেকশনে এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে, তাহলে সেই হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন? কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, কতজন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোথায় কোথায় ইজারা কালেকশন হয়েছে এসব বিষয়ে প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে হাসিল কালেকশনকে কেন্দ্র করে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিদিন হাটে ইউএনও ও ভূমি অফিসের পক্ষে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন লোক সরকারি রশিদ কেটেছেন। বিপরীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে আরও ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি মাঠে সক্রিয় ছিলেন, যারা আলাদা রশিদ ব্যবহার করে হাসিল আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অবৈধ রশিদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাতে পারে। অনেক বিক্রেতা কোন রশিদ সরকারি আর কোনটি বেসরকারি তা বুঝতেই পারেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
হাসিল কালেকশনের পুরো প্রক্রিয়ায় ছিল অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগও। মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো, যানজট, রোগাক্রান্ত ও কথিত বার্মিজ গরু বিক্রি, অতিরিক্ত টোল আদায় সবকিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, বাজার ইজারা না হওয়ার ব্যর্থতার দায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি বিভাগের এড়ানোর সুযোগ নেই। সময়মতো স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় ইজারা সম্পন্ন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খাস কালেকশনের নামে যেভাবে মাঠপর্যায়ে টাকা আদায় হয়েছে, সেখানে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। অনেক বিক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা খাস কালেকশনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ এবং পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।