19/06/2025
কেন মোসাদ-কে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা বাহিনী বলা হয় জানেন !?
ব্রিটিশ গোয়েন্দা এমআই-সিক্স বলছে,
গত পরশুদিন ইজরায়িল মিসাইল এটাক করে ইরানের সেনা প্রধান জেনারেল বাঘেরিকে হত্যার পিছনে পাকিস্তানে সেনা প্রধানকে কাজে লাগিয়েছে !
আতকে উঠার মতোই বিষয় তাই না !
পাক সেনাপ্রধান তাহলে কি ইহুদিদের চর ?
গত মাসের ২৭ তারিখে জেনারেল বাঘেরি পাকিস্তান সফরে গেলে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির, বাঘেরিকে একটি হাতঘড়ি উপহার দেয়।
আর সেই হাতঘড়িতে লাগানো ছিল জিপিএস ট্রান্সপন্ডার।
এজন্যই পরশু হামলার দিন পিনপয়েন্ট একুরেসিতে বাঘেরির বেডরুমে মিসাইল হামলা করে তাকে হ'ত্যা করে।
এখন কথা হলো পাক সেনাপ্রধান কি মোসাদ-এর লিয়াজো হয়ে কাজ করছে ?
অবশ্যই না।
তাহলে তার কাছে ওই ঘড়ি গেলো কিভাবে ?
এই ধরণের ভিআইপিরা কখনো নিজে কোন দোকানে যেয়ে কেনাকাটা করে না।
তাদের অফিসের লোকজন এইসব কেনাকাটা করে।
এই সকল ক্ষেত্রে রয়েছে নিজস্ব লোক বা সরবরাহকারী,
যারা এই ধরণের গিফট টপ লেভেলে সাপ্লাই দিয়ে থাকে।
তো মোসাদ খোঁজ খবর রাখতো পাক সেনা প্রধান কোথায় কাকে কি কি দিতে পারে।
তারা সেইভাবে তাদের এজেন্ট ঠিক করে রাখে এবং সেই সকল জিনিস আগে থেকেই সাপ্লাই দিয়ে থাকে।
কলম এবং হাতঘড়ি খুবই কমন জিনিস এরকম গিফট দেয়ার জন্য।
তো এবার যখন পাক সেনাপ্রধান ইরানী সেনা প্রধানকে একটি ঘড়ি উপহার দিতে চাইলো,
তখন সেই এজেন্ট তার অজানা হোক আর জানা হোক,
ইহুদীদের বানানো স্পাই হাতঘড়িটি সাপ্লাই দেয়।
ব্যাস,
জে বাঘেরি যখন সেই হাতঘড়ি বাসায় নিয়ে হয়তো একবার পড়েছে টাইম ঠিক করে,
ঠিক তখনই ওটার জিপিএস সিংনাল ট্রান্সমিট করতে থাকে।
আর এভাবেই মোসাদেকরা জেনে যায় বাঘেরির বেড রুম কোথায়।
এরপর টার্গেট ফিক্সড, মিসাইল এটাক করতে আর দেরি করেনি।
ওদিকে ইউক্রেন যেমন ট্রাকে করে তাদের ড্রোনগুলো রাশিয়ার বিভিন্ন এয়ার বেইসের কাছে নিয়ে গিয়ে পার্ক করে সময়মতো উড়িয়ে দেয়,
ঠিক তেমনি ইজরায়েলও দুদিক দিয়ে ইরানের ভিতর ড্রোন সাপ্লাই পৌঁছে দেয়।
ইরানের পশ্চিম সীমান্তে ট্রাকে করে ড্রোন পাঠাতে তাদে কোনোই বেগ পাইতে হয়নি।
কারণ সিরিয়া এখন তাদের পূর্ন নিয়ন্ত্রণে আছে,
যে এখন দামেস্কের ক্ষমতা দখল করেছে,
সে তাদেরই লোক,
যে কিনা কয়েক বছর আগেও আইসিস-এর প্রধান ছিল।
অতএব সিরিয়া এখন তেলআবিবের ব্যাক-গার্ডেন বলা চলে।
আর ওদিকে গত বছর ইরান তাদের চাবাহার বন্দরকে ভারতের একটি কোম্পানিকে তৈরী এবং অপারেশনের জন্য নিয়োগ দেয়।
ব্যাস, ভারতের ওই কোম্পানি ছিল মোসাদের।
ওখানে নিয়োগ পায় সব ভারতীয়,কিন্তু সকলেই মোসাদের ট্রেইন্ড চর।
ভারতের মাধ্যমে বিভিন্ন ভারী ইকুইপমেন্ট এবং টেকনোলজি ইরানে বসাতে থাকে।
গত একদশক ধরে ভারত এবং ইজরাইল একটি অভিন্ন গোল নিয়ে এগুচ্ছে,
ফলে ইজরাইল তাদের সমস্ত বুদ্ধি এবং সরঞ্জাম দিয়ে ভারতকে সাহায্য করছে,
ওদিকে ভারতও ম্যান পাওয়ার দিয়ে এবং আমাদের উপমহাদেশে সব জায়গার সকল তথ্য দিয়ে ওদেরকে সাহায্য করছে।
খেয়াল করে দেখুন ভারতের সৈন্য গাজাতে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে,
কিন্তু সেই খবর তেমন একটা প্রচার হচ্ছে না।
আবার ওদিকে ভারতে মুসলিম নিধন,
তাদের বাড়িঘর, মসজিদ ধ্বং'সের খবর পশ্চিমী মিডিয়াতে প্রকাশ হচ্ছে না।
এরা একে অপরকে ফুল সাপোর্ট দিয়ে একই গোল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
তো সেই চাবাহার বন্দর দিয়ে ইজরায়েল অবাধে শত শত ড্রোন এবং কমান্ড সেন্টার ইরানের ডিপ ইনসাইড , মানে তেহরানের গলিতে গলিতে সেটআপ করে ফেলে।
এরপর যখন ইজরাইল তেহরানসহ বিভিন্ন এয়ার বেইসে এটাক শুরু করে তখন ওই ড্রোনগুলো উড়ে গিয়ে জায়গা মত আঘাত হানে,
যা বন্ধ করার কোনোই উপায় ছিল না ইরানের হাতে।
গতকাল ইরানের সিক্রেট সার্ভিস সেই খবর এতদিন পর খুঁজে পায় এবং ৭৩জন ভারতীয়কে আটক করে।
তো এখন বলুন , আরাম আয়েশে মত্ত মুসলিম দেশগুলো কি এতো তুখোড় বুদ্ধির সব প্ল্যান ধরতে পারবে,
নাকি নিজেরা করতে পারবে ?
-জিওগ্রাফি বাংলা