25/11/2025
জঙ্গলে এক গর্ভবতী হরিণী সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য একটি নির্জন, নিরাপদ জায়গা খুঁজছিল। দীর্ঘক্ষণ ঘুরে সে নদীর ধারের উঁচু ও ঘন ঘাসের মধ্যে একটি উপযুক্ত স্থান পেল। সেখানে পৌঁছাতেই তার প্রসববেদনা শুরু হলো।
ঠিক সেই সময় আকাশে কালো মেঘ জমে উঠল, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার উপক্রম। বজ্রপাতের আলোয় চারদিক আরও ভয়ংকর হয়ে উঠল।
হরিণী ডানদিকে তাকিয়ে দেখল—একজন শিকারি তার দিকে তীর ছোঁড়ার মুহূর্তে প্রস্তুত।
ভয়ে সে বামদিকে তাকাতেই দেখল—একটি ক্ষুধার্ত সিংহ ওৎ পেতে বসে আছে, ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষায়।
সামনে শুকনো ঘাসে আগুন ধরে গেছে।
পেছনে নদীর স্রোত প্রচণ্ড।
চারদিক থেকে মৃত্যু যেন তাকে ঘিরে ফেলেছে।
হরিণী কি করবে?
সে কি বাঁচবে?
সে কি সন্তানকে জন্ম দিতে পারবে?
নাকি আগুন, নদী, শিকারি বা সিংহ—কোনো এক বিপদ তার জীবন শেষ করে দেবে?
কিন্তু এই ভয়ঙ্কর মুহূর্তে হরিণী সিদ্ধান্ত নিল—
সব দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিজ দায়িত্বে ফোকাস করবে।
সে চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিল।
ঠিক তখনই প্রকৃতির আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো—
বজ্রপাতের আলোয় শিকারির চোখ অন্ধ হয়ে গেল।
তার ছোঁড়া তীর হরিণীকে না লেগে সোজা সিংহের চোখে গিয়ে বিঁধল।
সিংহ ব্যথায় দৌঁড়ে পালিয়ে গেল।
শিকারি আহত সিংহকে দেখে আতঙ্কে জঙ্গলের ভেতর পালিয়ে গেল।
ঠিক তখনই প্রবল বৃষ্টি নেমে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেল।
এবং সেই নিরাপদ মুহূর্তে—
হরিণী সুস্থভাবে তার শাবককে জন্ম দিল।
শিক্ষা:
জীবনে এমন সময় আসে যখন চারদিক থেকে বিপদ আমাদের ঘিরে ফেলে, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
তখন ভয় না পেয়ে আমাদের নিজের কাজ, দায়িত্ব ও অগ্রাধিকারেই মনোযোগ দিতে হবে।
যা হওয়ার তা সঠিক সময়ে হবে —
বিশ্বাস, ধৈর্য ও ফোকাসই শেষ পর্যন্ত অলৌকিক ফল আনে।