29/12/2025
২০১৮ সালে উত্তর কানাডায় খনিশ্রমিকেরা এক অদ্ভুত জিনিসের মুখোমুখি হন। ছোট, হালকা বাদামি রঙের একটি দলা। প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল, যেন জমাটবাধা পশম। কেউ বুঝতে পারেনি, এটি আসলে কী।
পরে গবেষণায় জানা যায়, সেটি কোনো সাধারণ বস্তু নয়। এটি এক প্রজাতির কাঠবিড়ালি (আর্কটিক গ্রাউন্ড স্কুইরেল), যে বেঁচে ছিল প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে! বরফযুগে বাস করত এই প্রাণীটি। আশ্চর্যজনকভাবে, এর দেহ প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল।
প্রাণীটি নিজের শরীর শক্ত করে গোল হয়ে ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শীতনিদ্রার সময়ই তার মৃত্যু হয়। হাজার হাজার বছর জমাটবাধা বরফের ভেতরে আটকে থাকায় দেহটি প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত হয়ে যায়।
শুরুর দিকে ওই দলাটি কোনো প্রাণীর মতোই লাগেনি। কিন্তু ভালো করে দেখতেই গবেষকদের চোখে পড়ে ছোট পা, নখর, কান আর লেজ। তখনই বোঝা যায়- এটি একসময় জীবিত ছিল।
বরফের ভেতর এতদিন থাকার কারণে দেহটি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। তাই সেটি খুলে দেখার ঝুঁকি নেননি গবেষকেরা। এর পরিবর্তে, এক পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে এক্স-রে করা হয়। গবেষকদের আশঙ্কা ছিল, এত পুরনো হাড়ে হয়তো ক্যালসিয়াম নষ্ট হয়ে গেছে। এক্স-রে স্পষ্ট কিছু দেখাবে না।
কিন্তু এক্স-রেতে দেখা যায়, প্রাণীটির কঙ্কাল প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত আছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি বয়সে খুব ছোট ছিল। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই প্রজাতির কাঠবিড়ালি বরফযুগের পরও টিকে আছে। আজও তারা বাস করে ইয়ুকন এবং আলাস্কায়। এ কারণেই প্রাণীটি বিজ্ঞানীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা জানতে চান, জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ ধাক্কাও এই ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সহ্য করতে পারবে কিনা।