20/08/2026
🩸🩸🩸চলুন গল্প বলি🩸🩸🩸
একদিন বনের গাছেরা দেখল, মানুষ লোহা আবিষ্কার করেছে। কিন্তু তাতে কোনো গাছই ভয় পেল না। কারণ, শুধু লোহা তো আর তাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
এরপর সেই লোহা দিয়ে মানুষ একটি কুড়াল বানাল। তবুও গাছেরা ভয় পেল না। কারণ, কুড়াল থাকলেও সেটি চালানোর মতো শক্তি তো তাদের শত্রুর হাতে তখনও ছিল না।
কিন্তু একদিন সেই লোহার কুড়ালের সঙ্গে যখন একটি কাঠের হাতল লাগানো হলো, তখনই যেন পুরো বন নীরব হয়ে গেল। গাছগুলো বুঝতে পারল—এবার বিপদ সত্যিই বড়।
ছোট একটি গাছ অবাক হয়ে বড় গাছটিকে জিজ্ঞেস করল,
“লোহা আবিষ্কার হলো, তখনও তোমরা ভয় পাওনি। লোহার কুড়াল তৈরি হলো, তখনও ভয় পাওনি। কিন্তু কাঠের হাতল লাগানোর পরই সবাই এত ভয় পেয়ে গেলে কেন?”
বড় গাছটি কিছুক্ষণ নীরব থেকে গভীর স্বরে বলল,
“কারণ, শত্রু একা যতটা ভয়ংকর, নিজের ঘরের কেউ তার শক্তি হয়ে দাঁড়ালে সে তার চেয়েও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
লোহা আমাদের শত্রু ছিল, কিন্তু আমাদেরই একজন যখন তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাকে শক্তি দিল, তখন সেই শত্রু আমাদের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী হয়ে গেল।
মনে রেখো—বাইরের শত্রুকে মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু ঘরের শত্রুকে মোকাবিলা করা সবচেয়ে কঠিন। কারণ সে আমাদের দুর্বলতাগুলো জানে, আমাদের ভেতরের পথগুলো চেনে এবং আমাদের শক্তিকেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।
ইতিহাসে বহু শক্তিশালী সাম্রাজ্য বাইরের আক্রমণে নয়, বরং ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা, বিভেদ আর স্বার্থপরতার কারণে দুর্বল হয়ে ধ্বংস হয়েছে।
তাই শত্রুকে ভয় পাওয়ার আগে নিজের ঘরের ঐক্যকে শক্ত করো।
কারণ—
শত্রু কখনো একা যতটা শক্তিশালী নয়, নিজের লোক তার পাশে দাঁড়ালে সে তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই কারণেই যুগে যুগে একটি কথা সত্য হয়ে আছে—“ঘরের শত্রু বিভীষণ।”