01/11/2025
গাধা পরিশ্রমি, তবু মানুষ কুকুর কেন পালন করে???
গাধা—একটা প্রাণী, যার নাম শুনলেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে ধৈর্য, পরিশ্রম আর সহনশীলতার প্রতীক। সারাজীবন ভার টানে, গরমে-বৃষ্টিতে ক্লান্ত না হয়ে কাজ করে চলে। অথচ মানুষ তাকে ভালোবাসে না, কেউ তাকে পোষে না। বরং তার নামই হয়ে গেছে গালির প্রতীক — “গাধা” মানে বোকার মতো পরিশ্রম করা, বিনা বুদ্ধিতে খেটে যাওয়া।
অন্যদিকে, কুকুর—যাকে মানুষ নিজের “সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু” বলে। সে প্রভুর জন্য দরজা পাহারা দেয়, লেজ নাড়ে, আদর চায়। খাটে না, ভার টানে না; কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, যত্ন, খাবার—সব পায় অবলীলায়।
এখন প্রশ্ন আসে—মানুষ গাধার মতো পরিশ্রমি প্রাণীকে অবজ্ঞা করে, অথচ কুকুরকে পোষে কেন?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের মনস্তত্ত্বে।
মানুষ সবসময় এমন কাউকে পছন্দ করে, যে তাকে “ভালো লাগে”—যে তার কর্তৃত্ব মেনে চলে, তার ইগোকে সন্তুষ্ট রাখে। কুকুর প্রভুর প্রতি এমনভাবে অনুগত, যে মানুষ তার মধ্যে নিজের একধরনের প্রতিচ্ছবি দেখে—“আমাকে কেউ মানে, আমার কথা শোনে।” তাই মানুষ তাকে ভালোবাসে।
অন্যদিকে, গাধা পরিশ্রম করে, কিন্তু সে অনুগত নয়—সে শুধু কাজ করে যায়, আদর বা স্বীকৃতি চায় না। ফলে মানুষ তাকে ব্যবহার করে, কিন্তু মূল্য দেয় না।
এখানেই সমাজের প্রতিচ্ছবি।
যে মানুষ দিনরাত খেটে খায়, ঘাম ঝরায়—সে সমাজে প্রায়ই অদৃশ্য। আর যে “চেটে খায়”, মানে ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়ায়, কর্তৃত্বের প্রশংসা করে—সে প্রায়ই সাফল্য পায়, সম্মান পায়, “ভালো ছেলে” বা “ভদ্রলোক” হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
তাহলে কি আমরা এমন সমাজে বাস করছি, যেখানে মূল্যবোধের মানদণ্ড পরিশ্রম নয়, বরং অনুগত্য?
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রেই তাই।
তবু, আশার জায়গা এখানেই—গাধা হয়তো আদর পায় না, কিন্তু সে নিজের মূল্য বোঝে না বলেই নিজের কাজটাকে ছোট করে না। কুকুর প্রশংসা পায়, কিন্তু সে নিজের স্বাধীনতা হারায়।
তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকে যায়—তুমি কি হতে চাও?
একটা গাধা, যে নিজের কাজটা নিঃশব্দে করে যায়?
নাকি একটা কুকুর, যে আদর পেতে নিজের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেয়?