13/05/2025
মানুষের প্রতিটি মেজাজেরই এক ধরনের শক্তি রয়েছে। এই শক্তির প্রভাব ইতিবাচক বা নেতিবাচক—দুটোই হতে পারে, এবং তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার সঠিক প্রয়োগের ওপর। যেমন, রাগ বা জেদ অনেকটা আগুনের মতো। আগুন যেমন রান্না, আলো বা শীত তাড়াতে ব্যবহৃত হলে উপকার করে, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীন হলে সব কিছু পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে। সঠিক সময় ও জায়গায় রাগের ব্যবহার যেমন অন্যায় বা অবিচারের প্রতিবাদে সাহস যোগায়, তেমনি অপ্রয়োজনীয় রাগ অনেক সময় সম্পর্ক, পরিবেশ এবং নিজের মানসিক অবস্থাকেও ধ্বংস করে দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষক যদি ছাত্রের ভুলে খুব বেশি রেগে যান, তাহলে সেটা ছাত্রের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারে। কিন্তু সেই শিক্ষক যদি দৃঢ় অথচ সংযতভাবে ভুলটি ধরিয়ে দেন, তাহলে ছাত্রটি শেখে ও সংশোধন হওয়ার সুযোগ পায়।
একইভাবে, শান্ত মেজাজ বা চুপ থাকা অনেক সময় প্রশংসনীয়। এটা পরিস্থিতি বুঝে সহানুভূতির সাথে আচরণ করতে সাহায্য করে। তবে সবসময় চুপ থাকাও ভালো নয়। শান্তভাব অনেকটা পানির মতো—যদি প্রবাহ ঠিক না থাকে, তবে তা স্থির হয়ে নোংরা হয়ে যেতে পারে। অন্যায় দেখেও যদি কেউ সবসময় চুপ থাকে, তাহলে সমাজে অন্যায়ই বাড়ে।অনেক সময় নিজের স্বার্থ রক্ষাও জটিল হয়ে পড়ে।।শান্ত মানুষের উপর অনেক অন্যায়ভাবে আক্রমন করে যুগের পর যুগ ধরে। একটা কথা আছে না,অন্যায় করে যে আর অন্যায় সহে যে,উভয়েই সমানঅপরাধী।আসলে বাকশক্তি এটাও একটি গুণ। যেটা সবার থাকেনা বলে অনেক সময় অন্যায় অযৌক্তিক আচরণ দেখেও চুপ থাকতে হয়।যদি অপরাধী পক্ষটা নিজের চাইতেও সবদিক দিয়ে শক্তি শালী হয় সেক্ষেত্রে ও শান্ত থাকতে হয় ।আবার অনেক সময় অজ্ঞানী মানুষের সাথেও সঠিক জেনেও অনেকে তর্কে জড়াতে চাননা।ফলে শান্ত ও চুপ থাকেন। বিভিন্ন কারণে অনেক সময় মানুষ শান্ত ও চুপ থাকার কারণে নিজের হারান।সমাজে ও এই থাকার কারণে অন্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই কারণে বলা হয়—"অতিবড়ো হলে ঝড়ে পড়ে যাবে, আবার অতিসমান্য হলে ছাগলেও মুড়ে খাবে।" অর্থাৎ, নিজেকে অতি শক্তিশালী ভাবলে অহংকারে পতন হয়, আবার নিজেকে খুব দুর্বল ভাবলে লোকে মূল্য দেয় না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রত্যেকটি আবেগ ও মেজাজেরই উপযোগিতা আছে, যদি তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়। আর যদি প্রয়োগের স্থান, কাল ও পাত্র বুঝে না ব্যবহার করা হয়, তবে তা নিজের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সমাজ ও পরিবেশের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বাস্তব জীবনে কী অবস্থায়, কার সঙ্গে, কোন ধরনের আচরণ বা মেজাজ ব্যবহার করা উচিত তা শেখা ও অনুশীলন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানে কাজ যা একজন মানুষকে অপর মানুষের কাছে মুল্যবোধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
তাছাড়া কেউ কেউ রাগীমানুষ বলে সবসময় খারাপ মানসিকতা হয়না আবার কেউ কেউ শান্তশিষ্ট প্রকৃতির বলেই যে সবসময় ভালো মানসিকতা সম্পন্ন হবে এটাও ঠিক না।মানুষের ভালোখারাপ আচরণ নির্ভর করে পরিবার, দেশ ও সমাজের প্রতি সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালন।সৎ ও মানবিক ভাবে জীবন যাপনের ধারা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে।
জীবনে চলার পথে কিছু সমস্যার সমাধান কঠোর হয়ে আবার কিছু সমস্যার সমাধান শান্ত থেকে পরিস্থিতির সামাল দিতে হয়।
শুভকামনা সবার জন্য