এসো বন্ধু আল্লাহর পথে Come friend in the way of Allah

এসো বন্ধু আল্লাহর পথে Come friend in the way of Allah �আসসালামু আলাইকু� Bangladesh

19/06/2024

কুকুরের ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, নির্দ্বিধা, এবং চিরন্তন।

01/05/2024

*"উমর রা. বলেন*, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَوَكَّلُونَ عَلَى اللهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرُزِقْتُمْ كَمَا يُرْزَقُ الطَّيْرُ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا.

*তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার ওপর যেমন তাওয়াক্কুল করা উচিত তেমন তাওয়াক্কুল করতে*, তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে রিযক দিতেন, যেমন তিনি পাখিদের রিযক দিয়ে থাকেন। এরা ভোরবেলা খালিপেটে বের হয়, বিকেল বেলা ভরাপেটে ফিরে আসে।(জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩৪৪)

17/03/2024

রমযানুল মুবারকের আমল
হাদীসে আছে, ‘রমযানুল মুবারকের শুরুতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেন, হে কল্যাণ অন্বেষী! অগ্রসর হও। হে অকল্যাণ অন্বেষী! নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও।’ সেই হাদীসে একথাও আছে যে, ‘রমযানুল মুবারকের শুরুতে শয়তান ও দুষ্ট জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়’। এ থেকে বোঝা যায়, রমযানুল মুবারক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ মৌসুম। কাজেই এই সুযোগকে কাজে লাগানো চাই।

নিম্নে রমযানের কিছু মৌলিক আমলের কথা উল্লেখ করা হল। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক দান করুন।

১. রোযা রাখা ও তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করা

রমযানুল মুবারকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হল, রোযা রাখা। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে―

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ .

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। ―সূরা বাকারা (২) : ১৮৩

রমযানুল মুবারকে তাই সকল মুসলিমের রোযা রাখা ফরয। শরীয়ত স্বীকৃত ওযর ছাড়া কারো জন্য রোযা না রাখার সুযোগ নেই। আফসোসের বিষয় হল, রোযা রাখার ব্যাপারে কোনো কোনো পরিবারে শিথিলতা ও অবহেলা দেখা যায়। এই শিথিলতা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে, রোযা অকাট্য ফরয বিধান, এব্যাপারে শিথিলতা করা হলে আখেরাতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

উক্ত আয়াতে রোযার মাকসাদ ও উদ্দেশ্যের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আর তা হল, তাকওয়া অবলম্বন করা। রোযার মাধ্যমে তাকওয়ার অনুশীলন হয়, আল্লাহর ভয়ে স্বাভাবিক সময়ে যা হালাল ছিল, রোযা অবস্থায় সেই হালাল থেকেও বিরত থাকা হয়, এতে আল্লাহর ভয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ও অনুচিত কাজকর্ম থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার অনুশীলন হয়। এই অনুশীলনের মাধ্যমে আল্লাহর ভয় মনে বদ্ধমূল করা এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত কাজ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখার একটি যোগ্যতা নিজের মাঝে সৃষ্টি করা―রোযার মাকসাদ। এই মাকসাদ অর্জনে যথাযথ আদব বজায় রেখে সিয়াম পালন করা আবশ্যক। আল্লাহ সবাইকে ‘তাকওয়া’র মহা নিআমত দান করুন।

২. সেহরী খাওয়া

রমযানুল মুবারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সেহরী খাওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেহরী খাও, সেহরীতে বরকত রয়েছে। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯২৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৫

অন্য হাদীসে আছে, আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবীদের রোযার মাঝে পার্থক্য হল সেহরী খাওয়া (আমরা সেহরী খাই, তারা খায় না)। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৬

শেষ ওয়াক্তে সেহরী খাওয়া সুন্নত। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেহরী খাওয়া ও আযানের মাঝে সময়ের ব্যবধান ছিল পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৬

৩. ইফতার করা

রমযানুল মুবারকে ইফতার করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা কর্তব্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মত কল্যাণের মাঝে থাকবে―যতদিন তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৫৭

সহীহ মুসলিমে আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করার কথা বর্ণিত হয়েছে। (দ্র. সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৯৯)

৪. ইফতারের সময় দুআ করা

ইফতারের সময় দুআ করা চাই। হাদীস শরীফে এসেছে, ইফতারের সময় রোযাদারের দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ―ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫৩

এই হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রা. ইফতারের সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন―

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ، أَنْ تَغْفِرَ لِي.

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ঐ রহমতের ওছিলায় প্রার্থনা করছি, যা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে। (আমি প্রার্থনা করছি,) আমাকে ক্ষমা করে দিন। ―সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৭৫৩

ইফতারের দুআ

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, ইফতারের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পড়েছিলেন―

ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوْقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ.

‘পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সতেজ হল আর সওমের সওয়াবও অবধারিত হয়েছে ইনশাআল্লাহ। ―সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৩৫৭

৫. তারবীহ পড়া

রমযানের অন্যতম একটি আমল হল, তারাবীহ নামায। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রাতে (নামাযে) দণ্ডায়মান হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০৯

তাই গুনাহ মাফের আশায় সওয়াবের নিয়তে গুরুত্ব ও যত্নের সাথে তারাবীহ নামায পড়া চাই।

তারাবীর ব্যাপারে একটি কথা না বললেই নয়। অনেকে তারাবীর রাকাত সংখ্যা নিয়ে অযাচিত বাহাছ উসকে দেন। এই বাহাছ বিতর্কে না জড়িয়ে আমলে মনোযোগী হওয়া কর্তব্য। এ সম্পর্কে উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব হাফিযাহুল্লাহ আলকাউসার জুলাই-আগস্ট ২০১২ সংখ্যায় বড় দরদ নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘বরাহে করম! রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিবাদ ছাড়ুন, নিজ নিজ ত্রুটি সংশোধন করুন’। তারাবীর রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে কেউ যদি অন্য কারো দ্বারা পেরেশানীর শিকার হন, তাহলে তার প্রতি এই প্রবন্ধ পড়ার অনুরোধ থাকল। এখানে সেই প্রবন্ধ থেকে শুধু একটি কথা উদ্ধৃত করা হল―

‘...এসব মানুষ যদি সঠিক ইলম অর্জন করত, তাহলে বুঝত যে, বিশ রাকাত তারাবীহ খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণের ঐকমত্য (ইজমা) ও খায়রুল কুরূন থেকে অদ্যাবধি উম্মতের অবিচ্ছিন্ন কর্মধারা এবং সর্বসম্মত পথ (সাবীলুল মুমিনীন)-এর মতো অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। এর বিপরীতে তারাবীর নামাযকে আট রাকাতে সীমাবদ্ধ করার পক্ষে কোনো দলীল নেই। যদি জোর করে বিনা দলীলে তাহাজ্জুদ ও তারাবীহকে একই নামায দাবি করা হয়, তবুও তা আট রাকাতে সীমাবদ্ধ হতে পারে না। কেননা তাহাজ্জুদের নামায আট রাকাতে সীমাবদ্ধ নয়। কওলী হাদীস অনুযায়ী দুই দুই রাকাত করে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যত রাকাত ইচ্ছা পড়া যায়। আর ফে‘লী হাদীস দ্বারাও আট রাকাতের বেশি প্রমাণিত। স্বয়ং আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে (যার বর্ণনাকৃত―বছরজুড়ে সালাতুল লাইলের আট রাকাত ও বিতিরের ৩ রাকাত মোট এগারো রাকাতের হাদীস দ্বারা এসব বন্ধু তারাবীর দলীল পেশ করে থাকেন) সহীহ সনদে দশ রাকাতের কথা প্রমাণিত। আর অন্য সাহাবী থেকে এর চেয়ে বেশিও প্রমাণিত।

এজন্য যারা তাহাজ্জুদের হাদীস দ্বারা তারাবীর রাকাত-সংখ্যা প্রমাণের অপচেষ্টা করেন তাদের কোনো অধিকারই নেই বিশ রাকাত তারাবীহ আদায়কারীদের ওপর আপত্তি করার। তাদের নিকট সাধারণ নফল নামাযেও জামাত জায়েয। আর তাহাজ্জুদে জামাত হল মুবাহ। সুতরাং তাদের কথা অনুযায়ী যদি ধরা হয়, বিশ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়, তাহলে তো এ-ই হবে যে, তা নফল। আর তাদের নিকট নফল নামায জামাতে আদায় করা জায়েয। এজন্য যারা বিশ রাকাত পড়ছে তারা তো তাদের নীতি অনুযায়ীও কোনো নাজায়েয কাজ করছে না। তাহলে কেন খামোখা বিশ রাকাত আদায়কারীদের বিভ্রান্ত করবেন? তাদের বিরুদ্ধে লিফলেট প্রচার করবেন? কটূক্তি করবেন এবং তাদের প্রতি বিদআত ও সুন্নাহ বিরোধিতার অপবাদ দেবেন?!’ ―মাসিক আলকাউসার, শাবান-রমযান ১৪৩৩ হি./জুলাই-আগস্ট ২০১২ ঈ.

তারাবীর রাকাত সংখ্যার বিষয়ে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা উচিত। হারামাইনে করোনাকে উপলক্ষ করে তারাবীহ বিশ রাকাতের জায়গায় দশ রাকাত করা হয়েছিল। যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিল কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কিন্তু করোনা বিদায় হয়েছে সেই কবেই, তার পরও এখনো তারাবীহ বিশ রাকাত পড়ার মুবারক প্রচলনটি এখনো চালু করা হয়নি। এটি আপত্তিকর। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এদিকে দৃষ্টি দেওয়া কর্তব্য।

৬. তাহাজ্জুদ পড়া

রমযানে সাধারণত সেহরীর জন্য ওঠা হয়, তাই একটু আগে উঠে দুই-চার রাকাত তাহাজ্জুদ পড়া তুলনামূলক সহজ। আর যদি এ সুযোগে সব সময়ের জন্য তাহাজ্জুদের অভ্যাস হয়ে যায়, তাহলে তো খুবই ভালো। পরিবারের লোকদেরও তাহাজ্জুদে ওঠার জন্য অনুপ্রেরণা দান করা চাই। কারণ তাহাজ্জুদের ফযীলত অনেক। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘ফরয নামাযের পরে সর্বোত্তম নামায হল রাতের নামায (অর্থাৎ তাহাজ্জুদ)। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩

৭. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা

সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে এসেছে, রমযান মাসে কুরআন মাজীদ অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এ মাসে কুরআনের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া কর্তব্য। হাদীসে এসেছে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম রমযানের প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০২

৮. শবে কদর অন্বেষণ করা

শবে কদর এক মহা ফযীলতপূর্ণ রাত। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ―সূরা কদর (৯৭) : ১-৩

হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে নামাযে দণ্ডায়মান থাকবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৬০; সহীহ বুখারী, হাদীস ২০১৪

সুতরাং শবে কদরের ফযীলত লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। এ রাতে সাধ্য মোতাবেক নফল ইবাদত করবে, তিলাওয়াত, যিকির, দুআ, ইস্তেগফার, দরূদ প্রভৃতিতে মগ্ন থাকবে। ইবাদতের মাঝে বিশ্রাম নিলেও দিল আল্লাহমুখী রাখবে, সম্ভব হলে মনে মনে যিকির করবে। তবে হাঁ, যদি বেশি বিশ্রামের প্রয়োজন থাকে, তাহলে বিশ্রামও করা যেতে পারে, কিন্তু গাফলতের ঘুম বা কেবল আরামের ঘুম ঘুমাবে না। আর খেয়াল করে এশা ও ফজর নামায অবশ্যই জামাতের সাথে পড়বে। কারণ, এক হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সাথে পড়ল, সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামায পড়ল। ―সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৬

কিন্তু শবে কদর কবে, তা নির্দিষ্ট নেই। শুধু এতটুকু জানানো হয়েছে যে, শবে কদর রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর যেকোনো একদিন। তাই শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর প্রতিদিনই ইবাদত করা কর্তব্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে শবে কদর তালাশ কর। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ২০১৭, ২০২০

সহীহ বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ শেষ করার পর যখন রমযানের একুশতম রাত এল তখন তিনি ঘোষণা করলেন, যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ আমাকে শবে কদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল (যে তা শেষ দশকের অমুক রাতে)। এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ... সুতরাং তোমরা শেষ দশকে শবে কদর খোঁজ কর। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২৭

তাই কেবল সাতাশ রমযানের রাতকে শবে কদর মনে করে শেষ দশকের অন্য রাত্রিগুলোতে শবে কদর অন্বেষণ না করা ঠিক নয়। বরং শেষ দশকের প্রতি রাতেই শবে কদর তালাশ করবে।

আয়েশা রা.-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শবে কদরে পড়ার জন্য একটি দুআ শিখিয়েছেন। শেষ দশকের রাতে এই দুআ বেশি বেশি পড়া উচিত―

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ.

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করতে ভালবাসেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন। ―জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫১৩

৯. শেষ দশকে ইতিকাফ করা

শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ করা রমযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ২০২৬)

তাছাড়া শবে কদর লাভের উত্তম উপায় হল ইতিকাফ। ইতিকাফরত অবস্থায় থাকলে শবে কদর লাভের সুযোগ বেশি।

১০. যথাসাধ্য দান করা

রমযান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল, সাধ্য মোতাবেক দান করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে অনেক দান করতেন। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। রমযানে তাঁর দানের হাত আরো প্রসারিত হত। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০২

১১. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোযা হচ্ছে ঢাল। যখন তোমাদের কেউ রোযা থাকে, সে যেন গর্হিত কথা না বলে এবং মূর্খের ন্যায় কাজ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় বা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৫১

অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ বর্জন করল না, তার (রোযা রেখে) পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। ―সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯০৩

এ হাদীসদ্বয় থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রোযা কেবল পানাহার ত্যাগের নাম নয়। বরং রোযার মর্যাদা রক্ষার জন্য আরো কিছু করণীয় আছে। রোযার মর্যাদা রক্ষার্থে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অপছন্দনীয় সকল কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। নতুবা এই রোযা আল্লাহর কাছে মাকবুল রোযা হিসেবে গৃহীত হবে না এবং রোযার কাক্সিক্ষত সুফলও পাওয়া যাবে না। তাই রোযার মর্যাদা রক্ষার্থে সব ধরনের গর্হিত কাজ ও কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে শাবান ও রমযানুল মুবারকের খায়ের ও বরকত দান করুন―আমীন।

11/02/2024

আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সেই সঠিক পথ লাভ করে।আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন তার জন্য তুমি কোনো অভিভাবক কিংবা পথপ্রদর্শক পাবে না। (সুরা আরাফ :১৭৮)

02/02/2024

হৃদয়বিদারক অবস্থা😂

একটি পর্যায় পৌঁছে গেছে এমন ব্যক্তি নির্যাতিত নিপীড়িত হলে যখন ন্যাশনাল ইস্যুতে পরিণত হতো তখন জামায়াত শিবির পরোক্ষভাবে সমর...
31/01/2024

একটি পর্যায় পৌঁছে গেছে এমন ব্যক্তি নির্যাতিত নিপীড়িত হলে যখন ন্যাশনাল ইস্যুতে পরিণত হতো তখন জামায়াত শিবির পরোক্ষভাবে সমর্থন করতো। কারণ সংগঠন চিন্তা করতো আমরা কিছু বললে এটা বিতর্কিত করে ফেলবে। এখন ঐ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে।
একিভাবে জামায়াত শিবির মেধাবীদের বিভিন্ন সেক্টরে ভালো ভূমিকা রাখবে চিন্তা করে তাদের পরিচয় হাইড করে রাখার প্রবণতা আছে যার ফলে নেতৃত্ব বাহির থেকে দেখতে দুর্বল মনে হয়। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের ভালো ক্যারিয়ার থাকে। যার ফলে দীর্ঘসময় সংগঠনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেমন সময় দিতে কম চায় তেমনি সংগঠন ব্যক্তির গতির সাথে সংগঠনের সিস্টেমে এডজাস্ট হয় না।
তবে এসকল মেধাবী কিংবা পশ কিডসরা কিন্তু অনেক আদর সোহাগ পায়।

31/01/2024

আমার পছন্দের দোয়া।

24/01/2024

ট্রান্সজেন্ডার নামের এক ভয়ংকর ফেতনা ঝড়ের মতো ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। এর প্রবর্তকেরা পৃথিবীবাসীকে এমন এক পথের দিকে আহ্বান করছে যেখানে শরীর নয়, মনই ব্যক্তির আসল লিঙ্গ-পরিচয়। অর্থাৎ একজন পুরুষের মন যদি বলে সে নারী, তবে সে নারী। আবার একজন নারীর মন যদি বলে সে পুরুষ, তবে সে পুরুষ। এই ফেতনা প্রতিষ্ঠিত হলে হাজার বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর লিঙ্গভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ওলোটপালোট হয়ে যাবে। এর ফলে যে চরম সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে তার কিছু নমুনা দেখা যাচ্ছে।
সম্পদ বণ্টন, বিবাহ ও মোহরানা, শিক্ষাঙ্গনে ভর্তি, হোস্টেল যাপন, পাবলিক টয়লেট ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তৈরি হবে ভয়ঙ্কর গোলযোগ। বাবার সম্পত্তি বেশি পাওয়ার জন্য কন্যা নিজেকে পুত্র দাবি করবে। ছাত্রীদের হোস্টেলে রাত্রিযাপনের জন্য কোনো পুরুষ নিজেকে নারী দাবি করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ভিড়ের বাসে নারীকে বাজে স্পর্শ করার পর পুরুষ লোকটি বলবে, আমি নারী। ভুল দেহে আটকে পড়ে আছি। আমার এ স্পর্শ নারীর সাথে নারীর স্পর্শের মতো।
ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডের জেলখানার নারী সেলে তথাকথিত ‘ভুল দেহে আটকা পড়া’ এমন এক রূপান্তরিত নারী (আসলে পুরুষ) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক নারী কয়েদি। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে নিজেকে নারী দাবি করা এক পুরুষের জন্য সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানেও যে স্কটল্যান্ডের মতো ঘটনা ঘটবে না তার কী গ্যারান্টি আছে!
এই সময়ে ট্রান্সজেন্ডার গোটা পৃথিবী জুড়েই আলোচিত ইস্যু। রাশিয়া, চীনসহ পশ্চিমের অনেক দেশ এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কয়েদি ধর্ষণের ঘটনায় জনতার ক্ষোভের মুখে স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এটাকে সহজ ও সামাজীকিকরণের প্রচেষ্ট করা হচ্ছে বহুদিন ধরে।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) আর ট্রান্সজেন্ডার এক নয়। হিজড়ারা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডারদের শারীরিক কোনো ত্রুটি নেই। হিজড়াদের ব্যাপারে ইসলামি ফিকহের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও নীতিমালা রয়েছে। তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতা রাখতে হবে। কিন্তু কুচক্রী মহল দুটো এক হিসেবে উপস্থাপন করে শব্দের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সমকামিতার এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।

ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে আমাদের উদ্বেগের প্রধান কারণ দুটি। এক. লিঙ্গভিত্তিক শৃঙ্খলা ধ্বংস। দুই. সমকামিতার ব্যাপক প্রসার।

ট্রান্সজেন্ডারকে বৈধ ও সামাজিকীকরণের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী সমকামিতার প্রচার-প্রসারের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। একজন পুরুষ যখন নিজেকে নারী দাবি করেন, আর সেই দাবি যখন সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন তাকে বিয়ে করতে হবে পুরুষকে। অথচ জন্মগতভাবে তিনি নিজেই পুরুষ।

একই কথা নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জন্মসূত্রে কোনো নারী যখন নিজেকে পুরুষ দাবি করেন, তখন তাকে নারীকে বিয়ে করতে হবে। অথচ তিনি নিজেই নারী। আর এভাবেই ট্রান্সজেন্ডারের নাম ব্যবহার করে পৃথিবীব্যাপী সমকামিতার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার চক্রান্ত চলছে।

সমকামিতা এমন এক কুরুচিপূর্ণ কাজ, যা ইসলাম ধর্ম তো বটেই, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, সকল ধর্মেই জঘন্য অন্যায় এবং আমাদের দেশে আইনত অপরাধ। অথচ ট্রান্সজেন্ডার আইন প্রতিষ্ঠিত হলে এই ঘৃণ্য অপরাধ রোধে আইনত কোনো বাধা থাকবে না, যা এদেশের জন্য অভিশাপ বয়ে আনবে। আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যে নর-নারী সৃষ্টি করেছেন, যেন তারা পৃথিবীর বুকে তাদের উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারেন। সৃষ্টির এই নিগুঢ় শৃঙ্খলা মেনে আজও মানবসভ্যতা পৃথিবীর বুকে টিকে আছে।

এই শৃঙ্খলা ধসে গেলে পৃথিবী থেকে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই অসুস্থ অনাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

লেখক: শায়খ আহমাদুল্লাহ, বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও আলোচক।

23/01/2024

ইনশাআল্লাহ ভারতের ভূখণ্ডে আবারও ফিরে আসবে বাবরি মসজিদ।

22/01/2024

ঘুমানোর দুয়া পড়া : ডান কাতে শুয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে শুয়ে ঘুমানোর আগে এই দুয়া পড়তে হবে- وَأَحْيَا أَمُوتُ بِاسْمِكَ ...
22/01/2024

ঘুমানোর দুয়া পড়া : ডান কাতে শুয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে শুয়ে ঘুমানোর আগে এই দুয়া পড়তে হবে- وَأَحْيَا أَمُوتُ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ

উচ্চারণঃ বিস্মিকাল্লা-হুম্মা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া। অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো। (সহীহ বুখারী)

ঘুম থেকে উঠে যেই দুয়া পড়তে হয়- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

উচ্চারণঃ আলহা’মদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বাঅ’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্-নুশুর।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করেছেন, আর আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। (সহীহ বুখারী)

💗💗শীত এর মধ্যে চিতয় পিঠা খেতে... কার কার ভালো লাগে.. 😋😋
19/01/2024

💗💗
শীত এর মধ্যে চিতয় পিঠা খেতে...
কার কার ভালো লাগে.. 😋😋

Address

Chittagong
4390

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এসো বন্ধু আল্লাহর পথে Come friend in the way of Allah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category