18/05/2025
"মৃতব্যক্তির ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে ফাতেহা কুলখানি বা জিয়াফত করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত অতিব উত্তম কাজ। যা মৃতব্যক্তির জন্য অনেক উপকারী"
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দৃষ্টিতে জিবীত লোকের দোয়া ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিরা উপকৃত হয়।
পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে,
وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ
-“আর যে সকল লোকেরা তাদের পরে এসেছে তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ঐসব ভাইদেরকেও ক্ষমা করুন যাঁরা ঈমানের সাথে চলে গেছেন।” (সূরা হাশর: ১০ নং আয়াত)
পবিত্র কোরআনের আরেক জায়গায় পিতা-মাতার প্রতি দোয়া স্বয়ং শ্রষ্টা শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন লক্ষ্য করুন,
وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُما كَما رَبَّيانِي صَغِيراً -“আর বল, হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের (পিতা-মাতার) প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বনী ইসরাইল: ২৪ নং আয়াত)
এই আয়াতে পিতা-মাতা জিবীত বা মৃত সর্ব অবস্থায় তাদের জন্য দোয়া করার নির্দেশনা রয়েছে। আর আল্লাহর নির্দেশনা কখনো অমূলক হতে পারেনা। অবশ্যই সেই দোয়ার দ্বারা মৃত পিতা-মাতা উপকৃত হন। সুতরাং উল্লেখিত আয়াতদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত
হযরত রাসূলে করীম (ﷺ) এর হাদিস সমূহ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, জিবীতরা মৃতদের জন্য নেক আমল করে তাদের রুহে বকশালে মৃতরা ইহার দ্বারা উপকৃত হয়। এ মর্মে বহু সংখ্যক হাদিস বর্ণিত রয়েছে। যেমন নিচের হাদিস গুলো ধারাবাহিক লক্ষ্য করুন,
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجَلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي افْتُتِلَتْ نَفْسُهَا، وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ
-“হযরত আয়েশা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলে পাক (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা হঠাৎ মৃত্যু বরণ করেছেন, তিনি কোন অছিয়ত করতে পারেননি। আমার প্রবল ধারণা যে, তিনি কথা বলার সুযোগ পেলে সদকা করতেন। অতএব আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি তাহলে এর সওয়াব কি তিনি পাবেন? প্রিয় নবীজি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ পাবেন।” (মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং ৫৩; ছহীহ্ বুখারী তাঁর কিতাবুজ জানায়েয-এ; হাদিস নং ১৩৮৮; এবং মুসলীম তাঁর কিতাবুল ওছিয়াত-এ, হাদিস নং ২৩৭৩ ও ৪৩০৮; সুনানু ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৮১৮; আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং ২৮৮১; নাসাঈ শরীফ, হাদিস নং ৩৬৪৯; ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওছাত, হাদিস নং ৭০৩; ইমাম বাগভী: শরহে সুন্নাহ, হাদিস নং ১৬৯০; ইমাম বায়হাক্বী: সুনানে ছাগীর, হাদিস নং ২৩৩২; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস নং ৪৪৩৪; ছহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ২৪৯৯; ছহীহ্ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং ৩৩৫৩; মুছান্নাফু আব্দির রাজ্জাক, হাদিস নং ১৬৩৪৩; মুছান্নাফু ইবনে আবী শায়বাহ, ১২০৭৭; তাফছিরে খাজেন, ৪র্থ খন্ড, ২১৩ পৃ:; তাফছিরে মাজহারী, ৯ম খন্ড, ১০৪ পৃ:; তাফছিরে রুহুল মাআনী, ২৭তম জি: ৮৬ পৃ:)
ইহা ছহীহ্ বুখারী ও মুয়াত্তা মালেকের হাদিস। দেখুন! স্বয়ং আল্লাহর নবী রাসূলে করীম (ﷺ) বললেন যে, মৃত ব্যক্তির পক্ষে সদকা তথা কোন নেক আমল করলে ইহার সওয়াব মৃত ব্যক্তি পায়। তাই দান-সদকা করে ইহার সওয়াব মৃত ব্যক্তির রুহে বকশিস করে দেওয়া স্বয়ং আল্লাহর নবী (ﷺ) সমর্থিত ও সুন্নাতে সাহাবা।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَعْلَى، أَنَّهُ سَمِعَ عِكْرِمَةَ، يَقُولُ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا فَهَلْ يَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ بِشَيْءٍ عَنْهَا؟ فَقَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ: أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطَ الْمِخْرَافِ صَدَقَةٌ عَنْهَا
-“হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, হযরত সাদ ইবনে উবাদা (رضي الله عنه) এর অনপুস্থিতিতে তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। এরপর তিনি রাসূল (ﷺ) এর নিকট এসে বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অনপুস্থিতিতে আমার মা ইন্তেকাল করেছেন, আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে তার উপকারে আসবে কি? প্রিয় নবীজি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। তখন সাদ (رضي الله عنه) বললেন: আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার বাগানটি তার পক্ষ থেকে সদকা করলাম।” (ছহীহ্ বুখারী, হাদিস নং ২৭৫৬; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ৩৫০৮; মুসনাদু আহমদ, হাদিস নং ৩০৮০; মুছান্নাফু আব্দির রাজ্জাক, হাদিস নং ১৬৩৩৭; ইমাম বায়হাক্বী: সুনানু কুবরা, হাদিস নং ১২৬৩১; তাফছিরে মাজহারী, ৯ম খন্ড, ১০৪ পৃ:)
এই হাদিসটির দিকে নজর করুন! মৃত ব্যক্তির পক্ষে বাগান সদকা করলে ইহার সওয়াব মৃত ব্যক্তি পায়, ইহা স্বয়ং নবী পাক (ﷺ) কর্তৃক অনুমোদিত ও সাহাবীগণ কর্তৃক আমলকৃত। তাই কোন বস্তু দান বা সদকা করে মৃত ব্যক্তির রুহে ইহার সওয়াব রেছানী করা জায়েয তো বটেই বরং ইহা সুন্নাত। এ বিষয়ে আরেকটি হাদিসে আছে,
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الرُّوذْبَارِيُّ، نا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ شَوْذَبٍ، إِمْلَاءً بِوَاسِطَ، نا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْعَوَّامِ، نا مَنْصُورُ بْنُ صُقَيْرٍ، نا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي: إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَتَصَدَّقَ صَدَقَةً فَاجْعَلْهَا عَنْ أَبَوَيْكَ، فَإِنَّهُ يَلْحَقُهُمَا، وَلَا يُنْتَقَصُ مِنْ أَجْرِكَ شَيْئًا
-“হযরত আমর ইবনে শুয়াইব (رضي الله عنه) তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার পিতাকে বললেন: “যখন তোমাদের মাঝে কেউ নফল দান খয়রাত কর তখন উচিৎ যে, তা নিজের মা-বাবার পক্ষ থেকে করা, যেন ইহার সওয়ার তাঁরা পেয়ে যায় এবং তার (সওয়াব দানকারীর) সওয়াবের মধ্যে কোন কমতিও হবেনা।” ( ইমাম বায়হাক্বী: শুয়াবুল ঈমান, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২৬৯০ পৃ:; হাদিস নং- ৭৯১১ ও ৭৫৩৩; দায়লামী শরীফ; তাফছিরে মাজহারী, ৯ম খন্ড, ১০৪ পৃ:; তাহতাবী শরীফ, ৬২২ পৃ:; তাবারানী ইবনে উমর রা: হতে)
এই হাদিস দ্বারাও প্রমাণিত হয়, নফল দান-খয়রাত এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির রুহে পৌছানো জায়েয। এতে সওয়াব বকশিস করনে ওয়ালার সওয়াবের কোন কমতি হবেনা। এবার এ বিষয়ে আরেকটি হাদিস লক্ষ্য করুন,
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ أَسْلَمَ الصَّدَفِيُّ، نا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُنْكَدِرِيُّ، نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ الشَّامِيَّ، يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَذْكُرُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ يَمُوتُ مِنْهُمْ مَيِّتٌ فَيَتَصَدَّقُونَ عَنْهُ بَعْدَ مَوْتِهِ، إِلَّا أَهْدَاهَا إِلَيْهِ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَى طَبَقٍ مِنْ نُورٍ، ثُمَّ يَقِفُ عَلَى شَفِيرِ الْقَبْرِ، فَيَقُولُ: يَا صَاحِبَ الْقَبْرِ الْعَمِيقِ، هَذِهِ هَدِيَّةٌ أَهْدَاهَا إِلَيْكَ أَهْلُكَ فَاقْبَلْهَا، فَيَدْخُلُ عَلَيْهِ، فَيَفُرَحُ بِهَا وَيَسْتَبْشِرُ، وَيَحْزَنُ جِيرَانُهُ الَّذِينَ لَا يُهْدَى إِلَيْهِمْ بِشَيْءٍ
-“হযরত আনাস (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি: বাড়ীর কোন ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন এরপর তার পক্ষ থেকে কোন সদকা করলে, ইহাকে জিব্রাইল (عليه السلام) নূরের একটি করে টুপি এনে মৃত ব্যক্তি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন: হে গভীর কবরের অধিবাসী! এটি তোমার হাদিয়া! যা তোমার পরিবারের লোকেরা পাঠিয়েছে। তুমি এটা গ্রহণ কর। তারপর মৃত ব্যক্তি তা গ্রহণ করে কবরে প্রবেশ করে এবং এতে সে বড় আনন্দিত হয়। কিন্তু তার কবরের প্রতিবেশীরা বড়ই দু:খিত হয়, যাদের পরিবারের লোকেরা তাদের জন্য কোন হাদিয়া প্রেরণ করেনি।” ( ইমাম তাবারানী: মুজামুল আওছাত, হাদিস নং ৬৫০৪; তাফছিরে মাজহারী, ৯ম খন্ড, ১০৪ পৃ:)
★স্বয়ং রাসূলে করিম (ﷺ) মৃতের বাড়িতে গিয়েছেন ও খাবার পরিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। হালাল খাদ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে প্রিয় নবীজি (ﷺ) সমর্থন করেছেন। যেমন ছহীহ্ হাদিসে আছে,
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْقَبْرِ يُوصِي الْحَافِرَ: أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ، أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ، فَلَمَّا رَجَعَ اسْتَقْبَلَهُ دَاعِي امْرَأَةٍ فَجَاءَ وَجِيءَ بِالطَّعَامِ فَوَضَعَ يَدَهُ، ثُمَّ وَضَعَ الْقَوْمُ، فَأَكَلُوا، فَنَظَرَ آبَاؤُنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلُوكُ لُقْمَةً فِي فَمِهِ، ثُمَّ قَالَ: أَجِدُ لَحْمَ شَاةٍ أُخِذَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ أَهْلِهَا، فَأَرْسَلَتِ الْمَرْأَةُ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَرْسَلْتُ إِلَى الْبَقِيعِ يَشْتَرِي لِي شَاةً، فَلَمْ أَجِدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى جَارٍ لِي قَدِ اشْتَرَى شَاةً، أَنْ أَرْسِلْ إِلَيَّ بِهَا بِثَمَنِهَا، فَلَمْ يُوجَدْ، فَأَرْسَلْتُ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ بِهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَطْعِمِيهِ الْأُسَارَى
-“জনৈক আনসার সাহাবী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলে পাক (ﷺ) এর সাথে এক ব্যক্তির জানাযায় শরীক হলাম। এ সময় আমি দেখতে পাই যে, রাসূল (ﷺ) কবরের কাছে দাঁড়িয়ে যারা কবর খুরছিল তাদের বলেন: পায়ের দিকে প্রশস্ত কর, মাথার দিকে চওড়া কর। এরপর তিনি সেখোন থেকে ফিরার পর জনৈক মহিলার আহবানকারী নবী পাক (ﷺ) কে ডাকার জন্য সেখানে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে গেলেন ও তাঁর জন্য খাদ্য উপস্থিত করা হয়। নবী করিম (ﷺ) খেতে শুরু করলে অন্যরাও খেতে শুরু করেন। তখন আমাদের মুরুব্বিরা লক্ষ্য করেন যে, রাসূল (ﷺ) এক লোকমা মুখে দিয়ে তা শুধু চিবাচ্ছেন কিন্তু তা গিলছেন না। এ সময় তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, এ গোস্ত এমন এক বকরীর যা তার মালিকের বিনা অনুমতিতে নেওয়া হয়েছে। তখন সে মহিলা বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি জনৈক ব্যক্তিকে বকরী খরিদ করার জন্য বাকী নামক বাজারে পাঠিয়ে ছিলাম। সেখানে বকরী পাওয়া যায়নি। এরপর আমি আমার প্রতিবেশী যিনি একটি বকরী খরিদ করেন, তাকে বলি যে, তিনি যেন তার বকরীটি ক্রয় মূল্যে আমাকে প্রদান করেন। কিন্তু তাকেও বাড়ি পাওয়া যায়নি। তখন আমি তার স্ত্রীর নিকট লোক পাঠাই, যিনি আমাকে বকরীটি দিয়েছেন। তখন রাসূলে পাক (ﷺ) বলেন, এ গোস্ত বন্দিদের খাইয়ে দাও।” (সুনানু আবী দাউদ, হাদিস নং ৩৩৩২ بَابٌ فِي اجْتِنَابِ الشُّبُهَاتِ, ই: ফা: হাদিস নং ৩২৯৯; ইমাম বায়হাক্বী: সুনানে কুবরা, হাদিস নং ১০৮২৫ بَابُ كَرَاهِيَةِ مُبَايَعَةِ مَنْ أَكْثَرُ مَالِهِ مِنَ الرِّبَا أَوْ ثَمَنِ الْمُحَرَّمِ; মেসকাত শরীফ, হাদিস নং ৫৯৪২; কাজী শাওকানী: নাইলুল আওতার, হাদিস নং ২৪৩৪; ইমাম যায়লায়ী: নাছবুর রায়া, ৪র্থ খন্ড, ১৬৮ পৃ:; তাহতাবী শরীফ, ৬১৭ পৃ:; ইমাম আসকালানী: তালখিছুল হাবীর, ২য় খন্ড, ২৯৬ পৃ:;)
এই হাদিসের সনদ সম্পর্কে ইমাম যায়লায়ী (رحمة الله) বলেছেন,
وَهَذَا سَنَدُ الصَّحِيحِ، -“এই সনদ ছহীহ্।” (ইমাম যায়লায়ী: নাছবুর রায়া, ৪র্থ খন্ড, ১৬৮ পৃ:;)
হাফিজুল হাদিস ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী (رحمة الله) এই সনদ সম্পর্কে বলেন, إسْنَادُهُ صَحِيحٌ -“ইহার সনদ ছহীহ্।” (ইমাম আসকালানী: তালখিছুল হাবীর, ২য় খন্ড, ২৯৬ পৃ:;)
হাফিজুল হাদিস ইমাম ইবনু মুলাক্কিন (رحمة الله) বলেছেন, إسْنَادُهُ صَحِيحٌ
-“ইহার সনদ ছহীহ্।” (ইবনু মুলাক্কিন: বাদরুল মুনীর, ৫ম খন্ড, ২৯৬ পৃ:;)
এই হাদিস সম্পর্কে লা-মাজহাবী নাছিরুদ্দিন আলবানী বলেছেন,
وهذا سند صحيح كما قال الحافظ فى التلخيص -“এই সনদ ছহীহ্ যেমনটি হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানী (رحمة الله) তার ‘তালখিছ’ গ্রন্থে বলেছেন।” (আলবানী: ইরইয়াউল গালিল, ৩য় খন্ড, ১৯৬ পৃ:;)
এই হাদিস দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত হয়, স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নিজেই মৃত ব্যক্তির আহল-বর্গের নিকট থেকে খাবার গ্রহণ করেছেন এবং সাহাবীরাসহ লোকেরা ইহা খাবার গ্রহণ করেছেন এতে রাসূলে পাক (ﷺ) নিষেধ করেননি। এই হাদিস দ্বারা আরো প্রমাণিত হয়, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে যিয়াফতের দাওয়াত গ্রহণ করা রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাত এবং ঐ যিয়াফতে খাবার গ্রহণ করাও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত
★ঈসালে সওয়াব তথা সওয়াব রেছানীর পক্ষে ইহা এই হাদিস কত সুন্দর দলিল। ঈসালে সওয়াব করলে মৃত ব্যক্তির কতইনা উপকৃত ও আনন্দিত হয়!