Jewel Tazim

Jewel Tazim Life is the Beautiful lie and Death is the painful truth!

একসময় মানুষ ভ্রমণে বের হতো পাহাড় দেখবে, সমুদ্র দেখবে, নতুন সংস্কৃতি জানবে বলে। এখন মনে হচ্ছে কিছু মানুষ ভ্রমণে বের হয় অন...
09/06/2026

একসময় মানুষ ভ্রমণে বের হতো পাহাড় দেখবে, সমুদ্র দেখবে, নতুন সংস্কৃতি জানবে বলে। এখন মনে হচ্ছে কিছু মানুষ ভ্রমণে বের হয় অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত সংগ্রহ করার অসুস্থ নেশা নিয়ে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় ট্রাভেল কমিউনিটি তোলপাড়। অভিযোগ উঠেছে, একজন জনপ্রিয় ট্রাভেল হোস্ট বিদেশে গিয়ে নারীর গোপন ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, সেটি আদালত নির্ধারণ করবে। কিন্তু ঘটনা ঘিরে আমাদের সমাজের প্রতিক্রিয়া আরও ভয়ংকর।

আমাদের দেশে কিছু মানুষের এক অদ্ভুত সুপারপাওয়ার আছে। তারা কারও ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা দেখেই তার চরিত্রের সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। লোকটা যদি পাঁচশো ট্যুর আয়োজন করে থাকে, তাহলে সে নাকি ফেরেশতা। যেন জনপ্রিয়তা একটি নতুন ধরনের ওজু, যা সব পাপ ধুয়ে ফেলে!

কেউ কেউ আবার বলছেন, "ভাইকে কখনও খারাপ কিছু করতে দেখিনি।" এই যুক্তি শুনে মনে হয়, পৃথিবীর সব অপরাধী বুঝি অপরাধ করার আগে প্রতিবেশীদের লিখিত নোটিশ দিয়ে যায়।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, অনেকেই অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চরিত্রের গ্যারান্টি দিতে মাঠে নেমে পড়েন। অথচ নিজের মনের ভেতর কী চলছে, সেটারই খবর অনেক সময় নিজের কাছে থাকে না। মানুষের চরিত্রের ওয়ারেন্টি কার্ড এখনও কোনো কোম্পানি বাজারে ছাড়েনি।

এই ঘটনা আমাদের আরেকটি বাস্তবতা সামনে এনেছে— প্রযুক্তি এখন আশীর্বাদও, আবার অভিশাপও। একটি ক্ষুদ্র ক্যামেরা, একটি মোবাইল ফোন কিংবা একটি ন্যানো ডিভাইস একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষের হাতে ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত হতে পারে। হোটেল, রিসোর্ট, ট্রায়াল রুম, ওয়াশরুম— কোথাও শতভাগ নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।

তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে শুধু পাহাড়ের উচ্চতা বা হোটেলের ভাড়া দেখলেই হবে না। খোঁজ নিতে হবে আয়োজক কে, তার পূর্বের রেকর্ড কী, অন্য ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা কেমন। অন্ধ বিশ্বাসের টিকিট কেটে কেউ নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।

আরেকটি কথা। কোনো অভিযোগ উঠলেই অভিযুক্তকে দেবতা বানানো যেমন ভুল, তেমনি বিচার শেষ হওয়ার আগেই আদালতের ভূমিকা নিজে নিয়ে নেওয়াও ঠিক নয়। তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, তাকে দোষারোপ করা কিংবা প্রভাবশালী কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করা একটি অসুস্থ সামাজিক প্রবণতা।

ভ্রমণ সুন্দর। মানুষ সুন্দর। পৃথিবীও সুন্দর। কিন্তু কিছু অসুস্থ মানসিকতার মানুষ সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তাই ভ্রমণের ব্যাগে জামাকাপড়ের সঙ্গে একটু সচেতনতা, একটু সতর্কতা এবং সামান্য সন্দেহও রাখুন।

কারণ বর্তমান পৃথিবীতে শুধু পাসপোর্ট নয়, প্রাইভেসিও রক্ষা করা জরুরি।

09/06/2026

সবকিছু উন্মুক্ত হউক

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?কর্মসংস্থান? না।বিনিয়োগ? না।ডলার সংকট? না।গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।ব্যাংকিং খাতের আ...
09/06/2026

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ করেছে, আর কে কতবার করেনি!
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশি বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা প্রায় ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের মাটিতে অবতরণ করেছেন। যে টাকার অঙ্ক শুনে আমাদের অর্থনীতিবিদরা ক্যালকুলেটর খুঁজছেন, আর সাধারণ মানুষ খুঁজছে চাকরি।
আমরা ভেবেছিলাম, বিদেশে সফল হওয়া বাংলাদেশিরা একদিন প্লেনভর্তি বিনিয়োগ নিয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু দেখা গেল, প্লেন ঠিকই উড়েছে, শুধু রানওয়েটা অন্য দেশে।
এরপরও চিন্তার কিছু নেই। কারণ আমরা এখনও গোলটেবিল বৈঠকে ব্যস্ত— কোন বক্তৃতায় কতটুকু আবেগ ছিল, কোন ব্যানারে কোন ছবি বড় ছিল, আর কে কাকে যথেষ্ট সম্মান দিল না।
অন্যদিকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন আমানতকারীরা, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে, বিনিয়োগকারীরা হিসাব কষছেন, আর শ্রমিকেরা হিসাব কষছেন আগামী মাসে চাকরিটা থাকবে কি না।
কিন্তু এসব তো খুবই সাধারণ বিষয়।
জাতীয়ভাবে আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।
কারণ ইতিহাস সাক্ষী—
বেকার যুবক ভোট দিতে পারে,
মিছিলও করতে পারে;
কিন্তু চাকরি ছাড়া সে সংসার চালাতে পারে না।
আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কর্মসংস্থান নিয়ে এখনো তেমন কোনো টকশো হয় না!

৭৪ ভোটের নির্বাচনে ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন রুদ্ধশ্বাস, শ্বাসরুদ্ধকর, হৃদকম্পন-সৃষ্টিকারী নির...
07/06/2026

৭৪ ভোটের নির্বাচনে ৭৩ ভোট পেয়েছেন তামিম ইকবাল। গণতন্ত্রের ইতিহাসে এমন রুদ্ধশ্বাস, শ্বাসরুদ্ধকর, হৃদকম্পন-সৃষ্টিকারী নির্বাচন বোধহয় আর হয়নি!

এখন জাতির একটাই প্রশ্ন— সেই একজন কে?

তিনি কি ভুল করে ব্যালটে অন্য কোথাও টিক দিয়েছিলেন, নাকি ভোটের দিন চশমা বাসায় ফেলে এসেছিলেন? নাকি তিনি এখনও ভাবছেন তামিম ওপেনিংয়ে নামবেন কি না!

তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক, প্রয়োজনে সিআইডি, এফবিআই, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড— সবাইকে নামানো হোক। সেই রহস্যময় ভোটারকে খুঁজে বের করে অন্তত জিজ্ঞেস করা দরকার, “ভাই, আপনি আসলে কী ভাবছিলেন?”

অবশ্য এটা নিছক মজা। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবেই। তবে ৭৪ জনের মধ্যে ৭৩ জন যখন একমত, তখন সেই একজনকে নিয়ে কৌতূহল হওয়াটা দোষের কিছু নয়!

07/06/2026

রামিসার ঘটনায় আজ আদালতের দেওয়া রায় নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুততম সময়ে ঘোষণার মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার একটি কার্যকর ও দৃঢ় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের এই অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরিয়ে আনে।
তবে শুধু রায় ঘোষণা নয়, এর যথাযথ ও দ্রুত কার্যকর করাও এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। বিচার যত দ্রুতই হোক, তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে ন্যায়বিচারের পূর্ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অতীতের মাগুরার ছোট্ট শিশু আছিয়ার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেওয়া রায় এখনও কার্যকর না হওয়া সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনে।
আমরা চাই, বিচার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো রামিসা বা আছিয়ার মতো নিষ্পাপ শিশুকে নৃশংসতার শিকার হতে না হয়।

নিরাপদ শৈশবই হোক আমাদের অঙ্গীকার—এটাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।

বাংলাদেশে "বৃদ্ধাশ্রম" শব্দটি এখনো অনেকের কাছে একটি নেতিবাচক ধারণার প্রতীক। মনে করা হয়, বৃদ্ধাশ্রম মানেই সন্তানদের অবহে...
05/06/2026

বাংলাদেশে "বৃদ্ধাশ্রম" শব্দটি এখনো অনেকের কাছে একটি নেতিবাচক ধারণার প্রতীক। মনে করা হয়, বৃদ্ধাশ্রম মানেই সন্তানদের অবহেলায় পরিত্যক্ত মা-বাবার শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এত সরল? সমাজ, অর্থনীতি এবং পারিবারিক কাঠামোর দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে প্রবীণদের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমকে আবেগের চশমা দিয়ে নয়, সামাজিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে।

ইসলামের ইতিহাসে ফিরে তাকালেও দেখা যায়, প্রবীণদের কল্যাণ শুধুমাত্র পরিবারের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে, বিশেষ করে খলিফা হযরত ওমর (রা.) বিধবা, অসহায় ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার বায়তুল মাল থেকে নিয়মিত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। ইসলাম সন্তানদের উপর পিতা-মাতার সম্মান ও ভরণপোষণের দায়িত্ব আরোপ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে রাষ্ট্রেরও সামাজিক দায়িত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছে।

পশ্চিমা বিশ্বেও প্রবীণ কল্যাণের ধারণা রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। উনিশ শতকের শেষদিকে জার্মানির রাষ্ট্রনায়ক বিসমার্ক প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা ও পেনশন ব্যবস্থা চালু করেন। পরবর্তী কয়েক দশকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো বুঝতে পারে যে কেবল পারিবারিক দায়িত্বের উপর নির্ভর করে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে ধীরে ধীরে রাষ্ট্র প্রবীণদের আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বাংলাদেশেও বাস্তবতা দ্রুত বদলাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে পরিণত হচ্ছে। কর্মসংস্থানের কারণে সন্তানরা গ্রাম ছেড়ে শহরে কিংবা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। একজন প্রবাসী বা নগরজীবী সন্তান হয়তো তার আয়ের বড় অংশই গ্রামের বাড়িতে পাঠায়, কিন্তু দূরত্বের কারণে বৃদ্ধ মা-বাবার নিয়মিত চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক যত্ন নিশ্চিত করতে পারে না। অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকলেও বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা থেকে যায়।

গ্রামের বাস্তব চিত্র আরও কঠিন। সাহায্যপ্রার্থীদের একটি বড় অংশই বয়োবৃদ্ধ, যাদের অধিকাংশ নারী। স্বামীহারা, অসুস্থ কিংবা কর্মক্ষমতা হারানো এসব মানুষ অনেক সময় নীরব অবহেলার মধ্যে জীবন কাটান। অথচ একটি মানসম্মত বৃদ্ধাশ্রম তাঁদের জন্য হতে পারে নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসাসেবা এবং সামাজিক মর্যাদার কেন্দ্র।

সম্প্রতি একটি বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা এই উপলব্ধিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সেখানে অনেক প্রবীণ নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের জীবনে কষ্ট ও অভিমান থাকলেও অধিকাংশই বর্তমান জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট নন। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঙ্গীসাথীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং মানসিক প্রশান্তি—সব মিলিয়ে তাঁরা একটি সম্মানজনক জীবনযাপন করছেন।

বিশেষ করে একাকীত্ব দূর করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে, দুপুরে ও রাতে একসঙ্গে খাওয়া, নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ একজন প্রবীণের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অনেকের জন্য এটি কেবল একটি আশ্রয়কেন্দ্র নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক পরিবার।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাস্থ্যসেবা। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একজন প্রবীণের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় বিপর্যয় ডেকে আনে। একটি বড় অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ দুই প্রজন্মের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ করে দিতে পারে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে শুধু নৈতিকতার ভাষণ দিলে সমস্যার সমাধান হয় না। বরং রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন এবং প্রবীণবান্ধব আবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে।

অবশ্যই, সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ সমাজের শক্ত ভিত্তি। মা-বাবার পাশে থাকা, তাঁদের সম্মান করা এবং যত্ন নেওয়া একটি নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। কিন্তু সব পরিবার একই রকম নয়, সব পরিস্থিতিও এক নয়। তাই যারা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারছেন না বা যাদের জন্য বিশেষায়িত যত্নের প্রয়োজন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।

আজকের বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রমকে লজ্জা বা ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে নয়, বরং একটি আধুনিক সামাজিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে। রাষ্ট্রকে প্রবীণদের জন্য আবাসন, স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সামাজিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে বিভিন্ন আয়ের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

কারণ একটি সভ্য সমাজের পরিচয় শুধু তার অর্থনৈতিক উন্নতিতে নয়, বরং সে তার সবচেয়ে দুর্বল ও নির্ভরশীল নাগরিকদের কতটা মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিতে পারে, তার মধ্যেই নিহিত। আর সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সম্মানজনক, নিরাপদ ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি সময়ের দাবি।

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে সাত বছরের শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এ...
02/06/2026

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলীর মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে সাত বছরের শিশু ফাতেমার মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের সমাজ, প্রশাসন এবং বিশ্বাসের নামে গড়ে ওঠা এক দীর্ঘদিনের অবহেলার নির্মম প্রতিচ্ছবি। সোমবার রাতে দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামার সময় একটি কুমির শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি যতটা হৃদয়বিদারক, তার চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো—এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কয়েক মাস আগেই একই দিঘির কুমির একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তখন অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, আজ কুকুর, কাল হয়তো মানুষও শিকার হতে পারে। সেই আশঙ্কাই আজ বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখানে কুমিরকে একমাত্র অপরাধী বানানো সহজ। কিন্তু প্রকৃত প্রশ্ন হলো—একটি বন্য ও হিংস্র প্রাণীকে জনবহুল স্থানে রেখে, প্রতিদিন শত শত মানুষকে তার কাছাকাছি যেতে দিয়ে আমরা কি নিজেরাই বিপদের দরজা খুলে রাখিনি? কুমির তো তার স্বভাব অনুযায়ী আচরণ করেছে। সে শিকারি প্রাণী, তার কাছে মানুষ ও অন্য প্রাণীর পার্থক্য নেই। দায় বরং তাদের, যারা নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়াই বছরের পর বছর এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে।

আরও বেদনাদায়ক হলো, আমাদের সমাজে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনের মূল্য অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে না। ফাতেমা কোনো প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ছিল না। সে ছিল এক অসহায় মায়ের শিশু সন্তান। তাই হয়তো কয়েকদিনের শোক, কিছু সংবাদ শিরোনাম আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টের পর ঘটনাটি ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে।

এই ঘটনা আমাদের সামনে কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন রেখে গেছে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নীতিমালা কি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে? দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কোথায়? বিপজ্জনক প্রাণীর আবাসস্থলের চারপাশে কেন কার্যকর সুরক্ষা বলয় নেই?
ফাতেমার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যর্থতার প্রতীক। যদি এই ঘটনার পরও আমরা শিক্ষা না নিই, তবে ভবিষ্যতে আরও কোনো ফাতেমা, আরও কোনো নিরীহ প্রাণ বা মানুষ একইভাবে মৃত্যুর মুখে হারিয়ে যাবে।

পৃথিবী হয়তো চলতে থাকবে, মানুষও ভুলে যাবে। কিন্তু প্রশ্নটি থেকে যাবে—ফাতেমাকে আসলে কুমির টেনে নিয়েছিল, নাকি আমাদের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা?

সমাজে আমরা প্রায়ই সাফল্যের গল্প শুনি। কেউ সচিব হয়েছেন, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কেউবা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এসব ...
02/06/2026

সমাজে আমরা প্রায়ই সাফল্যের গল্প শুনি। কেউ সচিব হয়েছেন, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কেউবা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এসব গল্প আমাদের অনুপ্রাণিত করে, গর্বিত করে। কিন্তু সম্প্রতি এমন এক ঘটনা সামনে এসেছে, যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

একজন বৃদ্ধা মা। জীবনের দীর্ঘ সময় সন্তানদের মানুষ করতে ব্যয় করেছেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে, অসংখ্য নির্ঘুম রাত পার করে, অভাব-অনটন সহ্য করে সন্তানদের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই সন্তানদের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আরেকজন বিদেশে বসবাসকারী সফল ব্যক্তি।
কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে সেই মায়ের পাশে কেউ ছিল না।
খবর অনুযায়ী, বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর নিথর দেহ প্রায় সাত দিন ঘরে পড়ে ছিল। কেউ খোঁজ নেয়নি, কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি। একসময় পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি আমাদের সমাজের এক ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে সাফল্যের সংজ্ঞা ক্রমেই অর্থ, পদমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ মানুষ হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি হলো মা-বাবার প্রতি কর্তব্য পালন।

প্রযুক্তির এই যুগে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মুহূর্তেই যোগাযোগ করা যায়। অথচ অনেক মা-বাবা দিন, সপ্তাহ কিংবা মাসের পর মাস সন্তানের একটি ফোনকলের অপেক্ষায় থাকেন। ব্যস্ততার অজুহাতে আমরা তাদের খোঁজ নেওয়ার সময় পাই না, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিই।

একজন মানুষ কত বড় কর্মকর্তা, কত বড় শিক্ষাবিদ কিংবা কত ধনী—তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, তিনি তাঁর মা-বাবার প্রতি কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন। কারণ জীবনের সব অর্জনের পেছনে যাদের ত্যাগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে আছে, তাদের প্রতি অবহেলা কোনো সাফল্যকে মহৎ করে না।

এই ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষা। মা-বাবা আমাদের জীবনে চিরদিন থাকবেন না। একদিন হয়তো তাদের খোঁজ নেওয়ার সুযোগও আর থাকবে না। তাই এখনই সময় তাদের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সময় দেওয়ার, তাদের অনুভূতির মূল্য দেওয়ার।

সত্যিকারের সাফল্য পদ-পদবি বা অর্থ-সম্পদে নয়; সত্যিকারের সাফল্য হলো সেই মানুষ হয়ে ওঠা, যে নিজের বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে শেষ বয়সে একটুখানি স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারে। কারণ ইতিহাস মানুষকে তার পদমর্যাদার জন্য নয়, তার মানবিকতার জন্যই বেশি মনে রাখে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে হৈচৈ প্ল্যাটফর্মে দেখলাম বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র বনলতা এক্সপ্রেস।...
01/06/2026

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর ফাঁকে হৈচৈ প্ল্যাটফর্মে দেখলাম বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র বনলতা এক্সপ্রেস। অনেকদিন পর এমন একটি বাংলাদেশি সিনেমা দেখা হলো, যা শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মনে রয়ে যায়। শুধু বিনোদন নয়, এটি যেন সমকালীন বাংলা সিনেমার সম্ভাবনা, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক দর্শন অভিজ্ঞতার এক সুন্দর সম্মিলন।

একটি ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্প নতুন কিছু নয়। বিশ্ব সিনেমায় কিংবা উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রেও এমন গল্প বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু বনলতা এক্সপ্রেস যে বিষয়টি ভিন্নভাবে করেছে, তা হলো—বাংলাদেশের মানুষ, সমাজ, সম্পর্ক, হাসি-কান্না এবং প্রজন্মের বৈচিত্র্যকে এক ট্রেনের কামরার ভেতরে এনে এক অনন্য কোলাজ তৈরি করা। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে বাংলাদেশের গন্ধ আছে, পরিচিত মুখ আছে, পরিচিত আবেগ আছে।

নির্মাতা তানিম নূর ও তাঁর সহযাত্রীরা প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যিক ভাবধারাকে আধুনিক চলচ্চিত্র ভাষায় রূপ দেওয়ার একটি সাহসী প্রয়াস দেখিয়েছেন। ছবিটির অন্যতম শক্তি এর অভিনয়শিল্পীরা। চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, মম, শ্যামল মাওলা, সাবিলা নূর, রাজ রীপা—প্রত্যেকে নিজেদের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। বিশেষভাবে মোশাররফ করিম আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বাংলাদেশের অভিনয় জগতের অন্যতম শক্তিশালী শিল্পী।
চলচ্চিত্রটির সংলাপ, হাস্যরস এবং মেটা রেফারেন্সগুলো দর্শককে বারবার চমকে দেয়। কোথাও অতিরঞ্জিত নাটকীয়তা নেই, আবার কোথাও গল্প বলার গতি থেমেও যায় না। পারিবারিক দর্শকদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপভোগ্য, কারণ এতে একইসঙ্গে আছে বিনোদন, আবেগ, রহস্য, সম্পর্ক এবং জীবনের ছোট ছোট উপলব্ধি।

সংগীত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্মাতারা প্রশংসার দাবিদার। অর্ণবের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের ব্যবহার কিছু দৃশ্যকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এসব মুহূর্ত শুধু গল্পকে এগিয়ে নেয় না, দর্শকের আবেগের সঙ্গেও গভীর সংযোগ তৈরি করে।
তবে চলচ্চিত্রটি নিখুঁত নয়। কিছু জায়গায় মেলোড্রামার উপস্থিতি কম হলে এবং চিত্রনাট্য আরও সংহত হলে এটি হয়তো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত। তবুও সামগ্রিক বিবেচনায় বনলতা এক্সপ্রেস বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও শিল্পধর্মী সিনেমার মধ্যে একটি সফল সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

বাংলাদেশি সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই বাস্তবতায় মনপুরা, আয়নাবাজি, হাওয়া–এর ধারাবাহিকতায় বনলতা এক্সপ্রেস প্রমাণ করেছে যে দর্শক এখনও ভালো গল্প দেখতে চায়, নিজের সংস্কৃতি ও মানুষের গল্প বড় পর্দায় খুঁজে পেতে চায়।

বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ এখনও আশাব্যঞ্জক। প্রয়োজন শুধু সাহসী গল্প, আন্তরিক নির্মাণ এবং দর্শকের প্রতি সম্মান। বনলতা এক্সপ্রেস সেই আশার ট্রেনেরই এক সফল যাত্রা।

01/06/2026

টেলিভিশন নাটক, ওয়েব সিরিজ কিংবা চলচ্চিত্র সমাজের বাস্তবতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করে। তাই কোনো একটি চরিত্র বা ঘটনা যখন বারবার একই ধরনের রূপে উপস্থাপিত হয়, তখন তা শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজের একটি অংশ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
সম্প্রতি কর্পোরেট জগতের নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত বিভিন্ন নাটক ও কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। এসব গল্পে প্রায়ই দেখা যায়, একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অবৈধ সম্পর্ক, প্রতারণা কিংবা নৈতিক আপসের পথ বেছে নিচ্ছেন। নাটকীয়তার প্রয়োজনে এমন চরিত্র নির্মাণে আপত্তি না থাকলেও প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—কেন বারবার একই ধরনের চরিত্রকে কর্পোরেট নারীর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে?
বাস্তবতা হলো, দেশের কর্পোরেট খাতে কর্মরত লাখো নারী প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। তারা অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন, একই সঙ্গে পরিবার, সন্তান এবং সামাজিক দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। অনেক নারী প্রতিকূল পরিবেশ, বৈষম্য ও নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছেছেন। তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে মেধা, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস; কোনো শর্টকাট নয়।
একজন নারীর ভুল যেমন পুরো নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না, তেমনি একজন পুরুষের অপরাধও সব পুরুষের পরিচয় হতে পারে না। কিন্তু যখন ব্যতিক্রমী একটি চরিত্রকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সেটিই একটি শ্রেণির মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য, তখন সেটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই একটি নেতিবাচক স্টেরিওটাইপ তৈরি করে।
গল্প বলার স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে। শিল্প ও সাহিত্য বাস্তবতার অন্ধকার দিকও তুলে ধরবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একই সঙ্গে সমাজের ইতিবাচক, সংগ্রামী ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষদের গল্পও সামনে আনা জরুরি। কারণ বাস্তবতা কখনো একরঙা নয়; সেখানে যেমন ব্যর্থতা আছে, তেমনি সাফল্যও আছে। যেমন অনৈতিকতার গল্প আছে, তেমনি সততা ও যোগ্যতার গল্পও আছে।
সুতরাং বিতর্কের মূল বিষয় কোনো নাটক নিষিদ্ধ করা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—আমরা কি সমাজের বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে তুলে ধরছি, নাকি পুরোনো কিছু ধারণাকে নতুন মোড়কে বারবার দর্শকের সামনে হাজির করছি? কর্পোরেট জগতের নারীদের নিয়ে আলোচনা করতে হলে তাদের সংগ্রাম, অর্জন, নেতৃত্ব এবং সাফল্যের গল্পগুলোও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বলতে হবে। কারণ একটি সমাজকে বুঝতে হলে ব্যতিক্রম নয়, সামগ্রিক বাস্তবতাকেই দেখতে হয়।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jewel Tazim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share