24/02/2024
শবে বরাত/লাইলাতুম মিন নিসফী শা'বান: একটি পর্যালোচনা
শবেবরাতের বর্ণনা কুরআনে নেই। বরং একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমানিত ও প্রতিষ্ঠিত।
يطلع الله الى خلقه فى ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك او مشاحن(ابن ماجه) -
পনেরো শা' বানে সালাত-সাওম পালন মূলত রমযানের সাওম ও কিয়ামুল্লাইল পালনের পূর্ব প্রস্ততি মাত্র। এ রাতের ইবাদাতে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল হয়, গোনাহ মাফ হয়। তবে নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ ব্যতিরেকে।
১. শিরককারী: ... فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك শিরকের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক ছিন্ন হয়। আল্লাহর তৈরি বিধি বিধান থাকা সত্বেও তা গ্রহণ না করে মাখলুকের তৈরি বিধি বিধান গ্রহণ করা শিরক। এ শিরক বর্জন না করে আল্লাহর কাছে ক্ষমার আশা করা বাতুলতা মাত্র।
২.হিংসুক: او مشاحن হিংসার দ্বারা মানুষের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে মুসলিম উম্মায় ফাটল ধরিয়ে মুসলিম বিদ্বেষীদের কালচার অনুপ্রবেশের পথ খুলে দিয়ে রাত জেগে ইবাদাত নিস্ফল কর্ম।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী : لا ينظر الله فيها... قاطع رحم বোনের পাওনা সম্পদ আত্মসাৎ করে সিজদায় গিয়ে জান্নাত খুঁজে লাভ নেই। আগে বোনের হক তারপর ইবাদাত।
৪. গীড়ার নিচে কাপড় পরিধানকারী : و لا الى مسبل গীড়ার নিচে প্যান্ট, পায়জামা-লুঙ্গি পড়া হারাম। এ রকম অহংকারী স্টাইলে পোশাক পড়ে, শবে বরাতে ইবাদাত করে লাভ নেই।
৫. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান : و الى عاق لوالديه মা-বাবাকে কষ্ট দিয়ে তাদের হক নষ্ট করে শবেবরাতে রাত জেগে ইবাদাত নিস্ফল কর্ম মাত্র।
৬. و لا الى مدمن خمر : মদ, গাঁজা, ইয়াবা জাতীয় নেশায় আসক্ত থেকে ; এগুলোর চোরা কারবারি করে শবেবরাতে সামনের কাতারের মুসল্লী সেজে লাভ নেই।
উপরোক্ত কাজগুলো হারাম, কবীরা গোনাহ। জীবন ভর এসব পাপে ডুবে থেকে শবেবরাতে মীলাদে আশেকে রাসূল সেজে, জিকিরের ধ্বনি তুলে, রাত জেগে ইবাদাতে মশগুল হয়ে লাভ নেই। বরং এসব কর্ম বর্জন করে, তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে ১৫ শাবান উদযাপন করলে গোনাহ মাফের আশা করা যায়।
সালাত, তাসবীহ-তাহলীল কোনো সিজনালি ইবাদাত নয়। সারা বছর আকাম-কুকাম করে শবেবরাতে এসে বিরাট মুসল্লী সেজে ভালো মানুষ বনে যাওয়া নিছক একটা প্রতারণা। বরং সর্বদা যিনি আল্লাহর আদেশ মেনে চলেন তার জন্য পনেরো শা'বান মাগফিরাতময়।