17/06/2026
ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (TSC) এলাকার। ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা বড় পর্দায় দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ রাতের ঘুম হারাম করে জমায়েত হয়েছেন। কয়েকজন কে জিজ্ঞাসা করলাম তারা এমনকি ফজর নামাজের পরে গিয়েও অনেকে বসার মতো তিল ধারণের জায়গা পাননি! তার মানে, এই মানুষগুলোর একটা বিশাল অংশ ফজরের আজানের বহু আগে, মধ্যরাতে বা শেষরাতে গিয়ে সেখানে স্থান দখল করে বসেছিলেন।
খেলাধুলার প্রতি মানুষের এই অনাবিল আবেগ ও কষ্ট করার মানসিকতা দেখে একটি জরুরি প্রশ্ন মনের অজান্তেই জেগে ওঠে— "আমরা কি আমাদের রবের জন্য, আমাদের চিরস্থায়ী আখিরাতের জন্য এতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারছি?"
একটি সাময়িক বিনোদন বা খেলার জন্য আমরা রাত জাগতে পারি, ফজরের আগে গিয়ে কনকনে ঠাণ্ডায় মাঠে বসে থাকতে পারি। কিন্তু যখন হাইয়্যা ‘আলাস-সালাহ (নামাজের দিকে এসো) বলে রবের পক্ষ থেকে ডাকা হয়, তখন কি আমাদের এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও ত্যাগ দেখতে পাওয়া যায়?
ফজরের নামাজের গুরুত্ব: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নফল সালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করল।" (সহীহ মুসলিম)
খেলার মাঠের জয়-পরাজয় ক্ষণস্থায়ী। আজ যে দল জিতবে, কাল তারা হারবে। কিন্তু হাশরের ময়দানে সালাতের (নামাজের) হিসাব দিয়ে জান্নাত পাওয়ার যে আসল জয়, সেটার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু?
আমাদের এই শক্তি, তারুণ্য এবং ত্যাগ করার ক্ষমতা কিন্তু আল্লাহ তাআলাই দিয়েছেন। দুঃখজনক হলো, আমরা তা এমন জায়গায় খরচ করছি যা আমাদের আখিরাতে কোনো উপকারে আসবে না। যদি এই একই পরিমাণ মানুষ ফজরের আজানের আগে আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) প্রথম কাতারে বসার জন্য এভাবে প্রতিযোগিতা করত, তবে আমাদের সমাজ ও দেশের চিত্রটাই বদলে যেত!
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন: "পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক বৈ কিছু নয় এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখিরাতের বাসস্থানই উত্তম। তোমরা কি অনুধাবন করবে না?" (সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৩২)
আসুন, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহের চেয়ে আমাদের রবের দেওয়া চিরস্থায়ী জান্নাতের ডাককে বেশি অগ্রাধিকার দিই। খেলার মাঠের মতো আল্লাহর ঘর মসজিদগুলোকেও আমরা বিশেষ করে ফজরের ওয়াক্তে এভাবে কানায় কানায় পূর্ণ করে তুলি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং দ্বীনের পথে আমাদের আবেগকে নিয়োজিত করার তাওফিক দিন। আমিন।