10/03/2025
A DM Production work.
দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়, স্বাধীনতার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস : ফরিদা বেগম
ফরিদা বেগম, যিনি জীবনের শুরুতেই হারিয়েছিলেন বাবা-মাকে, কিন্তু হার মানেননি কখনো। ছোটবেলায় বিয়ে, কোলে দুটি শিশু—তবু স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের। মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে না পারলেও, রান্না করে যুদ্ধের মাটিতে যোদ্ধাদের খাবার পৌঁছে দিতেন। তার কাছে দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়, স্বাধীনতার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস।
জীবনের পথে পথে লড়াই করেছেন তিনি—কখনো সমাজের চোখ রাঙানি, কখনো পারিবারিক টানাপোড়েন। সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকবার অবহেলা সহ্য করেছেন, অনেক সময় কেঁদেছেন, কিন্তু থেমে যাননি। তিনি জানতেন, যুদ্ধ করতেই হবে—কারও অনুমতির অপেক্ষায় থাকলে বিজয় আসবে না।
তার সংগ্রামের গল্প শুধু নিজের জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন মেয়েকে শক্ত করে বলেছেন, "আমার দরজা তোমাদের জন্য সবসময় খোলা, কিন্তু কখনো পারিবারিক সহিংসতা মেনে নেবে না।" তিন ছেলের জন্যও তার ছিল একই শিক্ষা—"আমার ঘরে কোনো নারী নির্যাতিত হবে না, যদি হয়, আমি প্রতিবাদ করতে এক পা-ও পিছু হটব না।"
আজ তিনি ৮০-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, কিন্তু তার আত্মার শক্তি অটুট। নাতনিদের জন্য স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনছেন, যেন তারা পরিচয়ের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী না হয়। নিজের হাতে পিঠা-আচার বানিয়ে বিক্রি করেন, নিজের উপার্জিত টাকা নাতনিদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, "আমি যেসব স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি, তোমরা তা করবে।"
ফরিদা বেগমের মতো মায়েরা আমাদের সাহস দেন, শেখান ঘর থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হয়। নারী দিবসে তার প্রতি শ্রদ্ধা—এই সংগ্রামী মায়েরা আছেন বলেই সমাজ বদলাচ্ছে, সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা একদিন জিতবই!