06/10/2023
তীব্র সর্দি লাগছে!
সর্দি লাগলে আমি নস্টালজিক হয়ে যাই। ছোট বেলার কথা মনে পড়ে যায়।
আমি তখন ক্লাস ফাইভের নিয়মিত ছাত্র, প্রতিদিন স্কুলে যাই। রোদ-ঝড়-বৃষ্টি, জ্বর-সর্দি- কাশি কিছুই আমাকে আটকাতে পারেনা। এক অজনা কারণে স্কুলের প্রতি আমার তীব্র টান তৈরী হয়েছে।
"পরিবেশ পরিচিতি সমাজ" বিষয়ের উপর পাঠদান চলছে। সর্দিহেতু আমি পিছনের বেঞ্চে বসে স্যারের অগোচরে আমার নাসিকারন্ধ্রের অনিয়ন্ত্রিত জল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা কেবলই উঁকিঝুঁকি মারছে।
তৎপ্রেক্ষিতে জল মুছার কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে সুকৌশলে পাশের বেঞ্চে বসা সহপাঠী বালিকার ওড়নায় নাক ঝেঁড়ে ফেললাম।
ক্লাসে মনোযোগী বালিকা প্রথমে বুঝতে না পাড়লেও কিয়ৎক্ষন বাদে বুঝে যায়। ফলশ্রুতিতে প্রচন্ড শুচিবায়ুগ্রস্ত সেই বালিকা স্বীয় বক্ষাবরণী ভূমিতে নিক্ষেপ পূর্বক ক্রোধ ও কান্নার সমন্বয়ে এক অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি আরম্ভ করিলো।
বালিকার এহেন কাণ্ড প্রত্যক্ষ করিয়া শ্রদ্ধেয় সমাজ স্যার পাঠদান স্থগিত পূর্বক বালিকাকে সুধালেন,
- হে বালিকা তুমি এমন নৃত্য করিতেছো কেনো? কী হইয়াছে তোমার?
বালিকা তাহার বক্ষাবরণী তাচ্ছিল্যের সহিত ঊর্ধ্বে তুলিয়া আমাকে দেখাইয়া কহিলো,
- স্যার, এই পোংটা বালক আমার বক্ষাবরণী দিয়া তাহার নাসিকা নিঃসৃত জল মুছিয়াছে!
শ্রদ্ধেয় সমাজ স্যার তাহার উপবিষ্ট আসন পরিত্যাগ পূর্বক সরেজমিন উপস্থিত হইয়া বালিকার বক্ষাবরণী অনুসন্ধান করিয়া তাহাতে আমার নাসিকারন্ধ্রের ঘন জল লাগিয়া থাকার প্রমাণ পাইলেন এবং ক্ষণকাল বিলম্ব না করিয়া তাহার হস্তে থাকা সন্ধি বেত দ্বারা আমার পশ্চাৎদেশে উত্তমরূপে প্রহার করিতে লাগিলেন।
সন্ধি বেতের প্রহার আমার জন্য তেমন ধর্তব্য কিছুনা, ইহাতে আমি অভ্যস্ত। কিন্তু স্যার অত্যন্ত অবিবেচকভাবে তাহার নির্বাহী ক্ষমতাবলে আদেশ করিয়া বলিলেন,
- যা পুষ্করিণী হইতে ওড়নাটা ধৌত করে নিয়ে আয়।
স্যারের আদেশ শিরোধার্য!
আমি জীবনের প্রথম কোনো মেয়ের বক্ষাবরণী নিজ হস্তে ধৌত করিয়া আনিলাম।
এবার স্যার বলিলেন,
- যা মাঝ মাঠে ওড়না নিয়ে রোদে দাঁড়িয়ে থাক।
অতঃপর
আমি বালিকার ভেজা লাল ওড়না দু'হাতে নিয়ে মাঝ মাঠে দাঁড়িয়ে রইলাম। পুবাল হাওয়ায় বালিকার ওড়না প্রেমের পতাকার মতো উড়ছে। বিদ্যালয়ের অন্যান্য বালিকাগণ আমার দিকে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া ব্যাঙ্গ করিতে লাগিলো।
সে এক দারুণ লজ্জামিশ্রিত আনন্দময় অনুভূতি।