13/06/2023
টংকাবতি নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট 📍
টংকাবতি , বান্দরবান 📍
টংকাবতির নতুন তৈরি অসম্ভব সুন্দর রাস্তা গুলো নিয়ে অনেকে অনেক কিছু জানতে চেয়েছেন ।
- টংকাবতি কিভাবে যাবেন ?
- বান্দরবান শহর থেকে যাওয়া যায় কিনা ?
- রাস্তা গুলো উপভোগ করতে হলে কিভাবে যেতে
হবে ?
- কোন সময় যাবেন ?
- সমস্যা এবং সুবিধা কি কি আছে ?
প্রথমত বলি টংকাবতি কোথায় অবস্থিত ।
টংকাবতি বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদরের একটি ইউনিয়ন । এইটা চিম্বুকের পশ্চিম পাশে অবস্থিত । অর্থাৎ আপনারা যারা কখনো নীলগিরি গিয়েছেন তারা চিম্বুক পাহাড় হয়ে গিয়েছেন। চিম্বুক হতে পশ্চিম দিকে দূরে টংকাবতি এবং চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের আংশিক দেখতে পারবেন ।
প্রথমত টংকাবতি বাজার (ব্রিক ফিল্ড বাজার) এ চারটি সড়ক এসে মিশেছে ।
পূর্ব দিকে উপরে উঠে গিয়েছে টংকাবতি - চিম্বুক সড়ক ।
পশ্চিমে প্রাইমারি স্কুল হয়ে উপরে উঠে গিয়েছে টংকাবতি-চরম্বা সড়ক ।
দক্ষিণে রমজু পাড়া - কেয়াজুপাড়া হয়ে চলে গিয়েছে টংকাবতি - লামা সড়ক ।
উত্তরের রাস্তা চলে গিয়েছে বান্দরবান শহরের আগে সুয়ালক ইউনিয়নের দিকে ।
টংকাবতি , সরই ইউনিয়ন গুলো থেকেই মূলত বান্দরবানের মূল পাহাড় গুলো শুরু হয় । এই ইউনিয়ন গুলোর পূর্ব দিকেই চিম্বুক , নীলমাচাং উঁচু পাহাড় গুলো অবস্থিত ।
- টংকাবতি আসবেন কিভাবে ?
চারটা রাস্তা যেহেতু আছে , আপনি যেকোনো একটি হয়ে আসতে পারবেন ।
১) চিম্বুক থেকে "ভেইট্টাপাড়া" হয়ে নিচে ৭-৮ কি.মি. আসলেই টংকাবতি । তবে এখানে রোড ঠিক থাকলেও গাড়ি চলে না । অবশ্যই পুরো চান্দের গাড়ি (জিপ) ভাড়া করে কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে আসবেন । এই চিম্বুক-টংকাবতি রাস্তাটি ভয়ংকর উঁচু-নিচু । আর রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাফেরা কম । একটা ভয় তো আছেই । তাই সাবধান ❗
কিন্তু এই চিম্বুক-টংকাবতি রোডে আপনি তেমন সুন্দর কিছু হয়তো উপভোগ করতে পারবেন না উঁচু নিচু রাস্তা ছাড়া ।
২) বান্দরবান শহরে প্রবেশের আগে সুয়ালক হয়ে টংকাবতি আসতে পারেন । কিন্তু এই রোডেও তেমন কিছু উপভোগ করার মতো নেই হয়তো । আমার এই রোগে যাওয়া হয়নি ।
❗মূল সৌন্দর্য ৩ এবং ৪ নম্বর রোডে ।
৩) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন থেকে টংকাবতি যাওয়া যায় ২ টি পথে । একটি পথ হলো "ইউসুফ আউলিয়া মসজিদ" / "ইউসুফ ঝিরি" হয়ে গিয়েছে টংকাবতি (ব্রিক ফিল্ড বাজার) । অবশ্যই এই রাস্তা দিয়েই যেতে হবে । সাপের মতো লম্বা এবং দূরে উঁচু চিম্বুকের পাহাড়ের ভিউ পাবেন এই রাস্তায় ❤️
আবার চরম্বা থেকে আরেকটি পথ হলো "মহাজন মসজিদ" হয়ে "হাতির ডেরা" এলাকা দিয়ে টংকাবতি গিয়েছে । ঐ রাস্তায় আমি তেমন সুন্দর রাস্তা দেখিনি । কিন্তু রাস্তা গুলো পিচ করা , অর্থাৎ গাড়ি চলার জন্য একদম পারফেক্ট । শুধু সুন্দর কম ।
অবশ্যই ইউসুফ ঝিরি হয়ে যাবেন । আর বৃষ্টির দিন এই ঝিরি তে ভয়ংকর পানি । বলা যায় একটা খাল । তাই গাড়ি নিয়ে গেলে খেয়াল করবেন । মোটরসাইকেল পার করা যাবে নৌকা দিয়ে । কিন্তু অন্য গাড়ি হয়তো যাবে না ।
এই রাস্তায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আমাদের । আমরা পুরো ২২ কি.মি. হেঁটে এই রাস্তা পার হয়েছি । সমস্যা হয়নি । রাস্তা অসম্ভব সুন্দর ❤️
৪) লামা সদর হতে কেয়াজুপাড়া-রমজু পাড়া হয়ে টংকাবতি বাজার যাওয়া যায় । এই রাস্তাও অসম্ভব অসম্ভব সুন্দর ❤️ মানে অসম্ভব সুন্দর ❤️
আমার প্রথম ট্রেকিং ছিলো এই পথে । পাশে চিম্বুকের উঁচু পাহাড় আর খোলা রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ । এখানেও সাপের মতো একটি রাস্তার দেখা মিলবে আপনার ।
এই দুইটি পথ দিয়ে টংকাবতি যাওয়ার সময় দুইটি রাস্তা এখন অনলাইনে ভাইরাল । তাই এইগুলোর কথাই উল্লেখ করেছি ।
❗ সতর্কতা :
অবশ্যই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কারো সাথে যাবেন । একা গেলেও কেয়াজুপাড়া-রমজু পআড়আ রোডটা তে সাবধানে যাবেন । স্থানীয় মানুষেরা অনেকে শান্তি বাহিনীর ভয় দেখায় । আমি মনে করি উত্তেজিত না হয়ে সতর্কতার সাথে ভ্রমণ করা ।
তবে শান্তি বাহিনী বা সন্ত্রাসী মানুষজনের কথাটা একদম মাথা থেকে ফেলে ভ্রমণ না করাটাই ভালো । নতুন বা বাইরের লোকজনের জন্য একটু ভয়ের । তবে আমি বলবো ট্যুরিস্ট হিসেবে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারবেন । সম্প্রতি বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সাথে বিভিন্ন দলের সমস্যার কারণে এই ধরনের কথাগুলো সামনে আসে ।
যেকোনো সময় এই এলাকায় ভ্রমণ করতে পারবেন নিশ্চিন্তে । নিজেরা গাড়ি নিয়ে আসতে পারলে ভালো হবে ।
বৃষ্টির সময় ঘুরতে গিয়ে পাহাড় দেখতে না পেলে আমাকে গালি দিয়েন না আবার । গরমে গেলে পাহাড় পরিষ্কার দেখবেন । তবে গরম একটু বেশিই ।
চরম্বা ইউনিয়ন থেকে যাওয়ার সময় একটু ঘুরে যেতে হয় । তাই আগে থেকেই গুগল কিংবা পরিচিত কারো কাছ থেকে খবর নিয়ে যাবেন । আবার বলছি , চরম্বা থেকে রাস্তা দুইটা । ভুল রাস্তা দিয়ে গেলে সুন্দর কিছু না দেখলেও কিছু বলিয়েন না ।
আর টংকাবতি বাজার "ব্রিক ফিল্ড বাজার" হিসেবে পরিচিত বেশি । এই বাজার থেকে চিম্বুক এর রাস্তা খুব বিপজ্জনক । তাই এই রাস্তা দিয়ে চিম্বুক মেতে চাইলেও সাবধানে যাবেন ।
বান্দরবান শহর থেকে গেলে চিম্বুক যেতে হবে , তারপর পশ্চিমে নেমে টংকাবতি যেতে হয় । আপনি যদি রাস্তা গুলো উপভোগ করতে চান তাহলে বান্দরবান শহর থেকে গেলে আবার পেছনে ফিরে আসতে হবে আপনাকে । তাই সোজা লোহাগাড়া উপজেলা গিয়ে কেয়াজুপাড়া গেলে ৪ নম্বর রোডটা আপনি পাবেন । আবার লোহাগাড়া উপজেলা থেকে চরম্বা হয়ে গেলে ৩ নম্বর রোডটা আপনি পাবেন ।
এরপর আপনি চাইলে ঘুরে ফিরে সুয়ালক হয়ে বান্দরবান শহরে যেতে পারেন ।
[ আমি দুই পথেই গিয়েছি হেঁটে হেঁটে এবং ফ্রি লিফট নিয়ে । গত কয়েকদিন আগে ৩ নম্বর রাস্তা ব্যাবহার করে আমার বাড়ি লোহাগাড়া থেকে ২২ কি.মি. হেঁটে টংকাবতি পৌঁছে ছিলাম । প্রচুর ঝড় থাকায় গাড়িও পাইনি । আসার সময়ও প্রায় ৫-৮ কি.মি. হাঁটতে হয়েছে ]
কেয়াজুপাড়া (সরই ইউনিয়ন , লামা , বান্দরবান)
রমজুপাড়া (টংকাবতি ইউনিয়ন, বান্দরবান)
📍 টংকাবতি , বান্দরবান ❤️
ভ্রমণ করুন , ভালো থাকুন ।
আবিষ্কার করুন নতুন বান্দরবান কে ।
ধন্যবাদ 🖤