09/04/2022
#সদকাতুল #ফিতর পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম ইবাদত। রমজানের রোজা শেষে আসে ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ ধনী-গরিব সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং মুসলিম জাতির প্রতিটি সদস্য যাতে এই আনন্দে শরিক হতে পারে সেজন্য সাদাকাতুল ফিতরকে ফরজ করা হয়েছে।
সর্বোত্তম দান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, দাতার কাছে যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি। (বোখারি : ১৯৭৪)।
ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা অদ্ভূত মানসিকতার পরিচয় দেই। আমাদের দেশে সাধারণত সর্বনিম্ন পরিমাণ অর্ধ সা‘ গম এর মূল্য হিসেবে সবাই আদায় করতে চান (যা বর্তমান পঁচাত্তর টাকা পরিমাণ)
কোটিপতি হতে মধ্যবর্তী সবাই সর্বনিম্ন টাকা দিয়েই দায়মুক্ত হতে চান। সবচেয়ে কম মূল্যের গমের হিসাবে সবাই সাদকা করার প্রবণতা খুব বেশি। বিষয়টি রাসূল (সা.)-এর শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বরং এটা তো সর্বনিম্ন সম্পদের মালিকের জন্য চলে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে তাওফিক দিয়েছেন, তাদের অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে সর্বোচ্চ সদকায়ে ফিতর আদায় করা উচিত।
তাই সামর্থ্যানুযায়ী বেশি মূল্যের পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে যথাযথ সদকায়ে ফিতর আদায়ের তাওফিক দান করুন।
#ফিতরা_কি এবং #ফিতরা_কেন_দিবেন :
ইসলামের ২য় হিজরীতে রসূল পাক (সঃ) এর উম্মতের উপর রোজা ফরজ হয়। সাথে সাথে রোজার ভুল-ত্রুটির কথা বিবেচনা করে রসূল করিম (সঃ) উম্মতদের “সাদকাতুল ফিত্র” আদায়ের নির্দেশ দেন।
নামাজের ভুল-ত্রুটির জন্য “সাহু সিজদা” দিয়ে নামাজকে যেমন ত্রুটি মুক্ত করার নির্দেশ। যেমনি “দম” (অতিরিক্ত কোরবানী) দেয়ার মাধ্যমে হজ্ব পালনের দোষ-ত্রুটি মুক্ত করা হয়, তেমনি ফিত্রার মাধ্যমে রোজার দোষ-ত্রুটি মুক্ত করার প্রধান কাজ।
রমযানের সাওম সংক্রান্ত ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ হতে মুক্ত হওয়ার বিশেষ সুযােগ স্বরূপ ইসলামি শরিয়তে সদাকাতুল ফিতর এর বিধান দেওয়া হয়েছে। ধনী, ছােট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপর ওয়াজিব হয়। যারা যাকাত গ্রহণ করতে পারে এমন ব্যক্তি সদাকাতুল ফিতরও গ্রহণ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ (সা:)-এর থেকে হযরত ইবনু ওমর (রা:) বর্ণনা করেন-
فرض رسول الله صلى الله عليه و ستم زكاة النظر من رمضان اغا ن تمر أوضاعا بين شعير على العبي والخير والكر والأنثى والصغير والكبير من المشييي.
অর্থ: রসুলুল্লাহ (সা: ) সদাকাতুল ফিতর এক সা' পরিমাণ খেজুর কিংবা যব প্রত্যেক মুসলিম, ক্রীতদাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী, ছােট ও বড় সকলের উপর অপরিহার্য করেছেন। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
ক্রীতদাস মালের অধিকারী নয়, তাই মালিককে তার ফিতরা দিতে হবে এবং নাবালেগের ফিতরা তার অভিভাবককে দিতে হবে।
#ফিতরার_হুকুম_ও_আদায়_করার_সময় :
সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ইদুল ফিতরের সালাতের পূর্বে আদায় করা কর্তব্য। ইদের সালাতের পর প্রদান করলে তাতে অন্য সাদকা হিসেবে গণ্য হবে।
রোজা শেষ হতে না হতেই শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠার পর প্রধান ইবাদত “ফিতরা আদায়”। এই ফিত্রা আদায়ের সময় খুবই কম।
চাঁদ দেখার পর হতে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে যাবার সময় পর্যন্ত এই ফিত্রা আদায় করার সঠিক সময়। সে কারণে এই ফিত্রা আদায়ের তৎপর হওয়া দরকার। কাকে দিবেন-কিভাবে দিবেন তা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া জরুরি। যাকে দিবেন ঠিক করলেন তাকে পাওয়া না গেলে পরেও তাকে আদায় করতে পারবেন।
#ফিতরার_পরিমাণ এবং #কতুটুকু_সম্পদ_থাকলে :
সদকাতুল-ফিতর যদি গম, আটা ইত্যাদি দ্বারা আদায় করা হয়, তাহলে জনপ্রতি “অর্ধ সা” অর্থাৎ পৌনে দুই কেজি পরিমাণ আদায় করতে হবে। আর যদি কিসমিস, খেজুর, আঙ্গুর দিয়ে আদায় করে তাহলে ”১ সা” অর্থাৎ সাড়ে তিন কেজি পরিমাণ আদায় করতে হবে। যদি কেউ উল্লিখিত দ্রব্য মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ দান করে তাহলেও আদায় হয়ে যাবে। যদি কোন শিশু ইদুল ফিতরের সুবহে সাদিকের পূর্বে জন্মগ্রহণ করে তাহলে তার সদকাতুল-ফিতর আদায় করাও স্বচ্ছল অভিভাবকের উপর ওয়াজিব। পক্ষান্তরে যদি কোন ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের সুবহে সাদিকের পূর্বে ইন্তেকাল করেন, তাহলে তার সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে না।
আহমাদের একটি বিশুদ্ধ হাদীসে আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে,
فِيْ زَكَاةِ الْفِطْرِ عَلَى كُلِّ حَرٍّ وَعَبْدٍ ذَكَرٍ وَأُنْثَى صَغِيْرٍ أَوْ كَبِيْرٍ فَقِيْرٍ أَوْ غَنِىٍّ صَاعًا مِنْ تَمَرٍ
প্রত্যেক স্বাধীন, পরাধীন, নারী, পুরুষ ছোট, বড়, ফকীর-ধনী, প্রত্যেকের উপর জনপ্রতি এক সা‘আ (২ কেজি ৪০ গ্রাম) পরিমাণ খেজুর ফিত্রা হিসেবে দান করা ওয়াজিব।
তবে ইমাম আবূ হানীফার (রহ.) মতে ঈদের দিন যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে অর্থাৎ ঐদিন ভোরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত হিসেবে যার ঘরে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ থাকবে শুধু ঐ পরিবারের উপর ফিত্রা দেয়া ফরয হবে।
#কার_উপর_ফিতরা_ওয়াজিব :
সমস্ত ইবাদতই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। যার আন্তরিক নিয়ত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। ধনী-গরীব তফাৎ এনে একটা ফরজ ইবাদাত থেকে দূরে থাকা উচিত হবে না।
পরিবারের প্রধানকেই নিজের ও অন্যান্য সদস্যদের ফিতরা আদায় করা তার উপর ওয়াজিব। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান এবং বিবাহ দেয়া কন্যার ফিতরা আদায় তার উপর দায়িত্ব নয়।
#যাদেরকে_সদাকাতুল_ফিতর_দেওয়া_যাবে :
গরিব আত্নীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশি ফকির, মিসকিনকে সদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। একজনের ফিতরা একাধিক ব্যক্তিকে আবার একাধিক ব্যক্তির ফিতরা একজনকে দেওয়া যাবে।
#যাদেরকে_সদাকাতুল_ফিতর_দেওয়া_যাবে_না :
* সাইয়্যেদ বংশীয় অর্থ : সত্যিকারের আওলাদে রসুল
* নেসাব পরিমাণ মালের মালিক
* নিজ সন্তান, অর্থাৎ ছেলে, নাতি ও নাতনি
* নিজ পিতা, মাতা, দাদা ও দাদি
* কোন অমুসলমান ব্যক্তি বিধর্মী রাজ্যের প্রজা হলে
*অনলাইন থেকে সংগৃহীত*