13/05/2026
আজ চট্টগ্রামের মাটি আবার রক্তে রঞ্জিত। আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদকে হ'ত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এই দৃশ্য কি কেবল একটি লাশের? না, এটি আমাদের নড়বড়ে গণতন্ত্র আর লুপ্ত হওয়া মানবিকতার ঝুলন্ত দলিল। যারা প্রশ্ন করছেন কে করেছে এই হ'ত্যা? ছাত্রদল? শিবির? নাকি অন্য কোনো প্রেতাত্মা? আমি বলি, এই হত্যা করেছে রাষ্ট্র।
রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, যখন বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, তখন প্রতিটি খুনের দায়ভার ওই অট্টালিকায় বসা কর্তাব্যক্তিদের ওপরই বর্তায়।
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন আর বৃহৎ এক ছাত্র সংগঠনকে ‘জ'ঙ্গি’ আর ‘স'ন্ত্রাসী’ তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ করে রেখেছেন। কেন? নিজেদের রাজনৈতিক পিঠ বাঁচাতে।
ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস। যে সংগঠন এদেশের মুক্তির লড়াইয়ে অগ্রসৈনিক ছিল, আজ তাদের গায়ে লেপন করা হচ্ছে কল'ঙ্কের কালি। এই ‘নিষেধাজ্ঞার মোহর’ দিয়ে আপনারা কি সত্যকে চাপা দিতে পারবেন? পারবেন না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, কেবল গত কয়েক মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ঝরেছে শত শত প্রাণ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (ASK) হিসাব মতে, ২০২৫-এর মাঝামাঝি থেকে ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত কেবল মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ১২০ জনের বেশি মানুষ। এর বাইরে রাজনৈতিক টার্গেটেড কি'লিং তো আছেই। নির্বাচনের আগে-পরে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা এক ভয়াবহ উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আজ ছেলেরা ঘরে ঘুমাতে পারে না। আপনাদের পেটুয়া বাহিনীর ভয়ে তারা যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে আপনারা ‘শিকলবন্দি ঘুঙ্গুর’ বানিয়ে রেখেছেন। তাদের হাত-পা বেঁধে দিয়ে বলছেন, আইন রক্ষা করো। তারা আজ অসহায়, তারা আজ আইন প্রয়োগ নয়, বরং আইনের অপব্যবহারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
আপনারা কি শুরু করলেন? এই কি আপনাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’? এখন শুরু হয়েছে ‘গুপ্ত হত্যা’। বাবা-মায়েরা তাদের কলিজার টুকরো সন্তানদের দূরে পাঠিয়ে দেন যাতে তারা অন্তত বেঁচে থাকে। আর আপনারা নিশ্চিত করছেন যেন তারা মরে। আপনাদের অঙ্গীকার কি তবে ভিন্ন মত ও দলের হ'ত্যা?
হাওয়ার উপর মুলা ঝুলিয়ে আপনারা গণতন্ত্র আর সুশাসনের বুলি আউড়াচ্ছেন। টকশো আর মিডিয়ায় নিজেকে ভালো দামে বিক্রি করা যায়, কিন্তু দেশ চালানো যায় না। আগে মানুষ ‘মব’ বা উশৃঙ্খল জনতাকে ভয় পেত, আর এখন ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে ‘মৃত্যু আতঙ্ক’। এর চেয়ে ভালো হয় আপনারা একটা তালিকা ক