25/09/2020
স্বপ্নের জলছবি আয়োজিত `কনকাঞ্জলি ´পুজোর বিশেষ পর্বে, •ফেরিওয়ালা•পরিবারকে আমাদের অতিথি পেজ হিসেবে পাশে পেয়েছি।
অসংখ্য ধন্যবাদ •ফেরিওয়ালা•।।
ধন্যবাদান্তে #স্বপ্নেরজলছবি
#কনকাঞ্জলি
গল্পের নাম- দুর্গতিনাশিনী
কলমে- সায়রীনা চক্রবর্তী
অতিথি পেজ- *ফেরিওয়ালা*
"এবার যেদিকে চোখ রাখবো, সপ্তমীর রাতে আরেক নারকীয় ঘটনা, ২২বছরের এক তরুণীর নগ্ন ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া গেল বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধার থেকে, কে বা কারা এই ঘটনার পিছনে আছে খতিয়ে দেখছে পুলিশ, অত রাতে ওই তরুণী ওখানে কী..."
টিভি টা অফ্ করে দিলেন বিমলবাবু, নাহ্ ছেলেটার এই কুকীর্তির জন্য তাঁর ইলেকশনের টিকিট টা হাতছাড়া না হয়ে যায়। তাঁর ভাবনার মাঝে ছেদ ঘটিয়ে শিস দিতে দিতে ঘরে ঢুকলো রাহুল, বিমলবাবুর ছেলে।
— দিন দিন কাজগুলো একটু বেশীই দুঃসাহসিক হচ্ছেনা? প্রতিবার পুলিশকে টাকা খাইয়ে ধামাচাপা দেওয়া যাবেনা, আর তাছাড়া অত টাকা জোগাড় করতে গেলেও আমাকে ইলেকশন টা জিততে হবে, অন্তত সেই অব্দি নিজেকে সামলানো যায়না নাকি?
— উফ! পাপা একটু চিল করো তো। এটাই তো বয়েস মস্তি করার, এরপর তোমার মত বুড়ো হলে আমিও তোমার মত কাউচে বসে বাতেলা মারবো। জ্বালিও না তো! বেরোচ্ছি আমি!
চুপ করে গেলেন বিমলবাবু। একমাত্র ছেলে, বেশি কিছু বলতেও পারেন না, তাছাড়া ছেলের বন্ধুগুলো মাঝে সাঝেই কাজে লেগে যায় তাঁর, ওরাও অনেকটাই লুটে নেয় যদিও, যাকগে! আপাতত এই কেস টা তো থামলো!
তীব্র গতিতে গাড়ি ছোটাচ্ছে রাহুল। অভির কাছে খবর আছে, আজ সেরা মাল আসবে বারে; শুকনো নেশার মজাই আলাদা, মনে হয় যেন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে! আর সাথে যদি রসালো মেয়ে পাওয়া যায়! আহা!
বারের সামনে গাড়ি থামালো রাহুল। ওই তো অভি, ঋতম, ঋজু, সবাই এসে গেছে। বারে ঢুকতেই অভি সাইডে টেনে নিয়ে গেল রাহুলকে
— মালটার খবর বেরিয়েছে, দেখেছিস?
— আরে ব্রো চিল মার, আমার বাবা আছে তো, তুই মাল জোগাড় করেছিস? আজ নবমী, আজ ভাই আলাদা লেভেলের মস্তি হবে!
— আছে আছে, এই তো সাইডের টেবিলে চল। ম্যানেজারকে বলা আছে সব। আর শোন, আজ একটা ভালো মেয়ে তুলেছি, তোর রাতের খাবার রেডি।
চোখ মেরে চলে যায় অভি। আহ্! সুখ সুখ। নেশায় দম দিয়ে ঝিম মেরে বসে থাকে রাহুল। খানিক বাদে, এক স্বল্পবসনা তনয়ার আবির্ভাব। আহা! এই তবে আজ রাতের সঙ্গিনী! জিভ দিয়ে একবার ঠোঁট চেটে নেয় রাহুল।
— হাই বেবি, আমি রাহুল, এসো না, কাছে বসো
— আপনাকে আমি চিনি তো, মহিলা মহলে আপনার খুব নামডাক।
— ওহ্ তাই নাকি? তাহলে নিশ্চই এটাও জানো, আমার কাছে স্বেচ্ছায় যেসব প্রজাপতিরা ধরা দেয়, তাদের আমি যত্নে সুখে রাখি!
এক ঝটকায় মেয়েটি কে কাছে টেনে নেয় রাহুল।
— তুমিও আমার হয়ে যাও ডার্লিং! তোমাকে আমি যা দেবো, তা কল্পনার বাইরে।
— আলিশার মত?
— হুম? কে আলিশা?
— ওই যাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে এলেন সপ্তমীর রাতে?
ছিটকে যায় রাহুল।
— এই ক..ক্কে তুমি, কী চাই? এসব কী বলছ!
— সরে যাচ্ছেন কেন, এই তো আসুন না, কাছে আসুন, ধরে দেখুন আমাকে, আলিশার হাত মুচড়ে ধরেছিলেন, ধরুন না–
একি! মেয়েটার এত গুলো হাত কেন? ওকি, অত আলো কেন? দুহাত দিয়ে গলা টিপে ধরছে মেয়েটা, নিজের যৌনাঙ্গে অসহনীয় ব্যথা অনুভব করলো রাহুল, মাথার চুলগুলো কেউ যেন টেনে ছিঁড়ে নিচ্ছে, পারছে না, আর পারছেনা দম নিতে– কষ্ট! কষ্ট!
অভি যতক্ষণে রাহুলের জন্যে নির্ধারিত মেয়েটিকে নিয়ে এসেছিল, ততক্ষণে রাহুলের দেহে প্রাণ নেই আর। নিথর দেহ পরীক্ষা করে ডাক্তার বলেছিলেন, "কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, ড্রাগের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ার কারণেই এই অবস্থা"
কিন্তু, সত্যিই কি তাই?