07/24/2025
প্রতিদিনের মতোই সেদিন সকালে স্কুলের পোশাকে সজ্জিত হয়ে মায়ের হাত ধরে রওনা হয়েছিল দুই ভাইবোন—১৩ বছরের তাহিয়া আশরাফ নাজিয়া এবং ৯ বছরের আরিয়ান আশরাফ নাফি। প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এই দুটি শিশু ছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। কে জানত, তাদের সেই সকালটাই হবে জীবনের শেষ সকাল?
হঠাৎ এক ভয়ংকর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল চারপাশ। স্কুলের কাছেই আকাশ ছুঁয়ে আসা একটি বিমান ভেঙে পড়ল মাটিতে। মুহূর্তেই বদলে গেল দৃশ্যপট।
খবর পেয়ে পাগলের মতো ছুটে যান তাদের খালা। ছুটে বেড়ান এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে, পরিচিত মুখের খোঁজে। অবশেষে বার্ন ইউনিটে পাওয়া গেল নাফিকে—তবে তাকে চেনার আর কোনো উপায় ছিল না। শরীরটা এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে ভালোবাসার সেই মুখ যেন আগুনে মুছে গিয়েছে।
এরপর খুঁজে পাওয়া যায় নাজিয়াকে। গুরুতর দগ্ধ শরীর নিয়েও তার মধ্যে ছিল জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার এক অপার চেষ্টা। যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতে সে খালাকে জিজ্ঞাসা করে, "আমার ভাইয়ের কী হয়েছে?" নিজের অসহ্য যন্ত্রণা ভুলে সে শুধু জানতে চেয়েছিল ভাইয়ের খবর। চেয়েছিল এক গ্লাস পানি, একটু জুস, আর প্রিয় আইসক্রিম। কিন্তু সেই শেষ চাওয়া পূরণ হওয়ার আগেই থেমে যায় তার হৃদস্পন্দন—মঙ্গলবার ভোরে সে চিরতরে বিদায় নেয়। আর সেদিন রাতেই বড় বোনের পথ অনুসরণ করে চলে যায় নাফিও।
আজ তাদের বাড়ি নিস্তব্ধ, নিঃস্ব। নয় মাসের গর্ভবতী মায়ের হৃদয়ে আজ শুধুই শোক, বেদনা আর শেষ না হওয়া প্রশ্ন। ঘরের কোণে পড়ে থাকা নাজিয়া আর নাফির আঁকা ছবি, অসমাপ্ত খাতা, আর দেয়ালে ঝুলে থাকা স্কুলব্যাগ যেন প্রতিনিয়ত সেই ক্ষতগুলোকে আরো গভীর করে তোলে।
এক মুহূর্তেই থেমে গেল দুটি কচি প্রাণের জীবনগাথা। সেই শূন্যতা, সেই না পাওয়া আর্তনাদ হয়ে থাকবে এই সমাজের জন্য এক চিরন্তন অনুশোচনার দলিল।