09/01/2026
পাসপোর্ট সংক্রান্ত ‘সমস্যা’ নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আগুন লাগানোর চেষ্টা:
20 মাসের কারাদণ্ড এক প্রবাসী বাংলাদেশির।
নতুন পাসপোর্টে সমস্যা আছে বলে মনে করে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। পাশাপাশি তিনি একটি ভাড়া করা লরি দিয়ে কেপেল রোডের Jit Poh বিল্ডিংয়ের দেয়ালে ধাক্কা দেন। ওই ভবনেই বাংলাদেশ হাইকমিশন অবস্থিত।
৩২ বছর বয়সী শামিম নজরুল ইসলামকে ৮ই জানুয়ারি সিঙ্গাপুর আদালত ২০ মাসের কারাদণ্ড দেন। তিনি ‘ক্ষতিসাধন’ (Mischief) এবং ‘আগুন ব্যবহার করে ক্ষতিসাধন’—এই দুই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩শে মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শামিম একটি ভাড়া করা লরি নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান। তার সঙ্গে একটি পেট্রোল ভরা ক্যান ছিল। হাইকমিশন তার দাবি না মানলে তিনি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দেবেন বলে হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। তবে আদালতের নথিতে তার দাবিগুলো কী ছিল,
তা উল্লেখ করা হয়নি।
Jit Poh বিল্ডিংয়ে পৌঁছে তিনি লোডিং বে-র দিকে ঢুকে দেয়ালের দিকে দ্রুতগতিতে লরি চালান। সে সময় সেখানে কয়েকজন পথচারী দাঁড়িয়ে ছিলেন। লরিটি দেয়ালে ধাক্কা দিলে গাড়ির সামনের বাম্পার খুলে যায়।
এরপর শামিম লরি থেকে নেমে পেট্রোলের ক্যান হাতে হাইকমিশনের ভেতরে ঢোকেন এবং চিৎকার শুরু করেন। এক অফিসার এসে তার পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখেন, পাসপোর্টটি ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বৈধ এবং কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু শামিম তা মানতে রাজি হননি।
আরেক অফিসার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও শামিম উত্তেজিত ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে থাকেন। তিনি বলেন, নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবেন। এরপর তিনি পেট্রোলের ক্যান খুলে মেঝেতে পেট্রোল ঢালতে থাকেন এবং অন্য হাতে লাইটার ধরেছিলেন।
আগুন লাগানোর আগেই এক অফিসার তাকে ধাক্কা দেন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা শামিমকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, লরি চালিয়ে দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় পথচারীদের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন শামিম। এছাড়া পেট্রোল সঙ্গে নিয়ে আসায় তার কাজের পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
যদিও হাইকমিশন ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কেউ আহতও হননি, তবে তা সম্ভব হয়েছে হাইকমিশনের অফিসারদের সাহসী হস্তক্ষেপের কারণে।
শামিমের আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে কাজ করছিলেন এবং পরিবারকে দেখতে দেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার পর অন্যদের পাসপোর্টের সঙ্গে তুলনা করে তিনি সেটি আসল নয় বলে সন্দেহ করেন এবং যাচাই করতে হাইকমিশনে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আইন অনুযায়ী, তার এই অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানাও হতে পারে। আর আগুন ব্যবহার করে ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে সিঙ্গাপুরে।
সোর্স দ্যা স্ট্রেইট টাইমস।
বেলাল হাসান
সিঙ্গাপুর