11/01/2025
ঢাকায় জীবনযাপনের খরচ এতো বেশি কেনো?
[এই আলোচনার সাথে কৃষকের গরুকে ফুলকপি খাওয়ানোর বিষয়টা একই সুত্রে বাধা]
একটা এলাকার Living Cost সেই এলাকার কাচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামের উপর নির্ভর করে।
উদাহরণস্বরূপ- মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে প্রতিকেজি আলুর দাম 2.70$, টমেটোর দাম 4.48$, এক ডজন ডিমের দাম 3.68$, চালের দাম 4.13$। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ভাড়া প্রতি মাসে 167$ এর আশেপাশে।
আবার পাকিস্তানে এক কেজি চাউলের দাম 350 rupee, এক ডজন ডিমের দাম 400 rupee, তাই পাকিস্তানে প্রতিমাসে বাড়িভাড়া ৫০-৬০ হাজার রুপির আশেপাশে।
অর্থাৎ যেহেতু টাকা কামানোর উদ্দেশ্য হলো খেয়ে বেচে থাকা, তাই কোনো এলাকার ফুড প্রাইস বেশি হলে সেই এলাকার সার্ভিসগুলোর দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি হয়। আবার এইটা পণ্যের দাম আরো বৃদ্ধি করে, যেমন একটা হোটেল যদি বিরিয়ানি বিক্রি করে তাহলে তাদের চাল, তেল ও মাংস প্রয়োজন। চাল তেল ও মাংসের দাম বেশি হলে শেফকে বেতন বেশি দিতে হবে। তাহলে চাল, তেল, মাংসের দাম বেশি, শেফের বেতন বেশি, বাড়ি ভাড়া বেশি- সবমিলিয়ে বিরিয়ানির দাম আরো বেশি হবে।
এইভাবে কাচাবাজারে পণ্যের মূল্য একটা এলাকার লিভিং কস্ট নির্ধারণ করে।
এইবার আসি ঢাকার আলাপে,
একটা পণ্যের দাম ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের উপর নির্ভর করে। ডিমান্ড বেশি + সাপ্লাই কম = দাম বেশি, ডিমান্ড কম+ সাপ্লাই বেশি = দাম কম।
ঢাকার মোট জনসংখ্যা রাজশাহীর জনসংখ্যার বাইশ গুন, সেই হিসেবে ঢাকার কাচাবাজারে রাজশাহীর বাইশ গুন পণ্যের সাপ্লাই থাকতে হবে। বাস্তবে ঢাকায় পণ্যের সাপ্লাই রাজশাহীর তিন থেকে চার গুন বেশি হলেও তা বাইশ গুন না।
অন্যদিকে এর উল্টো চিত্র দেখা যায় বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে। দেখা যায় একটা গ্রামের সবাই মিলে ফুলকপি চাষ করলো, ফলশ্রুতিতে ফুলকপির ডিমান্ড কম সাপ্লাই অনেক বেশি। ফলে ফুলকপির কেজি হয়ে যায় এক টাকা। মাঝখান থেকে লাভ করে মধ্যসত্ত্বভোগীরা। তারা এক টাকায় ফুলকপি কিনে ঢাকায় পচিশ টাকায় বিক্রি করবে।
এই সমস্যা সমাধানে রাস্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হবে, রাস্ট্রকে দেশের সবচেয়ে বড় মধ্যস্বত্ত্বভোগী হতে হবে। রাস্ট্র সারাদেশের গ্রাম থেকে বড় পরিমাণে শাকসবজী, চাল,ডাল,পণ্য কিনে নিবে, এরপর ঢাকা শহরে এনে বিক্রি করবে - এর মধ্যে দিয়ে রাজস্ব ও আয় হবে।