03/07/2025
আপনি কার কাছে বায়াত তা খতিয়ে দেখবেন — এবং পীর কেন ধরবেন, কাকে ধরবেন?
মানুষ জন্ম নেয় দুনিয়ার পথে চলার জন্য, কিন্তু এই পথটা কেবল চোখের সামনে দেখা রাস্তা নয় — এটা আত্মার সফর। এই আত্মার জার্নি যদি ঠিক পথে না চলে, তবে নামাজ পড়েও আমরা অহংকারে ভরে যাই, কোরআন মুখস্থ করেও আমরা হিংসুক হয়ে উঠি, এবং রোযা রেখেও আত্মাকে ঠিক করতে পারি না।
এজন্যই দরকার একজন আধ্যাত্মিক গাইড — যাকে বলা হয় পীর বা মুর্শিদ।
অনেকেই বলেন, “আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হলে আরেকজন মানুষ কেন দরকার?”
তখন আমরা বলি, “তুমি যদি একা একা গাড়ি চালাতে শেখো, আর কেউ না শেখায় — তুমি দুর্ঘটনার শিকার হতেই পারো। ঠিক তেমনই, আত্মার চলার পথটা খুব সূক্ষ্ম, এখানে ছোট ভুলও বড় ধ্বংস ডেকে আনতে পারে।”
তবে হ্যাঁ, প্রশ্ন আসে — সবার কাছে কি বায়াত নেওয়া যায়?
না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বায়াত মানে কেবল হাতে হাত রাখা নয় — এটা আত্মাকে তুলে দেওয়া একজনের কাছে। সে যদি হক্কানী না হয়, তবে তোমার আত্মাও বিপদে পড়বে।
তাই “কার কাছে বায়াত নিচ্ছি” — এটা খতিয়ে দেখা ফরজের মতো জরুরি।
তুমি যাকে পীর বলছো,
— তার আক্বীদা ঠিক তো?
— সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের পথে তো?
— তার সিলসিলা কোথা থেকে এসেছে?
— তার চরিত্র, চালচলন, আমল কেমন?
— সে কি শুধুই দান-সদকা আর সম্মানের লোভে পথ খুলেছে?
— সে কি নবীর সুন্নাত অনুসরণ করে, না নতুন নতুন রীতি চালু করে?
পীর মানে শুধু অলৌকিকতা না। কেউ হাত তুলল আর ফুঁ দিয়ে দিল — সেটা দেখেই পীর বানিয়ে ফেললে সেটা হবে আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
তাহলে হক্কানী পীর চিনবেন কিভাবে?
১. তিনি আলেম হবেন।
শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফাত—সব শিখেছেন। কারণ না জেনে কাউকে পথ দেখানো যায় না।
২. তার আমল হবে বিশুদ্ধ।
যিনি নিজে নামাজে অনিয়মিত, তার কাছে ইবাদত শিখবে কে?
৩. তার আক্বীদা হবে সুন্নতের ওপর।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের পথেই থাকবেন তিনি। পথভ্রষ্ট ব্যক্তি কখনো হক্কানী হতে পারে না।
৪. তিনি মানুষকে নিজের দিকে নয়, আল্লাহর দিকে ডাকবেন।
আসল পীর বলে, “আমাকে ভালোবাসো না, বরং আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে ভালোবাসো।”
৫. তার ভক্তদের দেখলেই বুঝা যাবে সে কেমন।
পীর যদি হক্কানী হন, তার মুরিদরা হবে ভদ্র, ইবাদতগুজার, সুন্নতপরায়ণ, অহংকারহীন।
শেষে একটা কথা—
সবচেয়ে বড় বিপদ হয় তখনই, যখন মানুষ নিজেই নিজেকে বলে — “আমার তো কাউকে লাগবে না, আমি নিজেই সব বুঝি।”
এই অহংকারই মানুষের ধ্বংসের মূল। শয়তানও ঠিক এমনটাই ভেবেছিল।
তাই দরকার একজন হক্কানী মুর্শিদের হাতে নিজেকে তুলে দেওয়া।
তিনিই বলবেন, কখন আমরা সত্যের পথে আছি, আর কখন গোপনে গোমরাহ হয়ে যাচ্ছি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে হক্কানী পীরের হাতে বায়াত হওয়ার তাওফিক দিন — যিনি আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করে আল্লাহর দরজায় পৌঁছে দেবেন।