05/09/2026
ঝাড়গ্রামকে ফের মেদিনীপুর রেঞ্জের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পূর্বতন সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ। তাঁর দাবি, ঝাড়গ্রাম জেলা গঠনের পর মেদিনীপুর রেঞ্জ থেকে এই জেলাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে কোনও পরামর্শ নেওয়া হয়নি। অথচ তিনি দীর্ঘ সাত বছর ওই জেলায় কাজ করেছেন এবং জেলার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারতী ঘোষ বলেন, একসময় ঝাড়গ্রাম ছিল মাওবাদী জঙ্গিদের অন্যতম ঘাঁটি। মাওবাদী দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এক শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে আত্মসমর্পণ করাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি ওই জেলার মাটিকে চিনি। কিন্তু ঝাড়গ্রামকে মেদিনীপুর রেঞ্জ থেকে বাদ দেওয়ার সময় আমার মতামতকে কার্যত নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছিল।”
এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝাড়গ্রামে একটি ব্যাটালিয়ন তৈরির জন্য তৎকালীন জেলাশাসকের কাছে জমি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এক কাঠা জমিও দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছিল। ভারতী ঘোষের অভিযোগ, “পূর্বতন সরকার যা ইচ্ছে তাই করেছে। নিজের যা মনে হয়েছে, সেটাই করেছে। জেলার ভৌগোলিক মানচিত্রকে কার্যত অবজ্ঞা করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার মানুষের কোনও উন্নয়ন হয়নি। উল্টে আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে হেনস্থা করা হয়েছিল।”
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঝাড়গ্রাম-সহ মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া এলাকার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ভারতী ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া—এই বিস্তীর্ণ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং রাজ্য বাজেটেও এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
মেদিনীপুর রেঞ্জে ঝাড়গ্রামকে ফের যুক্ত করার প্রসঙ্গে ভারতী ঘোষ বলেন, “এটাই প্রয়োজন ছিল। আগের সরকারের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। বর্তমান সরকার মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”