24/06/2026
(উত্তেজিত ও আনন্দের গলায়) হ্যালো এভরিওয়ান ! ওয়েলকাম ব্যাক টু আওয়ার পডকাস্ট!
আজ আমাদের সাথে স্টুডিওতে এমন একজন কিংবদন্তি আছেন, যাকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দ্য ওয়ান অ্যান্ড ওনলি, লিওনেল মেসি! স্বাগত লিও, হ্যাপি বার্থডে ! বাংলায় আবার আপনাকে পেয়ে আমরা ধন্য!
-(নম্র হেসে) ধন্যবাদ! এখানে আসতে পেরে এবং তোমাদের সাথে কথা বলতে পেরে আমারও খুব ভালো লাগছে।
-লিও, গত বছর (২০২৫) কলকাতায় আপনার ট্যুরে সল্টলেক স্টেডিয়ামের সেই চরম অব্যবস্থা, ভিআইপিদের সেলফি তোলার চক্কর আর বিশৃঙ্খলা আমাদের লজ্জিত করেছে। ওই ট্যুর ব্ল্যান্ডার নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ?
-হ্যাঁ, মাঠের ভেতর হঠাৎ প্রটোকল ভেঙে প্রচুর মানুষ আর ক্যামেরা ঢুকে পড়াটা সিকিউরিটির জন্য একটু রিস্কি ছিল, তাই প্রোগ্রাম ছোট করতে হয়েছিল। তবে আমি জানি, এর জন্য বাংলার সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা দায়ী নয়।
-একদমই তাই! যাই হোক লিও, আজ আপনি ভক্তদের চোখে বিশ্বসেরা, কিন্তু বার্সেলোনার শুরুতে সেই গ্রোথ হরমোনের সমস্যা আর মাত্র ১২ বছর বয়সে একাকীত্বের স্ট্রাগলটা ঠিক কতটা কঠিন ছিল?
-সত্যিই খুব কঠিন ছিল। প্রতিদিন ইনজেকশন নেওয়া, পরিবার ছেড়ে অন্য দেশে থাকা আর ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা— ভেতরে ফুটবলের প্রতি জেদটা ছিল বলেই ওটা পেরিয়ে আসতে পেরেছি।
-আচ্ছা, ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে সেই বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের ক্ষত, কিংবা ২০২১ সালে চোখের জলে বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তগুলো কেমন ছিল ? ওই অনুভূতিগুলো ঠিক কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল আপনার কাছে ?
-২০১৪ সালের সেই ফাইনাল হারের কষ্ট আর ক্ষোভ কোনোদিন ভোলার নয়। একদম শেষ মুহূর্তে এসে স্বপ্নটা এভাবে হাতছাড়া হওয়াটা মানসিকভাবে আমাদের পিষে দিয়েছিল। কোনো সান্ত্বনাই তখন কাজে আসছিল না।
আর বার্সেলোনা ছাড়ার দিনটা... ওটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। আমি বা আমার পরিবার কেউই মানসিকভাবে তৈরি ছিলাম না । ওই বাড়ি, ওই চেনা জীবনটা ছেড়ে এক ঝটকায় সবকিছু শূন্য থেকে শুরু করতে প্রস্তুত ছিলাম না । প্রেস কনফারেন্সে আমার চোখের জলই হয়তো বলে দিচ্ছিল ভেতরটা কতটা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।
-আর আর্জেন্টিনার হয়ে পরপর ফাইনাল হেরে ট্রোলের মুখে যখন অবসর নিলে, ওই অন্ধকার সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ালেন কীভাবে?
-ওটা যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক সময় ছিল। মনে হয়েছিল আমি হয়তো আর পারবই না। কিন্তু ফুটবল আমাকে হাল ছাড়তে শেখায়নি, আর বিশ্বজুড়ে তোমাদের মতো লাখ লাখ ভক্তের প্রার্থনাই আমাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে এনেছিল।
-আর তার ফল— ২০২২ সালের সেই মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ জয়! ফাইনাল বাঁশি বাজার পর যখন হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়লেন , তখন মনের ভেতর কী চলছিল?
-মনে হয়েছিল সারা জীবনের সব ক্লান্তি, সব অপমান আর সব লড়াই এক মুহূর্তে সার্থক হয়ে গেল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমার দেশের মানুষকে এই আনন্দটা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
-অসাধারণ! আজ ক্যারিয়ারের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে ট্রফি-রেকর্ড তো একদিকে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের এই যে নিঃশর্ত ভালোবাসা, এটাকে কীভাবে দেখছেন ?
-এটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট। ট্রফিগুলো তো সাজানোই থাকবে, কিন্তু কোটি কোটি মানুষের এই নিঃশর্ত ভালোবাসা আর বাচ্চাদের মুখের হাসি আমার সাথে সারাজীবন থেকে যাবে।
-থ্যাঙ্ক ইউ লিও! কলকাতার ওই খারাপ অভিজ্ঞতা ভুলে আমাদের এই খাঁটি ভালোবাসাটাই মনে রেখো। থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ!
আজ তোমার ৩৯তম জন্মদিনে বাংলার কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর তরফ থেকে বুকভরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই।শুভ জন্মদিন লিও!
-এটা সত্যিই খুব স্পেশাল। এত সুন্দর করে আমার জন্মদিন পালন করার জন্য তোমাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
বাংলার সব ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা!
উপস্থাপনায় - Subrata Kamila
ডিজিটাল আর্টে - Anuj Saha
TopFans
গয়নার বাক্স - Goynar Baksho ⚜️