খুচরো কথা Khuchro Kothaa

খুচরো কথা Khuchro Kothaa আড্ডা আসর আলোচনা ,
নিয়ে আমরা খুচro koথা
?

দিনশেষে কিছুটা সময় মুখোমুখি। একা। চুপ করে বসে থাকা। দিন গোনা। ঘেঁটে যাওয়া সব কিছুর অযথা হিসেব কষতে চাওয়া। ছুঁড়ে ফেলত...
15/12/2024

দিনশেষে কিছুটা সময় মুখোমুখি। একা। চুপ করে বসে থাকা। দিন গোনা। ঘেঁটে যাওয়া সব কিছুর অযথা হিসেব কষতে চাওয়া। ছুঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করা সবকিছু। ফোনের নোটিফিকেশন জোন-এ আসবে না জেনেও কোনো স্পেসিফিক কিছু খুঁজে চলার চেষ্টা। অপেক্ষা করা এমন কিছুর যেটা আদপে অবিশ্যম্ভাবী অবাস্তব। লকস্ক্রিনের সময়টা দেখে নিজেকে ধমক দিয়ে মনে করানো, এভাবে আর ক'দিন? ওষুধের স্ট্রিপ ভেঙে বের করা ঘুমের ওষুধ। দু'তিনটের ইচ্ছে হলেও ভীতু হাতে একটা বের করে গলাদ্ধকরণ কোনমতে। সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে হিসেব করতে চাওয়া পাকসংখ্যা। ঠিক ক'পাকে সব কিছু তালগোল পাকিয়ে একটা আধদলা রক্তমাংসপিণ্ড হয়ে সবকিছু ভেস্তে দিতে চলে। পোস্টমর্টেমের সময় মুখটা কেমন থাকে? ঠিক কতটা লাগে? কোথায় কোথায় দাগ? কালসিটে? আর যেগুলো অদৃশ্য? দেখা যায় সব? এরপর তো বেওয়ারিশ। নাম, গোত্র সব বিচারসভা ঠিক করবে। দহন, দাফন নাকি কাফন। আবার চলবে হাস্যরোল। কানাঘুষো, হিসফিস, ঘসঘস, খুচখাচ। সিলিং ক্যানো? কখন হলো? কি কি ছিল? কিছু কি গ্যালো? সাথে আছে কিছু? নেহাত সাদা কাগজ। মানে আছে নিশ্চয়ই! আলবাত! সুইসাইড নোট। নিশ্চয়ই কিছু ব্যাপার ছিল! ইয়ে মানে গোপন কিছু..?? প্রেমঘটিত? এখনকার ছেলেপুলে। কে'জানে কজনের সাথে! খোঁজ হোক। তলব পড়ুক। ঘরদোর। টেলিফোন। পাসওয়ার্ড। হাতের ছাপ।কাটাছেঁড়া। শরীর। জঞ্জাল। রেপুটেশন। সমাজ। পোস্টমর্টেম। সার্টিফিকেট। নশ্বর। নষ্টামি। ন্যক্কার। কাজ শেষ। পরিশ্রম। জল-স্নান। ভাতঘুম। শেষ পাত। গোলাম, চোর, তাস! ভাজা মশলা। সিগারেট। মগজে ধোঁয়া। ওষুধের স্ট্রিপ। হেরে যাওয়া। শেষ কিছুটা সময় মুখোমুখি। একা। চুপ করে বসে থাকা। দিন গোনা। ইউ টার্ন। আটকাতে পারলে আটকে নিও...

" যায় ফুরিয়ে কত নেশা
যায় সরে যায় কুয়াশা
যায় ফুরিয়ে একদিন তাই,হতাশা
যায় ফুরিয়ে একদিন সবার,হতাশা..."

: রাত্রি
২৩শে অগ্রহায়ণ '২৪

প্রয়াত জীবন্ত স্বরস্বতী। শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ!
06/02/2022

প্রয়াত জীবন্ত স্বরস্বতী। শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ!

ছোটবেলা থেকেই তৃষ্ণা তার মাকে দেখে প্রত্যেক বছর সে তার মামাকে ভাইফোঁটা দেয় এবং সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে : - মা, ও মা আমি...
06/11/2021

ছোটবেলা থেকেই তৃষ্ণা তার মাকে দেখে প্রত্যেক বছর সে তার মামাকে ভাইফোঁটা দেয় এবং সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে :
- মা, ও মা আমি ভাইফোঁটা দেবো না?
- না মা, তোমার তো ভাই নেই। কিন্তু তাতে দুঃখ কিসের? তোমার বোন আছে তো।
- হ্যাঁ, মা। সে তো ঠিক আছে। তাও...
- না, মা ওরম মন খারাপ করতে নেই!

এইভাবে দেখতে দেখতে তৃষ্ণা ও তার বোন দিশা বড় হতে লাগলো। এখন তৃষ্ণা কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি চাকরিও পেয়ে যাবে। তার বোন দিশা এই সবে কলেজে ভর্তি হলো। ওরা খুব ছোটবেলায় ওদের বাবাকে হারিয়েছে। ওদের মা একজন স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন, এই দুইবছর চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। খুব পেললাহি ভাবে না হোক বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে তার দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। তৃষ্ণা ও দিশা যেমন পড়াশোনায় ভালো, তেমনি ভালো আঁকতে পারে। ওরা খুব সুন্দর রান্নাও করতে পারে, বিভিন্ন ঘরের কাজ করতে পারে। তৃষ্ণার ছোট বোন দিশা খুব সুন্দর সেলাই করতে পারে আর দিশা খুব সুন্দর সাজাতে পারে। কোনো এক কালে একটা বিউটিশিয়ানের কোর্স করার ফল।

কিন্তু সবকিছু ভালো চললেও তৃষ্ণার খুব ইচ্ছা হতো সেও রাখী পড়াবে, ভাইফোঁটা দেবে। মামাও ওকে খুব ভালোবাসতো, মামাকেও ও অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে যে কেন সে রাখী, ভাইফোঁটা দিতে পারে না? ওই এককথা "তোমার ভাই থাকলে তুমিও দিতে।" যখন তৃষ্ণা ছোট ছিল সে অনেকবার ভেবেছে বোনকেই দেবে ভাইফোঁটা, রাখী পড়াবে কিন্তু মা দিতে দেয়নি। তার খুব রাগ হতো সবার উপর তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে সে বুঝেছে সবটাই।

গত একবছরের মধ্যে তৃষ্ণা একটা সরকারি চাকরি পেয়ে গেলো আর ওর বোন কলেজ গন্ডির এক ধাপ এগিয়ে গেলো। তৃষ্ণা এইবার ভাইফোঁটায় একটা কান্ড করবে ভেবেছে। করবেই করবেই, যে যাই বলুক না কেন! যুগ এত এগিয়েছে, এত কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এটা কেন নয়? সে তার বোনকে ভাইফোঁটার আগেরদিন বলল,

– এ বোন, শোন
– কি রে, দিদিভাই?
– তুই কাল সকাল সকাল উঠে স্নান করে শাড়ী পরে রেডি হয়ে থাকবি।
– কেন রে, কাল কি আছে? ঠাকুর দেখতে যাবি? স্নান না হয় করলাম কিন্তু শাড়ী পরে ঠাকুর দেখা যাবে না রে, দিভাই। আর আমরা তো কত ঠাকুর দেখলাম আর কত দেখবো?
– আরে না, ঠাকুর দেখতে না। একটা কাজ আছে। যা বলছি শোন তো, সব সময় বেশি কথা।
– আচ্ছা।
– হুম, এখন ঘুমা। কাল সকাল সকাল উঠতে হবে।

পরের দিন সকাল...

- একি রে তৃষ্ণা! তুই সকাল সকাল উঠে স্নান করে শাড়ী পরে ধান - দুব্বো নিয়ে এসে, এখন আবার আসন পাতছিস আবার দেখছি মিষ্টিও আনলি কি ব্যাপার বল তো?
- কি জানি মা, দিদির মাথায় কি ঘুরছে? আমাকেও তৈরী হতে বলল।
- ও, বোন তুই এসে গেছিস?
- হ্যাঁ।
- আচ্ছা, তুই বস আমি চন্দন, জলের গ্লাস আর প্রদীপটা আনি।
- কি করতে চাইছে বল তো তোর দিদি?
- কি জানি মা! তোমায় কি কিছু বলেছে?
- কই না তো!
- এই যে এসে গেছি। মা তুমি ফোনটা নিয়ে ঠিক মতো ভিডিও টা করো।
- কোথায় দেখি চন্দনটা! এই তো,
" বোনের কপালে দিলাম ফোঁটা,
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা,
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দি আমার বোনকে ফোঁটা।"

এই যে হলো আমার ভাইফোঁটা থুরি আমার "বোনফোঁটা?"

নামটা শুধু ভাইফোঁটা বলে যে ভাইদেরই ফোঁটা দিতে হবে এমন কি কোনো মানে আছে? চাইলেই বোনকেও দেওয়া যায়। সবটাই আমাদের মনের ব্যাপার। যুগ যখন এত উন্নতি করেছে আমরাও তখন আমাদের মন - মানসিকতার একটু পরিবর্তন করি। কি তাই না?

লেখায় : ঐশী
সাজিয়েছে : রাত্রি

।। অধরা লক্ষ্মী ।।               "চাএএএ.... লাল চা, লেবু চা,দুধ চা... চা খাবেন চাএএএ...."এই আওয়াজের সাথে আমরা সকলেই কম ব...
20/10/2021

।। অধরা লক্ষ্মী ।।


"চাএএএ.... লাল চা, লেবু চা,দুধ চা... চা খাবেন চাএএএ...."
এই আওয়াজের সাথে আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত। ট্রেনে, ট্রামে,রাস্তায় চলার পথে সকাল হোক বা বিকেল,সন্ধ্যা হোক বা রাত, চা বিনা বাঙালির যেমন ঘুম কাটে না তেমন কোনো কাজে মন বসে না। সেইসব বাঙালিকে চলার পথে রসদ প্রদানকারী এক সাধারণ চা বিক্রেতা হলেন বিনে বাবু, থুড়ি বিনয় দাস। শ্যামবর্ণ, খাটো উচ্চতার,রংচটা শার্ট-প্যান্ট আর কোমরে গামছা জড়িয়ে এক হাতে ফ্ল্যাক্স আর এক হাতে কাপ সহ বাকি সরঞ্জাম নিয়ে শিয়ালদহ- বনগাঁ লাইনের নিত্য হকার বিনয় বাবু। সদা সর্বদা হাসি মুখে থাকা এই মানুষটি সকলেরই খুব আপন।
রাত তখন প্রায় দশটা। এবার সব পাঠ গুটিয়ে বাড়ি ফেরার পালা। দত্তপুকুর স্টেশনে নেমে সাইকেলে প্রায় ১৫ কিমি গেলে তবে তার বাড়ি। তাড়াতাড়ি সাইকেল নিয়ে রওনা দিতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে ডাক এলো.....
- কি গো বিনে! ব্যবসার কি হাল?
- এই তো জেঠু চলছে। এখন তো আর টেরেনে তেমন লোক ওঠে না তাই আগের মত বিক্রিও হয় না। গিন্নির দুটো বাড়ির কাজ আর আমার এই সামান্য রোজগারে চলছে কোনো মতে। আজ চলি জেঠু, আমি না গেলে আমার তিথি ঘুমোবে না যে!

তিথি, বিনয়বাবুর তিন বছরের ছোট্ট আদুরে মেয়ে। বিনয়বাবু বাড়ি এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে না দিলে তার ঘুম আসে না।তাই সে রোজ তার বাবার পথ চেয়ে বসে থাকে।

রাত তখন প্রায় বারোটা। তিথিকে ঘুম পাড়িয়ে বিনয় বাবু আর তার স্ত্রী খেতে বসেছেন।
- রাস্তায় আসতে আসতে শুনলুম জানো গিন্নি, সেই আগের বছর যেমনটি হয়েছিল সব গাড়ি, টেরেন, দোকান সব বন্ধ করে দিয়েছিল এই মারণরোগের জন্য এই বারও নাকি তেমনটি হবে কাল থেকে।
- হুম, জানি। ঐ চাটুজ্জেদের বাড়ির টিভিতে শুনছিলাম ওই ভাইরাস নাকি দুগ্গাপুজোর জন্য খুব বেড়েছে। লোকও নাকি মারা যাচ্ছে খুব। আগের বারের মতো এবারও হয়তো ওরা আসতে বারণ করে দেবে! দেখবো বলে যদি কাজে রাখে।
- ওরা বারণ করলে বেশি কিছু বলতে হবে না, আমি দেখছি কি করা যায়...
- কি করবে তুমি? সেই তো কবে বলেছি মল্লিক বাবুদের অনেক চেনাশোনা আছে। ওনাকে বলি একটা দোকান দেখে দিতে। আর কতদিন চলবে এভাবে ঘুরে ঘুরে। তোমারও তো বয়স হচ্ছে। আরে যদি দুটো টাকা ধার লাগে তো নেব, আবার সব শোধ করে দেব।
- আরে এখন কি হবে তা ভেবেছো? আগের বছর কটা টাকা জমা ছিল,তার বেশি তো বোনটার বিয়েতেই বেড়িয়ে গেল আর বাকি আমাদের নিজেদের জন্য। এখন দুবেলা দুমুঠো ভাত কিভাবে আসবে সেটা চিন্তা করো!
- তা এখন ভাববো না তো কবে ভাববো? আমাদের তিথির ভবিষ্যত বলেও তো ব্যাপার আছে নাকি! আমরা মুখ্যু বলে তো মেয়েকেও সেই পথে হাঁটতে দিতে পারি না। যাও এখন শুয়ে পড়ো, কাল সকালে ভাবা যাবে।

(কিছুদিন পর)
- বাবা জানো, তাতাই দাদার ইস্কুলের মাঠে এখনও নাকি কত্ত কাশফুল হয়ে রয়েছে!
- হ্যাঁ রে মা, দেখতে দেখতে লক্ষ্মীপুজোও তো এসেই গেল!
- বাবা, পুজোতে তো কিছু কেনাই হয় নি ভালো!আমাকে এবার পুজোতে পূজাদিদির মতো একটা লাল রঙের ফ্রক কিনে দেবে? পূজাদিদি বলছিল ঐরকম জামা নাকি রাজকুমারীরা পরে। আমিও তো তোমার রাজকুমারী, আমাকে ওরম জামা কিনে দেবে বাবা?
- হ্যাঁ মা, দেব। সেই জামাটা পরে আমার রাজকুমারীকে একটা জলজ্যান্ত পরীর মতো লাগবে।
- সত্যি!! থ্যাংকু বাবা...
- তোমার কী মাথা খারাপ হয়েছে?একটা ওরকম জামার কত দাম তা জানো? এখন টাকা পয়সার এত টানাটানি তার মধ্যে তুমি মেয়েটাকে কথা দিয়ে দিলে?
- আচ্ছা পুজোর তো এখনও দিনখানেক সময় আছে...
- তাতে কী হয়েছে? এর মধ্যে কী তুমি লটারি জিতবে নাকি? আরে পূজা, মল্লিক বাবুর মেয়ে। তাদের বড়ো ব্যবসা, সে তার মেয়েকে কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই ওরকম জামা দশটা দিতে পারে। আমাদের কি সেই সামর্থ্য আছে?
- আরে শোনো শোনো, আমি ঐ ইস্টেশনে বইয়ের দোকানে জেঠু আছে না, ওনাকে কিছু কাজের কথা বলেছিলুম।তা উনি একটা কাজের খোঁজ দিয়েছে বউবাজারে।
- ওমা তাই নাকি। যাক, ঠাকুর তবে এই গরিবের দিকে একটু মুখ তুলে চেয়েছেন।
- হ্যাঁ, তা বটে। তবে আমাকে ওখানে থেকে কাজ করতে হবে।মাসে একটা করে ছুটি আর ঐ দুগ্গা পুজো, কালি পুজোতে।
- তুমি এখানে থাকবে না? আমি এখানে তিথিকে নিয়ে কিভাবে কাটাবো গো?
- আমি তো মাসে একবার আসবো। আর কিছু পেতে গেলে কিছু তো হারাতেই হবে বলো....

( দু দিন পর)
- না বাবা, তুমি কোথাও যাবে না।
- আরে বোকা মেয়ে এমন পাগলের মতো কাঁদে না কি। আমি তো মাঝেমধ্যে আসবো। আর তোমার লাল জামাও তো আনতে হবে না কি!
- না আমার জামা লাগবে না। তুমি কোথাও যাবে না, ব্যস!
- শোনা, বোকা মেয়ের কথা। এমন বলে না লক্ষ্মী মা আমার। আমি আসবো তো। তুমি মা কে বিরক্ত করবে না কিন্তু। সব কথা শুনবে, আর মন দিয়ে পড়াশোনা করবে। অনেক বড়ো হতে হবে তো।
- বাবা, তাতাই দাদার বাবা তোমার মতো আপিসে গিয়েছিল। আর আসেনি। তুমি আমাকে ছেড়ে ওভাবে চলে যাবে না তো?
- না সোনা কোথাও যাবো না।আমি আসি গো। সাবধানে থেকো তোমরা।কিছু দরকার হলে আপিসের নম্বরে ফোন করে নিও।
- হুম তুমিও সাবধানে থেকো।
______________________
- দাদা ঐ লাল জামাটার দাম কতো?
-১৩৫০....
- একটু কম করুন না দাদা...
- এখানে সব এক দাম ,এখানে দরদাম হয় না। কম দামী জামা আছে সেটা নিতে পারেন এই জামা হবে না।
- আচ্ছা দাদা তবে তাই দিয়ে দেন....

_______________________

- এই যে বিনয়বাবু কোথায় ছিলেন আপনি? আপনার স্ত্রী তো ফোন করেছিলেন।
- ওওও , তা কিছু বললো?
- হ্যাঁ। উনি আপনাকে খুঁজছিলেন আর কাঁদছিলেন। বললেন আপনার মেয়ের খুব অসুস্থ তাই আপনাকে ফিরতে বললেন।
- কি! কী হয়েছে তিথির?
- তা তো জানি না দাদা। আপনি একবার ফোন নিন না।
-হ্যাঁ হ্যাঁ .....
( আপনি যেই নম্বরে ফোন করছেন,তা বর্তমানে নেটওয়ার্ক অঞ্চলের বাইরে আছে)
এখন আমি কি করবো? ফোন তো যাচ্ছে না।
- আপনি বরং বড়বাবুর থেকে অনুমতি নিয়ে বাড়ি চলে যান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
_______________________

- বড়বাবু, আমাকে দুদিনের জন্য গ্রামে যেতেই হবে। আমার মেয়েটা খুব অসুস্থ। আপনি যদি অন্তত দুদিনের জন্য আমার ছুটি মঞ্জুর করেন তাহলে আমি আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
- তুমি এই দিনখানেক আগেই কাজ শুরু করলে এরই মধ্যে ছুটির প্রয়োজন হয়ে গেল?
- বাবু আমি কালিপুজোতে ছুটি নেবো না তবে এখন দয়া করে আমাকে যেতে দিন।
- হুম ঠিক আছে। কিন্তু সেটা দুদিন থেকে একদিনও বেশি যেন না হয়। যদি তা হয় তবে তোমার আর ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই!
- ধন্যবাদ বাবু ধন্যবাদ। আমি সময় মতো চলে আসব। আজ আসি....

_______________________

বিনয়বাবু বাড়ি ফিরলেন। বাড়ি ফিরে জানতে পারলেন দুদিন ধরে তিথির প্রচন্ড জ্বর ছিল আর আজ ভোর থেকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাই ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পর তাকে দেখে ছুটে আসে তার স্ত্রী ,অঝোরে পাগলের মতো কাঁদছেন তিনি। তারপর দেখতে পান তার ছোট্ট মেয়ে তিথির নিথর দেহ প্লাসটিকে মোরানো হচ্ছে...

- একি কি করছেন আপনি এইসব , আমার মেয়েটার কষ্ট হবে তো
- বিনয় তুমি একটু শান্ত হয় , তুমি বউমা কে সামলাও....
- কিন্তু জেঠু, তিথি...
- তিথি... তিথি মা আর নেই বিনয়। যেই মহামারী তোমার থেকে তোমার ব্যবসা কেরেছে , সেই মারণরোগ আমাদের তিথিকেও.....


বিনয়বাবু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তিথির দেহের দিকে। সদা চঞ্চল তিথি আজ চিরশান্ত হয়ে গেছে। খুব কষ্ট পেয়েছে মেয়েটা তবু ঠোঁটের কোণে লেগে আছে ওর মিষ্টি হাসিটা। যেন কোনো দুষ্টু ফন্দি আঁটছে। মনে হচ্ছে যেন দৌড়ে এসে বলবে , বাবা তুমি আমার জন্য লাল জামাটা নিয়ে এসেছো? তারপর জামাটা পরে বলবে ,আমাকে এটা পড়ে একদম পরীর মতো লাগছে তাই না বাবা। কদিন আগে যেই ছোট্ট মেয়েটা তার বাবার তাকে ছেড়ে যাবার ভয়ে কাঁদছিল আজ সেই সবাইকে ছেড়ে চলে গেল না ফেরার দেশে। পরে রইলো ওর সখের লাল জামা আর একরাশ স্মৃতি......

কলমে : শ্রীতমা
সাজিয়েছে : রাত্রি

|| অপেক্ষা || "লাবণ্যটা যে কবে ফিরে আসবে, কে জানে! একদম ভালো লাগছে না। পুজো চলে এলো, আর তার নাকি এখনো ছুটিই দেয় নি!  এয়...
11/10/2021

|| অপেক্ষা ||

"লাবণ্যটা যে কবে ফিরে আসবে, কে জানে! একদম ভালো লাগছে না। পুজো চলে এলো, আর তার নাকি এখনো ছুটিই দেয় নি! এয়ারপোর্ট অবধি তো কষ্ট করে আসতে পারতো; না হয় আমিই প্লেনের টিকিটটা কেটে দিতাম। কী হতো শুনি পুজোর ওই চারটে দিন আমার জন্য একটু ছুটি নিলে? মা দুর্গা স্বয়ং আসছেন হিমালয় থেকে তাঁর কাজ থেকে ছুটি নিয়ে আর এই মহারানীর নাকি সামান্য হাজার কিলোমিটার দূরের শহর থেকে আসার সময়ই নেই!" কলকাতার কর্পোরেট পাড়ার বহুতলের ফ্ল্যাটটির এক কোণে রাখা গাঢ় লাল কাপড়ে মোড়া সোফাতে বসে বসে নিজের আর লাবণ্যর একসাথে তোলা ছবিতে ভর্তি রঙিন অ্যালবামটার গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে, এসবই সাত-পাঁচ ভাবছিল অংশু।

অংশুর প্রেমিকা অর্থাৎ মিস্ লাবন্যপ্রভা চৌধুরী ওরফে লাবণ্য ব্যাঙ্গালোরের একজন বড়ো সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার,তিন বছর হলো এক নামকরা কোম্পানিতেই লাবণ্য চাকরি করছে। দুই শহরে দুজন থাকায় অংশু বা লাবণ্য দুজনের কেউই কাউকে তেমন সময় দিতে পারে না। দেওয়ার চেষ্টা থাকে না তেমনটা নয় কিন্তু দুই শহরে দুজনের আলাদা দুনিয়া; ব্যস্ততার দুনিয়া, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই-এর দুনিয়া, স্বপ্নপূরণের চেষ্টাটুকু করার দুনিয়া আর সবশেষে হয়তো বা একটা ক্লান্ত করা দুনিয়া! কাজের চাপ বা দিনশেষের ক্লান্তিতে কতদিন এরম হয়েছে যে ঠিক মতো কথা পর্যন্ত হয়নি সপ্তাহের পর সপ্তাহ দুজনের। এমনকি স্মার্টফোনের ওই চারচৌকো সাড়ে ছয় ইঞ্চি স্ক্রিনটাতেও দুজনের দেখা হয় না ঠিক করে। তাই এই পুজোর ছুটিটুকুর জন্য অধির অপেক্ষায় বসে থাকে দুজনেই। শেষ দু'বছরই লাবণ্য নিজে এসেছিলো কলকাতার পুজো দেখতে। অংশুকে কোনো কিছুই করতে হয়নি সেই দু'বারে লাবণ্যকে কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু এইবছর লাবণ্যর কাজের চাপ অনেকটা থাকায় কোনোভাবেই সে এবার ছুটি ম্যানেজ করতে পারেনি। এই কথাটা ফোন করে বলতেই অংশু অনেকটা রাগ দেখিয়ে ফেলেছে লাবণ্যর ওপরে আর বেশ কয়েকটা কড়া কড়া কথাও শুনিয়ে ফেলেছে। সেদিন ফোনে লাবণ্যের ফিরতে না পারার কথাটা জানার পরই অংশু কথার মাঝে ফোন কেটে দিয়েই সেটা সুইচ অফ করে দেয়। পরের দিন বিকালবেলা করে লাবণ্য আবার ফোন করে অংশুকে। ফোন ধরে কোনো কথা না শুনেই অংশু বলে 'আমার কথা তোমাকে ভাবতে হবে না। অনেক ভাবো তুমি আমার কথা! আর প্লিজ, ভাবতে যেও না। তোমার কাজটাই তুমি সামলে যাও সারাজীবন। আমার চিন্তা আমি নিজেই করতে পারি,রাখো ফোনটা এবার!" আবারও ফোনটা সেদিন রাগে কেটে দেয় অংশু আর সেই সঙ্গে একদম ফোন সুইচ অফ। রাতে ফোনের সুইচ খুলতেই সে দেখে, লাবণ্যর থেকে এই নিয়ে পঁচিশটা মিসডকল আর গোটা চোদ্দ মেসেজ। অংশু ফোন করতেই লাবণ্য ওপাশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে,"দেখো, কিছু করার নেই গো আমার। বড্ড কাজের চাপ এখানে। বস কিছুতেই ছুটি দেবেন না। আমি জানি আমি কলকাতায় থাকি না বলেও তোমার আরও মনখারাপ। আর পাঁচটা প্রেমিক বা প্রেমিকার মতো আমরা হাতে হাত রেখে কফিশপে কফি খেতে যেতে পারি না, গঙ্গার ঘাটে একসাথে সূর্যাস্তের আনন্দটাও উপভোগ করতে পারি না, কলকাতার ভিড় রাস্তায়,বাসে বা ট্রেনে দুজনের হাত আগলে বাড়িও ফিরতে পারিনা একসাথে। পুজোর এই চারটে দিনই একমাত্র আমরা পরস্পরকে একটু সময় দিতে পারি মন খুলে সময়ের বাধা না মেনেই কথা বলতে পারি। কিন্তু, এবছর কোনোভাবেই আমি যেতে পারছিনা, অংশু..." কথাগুলো শোনার পর, কোনো কথার কিছু উত্তর না দিয়েই আবারও ফোন কেটে দেয় অংশু। এবার সোজা লাবণ্যর ফোন নম্বরটাকে অংশু ফেলে ব্লক লিস্টে। রাতে শুয়ে শুয়ে অংশু ভাবতে থাকে,"অন্য সব সম্পর্কে প্রেমিকা হন্যে হয়ে পড়ে থাকে তার প্রেমিক আসবে বলে। আর আমাদের ক্ষেত্রে ঠিক তার বিপরীত। সবাই কতবার করে একমাসে যায় কফিশপে কফি খেতে নিজের মনের মানুষটার সাথে। আর, এখানে এক আমি!! প্রতিমাস তো দূর, বছরে অন্ততঃ চার বার লাবণ্য আর আমি কফিশপে গিয়ে হাতে হাত রেখে কফি খেতে পারতাম! সেটাও নয়। অন্যবছর তো তাও ঠিক আছে। কিন্তু, এইবছর?? সেইটুকু সুযোগও এবছর পাবো না পুজোতে। পুজোর সময়ে লাবণ্যর কাজের চাপ আসতে পারবে না। আবার, অন্য সময়ে ছুটিও পাবে না। তাহলে কবে একটু দেখতে পাবো ওকে সামনা-সামনি?? ওই চারচৌকো স্ক্রিনে এভাবে দেখতে যে আর ভালো লাগছে না আমার!" --- এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে অংশু ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়াল করেনি সে।

পর দিন ঘুম থেকে উঠেই লাবণ্যকে আনব্লক করে দেয় অংশু। কিন্তু আনব্লক খুলতেই সে বুঝতে পারে যে খেলা হাতের বাইরে চলে গেছে! ইতিমধ্যে সেও ব্লক খেয়ে গেছে ওপার থেকে।এখন আর অংশুর কিচ্ছু করার নেই। এতক্ষণ না হয় শুধু সামনে দেখাটা হাতের বাইরে ছিল কিন্তু এখন তো গলার স্বরটুকু শোনারও কোনো সুযোগ নেই।অংশুর এবার নিজের ওপরেই চরম রাগ হচ্ছে। মনে মনে বলল, "এতোটা রাগ লাবণ্যকে না দেখালেও হতো। এমনিতেই পরশু অষ্টমী। কলকাতা না আসতে পারার দুঃখ আমার হলে লাবণ্যরও আছে। এতটা না বললেও হতো, এখনও রাগ করে আছে মেয়েটা। ধ্যাৎ,পুজো মনেই হচ্ছে না আমার!" নিজের রুমের জানালাটা খুলতেও তার আর ভালো লাগছে না। জানালার বাইরে দিয়েই দেখা যাচ্ছে মণ্ডপে মণ্ডপে লোকের ভিড়, কচিকাঁচাদের আড্ডা আর ঢাকের আওয়াজ। এক কাপ কফি নিয়ে সোফার ওপরে বসে টেবিলে রাখা আগের দিনের অ্যালবামটা দেখেই আবারও একবার মনখারাপ হয়ে গেলো অংশুর। প্রায় বছর তিনেক আগে তোলা লাবণ্য আর তার একসাথে হাতে হাত রাখা একটা ফটো দেখতে দেখতেই, হঠাৎ অংশু শুনতে পেলো, দরজার বাইরের কলিং বেলের আওয়াজ। অ্যালবামটা রাখলো রেখে বিরক্ত মুখে অংশু দরজার দিকে তাকিয়ে ভাবছে কোন্ অনাহুতের আগমন ঘটেছে! ইতিমধ্যে আবার কলিং বেল বেজে উঠলো। পুজোর এই কয়েকটা দিনে বহু উটকো লোকের ভিড় জমে কলকাতার বুকে, এই সাত-পাঁচ ভেবেই দরজাটা আরও যেন খুলতে ইচ্ছে করছে না অংশুর। পুজোগণ্ডার দিনে চুরি,ছিনতাই আর পকেটমারের সংখ্যা যেভাবে মাথা চারা দিয়ে ওঠে তাতে কোথা থেকে কি যে হয় কিচ্ছু বলা যায় না! আবার এদিকে আজ ষষ্ঠী অথচ, লাবণ্য আসবে না ভেবে মনটাও খারাপ। এবার কলিংবেলের সাথে সাথে দরজায় বারখানেক টোকাও পড়লো পরপর। এবার উঠতেই হলো তাকে। দরজাটা খোলার আগে হাতের নাগালেই থাকা ফোনটা ডান হাতে নিয়ে অংশু দেখতে থাকলো অনলাইন শপিং সাইট গুলো। নাঃ তো!! কিছুই তো অর্ডার দেওয়া নেই। তাহলে, বাইরে কে?? "আসছি, আসছি" বলেই, দরজা খুললো অংশু। দরজা খুলতেই দেখে, একটা মাঝবয়সী লোকের হাতে একটা বড়ো বাক্স রঙ্গিন বাদামি কাগজে মোড়া। পার্সেলটা নিয়ে একটা সাইন করে ওই মাঝবয়সী লোকটিকে বিদায় করলো অংশু। দরজা লাগিয়ে ভেতর ঘরে গিয়ে সোফায় বসে পার্সেলটার মোড়ক খুলতে লাগলো সে। ওপরের রঙ্গিন কাগজ খোলার পরেই, অংশু দেখলো একটা হলুদ পাঞ্জাবী,কালো জিন্স আর একটা কাগজের টুকরো। অবাক হয়ে গেলো অংশু। কে পাঠিয়েছে বা না পাঠিয়েছে, কেন পাঠিয়েছে সেটা ভাবতে ভাবতে হাতে তুলে নিলো চিরকুট গোছের কাগজের টুকরোটা,তাতে লেখা----

"প্রিয় অংশু,
তোকে তো বরাবরই জ্বালাতে বড্ড ভালো লাগে আমার। তাই খানিক ইচ্ছে করেই ব্লক করে একটু চিন্তায় ফেলেছি। ভাবিস না সরি বলবো। খুব ইচ্ছা ছিলো বাড়ি গিয়ে নিজের চোখেই তোর পেঁচার মতো মুখটা দেখবো। আমি জানি তুই বড্ড চিন্তা করবি আমার জন্য তাই, তোর পেঁচা মুখ নিজের চোখে দেখার সাধ বাক্সবন্দী করে এই চিঠিটা লিখে পাঠাচ্ছি আর আমার খুব পছন্দের হলুদ রঙের পাঞ্জাবী দিলাম তোকে। আমি কলকাতায় যাচ্ছি আজ সন্ধ্যেতে। তুই চিন্তা করিস না বেশি। আমি এয়ারপোর্টে গিয়েই তোকে ফোন করে দেবো, বুঝলি বুদ্ধু?? আর পৌঁছেই কফিশপ যাবো কিন্তু কলেজ স্ট্রীটে মনে থাকে যেন! সে ভাবেই তৈরি হয়ে থাকবি। আর অষ্টমীতে আমিও হলুদ শাড়ি কিনে নিয়েছি। জানি, তুই কিনে রাখবি তবুও তোর পাঞ্জাবী কিনতে গিয়ে পছন্দ হলো শাড়ীটা ভীষণ, তাই নিয়েই নিলাম। মহারাজ রাগ করে থাকলেও এবার ভেঙে গেছে আশা করি! তাই, যদি আবার আমার জন্য কেনা শাড়িটা আমার ওপর রাগ করে না দিস, তাহলে তোর আর আমার সাথে হাতে হাত রেখে একই রঙের পোশাকে পুরো কলকাতার বুকে আঁচড় কাটাটা আর এবছর হবে না! হিহিহিহি। আর এই যে বুড়ো,তুই বুঝি ভুলে গেছিস গতবছর দোলের রং মাখাতে মাখাতে তোকে কি কথা দিয়েছিলাম? "কথা ছিল, হেঁটে যাবো ছায়াপথ..." তবে, তুই এটা ভাবলি কি করে যে তোর কথাতে আমি পুজোতে আসবো না? পাগল রে আমি বুঝি তোর অভিমানটা! তৈরি থাক। আমি আসছি। তোর ঘাড়ে ভূত হয়ে বসে কয়েকদিন বেশ করে তোকে জ্বালাবো।


ইতি,
যার জন্য এতো মনখারাপ করে বসে আছো সেই বিশেষ নারী "

চিরকুটটা রেখে দিয়ে পাঞ্জাবী আর টেবিলের ওপরে রাখা অ্যালবামটা বুকে আগলে রেখে শুরু হলো এক অন্য অপেক্ষার, নিজের মানুষকে নিজের করে পাওয়ার অপেক্ষার।

কলমে : স্মৃতি(মনা)
সাজিয়েছে : রাত্রি

 #172|| পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের শুভ সূচনা ||চিত্রগ্রাহক : অন্ময় দাস
06/10/2021

#172

|| পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের শুভ সূচনা ||

চিত্রগ্রাহক : অন্ময় দাস

ঘরই প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র আর বাবা-মা আমাদের প্রথম শিক্ষক-শিক্ষিকা। এরপর সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় স্কুল ,কলেজ আর শিক্ষক-শ...
05/09/2021

ঘরই প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র আর বাবা-মা আমাদের প্রথম শিক্ষক-শিক্ষিকা। এরপর সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় স্কুল ,কলেজ আর শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আজ শিক্ষক দিবস। সারাদিন ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাসের ভিড়ে কোথাও পেয়েছি মা-বাবা আবার কোথাও পেয়েছি প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকার সাথে কিছু হাসিমুখ। তবে দিনশেষে ভাবলে দেখা যায় শুধু এইমানুষগুলো ছাড়াও কেউ কেউ আমাদের রোজ কিছু না কিছু শেখায়। জীবন নামের সার্কাসের একেকটা ভুল রাস্তার মোড়, ভুল মানুষ, ভুল পরিস্থিতি আমাদের নতুন করে কিছু শেখায় প্রতিনিয়ত। এত চারপাশে শেখার সুযোগের মাঝে কয়েকটা তুলে ধরলাম না হয় আমরা!

ছোট থেকে আঁকতে ভালোবাসে রিমলি। স্বপ্ন শহরের বিখ্যাত আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়া। সেদিন মা গল্প করতে করতে জিজ্ঞেস করলো,
- 'বড় হয়ে কি হতে চাস শুনি!'
- 'আমি আর্টকলেজে পড়বো মা!'
- 'আঁকা, গান এসব সারাজীবন পেটে খাবার দেবে না। মেজপিসির সেজদেওরের ছেলে আইআইটি তে চান্স পেয়েছে। তুই কি করবি জীবনে? তোর দ্বারা হবে বলে তো মনে হয় না!....'
চুপ করে অন্যঘরে গিয়ে মনে মনে বললো,'তবে মা যে সেদিন সেজেপিসিকে ফোনে বলেছিল আমি যা খুশি নিয়ে পড়লেই মা আমার পাশে থাকবে! মা কি তবে মিথ্যে বললো? কিন্তু মা যে বলে মিথ্যে কথা বলতে নেই,তবে?...'

রূপের বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে। ডাক্তার বলেছেন এক্ষুনি রক্ত লাগবে। প্রতি শনি-রবিবার যে গোটা দশেক বন্ধুকে নিয়ে বেরায়,পার্টি করে আর শেষে বিল মেটায় নিজে; সেই গ্রুপে মেসেজ করে বললো
- ভাই রক্ত লাগবে! সায়ন তোর তো ও পজিটিভ তাই না? ভাই একটু আসবি?
সিন করার মিনিট তিরিশ পরেও যখন কেউ উচ্চবাচ্য করলো না তখন হটাৎ একটা ফোন আসে,
- 'ভাই বেকবেঞ্চার দীপ্ত বলছি! শুনলাম কাকুর রক্ত লাগবে নাকি, আমি আসছি একটু দাঁড়া...'
সেদিন রূপ বুঝেছিল কারা আদপে বন্ধু আর কারা স্বার্থে মেশে।

রাত্রির সাথে রোদ্দুরের সম্পর্কটা প্রেমিক-প্রেমিকার। শূন্য থেকে পাশে থেকে দুজনেই চেষ্টা করছে যাতে পাশের মানুষটার হাত সারাজীবন ধরে রাখা যায়। প্রেমে থাকলেও প্রেমটুকু বাদে সব বিষয় নিয়ে হয়তো বেশি কথা হয় ওদের। রোদ্দুরের থেকে শেখা একটা কথা রাত্রি বড্ডো মানে, 'মুখাপেক্ষিতা ভালো, কিন্তু পরজীবিতা নয়! জীবনে self-dependent হওয়া খুব প্রয়োজনীয়। ' দূরত্ব প্রেমে থাকা এইদুটো মানুষ যেমন ভরসা, বিশ্বাস, অপেক্ষা এই শব্দগুলোর মানে শিখছে রোজ নতুন করে; তেমন ওরা শিখছে কিভাবে নিজের মনখারাপের সাথে লড়েও দিনশেষে হাসিমুখে এগিয়ে যেতে হয়। এভাবেই ওরা দুজনে দুজনের মতো ভালো থাকছে রোজ।

চারপাশের অনেক কিছু থেকে আমরা রোজ শেখার সুযোগ পাই,শুধু শেখার ইচ্ছেটুকু থাকলেই সব হয়। তাই সবাইকে একসাথে শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা। এই মানুষগুলো না থাকলে হয়তো অনেককিছু শেখাই বাকি থেকে যেত।

লেখায় : প্রীতি
সাজিয়েছে : রাত্রি

- আচ্ছা অনি, তোর কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে।একদম সোজাসাপটা উত্তর চাই কিন্তু কোনো নকঝক চলবে না।- কি প্রশ্ন শুনি...- তা পরশ...
03/09/2021

- আচ্ছা অনি, তোর কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে।একদম সোজাসাপটা উত্তর চাই কিন্তু কোনো নকঝক চলবে না।
- কি প্রশ্ন শুনি...
- তা পরশু তো তোর জন্মদিন, কি গিফ্ট দেবো বল....
- জন্মদিনটা তো আমার সেখানে তুই কি গিফ্ট দিবি সেটা আমি কি করে বলবো। তোর যা ইচ্ছা তাই দিবি...
- এই, আমি বললাম না সোজাসুজি উত্তর দিতে। আর আমি না তোর বেস্টফ্রেনড,আমাকে বলতে এত কি সমস্যা তোর??
- কলকাতায় আসার পর থেকে জন্মদিনের জন্য অপেক্ষা করতেও ভুলে গেছি। যখন গ্রামে থাকতাম তখন আমার প্রত্যেক জন্মদিনে মা নিজে হাতে আমার জন্য বাসন্তী পোলাও, মাংস আর পায়েস বানাতো। আর একটা জিনিস যেটা ছাড়া তো মেনু সম্পূর্ণ ই হতো না, তালের বড়া। বর্ষাকালটা তালের বড়া ছাড়া ঠিক জমে না। মনে পরে, মাটির উনুনে গনগনে আগুনের উপর কড়াইতে ফুটন্ত তেলের মধ্যে থেকে যেই ফুলকো ফুলকো তালের বড়া ভরতি থালা মাটিতে পতিত হতো, ব্যস তখন আর আমাদের পায় কে। আমরা সব ভাই বোনেরা মিলে হামলা করতাম সেখানে, আর গরমকে কাঁচকলা দেখিয়ে লুটে নিতাম যত ইচ্ছা । সেই স্বর্গসুখের সমতুল্য যে কোনো উপহারই হয় না রে ....
- হুমমম... বুঝলাম। চল টাটা !পরশু দেখা হচ্ছে.....
( আজ অনির জন্মদিন।)
- রুদ্র যে বলেছিল আসবে এখনো এলো না তো,প্রায় বিকেল হতে চললো। ফোনটাও সুইচ অফ কিছু বিপদ হলো কিনা বুঝতে পারছি না....
(এমন সময় হঠাৎ ডোর বেল বেজে উঠলো...)
- শুভ জন্মদিন বন্ধু...
- কোথায় ছিলি তুই সারাদিন?
- তোর গিফট আনতে গিয়েছিলাম।
- তা ফোন অফ কেন?
- এমনি, আচ্ছা এবার পিছনে ফিরে দেখ তো....
- মা!! তুমি....
- কি বাবুমশাই উপহার পছন্দ??
- রুদ্র ,তুই গ্রামে গিয়েছিলিস?
- আজ্ঞে হ্যাঁ। না হলে কাকিমাকে কোথায় পাবো বল? গত পরশু কাকিমাকে ফোন করে সব প্ল্যান বলে দিয়েছিলাম আর আজ স্বয়ং গিয়ে নিয়ে এসেছি...
- তুই নিজেও জানিস না কি করেছিস। ধন্যবাদ বলে ছোটো করবো না....
- আরে নিকুচি করেছে তোর ধন্যবাদের। আমার কিন্তু খুব খিদে পেয়েছে। তাড়াতাড়ি কেক টা কাট, আর হ্যাঁ আজ কিন্তু তোমার স্বর্গসুখে আমিও ভাগ বসাবো বলে দিলাম.....

কলমে : শ্রীতমা
চিত্র : সংগৃহীত

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য ইলাস্ট্রেটর : সায়র
31/08/2021

জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য

ইলাস্ট্রেটর : সায়র

যাঁর হাত ধরে কৈশোরে প্রথম প্রেম আর প্রথম শিহরণের লেখা পড়া শুরু,যাঁর বই কেনার জন্য প্রতিটা বছর শুধু অপেক্ষা করে থাকতাম ক...
30/08/2021

যাঁর হাত ধরে কৈশোরে প্রথম প্রেম আর প্রথম শিহরণের লেখা পড়া শুরু,যাঁর বই কেনার জন্য প্রতিটা বছর শুধু অপেক্ষা করে থাকতাম কবে বইমেলা আসবে কবে আবার সেই শিহরিত লেখার আস্বাদ পাবো।সেটা 'কোয়েলের কাছে" হোক কিংবা "অভিলাষ" বরাবর শুধু লেখা পড়েই প্রেমের নতুন অনুভূতি পাওয়া যেতো।হ্যা আমরা বিশ্বাস করতাম তখন শুধুমাত্র মুভি বা টিভিতেই প্রেমের কাহিনী দেখে প্রেমে পড়া যায় না,প্রেমে পড়া যায় বুদ্ধদেব গুহ'র প্রেমের উপন্যাস পড়ে!যাঁর হাত ধরে কৈশোরে “ঋজু" চরিত্রের প্রতি আকর্ষণ জেগেছিল তিনি আজ আর নেই আমাদের মধ্যে! কৈশোর, প্রথম যৌবনে পা ফেলার মূহুর্তে আপনার লেখাগুলোই পড়ে আমরা নিজেদের প্রাণোচ্ছল রাখার চেষ্টা করতাম।আর কারো লেখা পড়ি না পড়ি আপনার লেখা সবসময়ই পড়েছি।জানি না আর নতুন কিছু বাকি আছে কি না!আর বইমেলায় গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারবো না যে বুদ্ধদেব গুহ'র নতুন কোনো বই বেরিয়েছে কি না!
তারাদের দেশে ভালো থাকবেন....

লেখা : আরাধ্যা

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খুচরো কথা Khuchro Kothaa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to খুচরো কথা Khuchro Kothaa:

Share