07/05/2023
🙏ত্রৈলঙ্গ স্বামীজির লীলা 🙏
ত্রৈলঙ্গ স্বামীজি একবার প্রয়াগে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর মিলনস্থল ত্রিবেণী ঘাটে যোগাসনে বসে আছেন। হঠাৎ শুরু হল প্রবল দূর্যোগ। প্রবল ঝড়, সঙ্গে বৃষ্টি। ঘাটের সব যাত্রীই ঝড়-জলের হাত থেকে বাঁচার জন্য একে একে বিদায় নিলেন। কিন্তু ওই ঝড়-জল স্বামীজিকে বিন্দুমাত্র কাবু করতে পারল না। তিনি স্থিরভাবে তাঁর আসনে বসে রইলেন।
রামতারণ ভট্টাচার্য নামে এক ভদ্রলোকও সেই সময় ওইখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্বামীজিকে আগে থেকেই চিনতেন। স্বামীজিকে ওইখানে এই অবস্থায় বসে থাকতে দেখে তিনি ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। স্বামীজির কষ্ট হচ্ছে ভেবে তিনি বারে বারে তাঁকে ওখান থেকে চালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে শুরু করলেন।
সেই সময় একখানি নৌকো প্রচুর যাত্রীসহ সবে মাঝনদী পার হয়েছে। স্বামীজি একসময় ভট্টাচার্য মহাশয়কে বললেন, ‘বাবা আমার জন্য তুমি ব্যস্ত হইও না। আমার বিশেষ কোন কষ্ট বোধ হইতেছে না। আমি এখন এখান হইতে যাইতে পারি না ঐ যে নৌকোখানি আসিতেছে দেখিতেছ উহা শীঘ্রই জলমগ্ন হইবে, ঐ নৌকোর যাত্রীগণকে বাঁচাইতে হইবে।’ কথা শেষ হতে না হতেই ঝড়ের প্রবল দাপটে নৌকোখানি মোচার খোলার মতো উল্টে গেল।
রামতারণ ভট্টাচার্য মাহাশয় দেখলেন নৌকোটি ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্রৈলঙ্গ স্বামীজিও সেখান থেকে অদৃশ্য হলেন। বিষ্মিত রামতারণবাবু নদীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। অল্পক্ষণ পরেই দেখা গেল নৌকোটি ভেসে উঠল এবং একসময় সেটি তীরে এসে পৌঁছাল।
ভট্টাচার্য মহাশয়ের জন্য তখন আরো একখানি বিষ্ময় অপেক্ষা করছিল, নৌকো থেকে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে স্বামীজিও ঘাটে এসে নামলেন। সবাই প্রচণ্ড অবাক! কারণ যখন নৌকো ছেড়েছিল তখন তো এই উলঙ্গ সন্ন্যাসী তাদের সঙ্গে ছিলেন না! তিনি কখন নৌকোয় উঠলেন।
নৌকোডুবির ধাক্কা, মৃত্যুভয় সামলে ওঠার পর যাত্রীগণ বুঝতে পারলেন, স্বয়ং ঈশ্বররূপী এই সন্ন্যাসীই আজ তাদের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তারা সকলেই স্বামীজিকে প্রণাম করার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করলেন। এক সময় প্রণাম সাঙ্গ হলো। নির্বাক হতবুদ্ধি রামতারণবাবু তখনও স্বামীজির পাশে চুপ করে দাঁড়িয়েছিলেন। সবাই চলে যাওয়ার পর তিনি স্বামীজির পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়লেন।
স্মিত হেসে স্বামীজি তাকে বললেন, ‘বাবা, এই ঘটনায় তুমি বিষ্মিত হইয়াছ, কিন্তু ইহাতে আশ্চর্য্যরে বিষয় কিছু নাই, অনন্ত শক্তির আধার শ্রীভগবান এই মানবদেহ সৃষ্টি করিয়া তাহার ভিতরে বিরাজমান রহিয়াছেন। প্রত্যেক মানবের মধ্যেই ঐশী-শক্তি বর্তমান আছে, কিন্তু সে অনিত্য সংসার সুখে মজিয়া প্রকৃত আত্মোন্নতির দিকে লক্ষ্য করে না। মানুষ যদি তাহার অন্তর্নিহিত শক্তি বিকাশের চেষ্টা করে তাহা হইলে জগতে তাহার অসাধ্য কিছুই থাকে না। ইহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। তুমি আর ঝড়-জলে বৃথা কষ্ট পাইও না, গৃহে ফিরিয়া যাও।’ এই ছিল প্রয়াগে বোধ হয় তাঁর শেষ কথা। এরপর তিনি প্রয়াগ ত্যাগ করেন।
জয় শ্রীশ্রী ত্রৈলঙ্গ স্বামীজি।