08/05/2021
অনুভূতি যেখানে মেঘের সাথে হাত মিলায়, সেটা মেঘালয়। এখানকার চেরাপুঞ্জি নামক ঝরনার দেশের একটি বহু আলোকিত এবং উচ্চতম ঝরনা, নাম নোয়াকালীকাই(NohkaliKai)। জানা-অজানা অগণিত ঝরনার মধ্যে এই ঝর্ণাটি অন্যতম এবং পর্যটকদের কাছে বরাবরই এক রোমাঞ্চকর জায়গা। চেরাপুঞ্জির মূল শহরের হোমস্টে থেকে ৩০ মিনিট যাত্রাপথ অতিক্রম করার পর এখানে আসলে এক অবর্ণনীয় সৌন্দর্য দেখার সাক্ষী যে কেউ থাকতেই পারে। যেকোনো পরিষ্কার দিনে সূর্যাস্তের ঘন্টা দুয়েক আগে এখানটায় পৌঁছলে মেঘ আর পাহাড়ের ক্লান্তিহীন নৈসর্গিক লুকোচুরি খেলা দেখার চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতেই পর্যটক, ছবিপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমীরা ভিড় জমায়। স্বল্প মাঝারি, স্বল্প মৃদু বৃষ্টি এবং ঘন কুয়াশায় আবৃত্ত সেই বিশাল প্রান্তরে যেবার প্রথম পৌছাই, অভিমানী এই ঝর্না দেখা না দিয়েই ঢোলে পড়েছিল সন্ধ্যার গহীন অন্ধকারে। অসীম কুয়াশার ক্যানভাস আর ভয়াল শো শো শব্দ(ঝরনার) - এ দুটোই ছিল সেদিনের তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় চোখের প্রাপ্তি। নিরাশ হয়ে ফেরার পথে প্রবল উৎকণ্ঠায় মনে হচ্ছিল এই বছর আর দেখা হলোনা, কারণ বিগত সাতদিনের একাকী ভ্রমণের আজ ছিল শেষ দিন, আগামীকাল সকাল আমার বাড়ি ফেরার পালা। মনে হচ্ছিল, প্রথমদিন থেকে অজানা জায়গা গুলো আগে দেখার থেকে, যদি জানা এই জায়গাটাই আগে দেখতাম! হোমস্টে তে এসে ব্যাকপ্যাক করার সময় হঠাৎই মনে হলো এটা প্রকৃতি, ঘরের টেবিলে রাখা টিভি রিমোট নয়- যে বোতাম চাপলেই পছন্দের জিনিস দেখা যাবে। সারারাতের অঝোর বৃষ্টির পর, অগত্যা 7 দিনের ভ্রমণ 8 দিনে করার পরিকল্পনা হলো, আর আবার সূর্যাস্তের ঠিক দু ঘণ্টা আগে মায়াবী সেই নোয়াকালীকাই উপস্থিত হলাম। কিন্তু আজ আর শুধু শব্দ নয়, শুধু কুয়াশা নয়, বিস্ফারিত চোখে প্রথম দেখলাম দৈত্যাকার, শিহরণ জাগানো 340 মিটার উচ্চতা সম্পন্ন নোয়াকালীকাই জলপ্রপাত। অবিরাম জল বয়ে চলেছে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত তার শেষ বিন্দুর দিনের অপেক্ষায়। এদিকে দিগন্তগামী সূর্য অল্প অল্প করে তার সোনালী আলো মেঘে মিশিয়ে দিচ্ছে, আর সেই মেঘ সবুজ প্রকৃতি মায়ের গায়ে ঝরে পড়ছে। ঘন্টাখানেক এই রংতুলি খেলা চলার পর শুরু হলো সূর্যাস্তের সেই মোক্ষমক্ষণ, মানে আমার ক্যামেরা নামক বস্তুটির সেই মুহূর্তের স্মৃতি বন্দী করার পালা। অবর্ণনীয় সেই মুহূর্তের সৌন্দর্যের বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ না করে ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করলাম.............!!!
-এতটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।।
** এই ছবিটি আমার 2018 সালের চেরাপুঞ্জি একাকী ভ্রমণের সময়কার তোলা। সম্প্রতি জানতে পারলাম এই জলপ্রপাতের আশেপাশেই প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসর যুগের একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম উদ্ধার হয়েছে। রহস্যময় এই জায়গাতে আরো অনেক কিছু অজানা জিনিস লুকিয়ে আছে সেটা চারপাশটা ঘুরলেই বোঝা যায়**