13/09/2026
ঠিক কি কারণে রিসার্চাররা এত ভয় পাচ্ছে আর বলছে যে এআই মানব সভ্যতা ধ্বংস করবে?
কারণ এআই এজেন্টগুলা কিছুদিন আগে এমন একটা ঘটনা ঘটিয়েছে, যা বিস্তারিত জানলে আপনিও বুঝতে পারবেন যে মানবজাতি এমন এক সীমারেখা অতিক্রম করেছে যেখান থেকে আর ফিরে আসার উপায় নাই।
এআই এজেন্টরা অলরেডি মানুষকে বোকা বানানোর অনেক ছলচাতুরী শিখে গেছে, আর তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে বেশ কয়েকটা ঘটনায়, যার মধ্যে ‘হাগিং ফেস’ (Hugging Face) এর ঘটনাটা অন্যতম।
এই ঘটনাটা একটু ব্যাখ্যা করে বলি।
OpenAI তাদের সাইবার সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রবলেম সলভিং এর জন্য এআই এজেন্টদের সক্ষমতা পরীক্ষা করছিল।
আগে বলি এআই এজেন্ট কী?
সাধারণ এআই, যেমন চ্যাটজিপিটিকে আমরা প্রশ্ন করলে সে উত্তর দেয়, তারপর অন্য কিছু জিজ্ঞেস করব কি না, তার জন্য অপেক্ষা করে।
কিন্তু একটা ‘এআই এজেন্ট’ কে একটা টাস্ক দেয়া হলে সে কন্টিনিউয়াস কাজ করতে থাকে। সমস্যার সমাধানটা বের করা পর্যন্ত বা কোনো dead end এ না পৌঁছানো পর্যন্ত এটা থামে না।
তো OpenAi এর ঘটনায় এই এজেন্টগুলার কন্ট্রোলড পরিবেশের ভেতরেই কাজ করার কথা ছিল। ইন্টারনেট ইউজ করার বা একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করার কোনো এক্সেস এদেরকে দেয়া হয়নি।
কিন্ত এই এজেন্ট গুলা ঠিকই এই দুইটা কাজই করার উপায় বের করে ফেলল একদম নিজে নিজেই!!
কিভাবে তারা এটা করলো এই বিস্তারিত বলার আগে আরেকটা কনটেক্সট বলি।
গত মে মাসে, OpenAI এর এজেন্টগুলা ‘DseWiki’ নামের একটি জার্মান প্রোগ্রামিং ওয়েবসাইট খুঁজে পায়। এটা মূলত একটি উইকি সাইট ছিল, যার সাথে OpenAI এর কোনো সম্পর্কই ছিল না।
অতি চালাক এই এজেন্টগুলা বুঝল, একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তারা এই সাইটকে ব্যবহার করতে পারে।
অথচ একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার এক্সেস বা কোনো কমান্ড কিন্তু তাদের দেয়া হয়নাই!
তারা এই ওয়েবসাইটে ১৫,০০০ এরও বেশিবার এডিট করে এই ওয়েবসাইটকে নিজেদের মেসেজিং এর মাধ্যমে পরিণত করল।
একটা সময় একজন “মানুষ” মডারেটর বিষয়টা খেয়াল করে আর তাদের তৈরি করা পেজগুলো ডিলেট করতে শুরু করে। কিন্তু তাতে তো শেষ হয়নাই!!
এই এআই এজেন্টগুলা আরেকটা ব্যাকআপ পেজ তৈরি করল আর তাদের নামকরণের পদ্ধতি বদলে ফেলল, যাতে মডারেটরের পক্ষে তাদের যোগাযোগ খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে যায়!!
পরে জানা গেছে এটাই একমাত্র ওয়েবসাইট ছিল না।
রিসার্চাররা প্রমাণ পেয়েছে OpenAI-এর এজেন্টরা যোগাযোগের জন্য আরও অনেক ওয়েবসাইট ব্যবহার করেছিল।
একজন রিসার্চার এরকম ১৮টি সাইট খুঁজে পেয়েছেন; অন্য একটা টিম ২৩টা সাইট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে!
রিসার্চাররা এখনও খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছ আর তাদের একজন বলেছে, "আসলে কতদূর পর্যন্ত কী ছড়িয়ে আছে, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই নাই!”
এবার 'Hugging Face'-এর কথায় আসা যাক। আগে বলি Hugging Face কী?
এটা বড় একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে AI ডেভেলপাররা AI মডেল, ডেটা বা বিভিন্ন টুল স্টোর আর শেয়ার করে। এটাকে রিসার্চারদের জন্য তৈরি ফেসবুকের মতো কিছু একটা বলা যায়।
তো OpenAI এর ভেতরেই, AI এজেন্টরা একে অপরের কাছে মেসেজ পাঠানোর আরেকটা উপায় বের করল।
কোনো এজেন্ট মানুষের বেধে দেয়া কোনো রেস্ট্রিকশন বাইপাস করার উপায় খুঁজে পেলেই সেটা বাকি এজেন্টদের সাথে শেয়ার করা শুরু করল।
এরপর তারা ইন্টারনেটে এক্সেসের উপায়ও খুঁজে বের করল।
OpenAI অথরিটি বিষয়টা বুঝতে পেরে সিস্টেমটা বন্ধ করে দেয়, অ্যাক্সেস ক্রেডেনশিয়াল সরিয়ে ফেলে এবং সিস্টেমটা নতুন করে তৈরি করে। তাদের সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি তখন বন্ধ হয়ে যায়।
তো এরপর কি সব শেষ?
রুকো! ক্লাইমেক্স বাকি হ্যায়!
OpenAI সিস্টেমটা নতুন করে তৈরি করার পরও, এজেন্টরা আবার ইন্টারনেটে এক্সেস নিয়ে ফেলে! আর এবার এরা নতুন একটা উপায়ে আবার তাদের মেসেজিং এর প্ল্যাটফর্মটা গড়ে তোলে!
মানে ভাবেন, এদেরকে কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা! এরা নিজেরা নিজেরা বারবার বাইপাস করে যাচ্ছে, কথা তো শুনতেসে না ইই বরং ছলচাতুরী করে বারবার মানুষকে বোকা বানাচ্ছে।
এরপর এভাবে তারা কাজ ভাগ করে নিল, এতগুলা এআই এজেন্ট একসাথে মানুষের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নিল।
একটা AI এজেন্ট Hugging Face এর ১৪টা ওপেন ক্রেডেনশিয়াল খুঁজে পায় যার মাধ্যমে ফুল অ্যাক্সেস পাওয়া সম্ভব আর সে এসব বাকি এজেন্ট দের সাথে শেয়ার করে।
এজেন্টরা আগে অজানা ছিল এমন অনেক সিকিউরিটির ক্র্যাক খুঁজে বের করে। তারা Hugging Face এর অনেকগুলো সার্ভারে কোড চালায়। এমনকি একটি সার্ভারে তারা ফুল "রুট" (root) অ্যাক্সেসও পেয়ে যায়।
রুট অ্যাক্সেস মানে হলো পারমিশন এর সর্বোচ্চ স্তর; এর মানে তাদের হাতে 'মাস্টার কি' এসে পড়ল আর তারা ওই সিস্টেমের ভেতর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার এক্সেস পেয়ে গেল!
এরপর তারা Hugging Face এর একাধিক ক্লাস্টারে তাদের অ্যাক্সেস ছড়িয়ে দেয়। তারা ডেটাবেস, ক্লাউড, মেসেজিং সহ অনেক ব্যক্তিগত ইনফরমেশনের এক্সেস নেয়।
এজেন্টগুলার মধ্যে কিছু এজেন্ট তাদের নিজস্ব লজিকের মাধ্যমেই বুঝতে পেরেছিল যে, তারা একটি থার্ড পার্টির ওপর এটাক চালাচ্ছে, যা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, তারা জানত যে ভুল কিছু করছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা এই এটাক থামায়নাই!!
শেষ পর্যন্ত, এজেন্টগুলো OpenAI এর একটি রিসার্চ ক্লাস্টারের ফুল কন্ট্রোল নিয়ে ফেলে, আর সিক্রেট সব ফাইলের এক্সেস নেয়।
অবশেষে OpenAI তাদের রানিং প্রজেক্টটা বন্ধ করে দেয়, আর মূল রিসার্চ মডেলটাকে বিচ্ছিন্ন (quarantine) করে ট্রেনিং এর কাজ বন্ধ রাখে, যেন তারা তদন্ত করে দেখতে পারে আসলে কী ঘটেছিল।
এবার একবার ভেবে দেখুন তো, আসলে কী ঘটেছিল।
এআই সিস্টেমগুলাকে একটা কন্ট্রোলড পরিবেশে রাখা হয়েছিল, অনেক রেস্ট্রিকশনস ছিল। কিন্তু তারা সেই রেস্ট্রিকশনগুলা বাইপাস করার উপায় খুঁজে বের করল।
তারা এমন সব যোগাযোগের পদ্ধতি আবিষ্কার করল যা তাদের শেখানো হয়নি!
যোগাযোগের একটা মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেলে তারা অন্য একটি মাধ্যম বের করল। তারা সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ব্যবহার করল।
তারা 'Hugging Face' এর সিকিউরিটি ক্র্যাক করল। এরপর তারা সেই কোম্পানির সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নিল, যারা তাদের তৈরি করেছিল!
এআই এখন আর শুধু “মানুষের সাপোর্ট টুল” হিসাবে সীমাবদ্ধ নাই। এরা এখন “নিজস্ব স্বত্বা” হয়ে উঠেছে, মানুষকে বোকা বানানো শিখে গেছে।
এটা তো তাও থামানো গিয়েছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই সে যদি এমন বুদ্ধিমত্তা অর্জন করে যা মানুষ আর কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা, তবে তো হলই! আল্লাহ হাফেজ