Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী

Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী কল্পনা গুলো কে লিপিবদ্ধ করার সামান্য একটু চেষ্টা 🌷।।

11/02/2026

আমি কি রানিং গল্পটা কন্টিনিউ করব?? নাকি অনুগল্প লেখা শুরু করব🙂(গালি না দিয়ে পরামর্শ দিন 🥲)🫶

~ভালোবাসার এই উপন্যাসে তুমি নামক চরিত্রের আগমনের পর আর কারো জন্য ভালো লাগা টুকুও জম্মাবে নাহ"💝🕊️~ ুনছো_ভালোবাসি  #লেখিকা...
27/01/2026

~ভালোবাসার এই উপন্যাসে তুমি নামক চরিত্রের আগমনের পর আর কারো জন্য ভালো লাগা টুকুও জম্মাবে নাহ"💝🕊️~

ুনছো_ভালোবাসি
#লেখিকাঃ তানিয়া মাহি

21/01/2026

বই:হাওয়াই মিঠাই
লেখিকা:তামান্না ইসলাম শিমলা

প্রচ্ছদ টা কেমন খেয়ে ফেলার মতো নাহ...??🤌😩৩ নাম্বার পিক টা দেখে এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল ফুলটা বই থেকে ছিটকে বেরিয়ে ...
14/01/2026

প্রচ্ছদ টা কেমন খেয়ে ফেলার মতো নাহ...??🤌😩
৩ নাম্বার পিক টা দেখে এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল ফুলটা বই থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসছে 👀।।🌹

("লেখালেখি চাঙ্গে আমি বাসি কাঙ্গে🧛‍♀️🧛‍♀️।" )

#হাওয়াই_মিঠাই 😋
োকা😬

31/12/2025

বই:তোর দহনের অগ্নিশিখা
লেখিকা:জুনাইয়া জিনু
ভয়েস :রেজওয়ানা আফরিন মাহী

#রিভিউ #তোর_দহনের_অগ্নিশিখা_রিভিউ #লেখিকা_জুনাইয়া_জিনু
Zunaiya Zinu

 #গল্প_রঙ্গীলা_মন  #কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী  #পর্বঃ১০এক মুহূর্তের জন্য যেন নিজের কান কে বিশ্বাস কর...
10/12/2025

#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী
#পর্বঃ১০

এক মুহূর্তের জন্য যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না রাত।সিজান কি সত্যিই তার নাম উচ্চারণ করেছে নাকি,সে অতিরিক্ত ক্রাশ খাওয়ার ঠেলায় কানে বেশি শুনলো। ঠিক বুঝে উঠতে পারল না সে, তার আগেই গমগম কন্ঠে আবার ভেসে আসলো,,,

"ইবরাত আয়াত ??

স্যারের মুখে রাতের নাম শুনে আতকে উঠলো রুহি।সে শুনেছে সিজান স্যারের রাগ ভয়ংকর আর সে এও খুব ভলো করেই জানে যে, পরীক্ষার খাতা দেওয়ার সময় ঠিক কি কি কারণে টিচারা রাত কে সামনে ডাকতে পারে ।

"কিরে,, তোর ক্রাশ তোকে সামনে ডাকছে, আর তুই এমন ভেবলার মতো তাকিয়ে আছিস কেন? না যেয়ে??

আদ্রিতার কথায় ঘোর কাটলো রাতের। সে এতক্ষণ ইহজগতে ছিল কিনা সন্দেহ। ভাবনার অতল গহবনে সিজান কে নিয়ে ডুব দিয়ে ছিলো বোধহয়। ভাবনার সুতো ছিঁড়তেই তরাক করে উঠে দাঁড়ালো সে।তারপর চঞ্চল হরিণী মত দ্রুতগতিতে পা চালিয়ে চললো সিজানের দিকে। সিজানের সামনে এসে দাঁড়ানো মাত্রই সিজান কপাল কুঁচকে সন্দেহ মিশ্রিত কন্ঠে প্রশ্ন করল,,,

" তুমি ইবরাত আয়াত?? "

"জ্বি।

মিনমিনে কন্ঠে উত্তর করলো রাত। তার উত্তরে সিজান এক পলক তাকালো তার দিকে তারপর আবারও হাতে থাকা রাতের খাতার দিকে মনোযোগী হলো সে পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে কিছুটা রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,,,

" চাহিদা মানে আকাঙ্ক্ষা আর আকাঙ্ক্ষা মানে চাহিদা" হোয়াট রাবিস ইজ দিস। "আমি তোমার পেপার না দেখলে কখনো বিশ্বাসই করতাম না যে একজন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট এতটা মেধা শুন্য হতে পারে। যে সে চাহিদার সংজ্ঞা টাও ভুল ভাল লেখে।"আম জাস্ট সারপ্রাইজড।"

সিজানের কথা শুনে ক্লাসে উপস্থিত সকলে উচ্চ শব্দের হেসে উঠলো। কিন্তু এত শব্দের মধ্যেও কোনো হেলদোল হলো না রাতে।সে সেই শুরু থেকেই ভ্যাবলার মতো একধানে তাকিয়ে আছে সিজানের মুখ্যশ্রী পানে , সে পারছে না টুপ করে সিজানকে গিলে ফেলতে।

"স্টপ নয়েস...

সিজানের উচ্চকণ্ঠের ধমকে কেঁপে উঠল ক্লাসে উপস্থিত সকলে।তার সাথে সাথে ভাবনার জগত থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসলো রাত। ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে। সিজান ফিরে তাকালো রাতের দিকে, হাতের খাতা এগিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করল,,,

"কম বেশি প্রতিটা টিচার তোমার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বাট হুয়াই?? এক্সাম পেপারে মনগড়া কাহিনী কেন লিখো? কি প্রবলেম তোমার??

"আসলে,,আ,,আসলে স্যার,,

" আসলে,আসলে কি?

"ছোট থেকে সব টিচাররা বলে এসেছে, মুখস্ত পড়ার কোন দাম নেই। মুখস্ত পড়া কখনো কাজে লাগে না।পড়া সব সময় বুঝে পড়তে হয়।বুঝে পড়লে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগে।মুখস্ত পড়লে লাগেনা।

"ঠিকই বলেছেন উনারাও কিন্তু এইসবের সাথে তোমার এক্সাম পেপারের কি সম্পর্ক??

" আমি তো সেই জন্যেই মুখস্ত কোন উত্তর লিখি নাহ। যা লিখি তাদের কথার মান রেখেই বুঝে লিখি। নয়তো বা আমি কি পারতাম না বলুন ঐসব মুখস্ত করে লিখতে,পারতাম তো। কিন্তু আমি লিখিনি শুধু টিচার্স দের কথার সম্মান রাখতে।

বড়ই ভোলাভালা মাসুম মুখবয় নিয়ে একটা পর একটা কথা সাজিয়ে বলে চলেছে রাত। ওর মুখবয় ও কথার টান শুনে যে কেউই বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ক্লাসে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হবে তো দূর তারা পারছে না এখন এখানেই শুয়ে গড়াগড়ি খেয়ে হাসিতে লুটিয়ে পড়তে। কারণ এটাই প্রথমবার নয় এই ডায়লগ রাত কতবার কত টিচার দের যে বলেছে, তা গণনার বাইরে।

"আসলে আমি গুরুজনদের খুব বেশি শ্রদ্ধা করি তো তাই তাদের বলা কোন উপদেশ অমান্য করতে পারিনা।

রাত এর কথা শেষ হাওয়া মাত্রই একসাথে রুহি, আদ্রিতা ও ফাহিম নিজেদের কপাল চাপড়াতে লাগলো আর মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগলো "এই মেয়েটা আর মানুষ হলো না " আদ্রিতা এক কাঠি উপরে গিয়ে রুহির কানে কানে ফিসফিস করে বলল,,

"মানতে হইবো মামা আমাদের রাত একটা ঝাক্কাস জিনিস মাইরি। আমি তো ভাবছিলাম ওর ক্রাশের সামনে যাইয়া লজ্জাবতি লতার নেয় লতিয়ে পড়বে ও। তারপর স্যারের করা করা কথা শুনে টলমল চোখে ফিরে আসবে আমাদের কাছে। পরে বুকে পড়ে হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলবে "উনি আমার সাথে এমনটা করতে পারল!ওনার কি একবারও কলিজা কাঁপলো না।"

আদ্রিতার কথায় বিরক্তিতে কপাল কুচকালো রুহি।বিরবিরিয়ে বলল ,

"ভাবার আর মানুষ পেলি না।যে প্রত্যেক পরীক্ষার পর লজিকহীন কথা লজিক্যাল বানিয়ে টিচারদের বলে বলে মাথা ঘুরিয়ে ফেলে তার থেকে এই সামান্য উচ্চকণ্ঠে বলা কথায়, কান্নাকাটি আশা করিস কিভাবে তুই! আশ্চর্য! চিনিস না ওকে!!

"সব টিচার আর সিজান স্যার কি এক হলো নাকি! সে তো ওর ক্রাশ তাই ভাবলাম,,, ......

এদিকে রাতের কথায় আরও খানিকটা কপাল কুঁচকে গেল সিজানের। সে ইতিমধ্যে কয়েক জন টিচারের কাছে ইবরাত নামের এই মেয়েটির নামে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছেন, ভুলভাল কার্যক্রম ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা জন্য। এখন সামনাসামনি কথাবার্তায় সে নিশ্চিত হলো যে এই মেয়ের নামে করা প্রত্যেকটা অভিযোগ সত্য। কিন্তু এই মেয়ে যদি ভেবে থাকে প্রত্যেক টিচারের মতো সিজান কেউ ঘোল খাইয়ে বেঁচে যাবে তাহলে তা তার জন্য সবচেয়ে বড় বোকামি হবে। কারণ স্টুডেন্ট যদি চলে ডালে ডালে তাহলে সিজান চলে পাতায় পাতায়। ভেবেই চোয়াল শক্ত হলো সিজনের,সে ভ্রু জোড়া নাড়িয়ে বঙ্গাত্মক কন্ঠে প্রশ্ন করলো ,,

"আচ্ছা,, এতই ভক্তি গুরুজনদের প্রতি, যে তাদের কোন কথাই তুমি অমান্য করতে পারো না?

" জ্বি

"ওকে। তোমার টিচার হওয়ার সুবাতে আমিও তোমায় গুরুজন। রাইট??

" জ্বি

"তার মানে তুমি এখন আমার বলা প্রত্যেকটি কথা মেনে নিয়ে তা পূরণ করবে?

" জ্বি

"ওকে ফাইন তো কানে ধরো আর সশব্দে ক্লাসে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীদের কে সাক্ষী রেখে আমার কাছে প্রমিস কর যে "নেক্সট কোন এক্সাম পেপার এ তুমি উল্টোপাল্টা বা মনগড়া কোন কিছু লিখবে না।

" জ্বি"...মা,,মানে ক,,কি!!!

এতক্ষণ যাবত এক ধ্যানে সিজানের মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থেকে, সিজানের প্রত্যেকটি কথায় শুধু জ্বি জ্বি উচ্চারণ করছিল রাত। কিন্তু হঠাৎ ক্লাসে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থীর উচ্চ শব্দের হাসি শুনে, সজ্ঞানে ফিরে আসে রাত। এবং সে কি মারাত্মক ভুলটাই না করেছে তা বুঝতে পারে। তারপর সাফাই গাওয়ার সুরে আমতা আমতা করে বলে, ,

"আসলে স্যার,, না মানে,, আসলে,,

" আসলে নকলে কিছু শোনার মুড নেই আমার ইবরাত। যা করতে বলছি তাই করো ফার্স্ট। তোমার একার জন্য বাকি কাজ ফেলে রেখে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না। আমার এত বেশি টাইম নেই যা তোমার পেছনে ব্যয় করবো আমি । "

সিজানের কঠোর কন্ঠস্বর শুনে, রাতের মাথায় প্রথম যে কথাটি আসলো তা হলো "আমার একার জন্য আপনি শুধু পাঁচ মিনিট না স্যার, আমার এই একার জন্য আপনি একদিন সারা জীবন অপেক্ষা করতে রাজি থাকবেন, দেখে নিয়েন। "

মনে মনে এত কথা বিড়বিড় করলেও মুখ ফুটে বের হলো,,

"আমি যদি কানে ধরি তাহলে তো আপনার অপমান হবে স্যার। আমি আপনার এক নাদান শিক্ষার্থী হয়ে আপনার অপমান কি করে করি বলুন??

রাতের কথা শেষ হওয়া মাত্র সামনের ব্রেনচের একজন মেয়ে শিক্ষার্থী বলে উঠল,,

"আরে বোকা নাকি তুমি! স্যার তোমাকে কানে ধরতে বলেছে এখন তুমি যদি কানে না ধরো তাহলে স্যারের অপমান হবে। কানে ধরলে তো অপমান হবে না। তার কথার মান রক্ষা করা হবে।

মেয়েটির কথা শুনে রাত আবারো ঘুরে তাকায় সিজানের দিকে, যে এখনো তাকিয়ে আছে তারি পানে।রাত চোখ দুটো খানিকটা পিটপিট করে বড় অবোলা কন্ঠে বলল,,

"স্যার, পুরো ক্লাসের সামনে কানে ধরলে তা খারাপ দেখায় না?আমি পরে না হয় সবার আড়ালে কানে ধরবো ??

"না কোন খারাপ দেখায় না,যার যেমন কর্ম তার তেমন শাস্তি পাওয়ার দরকার। তোমাকে যা বলেছি তা করো ফার্স্ট আর একটাও বাজে কথাও যেন তোমার মুখে না শুনি, আন্ডারস্ট্যান্ড।

" জ্বি

"নাও, ফাস্ট কানে ধরো।

সিজানের কথায় রাত অসহায় মুখ নিয়ে পুরো ক্লাসে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। তারপর আবার দৃষ্টি এনে স্থির করে সিজানের উপর। রাত কে এদিকে তাকাতে দেখে কপাল কুঁচকে আবারো সশব্দে ধমক দেওয়ার মতো করে বলে ওঠে,,,

"কুইক।

সিজনের ধমকে তাড়াহুড়ো করে দুই হাতে কান চেপে ধরল রাত। সাথে সাথেই পুরো ক্লাস স্তব্ধ হয়ে গেল। শিক্ষার্থীদের যেন চোখগুলো কোটোর থেকে বের হয়ে যাবে এমন জোঘার হল । আর সিজান নিজে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে কেউ তার বাক্য শক্তি লুট করে নিয়ে গেছে। এক ধ্যানে রাতের দিকে তাকিয়ে পাথর মানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে সে।

আর রাত সে বড়ই মাসুম মুখোময় নিয়ে তাকিয়ে আছে সিজানের দিকে, যেন সে কিছুই বোঝেনা। দুহাতে এখনো দু কান ধরে রেখেছে সে কিন্তু তা তার নিজের নয় বরং সিজানের,,,,

~চলবে।

 #গল্প_রঙ্গীলা_মন  #কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী  #পর্বঃ৯"কি আশ্চর্য! আজকে সূর্য দক্ষিণ দিকে উঠেছে নাকি...
22/11/2025

#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী
#পর্বঃ৯

"কি আশ্চর্য! আজকে সূর্য দক্ষিণ দিকে উঠেছে নাকি! রাত মামুনি আপনারা এই খানে কি ভাবে?? ফাস্ট বেঞ্চ কে লাস্ট ব্রেঞ্চ ভেবে বসে পড়েছেন আপনারা তাই নাহ??

" স্যার,,,, আমরা কি ফার্স্ট বেঞ্চে বসতে পারি না নাকি!!সবার এত আশ্চর্য হওয়ার কি আছে বুঝলাম না।আপনারা টিচার রাই তো সবসময় আমাদেরকে ফাস্ট বেঞ্চে বসতে বলেন, আজকে যেই বসেছি, অমনি আপনারা বুলিং শুরু করেছেন.. এরকম করলে কিন্তু আমরা আর সামনে বসবো না বলে দিলাম।।

শাহ আলম স্যারের কথায় অভিমানী কন্ঠে উত্তর করল রাত। ওরা কখনোই ফার্স্ট বেঞ্চ তো দূরের কথা লাস্ট ব্রেঞ্চ ছাড়া অন্য কোনো বেঞ্চে বসে না। ওদের এই এক বছরে কোন টিচার অন্য ব্রেঞ্চে বসাতে পারেনি, যদিও কোন টিচারের জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে বসেছে তবেও ওই ক্লাস করে আবার পেছনে চলে গেছে। আজকে নিজ উদ্যোগে ওদের ফার্স্ট বেঞ্চে বসাটা ঠিকঠাক কেউই হজম করতে পারছে না।

"আচ্ছা ঠিক আছে, ঠিক আছে, বসো, তোমাদের যে ব্রেঞ্চে মন চায় সেই ব্রেঞ্চে বসে ক্লাস করো।

শাহ আলম স্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে, নিজের লেকচার শুরু করলেন। ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ রুহি,রাতের কানে ফিসফিস করে বলল

"সত্যি করে বলতো মামা, কাহিনী কি??এনে বইলি কেন??

"হরে,এনে আমার বসতে একটুও ভালো লাগতেছে না। মনে হইতেছে স্যার আমার কপালের উপরে আইসা পড়বো। "আদ্রিতা সরল গলায় রুহির সঙ্গ নিল।

"এইখানে বসলে সিজান স্যারকে একদম সরাসরি দেখা যাবে। কেন রুপ ভেজাল ছাড়া। তাকে একদম চোখের সামনে দেখতে পাব তাই,,, "রাত মহাচ্ছন্ন গলায় প্রতি উত্তর করল ওদের প্রশ্নের।

" কি,,, তুই শুধু মাএ স্যার রে দেখতে সামনে বসছিস । হায় আল্লাহ,মামা,, তুই তো শেষ, এক্কেবারে শেষ স্যারের প্রেমে।

"ধুর কিসের প্রেম?আমি কই প্রেমে পড়লাম?

"প্রেম নয় তো কি? প্রেম না থাকলে দেখার জন্য এত উতলা হয়েছিস কেন??

" জানি না রে,,, তারে শুধু দেখতে মন চায়। কেন মন চায়,কিসের জন্যে মন চায়, আমি কিছুই জানি না, শুধু জানি তারে শুধু দেখতে মন চায়।।

রাতের কন্ঠে কিছু একটা ছিল, যা এতক্ষণ ধরে মজা করতে থাকা রুহি আর আদ্রিতা কে বাক্যহারা করে দিয়েছে।

"দোস্ত আর ইউ ওকে নাহ?? মানে তুই কি কোন ভাবে স্যারের প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিস??

"আমি কিছু জানি না দোস্ত। কিছু বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে। কালকে স্যারকে দেখার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও আমার মাথা থেকে স্যারের কথা বের হয়নি। বারবার শুধু স্যারের মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

"তার মানে শেষ পর্যন্ত তুই স্যারের প্রেমে পড়লি। ও মাই গড...।"আদ্রিতা আকাশ থেকে পড়ার ভান করে বলল।

" আমি জানি না,,,,

"জানি না মানে....

"সাইলেন্স,,,

রুহি কথা শেষ করার আগেই থমকে উঠলেন স্যার। স্যারের ধমকে ওরা চুপচাপ ক্লাসে মনোযোগী হলো। পরপর দুটো ক্লাস কমপ্লিট করে,টিফিন টাইমে ওরা বেরিয়ে আসলো ক্লাস রুম থেকে। ক্যান্টিনে যাওয়ার সময় ফাহিম দৌড়ে আসলো ওদের কাছে, এতক্ষণ ও ওর ছেলে ফ্রেন্ডদের সাথে ছিল। এসেই হুলুস্তর কাণ্ড বাজিয়ে বলা শুরু করল,,,

"মামা ওই মাইয়াটারে নিয়ে কিছু ভাবছোস?? কিছু তো কর,,,

" কি করবো হ্যাঁ,দুইজন দুইটার লাইগা পাগল হইছস। কোনটা রে রাইখা কোনটার দিকে ফিরে তাকাবো। কোনটার সেটিং আগে করাবো সেটাই তো বুইঝা পাইতেছি না। "রুহি বিক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল।

"স্যারের সাথে সেটিং করা তো আর চারটে খানি কথা না, বড়ই ঝামেলার আর কষ্টসাধ্য হবে বিষয় টা, সময়ও লাগবে।তাই আগে ফাহিমের সেটিং করা যেতে পাবে।

আদ্রিতা ভাবুক সরে প্রতি উত্তর করল। তার কথায় সকলেই সহমত পোষণ করে।এবং ভাবতে থাকে ওই মেয়েটাকে ঠিক কিভাবে প্রপোজ করা যেতে পারে।ভাবতে ভাবতে ওরা ক্যান্টিনের এক কোনার টেবিলে গিয়ে বসে।ফাহিম আর রুহি যায় সকলের জন্য কফি আর হালকা খাবার আনতে।ভিরের মধ্যে সবার না যাওয়াই ভালো, তাই প্রতিদিন যেকোনো দুইজন গিয়ে সকলের জন্য খাবার নিয়ে আসে।খাবার নিয়ে আসা মাত্রই ওরা চারজন টেবিলে গোল হয়ে বসে খেতে লাগলো, খেতে খেতে ওদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা চলতে লাগলো,,

" আচ্ছা, মেয়েটা সম্পর্কে আর কোন খবরা-খবর পেয়েছিস, কোথায় থাকে,নাম,বা বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা, সামথিং লাইক কিছু?? "রাত ফাহিম কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল।

"হুম,, নাম হলো মারিয়া, বাসা ঝড়কার কোথায় একটা। আর যতটুকু খোঁজ লাগিয়ে জানতে পারলাম বয়ফ্রেন্ড নেই।

"ও ও ও মারিয়া এ তুনে কেয়া কিয়া,, ফাহিম কা দিল চুরালিয়া,, মারিয়া য়া য়া য়া মারিয়া,, 🎶

ফাহিমের কাছ থেকে নাম জানার পর ওরা তিনজনই ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে টেবিল থাপড়িয়ে থাপড়িয়ে সুর তুলে গেয়ে উঠলো....। ওদের গান শুনে ফাহিম লজ্জা লজ্জা ভাব করে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল, তারপর বিড়বিড় করে বলল,,,

"অমন কইরা বইলো না গো,, মোর সরম করে,,,,।

" আাা হা গো,,"

ওরা সকলেই উচ্চশব্দে হেসে উঠলো ফাহিম আর রাতের অভিনয়ে। হাসাহাসির মাঝখানে হঠাৎ রাতের চোখ গেল ঘড়ির দিকে টিফিন টাইম শেষ হওয়ার আর ২ মিনিট বাকি আছে। এতে তার কিছু যায় আসে না, কারণ সবগুলো ক্লাস করার মত স্টুডেন্ট ওরা না।কিন্তু হঠাৎ করে কিছু একটা মাথায় আসতেই রাত হাসি বন্ধ করে সিরিয়াস ভঙ্গিতে সোজা হয়ে বসলো।তারপর নিজের সন্দেহকে যাচাই করার জন্য রুহি কে আস্তে করে জিজ্ঞেস করল,,

"টিফিন শেষে কি ক্লাস রে??

"কি আর ইকোনমিক্স।"রুহি ঘা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল।

কিন্তু রাত সাথে সাথে উঠে দাঁড়ালো,আর কোন কথা না বলেই দৌড়াতে লাগলো বাইরের দিকে । হঠাৎ করে রাতের এই কান্ডে হক চকিয়ে গেল ওরা। ওদের এক মিনিট সময় লাগলো রাতের হঠাৎ দৌড়ানোর কারণ বুঝতে, কিন্তু যখনই মাথায় আসলো ইকোনমিক্স ক্লাস রাতের ক্রাশ সিজান স্যার নিবেন, তখন ওরাও আর কোন দিক না তাকিয়ে সোজা রাতের পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলো।এক দৌড়ে ওরা নিচতলা থেকে তিনতলায় চলে এসেছে।ক্লাসে সামনে আসতে দেখল সিজান স্যার এখনও ক্লাসে আসেন নি, তার জন্য ওরা আস্তে ধীরে ক্লাস প্রবেশ করে নিজ নিজ সিটে বসলো।

"ভাই তুই কি নিজের সাথে সাথে আমাদের কেউ মারতে চাইছিস। দৌড়াতে দৌড়াতে আমার জীবন শেষ। কবে যেন তোদের পাগলামি সহ্য করতে করতে আমি টপকায় যামু রেহ,,,"

রুহি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। ওর কথা শুনে আদ্রিতা রাতের দিকে ঘুরে বসে সিরিয়াস মুখ নিয়ে প্রশ্ন করল।

"এভাবে দৌড়ানোর কোন মানে হয়, রাত। আসলে তুই চাইছিস টা কি বলতো..??

আদ্রিতা কথা শুনে রাত গুন গুন করে গেয়ে উঠলো,,,

🎶এমন নিদানের দিনে বিনীত প্রার্থনা গো
লক্ষ-কোটি ভুল আর ত্রুটি করিও মার্জনা গো
শোনাইবো তাহারে আজ, করেছি বাসনা গো
ঐরাবতের হৃদয় হতে ক্ষুদ্র এ রচনা
আমি কী করিবো, কোথায় যাবো
কোন সাধনে পাবো গো
আর একটি বার তাহারি-ই দর্শন..!
আর একটি বার তাহারি-ই দর্শন..!
কোন বাদনে বাধিঁ আমি.?
কেমনে তারে রাখি গো....."
তারে ছাড়া রিদয় অচেতন...!🎶

রাতের গানের মধ্যেই তার অপেক্ষায় অবসান ঘটিয়ে ক্লাসরুমে প্রবেশ করলো সিজান।তাকে প্রবেশ করতে দেখা মাত্রই সকল স্টুডেন্ট দাঁড়িয়ে এক জোটে সালাম জানালো। সিজান সবাইকে বসতে বলে নিজের সাথে নিয়ে আসা এক্সাম পেপারগুলো ডিক্সের উপর রাখল। তারপর হঠাৎ খেয়াল করলো সবাই বসে গেলেও সামনের একটা মেয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে আর তার দিকে ভ্যাবলার মত তাকিয়ে আছে। মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই হঠাৎ মনে আসলো এটা কালকের ওই ক্লাসরুমে ঘুমানো মেয়েটা। এতে যেন আরও বেশি বিরক্ত হলো সিজান।

সিজনের কপাল কুঁচকে যেতে দেখে,তার বিরক্তি টা যেন ঠাওর করতে পারলে রুহি।তাই তাড়াতাড়ি রাতের হাত ধরে টেনে ওকে বসিয়ে দিল নিজের সাথে । রাত এখনো এক ধ্যানে সিজানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন ও আর সিজান বাদে আশেপাশে আর কিছুই নেই।

সিজান মনে হয় ওর এই ভাবে তাকানো তে আরো কিছুটা বিরক্ত হলো। কিন্তু তারপরেও ওকে এবং ওর দৃষ্টি কে এভোয়েড করে, ক্লাস শুরু করলো,,

"গুড মর্নিং, এভরিওয়ান।হোপ ইউ আর অবসোলুটলি ফাইন।

আরো কিছু টুকটাক ফর্মাল কথাবার্তা বলে, শিক্ষার্থীদের মাঝে ওদের প্রি টেস্টের এক্সাম পেপার দেতে শুরু করল সিজান। প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে উঠে এসে এক্সাম পেপার নিয়ে যাচ্ছে। একে একে রুহি,আদ্রিতা,ফাহিম খাতা পেয়ে গেল, কিন্তু রাত পেল না। এতে অবশ্য ওর মাথা ব্যথা নেই, ও এখনো এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে সিজানের দিকে। কি এতো দেখছি আল্লাহ জানে। রুহি শেষমেষ বিরক্ত হয়ে না পেরে বলে উঠলো,,,

" ভাই এইবার থাম। বেচারার তো তোর নজর লেগে পেট খারাপ হয়ে যাবে।

রুহির কথায় বিরক্ত হলো রাত। তার নজরে পেট খারাপ হতে যাবে কেন আজব। সে কি খারাপ ভাবে,বা কুনজর দিয়েছে নাকি,যে পেট খারাপ হতে যাবে।রাত প্রতিবাদী কণ্ঠে কিছু বলবে,তার আগে এক গুরু গম্ভীর ভরাট কণ্ঠস্বর শোনা গেল,,

"ইবরাত কে সামনে এসো। কুইক,,

~চলবে

(অপেক্ষা করানোর জন্য দুঃখিত।আমি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু ব্যস্ততার মধ্যেই সময় পার করছি।কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নিয়মিত গল্প দিতে পারবো বলে আশা রাখছি।)

19/11/2025

সারা কলেজ খুঁজেও যখন ইবরাত সিজান কে পায় না,,,
#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী

 #গল্প_রঙ্গীলা_মন  #কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী  #পর্বঃ৮*রাত ১০:৩০"সেই  কেনো?অন্য কেউ কেন নয়??কি এমন ...
19/11/2025

#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী
#পর্বঃ৮

*রাত ১০:৩০

"সেই কেনো?অন্য কেউ কেন নয়??কি এমন আছে তার মধ্যে??

"আমি জানিনা। তাকে যখন ঘুম ঘুম চোখে প্রথমবার দেখেছিলাম তখন মনে হচ্ছিল আমার শিরদাঁড়ায় কোন এক শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। তার শক্ত চোয়াল তার কঠিন ব্যক্তিত্বের সাইন দিচ্ছিল।তাকে দেখার সময় মনে হচ্ছিল সময় কে থামিয়ে দি।তারপর শুধু তাকে দেখে যাই কোন বাধা ছাড়া আর কারো পরোয়া ছাড়া ।

"বাববাহ,, জটিল প্রেমে পড়েছেন দেখি।।

"প্রেম কিনা জানিনা কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়েছিল এই মানুষটা কে দেখে এক জীবন অনায়াসেই পার করে দেওয়া যাবে।।

"হইছে বোইন মাফ চাই।ফিল্মি ডায়লগ দাওয়া বন্ধ কইরা যেয়ে পড়তে বসেন। আসছে খালি দেইখা জীবন পার কইরা দিতে, ন্যাকামির আর শেষ নাই!! "আহনাফ অতি বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠলো।

এতক্ষণ রাত তার হবু ভাবি "ইয়ানা" মানে আহনাফের গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিল ভিডিও কলে,পাশে বসে নিজের ফোনে ব্যস্ত ছিল আহনাফ। ওদের কথায় চরম মাত্রায় বিরক্ত হয়ে উঠে যেতে যেতে বিরক্তি প্রকাশ করে গেল সে ।

" দেখলে ভাবিপু,,দেখলে,, কেমন করে গেল আমার সাথে? মানে আমার ফিলিংস এর কোন দামই নেই ওর কাছে??

"ওর কাছে না থাক। আমার কাছে তো আছে ননদিনী। তুমি বলো তো স্যারটা দেখতে কেমন ছিল??

ইয়ানার প্রশ্নে যেন লাজুকতা ভর করলো রাতের মুখে। লাজুকতা নিয়েই চোখ বড় বড় করে সে বলতে ধরল,,,

"অনেক বেশি সুদর্শন ভাবিপু, অনেক বেশি মানে অনেক বেশি।"ও যেন কোন ঘোরের মাঝে গিয়ে বর্ণনা করতে ধরল,, "সে সুদর্শন, অতিশয় সুদর্শন। তার শক্ত চোয়ালের হালকা চাপ দাড়ি গুলো দেখে তাতে হাত ছোয়ানোর বড় সখ জেগে ছিল আমার। তার বাদামি চোখের সাথে যখন আমার চোখ পড়ে যায় তখন আমি বাধ্য হয়েছিলাম চোখ নামিয়ে নিতে। তার কথাবার্তায় তার হাঁটাচলায় এক আলাদা গম্ভীরতা প্রকাশ পাচ্ছিল। সে যখন লেকচার দিচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল সে সারা জীবন শুধু বলে যাক আর আমি শুধু শুনে যাই। "

"সাংঘাতিক ব্যাপার-স্যাপার তো,,,

✨✨✨

*চৌধুরী বাড়ি

নিজ রুমে ডিবানের উপর বসে একটার পর একটা এক্সাম পেপার দেখে যাচ্ছে সিজান। বাড়িতে আপাতত সে একা। তার একমাত্র ছোট ভাই"সাকুয়াত চৌধুরী সিফাত" ও মা "আমেনা চৌধুরী" গিয়েছেন চট্টগ্রাম, একটা ফ্যামিলি প্রোগ্রাম এটেন্ড করতে কাল-পরশুর মধ্যে ফিরে আসবে। বাবা "শেহজাদ চৌধুরী " নিজ ব্যবসায়ীক কাজে দেশের বাইরে আছে।

একটা নতুন খাতা নিতে নিতে কফির মগে চুমুক দিল সিজান। পৃষ্ঠা উল্টাতে যাবে ঠিক তখনই তার চোখ আটলে গেল ২ নং সৃজনশীলের ক নম্বর উত্তরে। উত্তরটা দু-একবার পড়েও ঠিক হজম হলো না তার। তাই প্রশ্নটা যাচাই করার জন্য পাশে থাকা প্রশ্নপত্র টাতেও একবার চোখ বুলিয়ে নিল। কিন্তু এতে যেন বিরক্তির মাত্রা বাড়লো বয় কমলো না। এক্সাম পেপার টা ঠিক কার তা জানার জন্য প্রথম পেইজে যেতেই চোখ আটকে গেল নামের জায়গায় "" ইবরাত আয়াত "" রোল-২০।

আজকে ক্লাসের সবার পরিচয় নেওয়ার সময় কারো নাম সে ইবরাত শুনেছিল বলে মনে পড়ছে না তার।এখন যেন নিজের উপরেই সে বিরক্ত হলো। এত দুর্বল আইকিউ তো তার না তাহলে কি করে মিস হয়ে যেতে পারলো, নাকি মেয়েটা আজকে আসেইনি।ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করেই তার মনে পড়ল, লাস্ট ব্রেঞ্চের সেই তিনটি মেয়ের কথা যারা পরিচয় দেওয়ার সময় ঘুমুছিল।সিজন মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগল,,

"ওদের মধ্যেই হবে কোন একজনের। এক একটা যে লেভেলের বাঁদর এই কাজ ওদের ছাড়া অন্য কারো হতে পারে বলে হচ্ছে না। "

সে আবারো একবার প্রশ্নটা পরলো তারপর উত্তরটা,,,

প্রশ্ন :চাহিদা কাকে বলে??

উত্তরের লেখা :

"চাহিদা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। যা প্রতিটি মানুষের জীবনেই থাকে। চাহিদার আরেক নাম আকাঙ্ক্ষা। আকাঙ্ক্ষাও সবার জীবনেই থাকে। যেমন :আমার জীবনের আকাঙ্ক্ষা আমি অল সাবজেক্টে পাশ করব। অতএব বলা যায় চাহিদাই আকাঙ্খা আর আকাঙ্খাই চাহিদা। "

একটা শিক্ষার্থী ঠিক কোন মাত্রার গবেট হলে চাহিদার এমন সঙ্গা লেখে তা বুঝে আসলো না সিজানের।আর ইকোনমিক্স এ যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আইসিটি আর ইংলিশের কি অবস্থা। বিরক্তিতে সে আর ওই খাতাটাই দেখল না। ওটা পাশে রেখে অন্যগুলো দেখতে লাগলো,,,

✨✨✨

~সকাল ৭ টা ৩৭ মিনিট

"তোর ক্রাশ সম্পর্কে তো খোঁজখবর নিলাম মামা। "

প্রতিদিন কার মতো আজকেও তিনজন একসাথে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একত্রিত হতেইফাহিম বলে উঠলো ,ওর কথায় হাঁটা থামিয়ে দাঁড়িয়ে পরল রাত। এরপর অতি উৎসাহে লাফিয়ে উঠে বলল,,

"কি? কি জানতে পারছিস মামা। বল,বল।

" প্রায় সবই জানা শেষ। "ফাহিম চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করতে করতে বলল,

"পাট কম নিয়া,সেইসব ডিটেলসে বল। আর তুই কেমনে খোঁজ লাগালি?? "রুহি হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল।

"ফয়সাল (ফাহিমের বড় ভাই)ভাইয়ের বন্ধু ওই স্যার, একসাথেই আমাদের কলেজে পড়তো আগে। ভাইয়াই কালকে বলল নিজে থেকে ওই স্যারের কথা।তারপর আমিও একটু জানার চেষ্টা করলাম,আর ব্যাস সব জেনে গেলাম। "একটু থেমে আবার বলা শুরু করলো,,,

"পুরো নাম "সাফায়েত চৌধুরী সিজান",বাবা মার বড় ছেলে। তার একটা ছোট ভাই আছে, সেও নাকি এইবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে আমাদের কলেজে ভর্তি হয়েছে।নাম হলো " সিফাত "।বাবা মার নাম মনে নেই,কিন্তু শুনেছি স্যারের বাবার নাকি নিজস্ব কারখানা আছে।

"সে না হয় বুঝলাম, এখন বল বেডা কি বিয়ে টিয়ে করে ফেলছে নাকি রিলেশন করে???

" বিয়ে করে নি, তবে রিলেশনে আছে নাকি বলতে পারছি নাহ,,

~চলবে

(ব্যস্ততার কারণে পর্বটা একটু বেশি ছোট হয়ে গেল।🥲 পরবর্তী পর্ব বড় আকারে আসবেন ইনশাআল্লাহ )

 #গল্প_রঙ্গীলা_মন  #কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী   #পর্বঃ৭"তুই সিরিয়াসলি ওই স্যার রে খুজতেছিস??"খুজতেছ...
17/11/2025

#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী
#পর্বঃ৭

"তুই সিরিয়াসলি ওই স্যার রে খুজতেছিস??

"খুজতেছি কিনা জানিনা তবে আর একবার দেখতে চাচ্ছি।

"ভাই সামলাইয়া তুই কিন্তু কঠিন প্রেমে পড়বি কইয়া দিলাম। যদি বেডা বিয়াইত্তা বের হয় তাইলে তুই শেষ ।

রুহির কথায় যেন মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পরল রাতের। তার তো মাথায় আসেইনি যে সিজান স্যার বিবাহিত হতে পারে বা উনি কোন রিলেশনে থাকতে পারে। ও কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,,

"জীবনে ফাস্ট টাইম কারো উপর ক্রাশ খেয়েছি সেও যদি মিঙ্গেল বের হয়, তাহলে এই জীবন রেখে আমি কি করবো?

"ধুর,, তুই ওর কথায় পাত্তা দিস না তো আগে দেখি সব খোঁজ লাগাই তারপর জীবন রাখবি নাকি রাখবি না সেটা ভাবিস।"ফাহিম ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল।

"তা ঠিক আছে কিন্তু, এই স্যার এত তাড়াতাড়ি কোন চুলায় যাইয়া লুকাইল দেখি না কেন?? "আদ্রিতা এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে বলল।

"উনার অফিস রুমে যেহেতু নেই,তাহলে হয় প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে বা টিচার্স রুমে আছে। চল এই দিকটা একটু দেখে আসি।।

ফাহিমের কথায় সবাই সম্মতি জানিয়ে টিচার্স রুমের দিকে হাটা ধরল। এরই মধ্যে রাত আশেপাশে তাকাতে তাকাতে গুনগুনিয়ে উঠলো,,,

🎶পাশে তুমায় না পাইলে বন্ধু
দম যেনো মোর যায় ও বন্ধু
তুমি কই কই রে এ প্রান ও
বুঝি যায় রে,,,,
ও বন্ধু তুমি কই কই রে এ
প্রান ও বুঝি যায় রে,,,,🎶

" এই যে "ভক্কর চক্কর গ্যাং" এই দিকে আসেন।

টিচার্স রুমের সামনে আসতেই,পরিচিত কন্ঠ শুনতেই সোজা হয়ে দাঁড়ালো ওরা। সেলিম স্যার (ইংলিশ টিচার) কে দেখেই মাথা থেকে সব ধরনের প্রেমের আলাপ সালাপ একদম ছিটকে বেরিয়ে পড়ল সকালের। এমনকি রাতেরও যে কিনা সিজান স্যার কে একটু দেখার জন্য তরপাতে তরপাতে চারতালা থেকে নিচে নেমে এসেছে, বন্ধুদের নিয়ে। ওরা জানে স্যার ভিতরে ডাকছে মানেই এক ঘন্টা দ্বার করিয়ে লেকচার দিবে। তার মধ্যে ফ্রি এডভাইস তো আছেই।

সেলিম স্যারের ওদের উপর অধিকার চার ধরনের। প্রথমত উনি রাতের বাবার বন্ধু। তার উপর উনি ওদের ক্লাস-টিচার, সাথে ইংরেজি টিচার। সব থেকে ভয়ংকর যেটা সেটা হলো উনি ওদের গার্ডিয়ান টিচার যেই কারণে ওনি ওদের ভালো মন্দ সব তদারকি করেন। প্রতিটা টিচারের আন্ডারে ১৯ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকে যাদের ভালো-মন্দ,বা যে কোন দিক, সে একজন গার্ডিয়ান এর মত খেয়াল রেখে থাকেন। সেলিম স্যারের আন্ডারে থাকা ২৩ জনের মধ্যে ওরা চারজনও রয়েছে।

"কি হলো ভেতরে এসো..

সেলিম স্যার ওদের এইভাবে দরজার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবারও ডেকে উঠলেন।কথা মতো গুটিগুটি পায়ে স্যারের পাশে দাঁড়িয়ে টিচার্স রুমে উপস্থিত সব টিচারদের উদ্দেশ্যে সালাম দিল ওরা। তারপর ভালো বাচ্চাদের মতো মাথা নিচের দিকে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। দেখে মনে হচ্ছে ভাজা মাছটা ও উল্টিয়ে খেতে জানে না । কিন্তু ওদের এই মাসুম মুখ দেখেও কোন শিক্ষকের ওদের নিয়ে কোন মাথা ব্যথা বা মায়া হলো না। কারণ তারা জানেন এরা শুধু উল্টিয়ে না বরং কাটা সহ পুরো মাছটা আস্ত গিলে ফেলার মতো স্টুডেন্ট।

"ইংরেজি পরীক্ষা কেমন দিয়েছো তোমরা?? খাতা দেখেছো?নাম্বার কত?

সেলিম স্যারের কথা শুনতেই মাথা নিচের দিকে দিয়ে জিভ কাটলো ওরা। কালকে খাতা দেখার ভয়ে ইংলিশ (তৃতীয় ঘন্টা )ক্লাস তাই করেনি ওরা।ক্লাস না করে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিয়েছে পুরোটা সময়।কিন্তু সেটা তো আর এখানে বলতে পারবে না , বললেই তো বাঁশ। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে, রাত ঠোঁট উল্টে মিনমিন করে বলল,,

" আসলে স্যার,,তৃতীয় ঘন্টা শুরুর আগে হঠাৎ করেই অনেক মাথা ব্যথা করছিল ।তাই মিতালীতে বসে ছিলাম একটুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার জন্য। বিশ্বাস না হলে আপনি আয়া আন্টি থেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।"

রাতের টপাটপ বলা মিথ্যা কথা, স্যার বিশ্বাস করলেন কিনা তা ঠিক বোঝা গেল না । কিন্তু তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারও তিনি জিজ্ঞেস করলেন,,

"তা মাথাব্যথা কি একসাথে চারজনেরি করছিল,,??

"আসলে স্যার,,,

"হুম হুম অনেক শুনেছি তোমাদের কথা। এখন পেছনের ওই তাকের উপর থেকে খাতার বান্ডিলটা নিয়ে এসো।।

স্যারের কথা মত পেছনে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে গেল রাত। সেই একই তাক থেকে হয়তো কোনো খাতার বান্ডিল খুঁজছে সিজান।ও আগে থেকেই এই রুমের অন্য সাইডে ছিল। তাকে এই মুহূর্তে এইখানে দেখে, রাত আবারও ঘোরের মাঝে তলিয়ে যেতে নিল। কিন্তু তা আর পাড়লো কই সেলিম স্যার তাড়া দিচ্ছেন বান্ডিল টা নিয়ে আসার জন্য। ধৈর্য হারা হয়ে ফাহিম নিজেই গিয়ে সিজান কে সালাম দিয়ে বান্ডিলটা নিয়ে এসে স্যারের সামনে রাখলো ।

এখন ওরা তিন জন প্রস্তুতি নিচ্ছে অপমান হজম করার জন্য।কিন্তু রাত,, ও মনে প্রাণে আল্লাহকে ডেকে দোয়া করছে যাতে এখনই সিজান এই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। তার একদমই ইচ্ছে নেই ক্রাশের সামনে বাঁশ খাওয়ার। কিন্তু বেচারির কোনো ডাকি যেন আল্লাহ কবুল করলেন না। সিজান ঘুরে এসে ঠিক সেলিম স্যারের পাশের চেয়ারটায় বসলো।

" ওহ,, স্যার বসেন,বসেন। আপনাকে কলেজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দের নমুনা দেখাই।

সেলিম স্যারের কথায় সিজান, ঘাড় ঘুরিয়ে এক নজর ওদের দিকে তাকালো। তারপর নজর ফিরিয়ে তাকালো সেলিম স্যারের হাতে থাকা খাতাগুলোর দিকে যেখান থেকে ইতিমধ্যেই ওদের খাতা খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে স্যার।

রাতের আত্মা তো প্রায় ওষ্ঠাগত।তার মনে হচ্ছে এখনই জান পাখিটা উড়ে যাবে। দাঁত দিয়ে ঠোট চেপে মাথা নিচের দিকে দিয়ে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে সে। পারছে না শুধু মাটির নিচে ঢুকে যেতে। এমনটা নয় যে এটাই প্রথমবার টিচার্স রুমে তাদের অপমান হবে এর আগেও বহুবার এমনটা হয়েছে। কিন্তু আজকে তো সিজান আছে তার ক্রাশ। ক্রাশের সামনে কিভাবে এত বড় বাঁশটা হজম করবে সে। এই ভেবে শীতের মধ্যে বেচারির কপালে বিন্দু বিন্দু পানির কোনা জমা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ওদের চারজনের খাতা বের করে পাশে রাখলেন স্যার। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে রসাত্মক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,,

"তা কেমন পরীক্ষা দিয়েছো?? পাস করবে তো??

"ইনশাআল্লাহ"

স্যারের প্রশ্নের সাথে সাথেই চারজন প্রতিবারের মতো করে এবারও গলাবাজি করে বলে উঠলো।তারপর আবারো জিপ কেটে নিচের দিকে মাথা দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। স্যার ওদের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কি যেন ভাবলেন। তারপর বলে উঠলেন,,,

"নামাজ কালাম পড়িস না নাকি তোদের ইনশাআল্লাহ পড়াতেও কিছু হইল না দেখি ।। একজন ১৩, একজন ১১, একজন ৭ ও আবার একজন ৪ ও পেয়েছিস।সিজান এর দিকে ঘুরে বললো,, "এর মধ্যেও আবার কাহিনী লুকিয়ে রেখেছে এই বাঁদর গুলো। দেখায় আপনাকে ওয়েট,, "

ওদের চারজনের রোলই পরপর। প্রথমে রুহি তারপর রাত তারপর ফাহিম আর সবশেষে আদ্রিতা।ওদের মধ্যে ইংরেজি তিল পরিমাণ শুধু রুহি একাই পড়ে । বাকি সব রুহির খাতা শুধু কপি মেরে দেয়।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এইবার ইংরেজি পরীক্ষায় গার্ড খুব করাকরি হয়েছে তার জন্য দেখাদেখির খুব একটা সুযোগ হয়নি। যা প্রমাণ করে এই নাম্বারগুলো। না হলে প্রতি পরীক্ষায় ইংরেজিতে একি নাম্বার পায় ওরা চারজন।

সেলিম স্যারের মুখে বিস্তারিত ঘটনা শুনে সিজান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালা ওদের দিকে, যেন চোখ দিয়েই এখন ঝলসে দিবে।আগুনে ঘি ঢালার মতন সেলিম স্যার আবার বলে উঠলেন,,

"এটাতো কিছুই নয় স্যার। এরা ক্ষণে ক্ষণে এমন এমন ঘটনা ঘটায় যা অকল্পনীয়।"

"কি সমস্যা তোমাদের?? তোমাদের নিয়ে এত কমপ্লেন কেন? আর পরীক্ষার খাতার এসব কি অবস্থা! এটা কোন নাম্বার হলো!!

"সরি স্যার,,আর কখনও এমন হবে না,, নেক্স টাইম ইমপ্রুভ করব, সত্যি।।

সিজানের ধমকে, প্রতিবারের মতোই অন্যান্য স্যারদের কে অসহায় মুখ করে বলা কথাগুলো মুখস্ত বলে দিল ওরা।কিন্তু এটুকুও যেন সহ্য হলো না সেলিম স্যারের,,

"এদের কথা আর মুখোভঙ্গি দেখে গলে যাবেন না স্যার, এরা প্রতি পরীক্ষায় প্রতি বিষয় শিক্ষকের কাছে সেম ডায়ালগ দেয়। কিন্তু নেক্সট টাইম আবার এমনই করে। এদেরকে কোনভাবেই সামলানো যাচ্ছে না স্যার। খুবই দায় হয়ে পড়েছে স্যার আমার দ্বারা।কোন শিক্ষক'ই এদের চারজনের দায়িত্ব নিতে চায় না,তাহলে বুঝেন আমি কতটা মহা মুশকিল এ পড়েছি। "

সেলিম স্যার বড়ই হতাশার সুরে বলল। ক্রাশের সামনে এত অপমান আর হজম করতে পারছে না আর রাত। সে বড়ই বিক্ষিপ্ত মনে বিড়বিড় করে স্যারকে অভিশাপ দিয়ে বলে উঠলো,,,

"শালা হারামখোর, তোর জীবনেও বিয়ে হইব না তুই দেখিস।"তারপর তার হঠাৎ মনে পড়লো স্যার তো বিবাহিত, তাই পুনরায় অভিশাপ দিয়ে উঠলো,

"ওরে বাটপার অভিশাপ দিবো বইলা আগেই বিয়ে কইরা লইছোস, বিয়ে হইছে তো কি, তোর বউ তোরে ভাই ডাকবো দেখিস, আপন মায়ের পেটের ভাইরে যেমন মানুষ ভাই ডাকে ঠিক তেমন ভাই ডাকবো। তোর পয়দা করা বাচ্চাগুলা তোরে মামা ডাকবো।এই আমি বইলা দিলাম।"

রাতের অভিশাপ গুলো একটু সামনে বসে থাকা স্যাররা শুনতে না পারলেও, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিন বাঁদর ঠিকই শুনতে পারলো। হাসি আটকানোর জন্য তিনজনই একসাথে খুক খুক করে কাশি দিয়ে উঠলো।

এদের কান্ডে আরো বেশি বিরক্ত হয়ে উঠলেন সেলিম স্যার। তিনি অতি বিরক্তিকর কণ্ঠে বলে উঠলেন,,

"দেখলেন স্যার দেখলেন,, এতকিছুর পরেও যদি এদের বিন্দু পরিমানের গিলটি ফিল হত।

স্যারের কথা শেষ হওয়া মাত্রই ওদের দিকে আবারো রাগান্বিত চোখে তাকালো সিজান। সাথে সাথেই চারজন অসহায় মুখ করে মাথাটা টুপ করে নিচের দিকে নামিয়ে নিল।

''অনেক হয়েছে, এবার যাও ক্লাসে যাও।"

সিজানের বলতে দেরি কিন্তু তাদের সালাম দিয়ে ওদের কেটে পড়তে যেন এক মুহূর্ত সময়ও লাগলো না।

"আপনি এভাবে ওদের ছেড়ে দিলেন স্যার!!এভাবে ছাড় দিতে থাকলে ওরা পরেরবার আরো বাড়াবাড়ি করবে।

সেলিম স্যার বড়ই চিন্তিত কণ্ঠে বললেন।সিজান ওনাকে আশ্বস্ত করার কণ্ঠে বললেন,,

"ওদের চিন্তা আর আপনাকে করতে হবে না।
আজ থেকে ওদের চারজনের দায়িত্ব আমি নিলাম।

~চলবে

 #গল্প_রঙ্গীলা_মন  #কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী   #পর্বঃ৬"হেই লাস্ট বেঞ্চ,স্ট্যান্ড আপ।"কারো উচ্চ কণ্ঠ...
16/11/2025

#গল্প_রঙ্গীলা_মন
#কলমেঃ Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী
#পর্বঃ৬

"হেই লাস্ট বেঞ্চ,স্ট্যান্ড আপ।"

কারো উচ্চ কণ্ঠে দরফরিয়ে উঠল রুহি,পাশে তাকাতেই দেখল রাত আর আদ্রিতা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোচ্ছে। কালকে অনেক রাত পর্যন্ত গ্রুপ কলে কথা বলায় ঠিকভাবে কেউ'ই ঘুমাতে পারেনি। তার উপর সকালে এত হাঙ্গামা করার পর সকলেই বেশ ক্লান্ত ছিল।ক্লান্তিতে বেঞ্চে মাথা রাখার পর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তা ওদের কারোর খেয়াল নেই।

"হেই তোমরা কি কানে শুনতে পাও না!! তোমাদেরকে আমি দাঁড়াতে বলেছি । "

আবারো সেই একই উচ্চ কণ্ঠ কানে আসতেই, তরাক করে সামনে তাকালো রুহি। সামনে তাকাতেই দেখতে পেল একজন অতি সুদর্শন লোক হোয়াইট বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কপাল কুঁচকে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে । রুহিকে হাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে যেন আরও বিরক্ত হলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি। রুহির দৃষ্টি বুঝে সামনে থাকা একটি মেয়ে ফিসফিস করে বলল,,,,

"উনি আমাদের নতুন ভিপি আর ইকোনমিক্স টিচার। একটু আগেই প্রিন্সিপাল স্যার নিজে এসে পরিচয় করিয়ে গেছেন।"

মেয়েটির কথা শুনতেই যেন সব বুঝে গেল রুহি,সাথে সাথেই মাথা নিচু করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। মিনমিনে কন্ঠে বলল,,,

"সরি স্যার।"

"তোমার সাথের দুটো কে ওঠাও। "

স্যারের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই রাত আর আদ্রিতা কে ডাকতে লাগলো রুহি। স্যারের উচ্চ কন্ঠ ও ক্লাসের সবার করা গুন গুন শব্দের কারণে ঘুম হালকা হয়ে এসেছিল আদ্রিতা। রুহির ডাকার সাথে সাথেই চোখ মেলে তাকালো সে।আদ্রিতে তাকাতেই তার কানের কাছে মুখ নিয়ে স্যারের বিষয়ে বললো রুহি।স্যারের পরিচয় শোনা মাত্রই রুহির মতই তরাক করে উঠে দাঁড়িয়ে সরি বলল সে।

"পাশের জনকে ওঠানোর জন্য কি ইনভিটেশন কার্ড পাঠাতে হবে? "

স্যারের কথা শোনা মাত্রই এক ঝটকায় রাতকে দাঁড় করালো রুহি।ঘুমের মাঝেই হঠাৎ এমন হওয়ায়, তাল সামলাতে না পেরে দেওয়ালে ঢোলে পরলো ও।ওর এই অবস্থা দেখে যেনো আরোও কিছুটা কপাল কুঁচকে নিল স্যার। রাত আধো চোখ খোলা অবস্থায় অতি বিরক্তি তে চেঁচিয়ে উঠলো,,,

"কি সমস্যা বাল?? আমি একটু ঘুমাইলেই কি দুনিয়ার সব গজব পরে তোদের উপর।"

রাতের কথায় এইবার রাগে রিরি করতে করতে স্যার, দাঁতের দাঁত চেপে বলল,,,

"আপনাদের ঘুমানোর জায়গা যদি ক্লাসরুম হয়ে থাকে,তাহলে অবশ্যই সব গজব আপনাদের উপরেই পরবে।"

অপরিচিত ঝাঁজালো কণ্ঠ শুনে ঘুম ঘুম চোখে সামনের দিকে তাকালো রাত। রুহি রাতের হাত টেনে তাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করলো এবং কানে কানে বললো তার সামনে স্বয়ং ভিপি স্যার দাঁড়িয়ে আছে।ব্যাস সাথে সাথেই চোখগুলো কটোর থেকে বেরিয়ে আসার জোগাড় হলো রাতের। সব ঘুম যেন পোটলা পুটলি বেঁধে পালালো। বড় বড় চোখে সামনের দিকে তাকাতে যে বাক্যহারা হয়ে পড়ল সে, বিস্ময়ে অপলক তাকিয়ে রইল সামনের দিকে।তারপর হঠাৎ করেই বুকের বা পাশে হাত চেপে ফিসফিস করে বলে উঠলো,,,

"হায়, মে তো মার যাওয়া,,,

তার দিকে তাকিয়ে থাকা ক্লাসের উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থীর তার মিন মিন করে বলা কথা বুঝতে বেশি অসুবিধা হলো না। বরং বোঝার সাথে সাথেই শব্দ করে হেসে উঠলো, কেউ কেউ তো আবার অতি উল্লাসের ব্রেঞ্চে শব্দ করতে লাগলো।

" স্টপ দিস ননসেন্স,এন্ড ইউ, ক্লাসে কেনো ঘুমাচ্ছিলে, ক্লাস কে কি তোমরা বেডরুম পেয়েছ??

ক্লাসের সকলের উচ্চ শব্দে যেনো সজ্ঞানে ফিরলো রাত। একটু আগে কি করেছে তা মনে পড়তেই যেন লজ্জায় মাটিতে মিশে গেল সে। তার উপর এখন স্যারের ধমোকে যেন আরও হকচকিয়ে উঠল সে।তারপর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে অতি মাসুম মুখ করে ঠোট উল্টিয়ে মেন মিনমিনে গলায় বলল,,,

"ক্লান্তিতে বেঞ্চে একটু মাথা রেখেছিলাম স্যার, কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি।"তারপর মাথা নিচের দিকে দিয়ে বলল,, "আই এম সরি স্যার। আর কখনো এমন টা হবে না।

"ওকে, ফার্স্ট টাইম দেখে কিছু বললাম নাহ, বাট নেক্সট টাইম এটা রিপিট হলে অবশ্যই পানিশমেন্ট পাবে বুঝেছ??

স্যারের কথা শেষ হতে না হতেই, ওরা তিনজন একাধারে উপর নিচ মাথা ঝাকাতে লাগলো। যার অর্থ তারা বুঝেছে।

"ওকে,নাউ সিট ডাউন।"

ওরা শান্ত বাচ্চার মতো সিটে বসে পড়লো । ওদের দিকে শেষ আর একবার তাকিয়ে ক্লাস কন্টিনিউ করল স্যার।

"নাউ লেট মি টেল ইউ সামথিং এবাউট মাইসেলফ।আমি "সাফায়েত চৌধুরী সিজান"।তোমাদের নতুন ভিপি এবং ইকোনমিক্স টিচার। আজকে থেকে আমি তোমাদের ইকোনমিক্স ক্লাস নিব,আর এবার তোমাদের প্রি-টেস্ট এক্সাম পেপারও আমি দেখব। যাতে করে, তোমাদের পড়াশোনা সম্পর্কে আমি একটা ধারণা নিতে পারি। "

সিজান নিজের মতো লেকচার দিয়ে যাচ্ছে। আর এই দিকে রাত গালে হাত দিয়ে, এক ধ্যানে তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন তার মাঝে ডুবে যাচ্ছে সে।কারো কোন কথা আদত তার কানে ঢুকছে কিনা তা বলা মুশকিল। সে তাকিয়ে আছে তো আছেই।

যখন সিজান নিজের লেকচার শেষ করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেল। ঠিক তখনই রুহির ধাক্কায় ধ্যান ভাঙ্গে রাতের।

"কিরে কোন দুনিয়ায় হারাইলি!! দেখলি? নতুন আইসা'ই ঘুম ছুটায় দিছে। এই বেটা সামনে কি কি যে করবো, আল্লাহ মালুম।

রুহির কথায় কোনরূপ হেল দোল হলো না রাতে। সে যেন কোন অন্য দুনিয়ায় চলে গেছে, কোন এক কাল্পনিক জগতে।

"কিরে কিছু তো ক?? "রাতের কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে রুহিত ওকে ঝাঁকিয়ে পুনরায় বলল।

ঝাঁকি খেয়ে যেন সজ্ঞানে ফিরল রাত। তারপর হঠাৎ করেই রুহির উপর ঢলে পড়ে গাইতে শুরু করলো,,,

🎶আমি প্রথম দেখে...
পাগল হইলাম,!
মন তো আর মানে,,🎶

~চলবে,,,,

( গল্পটা কেমন লাগছে আপনাদের??? )

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rezoyana Afrin Mahi-রেজওয়ানা আফরিন মাহী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share