24/05/2026
রাতে ভাত খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিল ১৫ বছরের কিশোরী জান্নাতী। পাশের রুমেই ছিলেন তার বাবা-মা।
মধ্যরাতে হঠাৎ তারা মেয়েটিকে ডেকে তোলে—
“জান্নাতী, বাইরে যাবো, চল।”
ঘুমজড়ানো চোখে মেয়েটা অবাক হয়েছিল। এত রাতে কোথায় যাবে, বারবার জানতে চেয়েছিল। কিন্তু বাবা-মা কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু তাড়াহুড়ো করতে থাকে।ো
বাবা-মায়ের কথা বলে সে আর না করেনি। কৌতূহল আর আধো ঘুম নিয়েই বের হয়েছিল তাদের সঙ্গে।
কিছুদূর যাওয়ার পর সে লক্ষ্য করে, তার চাচি শাহিনা বেগমও সঙ্গে আছেন। তখনও জান্নাতী ভাবছিল, হয়তো কোনো দরকারি কাজে সবাই একসাথে যাচ্ছে।
কিন্তু একটু পরেই সে বুঝতে পারে তারা গ্রামের রাস্তা ছেড়ে কৃষি জমির দিকে যাচ্ছে।
মেয়েটা আবার জানতে চেয়েছিল—
“এখানে কেন এসেছি?”
কেউ উত্তর দেয়নি। বরং চুপ থাকতে বলেছিল।
তারপর…
একটি ভুট্টা ক্ষেতের কাছে পৌঁছানোর পর, হঠাৎ পেছন থেকে তার মুখ চেপে ধরা হয়। যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। এরপর মাথা ও শরীরে আঘাত করা হয়।
জান্নাতী দৌড়ে পালাতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি।
এরপর বাবা-মা ও চাচি মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে।
ভুট্টা ক্ষেতের মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে একটি নিষ্পাপ মেয়ের রক্ত।
সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
পরদিন সকালে স্থানীয় কৃষকেরা জমিতে গিয়ে জান্নাতীর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বাবা-মা এসে কান্নার অভিনয় করেন। পরে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়।
কিন্তু তদন্তে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সত্য।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চাচি শাহিনা বেগম স্বীকার করেন— তারা তিনজন মিলে জান্নাতীকে হত্যা করেছে।
কারণ?
৩২ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো।
পরিকল্পনা ছিল— মেয়েকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের নামে মামলা দেওয়া হবে, যাতে তারা জেলে যায় এবং জমি সহজে দখল করা যায়।
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো—
যে বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেই বাবা-মায়ের হাতেই প্রাণ হারায় জান্নাতী।
জান্নাতীর বয়স ছিল মাত্র ১৫। ক্লাস নাইনের ছাত্রী।
শিক্ষক ও সহপাঠীরা বলেছে, সে পড়াশোনায় ভালো ছিল, ভদ্র ছিল, স্বপ্ন ছিল অনেক।
কিন্তু কিছু জমির লোভ তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিল।
আজও প্রশ্ন থেকে যায়—
একটা শিশুর জীবনের মূল্য কি এতটাই কম?
আর কত জান্নাতী এভাবে হারিয়ে গেলে আমাদের বিবেক জাগবে? 💔