23/06/2026
সুস্থতা আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। মানুষ অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অনেক সময় সুস্থতার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারে না। সুস্থ শরীর, নিরাপদ জীবন ও অবসর সবই আল্লাহর দান; তাই এগুলোর শোকর আদায় করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করা মুমিনের দায়িত্ব।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের কাছে যে নিয়ামত আছে, সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে।” অর্থাৎ মানুষের স্বাস্থ্য, শক্তি, কর্মক্ষমতা—সবই আল্লাহর দান। তাই সুস্থতা নিয়ে অহংকার নয়; বরং কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যই হওয়া উচিত।
আবার আল্লাহ বলেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।”
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, সুস্থতার শোকর আদায় করলে আল্লাহ তাআলা সেই নিয়ামতকে বরকতময় করেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ সুস্থতার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন:
“দুটি নিয়ামত আছে, যেগুলোর ব্যাপারে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়—সুস্থতা এবং অবসর।”
এই হাদিসের শিক্ষা হলো—অনেক মানুষ সুস্থ শরীর পেয়েও তা ইবাদত, ভালো কাজ, পরিবার-সমাজের উপকার এবং দ্বীনের কাজে ব্যবহার করে না; ফলে তারা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
আরেকটি দোআতে রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর কাছে সুস্থতা ও নিরাপত্তা কামনা করতেন। এর দ্বারা বোঝা যায়, সুস্থতা কেবল ভোগের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর কাছে চাওয়ার মতো মূল্যবান নিয়ামত।
সুস্থতার নিয়ামতের শোকর আদায়ের কয়েকটি উপায় হলো—
১/পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে যত্নবান হওয়া।
২/হারাম ও গুনাহ থেকে শরীর-মনকে বাঁচিয়ে রাখা
সময় ও শক্তিকে ভালো কাজে ব্যয় করা।
৩/অসুস্থদের সেবা করা এবং নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।
৪/খাদ্য, ঘুম ও জীবনযাপনে পরিমিতি বজায় রাখা।
সুস্থতা এমন একটি নিয়ামত, যা হারিয়ে গেলে মানুষ তার মূল্য গভীরভাবে উপলব্ধি করে। তাই একজন মুমিনের উচিত সুস্থতাকে আল্লাহর আমানত মনে করা, এর জন্য কৃতজ্ঞ থাকা এবং এই নিয়ামতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করা। সুস্থ শরীর যদি ইবাদত, সৎকর্ম ও মানবসেবায় ব্যবহার না হয়, তবে সে নিয়ামতের হক আদায় হয় না।
The Quran translated into many languages in a simple and easy interface