Jannatul Ferdous Ree Mu - জান্নাতুল ফেরদৌস রিমু

  • Home
  • Bangladesh
  • Satkhira
  • Jannatul Ferdous Ree Mu - জান্নাতুল ফেরদৌস রিমু

Jannatul Ferdous Ree Mu - জান্নাতুল ফেরদৌস রিমু শব্দে আঁকি স্বপ্ন
আমার প্রিয় বসন্ত

রামিসার বাবা আজকে কেঁদে কঁদে বলছিল- আমার মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে অনেক আদরে বড় করেছি। ঘুম ভেঙে গেলে মেয়েটা যাতে না কাঁদে তা...
21/05/2026

রামিসার বাবা আজকে কেঁদে কঁদে বলছিল- আমার মেয়েটাকে আমি ছোট থেকে অনেক আদরে বড় করেছি। ঘুম ভেঙে গেলে মেয়েটা যাতে না কাঁদে তাই সবসময় বুকে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম।

আমি কখনো বাইরে থাকলে মেয়েটা ৫০-১০০ টা কল দিতো। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলতো- বাবা, তুমি কখন আসবা?

বাসায় এসে দেখতাম মেয়েটা নিজে নিজেই শরবত বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিছে। আমি রুমে ঢুকা মাত্রই ঠান্ডা শরবত দিয়ে বলতো- আব্বু নাও এটা তোমার জন্যে বানিয়েছি।

আমার বড় মেয়েটা বাবার জন্যে শরবত বানাতে ভুলে গেলেও ছোট মেয়েটাকে ভুলতে দেখি নাই। আমি প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম- আম্মু তুমি এত ছোট মানুষ হয়েও মনে রাখো কিভাবে?

মেয়েটা রাগ করে বলতো- আব্বু আমাকে ছোট বলো কেন? দেখো না আমি ক্লাস টুতে উঠে গেছি। আর আমার রোলও ১, এখন আমি আর ছোট নাই।

এসব নিয়ে মেয়েটা আমার সাথে মাঝেমধ্যে মিথ্যা মিথ্যা অভিমানও করতো।

আমার সাথে অভিমান করা মেয়েটাই পরশুদিন আমাকে বলেছিল- আব্বু ,আমাকে একটা বোরকা কিনে দিবা?

আমার চাচাতো ভাই বলেছিল ফুটপাত থাইকা ৩০০ টাকার কমদামি বোরকা কিনে দিতে তাহলে খরচ কম পড়বে।

কিন্তু আমি সেটা করি নাই। নিউমার্কেট থেকে হাজার টাকা দামের সুন্দর একটা বোরকা কিনে আনছিলাম। কি যে খুশি হইছিল মাইয়াটা।

আমার এই মাইয়াটা সুন্দর হওয়ায় কতজন যে পালক নিতে চাইছিল কিন্তু দেই নাই। নিজে ৩ বছর ধরে পুরাতন ,ছিঁড়া স্যান্ডেল পড়ে কাটাইছি কিন্তু মেয়ে দুইটারে কোনদিন অভাব বুঝতে দেই নাই।

মেয়েটা ঘরে কাবা শরিফের ছবিও লাগিয়ে রাখছিল। আমাকে একদিন বলছিল- আব্বু তুমি কি আমাকে এখানে নিয়ে যাবা?
আমি বলছিলাম- তুমি আল্লাহর কাছে চাও মা। আমার তো নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নাই।

আর এখন আমার মেয়েটাই আল্লাহর কাছে চলে গেছে।
আমার মাইয়াটা আমার একটা হৃৎপিণ্ড ছিল সেটাই আল্লাহ নিয়া গেসে। আমার কোন কষ্ট নাই।

রামিসার বাবা আফসোস করে সবশেষে বলেছে- আমি স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারব আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোন রেকর্ডও নাই।

সর্বোচ্চ ১৫ দিন যাবে তারপর নতুন টপিক আসলে আমার মেয়েকে সবাই ভুলে যাবে। আমি আমার ৫৫ বছরেও কোন সুষ্ঠু বিচার দেখি নাই, তাই আপনারাও কোন বিচার করতে পারবেন না।

রামিসার বাবা এই কথাটা বলেছে কারণ সে জানে এদেশে যারা আইন বানায়, আইন চালায় ওরাই দুর্নীতিবাজ, চরিত্রহীন।

কিছুদিন আগেও ঢাকা থেকে বিএনপির এক বড় নেতা রংপুর আসবে। এখন এই নেতাকে খুশি করার জন্যে ১৫-১৬ বছর কমবয়সী মেয়ে লাগবে।

তাই মেয়ে যোগাড় করার দায়িত্ব এসে পড়েছে বিএনপির ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের কাছে। সে মহিলা দলের নেত্রীকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেছে তার কাছে কোন মেয়ে আছে কিনা যে নেতার মনোরঞ্জন করতে পারবে, শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে।

মেয়ে যোগাড় করে দিতে পারলে নেত্রীকে বড় পদ দেয়া হবে।

মহিলা নেত্রী প্রথমে বলেছে কোন মেয়ে নেই। কিন্তু টাকা এবং পদের লোভে পরে বলেছে- জোরজবরদস্তি করে একজন ম্যানেজ করতে পারবো। মেয়েটা সুন্দর আছে, বাপটা গরীব ভ্যান চালায়।

রামিসার বাবার মতো এই ভ্যানচালক বাবার মেয়েটাও হয়তো বহুবার সম্ভ্রমহানির শিকার হয়েছে, ধ*র্ষিত হয়েছে কিন্তু সে খবর আমরা কেউই রাখিনি।

রামিসার বাবার চোখভেজা কান্নাগুলো আমাদের সামনে এসেছে বলে আমরা প্রতিবাদ করছি, সহানুভূতি জানাচ্ছি কিন্তু সেই গরিব ভ্যানচালক বাবাটার কথাই বা ক'জন ভেবেছি?

রামিসার বাবার মতো সেই বাবাটার কাছেও নিশ্চয়ই তার মেয়েটা আদরের ছিল ,প্রিয় ছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাছে তিনিও নিঃস্ব, বিচার পান নাই।

এমন কতশত মেয়েকেই তো কত বড় বড় নেতা, মন্ত্রীরা ভোগ করে, ক'জনই বা সেটাতে প্রতিবাদ জানিয়েছি?

রামিসার বাবাও আজ বুঝে গেছেন যার কাছে তিনি বিচার চাইবেন তারাই টাকার কাছে অন্ধ কিংবা চরিত্র বর্গা দিয়ে বেড়ায়। তারা চাইলেই বিচার করতে পারে কিন্তু করবে না।

কারণ যেসব নেতারা একটা জেলার প্রোগ্রামে গেলেই মনোরঞ্জনের জন্যে কমবয়সী মেয়ে খুঁজে বেড়ায় তাদের কাছে এসব বাচ্চা মেয়ের ধ*র্ষণ কেইস কিছুই না, খুবই স্বাভাবিক।

তাই রামিসার বাবাও বুকে পাথর চেপে মেয়ের মৃত্যু মেনে নিয়েছেন। বিচারটুকুও চাননি।

আপনি হয়তো ভাবছেন কোথাকার কোন গরিব ভ্যানচালকের মেয়েকে নেতারা ভোগ করতে চেয়েছে, কোন সুদূর মিরপুরের রামিসাকে হ*ত্যা করেছে তাতে আমার কি? নেতা যাকে ইচ্ছা ভোগ করুক।

তাহলে সময় খুব বেশিদিন নেই, আর কিছুদিন পর আপনিও নিজের গলা কা*টা ধ*র্ষিত মেয়ের লা*শ কাঁধে নিয়ে আফসোস করে বলবেন- আমিও বিচার চাই না ,কারণ এদেশে বিচার সম্ভব না

- Ibrahim Khalil Shawon

13/02/2026

ডাক্তার শফিক সাহেব কেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিল ?

পিরোজপুর-২ এ দেলোয়ার হোসেন সাইদির এক ছেলে জিতলে ও অন্য ছেলেকে মাত্র ৭০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৫০০ পোস্টাল ব্যালট বাতিল বানিয়ে ৯২৯ ভোটে হারিয়ে দেয়া হইছে কক্সবাজার টেকনাফের নূর আহমদ আনোয়ারীকে। খুলনাতে মিয়া গোলাম পরোয়ারকে মাত্র ২০০০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামায়াত ৫০০০ এর কম ভোটে হেরেছে এমন আসনের সংখ্যা ৫৩ টি। মূলত এই ৫৩ টি আসনে কারচুপি করে হারানো হয়েছে জামায়াতকে ॥ জামাত প্রকৃত পক্ষে ১৩৫ টি আসনে জিতেছে। কিন্তু ডিপ স্টেট সংখ্যা কমিয়ে ৭০-৮০ টি দিতে চাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডাক্তার শফিক কি করছেন?

ডাক্তার শফিক আমেরিকার রেড লাইন অতিক্রম করে ক্ষমতা গ্রহণের ঝুকি নিতে চাচ্ছেন না। কারণ ইসলামিস্টরা যখন আমেরিকার দেওয়া রেড লাইন অতিক্রম করে, তখন তার পরিণতি কি হতে পারে তা মিশর , তিউনেশিয়া দেখে প্রমাণিত। এছাড়া জামাত ১৭ বছর অনেক জুলুমের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। কর্মীরা কেবল মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। সংগঠনের বিকাশের জন্য সময় দরকার, মুক্ত পরিবেশ দরকার।

তাই ডাক্তার শফিক ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিয়েছে। এটা অনেক বড় ত্যাগ। আমরা যারা অনলাইন এক্টিভিস্ট আছি তারা ব্লেম দিচ্ছি যে জামাত কেন আন্দোলন করছে না। আন্দোলন করে কি হবে? মিডিয়া, সেনাবাহিনী, আমেরিকা, ভারত সবাই এক পক্ষে। এই বিশাল শক্তি জামাতকে দমন করে দিবে। এছাড়া জামাত এতটা জনপ্রিয় দল না যে সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে আসবে। জামাত যে ভোট পেয়েছে, এই ভোটারের বড় অংশই জামাতের আদর্শকে ধারণ করে না।

তাই জামাত সময় নিতে চাচ্ছে। রাজনীতি তো একদিনের জন্য না। জামাতের আপাতত লক্ষ্য হল সিটি নির্বাচন। জামাত তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিবে। তাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিচ্ছে। ডাক্তার শফিক অহেতুক শক্তি খরচ করার লোক না। তিনি ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেবার পরে লীগের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলনে গিয়ে শক্তি খরচ করেন নাই। একবারে চূড়ান্ত আন্দোলনে শক্তি খরচ করেছেন।

এটাই একজন বিচক্ষণ জেনারেলের কাজ। আপাতত ডিপ স্টেট যতটুকু আগাতে দিয়েছে, ততটুকুতেই জামাত তার অবস্থান সংহত করতে চাইছে।

সংগৃহীত

~মানচিত্র...আজকে বড্ড মনে পড়ছে তোমাকে। বুকের ভেতর এক রাত ঝড় নিয়ে শান্ত হয়ে বসে আছি পৃথিবীর মতো। তুমি কি সাইক্লোন না টর্ন...
08/02/2026

~মানচিত্র...

আজকে বড্ড মনে পড়ছে তোমাকে। বুকের ভেতর এক রাত ঝড় নিয়ে শান্ত হয়ে বসে আছি পৃথিবীর মতো। তুমি কি সাইক্লোন না টর্নেডো? নাকি তার চেয়েও বেশি কিছু?
তোমার চোখের কাজল তারা দেখেই অসুখ হয়েছিল ভীষণ।
ইশ! বেহায়া আমি! তবু বলি, চিঠি দিতে গিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় তোমার খোলা চুল দেখেছিলাম। তাই দেখে অসুখে মরণ যেন আমার!

আকাশে বর্ষা ছিল সেদিন। নীল ঢাকা পরে বিবর্ণ করুণ লাগছিল মেঘের মুখটা। ঘড়ির কাঁটা চলছিল ফোঁটায় ফোঁটায়, টিপ টাপ টিপ টাপ! আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। হাতের মুঠোয় কাগজি মেয়েটার দেখা পাব বলে! আকাশে বর্ষা এলো সেদিন।
কই! তুমি তো এলে না!
সম্বোধন ছাড়া সেই চিঠির ভাঁজ সেদিন খুলে দেখনি হয়তো। তাই আজ আবার একই খামে তোমায় লিখতে বসেছি। ১১১০টি চিঠি লিখেছিলাম এরপরে। আজ ১১১১ পূর্ণ হলো। ভেবে রেখে ছিলাম, তুমি এলে মানচিত্রের মতো এই প্রেমগুলো তোমার হাতে ধরিয়ে দেব। বলব,
কই! তুমি তো সেদিন এলেই না!

এই এখনও সম্বোধন ছাড়া এক হাজার একশত এগারোর গল্প নিয়েই বসে আছি, শান্ত হয়ে। অথচ, আমি কান্না হারা! পকেট ছেঁড়া অসহায় ছেলেটার চেয়েও নিঃস্ব লাগছে নিজেকে। স্বপ্ন দেখা কথাগুলোও হারিয়ে গেছে। লেখার মৃত্যু হলেও,
কই! তুমি তো এলে না!

--জান্নাত

___রিপোস্ট

08/02/2026
৩৬ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী।তার অভিযোগগুলো প্রথমে খুব সাধারণ মনে হয়েছিল: "নার্স প্লিজ... আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ক...
26/01/2026

৩৬ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী।

তার অভিযোগগুলো প্রথমে খুব সাধারণ মনে হয়েছিল: "নার্স প্লিজ... আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে, শরীর খুব দুর্বল লাগছে, আর সকাল থেকে বাচ্চাটাও ঠিকমতো নড়াচড়া করছে না।"

তার মুখটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। চোখগুলো ছিল ভারি।

আমরা তার রক্তচাপ পরীক্ষা করলাম।
ভীষণ বেশি। বিপজ্জনকভাবে বেশি।

প্রস্রাবে প্রোটিন। পা ফোলা। সবখানেই সতর্কবার্তা।

সিভিয়ার প্রি-একলাম্পসিয়া (Severe pre-eclampsia)।

আমরা তাকে বুঝিয়ে বলার আগেই, হঠাৎ তিনি বেডের রেলিংটা শক্ত করে ধরে বললেন, "আমার মাথা ঘুরছে..."

আর ঠিক তখনই সেটা ঘটল।

তার চোখের মণি উল্টে গেল। পুরো সাদা।

তিনি সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিলেন।

আমরা জোরে জোরে তার নাম ধরে ডাকলাম। কোনো উত্তর নেই।ধীরে ধীরে তাকে ঝাঁকালাম। চিমটি কাটলাম। তবুও কিছুই না।

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো রুমের চিত্র বদলে গেল।

অক্সিজেন লাগানো হলো। দ্রুত আইভি লাইন (IV lines) দেওয়া হলো। মনিটরের অ্যালার্মগুলো চিৎকার করতে শুরু করল।

বাচ্চাটি তখনও তার ভেতরে।

আর মা... আমাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছিলেন।

তাকে সরাসরি থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো জরুরি সিজারিয়ান সেকশনের (Emergency C-section) জন্য।অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ভয় আমাদের জাপটে ধরেছিল।

তার চোখের মণি তখনও উল্টে আছে। কণ্ঠস্বর, ব্যথা বা স্পর্শ—কিছুতেই তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না।

অ্যানেস্থেটিস্ট বারবার তার নাম ধরে ডাকছিলেন। নিস্তব্ধতা।

তারপর হঠাৎ তার ভাইটালস (Vitals) কমে যেতে শুরু করল।

সার্জন শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন: "আমরা আর অপেক্ষা করতে পারব না।"

অস্ত্রোপচার শুরু হলো।

দ্রুত বাচ্চাটিকে বের করে আনা হলো।একটি ছেলে সন্তান।

কোনো কান্না নেই।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দ্রুত ব্যবস্থা নিলেন। সাকশন, অক্সিজেন, স্টিমুলেশন।

প্রতিটি সেকেন্ড যেন এক একটি বছর মনে হচ্ছিল।

তারপর...

একটি দুর্বল কান্নার আওয়াজ।

তারপর আরও একটি।

জীবন।

সারা ঘরে স্বস্তির নিঃশ্বাস বয়ে গেল, কিন্তু তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।

কারণ মা তখনও জেগে ওঠেননি।মিনিট পার হয়ে গেল।

তার চোখ তখনও সাদা। শরীর নিথর।

কেউ একজন ফিসফিস করে বলল, "যদি তিনি আর ফিরে না আসেন?"

আমরা তার নাম ধরে ডাকতেই থাকলাম।

কিছুই না।

তারপর হঠাৎ তার আঙুলগুলো নড়ে উঠল।

মাত্র একবার।

সবাই স্থির হয়ে গেল।

আমরা আবার তার নাম ধরে ডাকলাম।আমরা তার নাম ধরে ডাকতেই থাকলাম।

কিছুই না।

তারপর হঠাৎ তার আঙুলগুলো নড়ে উঠল।

মাত্র একবার।

সবাই স্থির হয়ে গেল।

আমরা আবার তার নাম ধরে ডাকলাম।

এবার... তার চোখের পাতাগুলো কেঁপে উঠল।

ধীরে ধীরে... যন্ত্রণার সাথে... তিনি চোখ মেললেন।

বিহ্বল। দিশেহারা।

প্রথম যে কথাটি তিনি ফিসফিস করে বললেন:

"আমার বাচ্চা... আমার বাচ্চা কোথায়?"আমরা বাচ্চাটিকে কাছে নিয়ে এলাম।

কান্নার আওয়াজে থিয়েটার ভরে গেল।

তার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। আমাদের চোখেও জল।

কারণ কিছু সময় আগেই... আমরা ভেবেছিলাম আমরা তাকে হারিয়ে ফেলছি।

আজ থিয়েটার হয়ে উঠেছিল ভয়, নিস্তব্ধতা, প্রার্থনা এবং করুণার এক মিলনস্থল।

দুটি প্রাণ ঠিক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল।

দুজনই ফিরে এসেছে।

এবং আমরা আবার মনে করিয়ে দিলাম:কখনও কখনও জরুরি অবস্থা খুব নিঃশব্দে আসে। কখনও কখনও পতন ঘটে হঠাৎ করেই। আর কখনও কখনও... অলৌকিক কিছু ঘটে যখন সবাই আশা ছেড়ে দেয়।

এই লেখাটি পড়া প্রত্যেক মায়ের জন্য:

আপনার জীবনের গল্প শেষ হয়ে যাবে না। প্রসবের সময় আপনার প্রাণহানি হবে না। আপনার সন্তান বেঁচে থাকবে। আপনার আশীর্বাদগুলো হারিয়ে যাবে না। যা কিছু হারিয়ে গেছে মনে হচ্ছে, ঈশ্বর সেখানে জীবন ফিরিয়ে দেবেন।

বিভ্রান্তি থেকে জন্ম নেওয়া এক শিশু... করুণায় বেঁচে যাওয়া এক মা... স্বর্গের সুরক্ষায় ঘেরা।

এটি কেবল চিকিৎসা ছিল না।এটি ছিল এক অলৌকিক ঘটনা যা নীরব থাকতে অস্বীকার করেছিল।

অন্য কোনো মায়ের মঙ্গল কামনায় এটি শেয়ার করুন।
Cp

ইশশ!বিয়ের পর একটা বিশেষ চুক্তি করেছিলাম স্ত্রীর সঙ্গে — সে যতগুলো ইসলামিক বই পড়বে, প্রতি বইয়ের জন্য তাকে ৫০০ টাকা হাদিয়া...
09/01/2026

ইশশ!

বিয়ের পর একটা বিশেষ চুক্তি করেছিলাম স্ত্রীর সঙ্গে — সে যতগুলো ইসলামিক বই পড়বে, প্রতি বইয়ের জন্য তাকে ৫০০ টাকা হাদিয়া দিবো।
শর্ত একটাই — ঘুমানোর আগে বইয়ের মূল কথা (তালখিস) আমাকে শুনাতে হবে।

শুরুতেই দেখলাম, মাত্র তিন মাসে স্ত্রী প্রায় ১১ হাজার টাকা নিয়ে নিলো। বইগুলো ছিলো সব তাঁর প্রিয়—ইমাম গাজ্জালী, ইবনে কাইয়্যিম, কিংবা সমসাময়িক ইসলামী সাহিত্য।

আমি তো চিন্তায় পড়ে গেলাম!

মাসিক বাজেটের তছনছ দশা!

এভাবে চললে টাকাপয়সা সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। চুক্তি বাতিলও করতে পারি না— কারণ "মুমিনের ওয়াদা ওয়াজিব!"

তাই ডিলে কিছু পরিবর্তন আনলাম—একই লেখকের পাঁচটির বেশি বই টানা পড়া যাবে না। তাতেও মানিব্যাগ খুব একটা সুস্থ হলো না।

অবশেষে একদিন বললাম—

তোমার জন্য আজ ধামাকা অফার! একটি বই শেষ করতে পারলে পাবে একসাথে ৫০০০ টাকা! শুধু বইয়ের মূল বক্তব্যটা আমাকে জানাবে।

স্ত্রী সানন্দে রাজি হলো।

আমি হাতে ধরিয়ে দিলাম ইমাম গাজ্জালীর ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’।

আজ চার মাস ষোলো দিন পার হলো...

স্ত্রী এখনও পড়ছে, আর আমি ভাবছি—জ্ঞানার্জনের এই প্রতিযোগিতা চলুক, এটাই হবে সংসারের সবচেয়ে বরকতময় সম্পদ ইন শা আল্লাহ।

In sa allah one day 🌸🤲

©

পুনরুত্থানপর্ব ২-জান্নাতুল ফেরদৌস রিমুঝন ঝন ঝন শব্দে চোখ মেলে তাকাল। সাথে সাথেই যেন মাথায় ধাক্কা খেল তীব্র যন্ত্রণা। চোখ...
29/12/2025

পুনরুত্থান
পর্ব ২
-জান্নাতুল ফেরদৌস রিমু

ঝন ঝন ঝন শব্দে চোখ মেলে তাকাল। সাথে সাথেই যেন মাথায় ধাক্কা খেল তীব্র যন্ত্রণা। চোখ বন্ধ করে খানিক সয়ে নিল ব্যাথাটা। তারপর আবার চোখ মেলল ধীরে ধীরে। চোখের সামনে ভেসে উঠল, গোল পাতার ছাদ। আস্তে আস্তে চোখ ঘুরিয়ে দেখল একটা কুঁড়েঘরে শুয়ে আছে ও। বিছানাটা শক্ত। ঘরে তেমন আসবাব নেই। মাটির ঘরের কোণায় একটা ছোট খাট আলমারি। তাতে দু চারটে কাপড় গুছিয়ে রাখা। এর পাশেই একটা চারপায়া টেবিল। তার উপরে স্টিলের মগ, থালা এসব টুকটাক প্রয়োজনীয় আসবাব রাখা। উঠে বসতে চাইল। কিন্তু মাথা ভীষণ ভারী হয়ে আছে। আস্তে-ধীরে মাথাটা চেপে ধরতে গিয়ে হাতে টান পড়ল। দেখতে পেল ক্যানেলা পরানো। পাশে স্যালাইন রাখা। ক্যানেলা হাত থেকে ছাড়িয়ে মাথা চেপে ধরে উঠে বসল। মাথায় কাপড় বাঁধা। কখন বেঁধেছে কেন বেঁধেছে কিছু মনে পড়ল না। চোখে পড়ল, মাটির মেঝেতে স্টিলের থালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ওকে উঠে বসতে দেখে টেবিলের তলা থেকে একটা ছোট বিড়াল ডেকে উঠল, মিঁউ মিঁউ। তারপর বেরিয়ে এসে লেজ দুলাতে দুলাতে ঘরের বাইরে চলে গেল। বোঝা গেল বিড়ালটিই ফেলেছে এসব। থালা পড়ার শব্দে ঘরে একজন ষোড়শী কন্যা ছুটে এলো। মেয়েটির মাথায় ঘোমটা তোলা। বৌ বৌ মুখ যেন। শালীন গোল জামা। দরজার সামনে এসে এক পলক ওকে বসা দেখতে পেল। মুখ রক্তিম হলো মেয়েটির। পেছন ফিরে দাঁড়াল। সাথেই সাথেই মাথার ঘোমটা সরে গেল। বেরিয়ে এলো লম্বা ঘন কালো কেশ। ইশ! এত লজ্জা! মেয়েটি আর দাঁড়াল না। বাসন না তুলেই ছুটল আবার। মেয়েটিকে দেখে ও কথা বলতে ভুলে গেল। পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। কিন্তু ভ্রম কাটিয়ে বলবার আগেই মেয়েটি চলে গেছে। কেন এলো কেন গেল কিছুই বুঝল না।

খানিকক্ষণ সময় পর ঘরে ঢুকলেন একজন বৃদ্ধ। চেহারা নূরে পরিপূর্ণ। কপালে কালো দাগ পড়েছে। শুভ্র পাঞ্জাবি পরনে।মাথায় শুভ্র টুপি। বয়স অনেক বেশি না। পঞ্চাশের আশে পাশে হবে। দেহ এখনও সুঠাম। ঘরে ঢুকে তিনি এক গাল হাসলেন ওকে দেখে। বললেন, বাবা! এখন কেমন লাগছে?
বৃদ্ধের হাসি দেখে ওর মন জুড়িয়ে গেল। বলল, ভালো। ভালো লাগছে। পানি খাব।
এ কথা শুনে বৃদ্ধ গলা উঁচিয়ে হাঁক দিলেন, কই রে মা পানি আন তো।
বলে তিনি পড়ে থাকা থালা বাসনগুলো তুলে রাখলেন টেবিলের ওপর।
একটু পর সেখানে একজন কালো কাপড়ে আবৃত নারী এসে দরজার কাছে একটি পানির জগ রেখে গেল। বৃদ্ধ তা থেকে মগে ঢেলে ওকে পানি দিল।

পানি খেয়ে মগটা বৃদ্ধের হাতে দিল। বৃদ্ধ সেটা তুলে রেখে আবার চকির পাশে রাখা চেয়ারে এসে বসল। বলল, তোমার আর কোথায় কোথায় ব্যাথা আছে বলতে পারো?

ও বলল, আমার মাথায় ব্যাথা করছে খুব। ডান পাশের চোখেও কিছুটা ঝাপসা লাগছে সব। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না? আমি কোথায়?

বৃদ্ধ বললেন সব জানবে ধীরে ধীরে। কেবল জেগে উঠেছ। আমার ধারণার চেয়েও দ্রুত চেতনা ফিরেছে তোমার। তোমার মাথার ক্ষতে ওষুধ লাগানোর সময় হয়ে গেছে।
বলতে বলতেই আবার এলো সেই কালো কাপড়ে আবৃতা নারী। হাতে একটা ট্রে। তাতে সুতি কাপড়, খাবারের বাটি, ওষুধের ছোট ছোট কয়েকটি শিশি রাখা। খাবারের বাটি থেকে ধোঁয়া উঠছে। সেটি টেবিলের উপর রেখে আবারও চলে গেল সে। খাবারের ঘ্রাণে টের পেল বড়ই ক্ষুধা পেয়েছে ওর। মনে হলো কতদিন খাওয়া হয় না।
বৃদ্ধ ট্রে থেকে ওষুধগুলো তুলে আনলেন। পুরোনো বাঁধন খুলে নতুন করে ড্রেসিং করে দিলেন। বেঁধে দিলেন সুতি কাপড় দিয়ে। ওর শরীর খুবই দুর্বল লাগছিল। তাই মাথায় এত প্রশ্ন থাকলেও সে তখন প্রশ্ন করার মন বা শরীরের কোনো টান পেল না। সুস্থতা অনেক বড় সুখ। অসুস্থ না হলে বোঝা যায় না। বৃদ্ধ যাই করতে লাগল ও কিছুতেই বাঁধা দিল না। সব কিছু কেমন ঘোরের মতো লাগল। ড্রেসিং শেষে সুতি কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে দিল ওর মাথা। তারপর বাটিতে রাখা খাবার খেতে দিল ওকে। ক্ষুধার জ্বালায় সেই বাটি থেকে গরম তেঁতো পানীয় পেট ভরে খেল ও। হাতে নতুন করে ক্যানেলা পরিয়ে দিল বৃদ্ধ। বললেন, এখন শুয়ে পড়ো। এই ঘুমের পর আশা করি তোমার মাথা ব্যাথাটা আর এত তীব্র থাকবে না। চোখেও ভালো দেখতে পাবে ইন শা আল্লাহ।
বিছানায় পিঠ লাগাতেই ঘুম জড়িয়ে এলো চোখে। যেন তলিয়ে যেতে লাগল নিরুদ্দেশের ঠিকানায়।

জ্যৈষ্ঠ মাস। দোসরা দিন। দুপুরের খাঁ খাঁ রোদ্দুর। গোল পাতার ছাউনিতে অসহ্য গরম। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে চোখেমুখে পড়ছে। গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে জানালার অপর দিকে কাত হয়ে শুয়ে রইল খানিকক্ষণ। ঘুমের রেশ কেটে গেলে দেখতে পেল আজকে ঘরের দরজাটা ভেজানো। উঠে বসল। একটা ফ্যান বা পাখা কিছুই নেই। মাথায় চিনচিনে একটা ব্যথা করছে। তবুও ঝরঝরে লাগছে। গোসল করতে পারলে আরো ফ্রেশ লাগত। মুখে হাত দিয়ে দেখল দাড়ি হয়েছে অনেকখানি। টেবিলের উপরে একটি আয়না ঝুলানো। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দেখল, লম্বাটে ভরাট মুখ। দাড়িগুলো খানিক লম্বা। কপালে সুতি কাপড়ের বাঁধন। শুকনো মুখ। উজ্জ্বল শ্যামলা বরণ। নিজেকে পরখ করে দেখতে লাগল ও।

মিঁউ মিঁউ! দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরে প্রবেশ ঘটল ছোট্ট বিড়ালটির। গায়ের রঙ কালোর উপর কমলা আর সাদার মিশেলে। বিড়ালটি হয়তো পোষা। ঘরে ঢুকেই ওর পায়ে পায়ে ঘুরতে লাগল। ভালো লাগল ওর। কোলে তুলে কথা বলতে লাগল, এই আদুরে! বল তো গোসল করার জায়গাটা কোনদিকে।
বৃদ্ধ ঘরে প্রবেশ করতে করতে বললেন, উঠে পড়েছ? এখন কেমন লাগছে?

ও বলল, ভালো লাগছে। মাথা ব্যথা আগের মতো নেই৷ চোখেও ভালো দেখছি। বলছিলাম, আপনি কে? আমি এখন কোথায়?

বৃদ্ধ বললেন, আমাকে তুমি চিনবে না৷ আমি এই গ্রামের মসজিদের ইমাম ও চিকিৎসক। আমি এখানে আসার পর থেকে গ্রামের লোকেরা সদর হাসপাতালে তেমন গুরুতর না হলে যায় না। ওটা খুব দূরে। আমি বংশ পরম্পরায় একজন চিকিৎসক আলহামদু লিল্লাহ। আর দ্বীনের বিষয়ে পড়াশোনা করা হয়েছিল তাই এখানে মসজিদকে চলমান রাখার চেষ্টা করি। নয়তো আল্লাহর সব বান্দারা আল্লাহর ঘরে হাজিরা দিতে চায় না। তুমি আমার ছেলের মতো তাই তুমি করে বলছি কিছু মনে করো না৷

ও- না কী মনে করব। আপনি মুরব্বি মানুষ। তুমি করেই বলুন। কিন্তু আমি এখানে কী করে এলাম?

বৃদ্ধ- গ্রামের লোকেরা তোমাকে নদীর ধার থেকে তুলে এনে আমার কাছে রেখেছে। এরপর প্রায় এক সপ্তাহ তুমি এই গরীবের ঘরে কোমায় ছিলে। আমার ভাতিজি খুবই লক্ষী মেয়ে। ও এখনও আমার কাছে চিকিৎসা শিখছে। এই কয়দিন মেয়েটাও তোমাকে সুস্থ করতে লেগে ছিল। আল্লাহ তোমাকে ভীষণ সুন্দর স্বাস্থ্য দিয়েছেন মা শা আল্লাহ। আমি তোমার ক্ষতের গভীরতা দেখে ভেবেছিলাম তোমার জ্ঞান ফিরতে অন্তত এক মাস সময় লাগবে। আল্লাহ তোমাকে অতিদ্রুত সুস্থ করবেন ইন শা আল্লাহ।

ও বলল, আপনাকে দেখে ডাক্তার মনে হয় না চাচা। আচ্ছা, আমার কী হয়েছিল? আমি কোমায় ছিলাম কেন?
প্রশ্নটি যেন নিজেই নিজেকে করল ও। বেখাপ্পা শোনাল নিজের কানেই। মনে করতে চাইল কী কারণে ব্যথা লেগেছিল? মনে পড়ল না। আরও ভাবল নিজের সত্তাকে, নিজের নাম কী? একদম বোকা লাগছে। কিছুই মনে পড়ছে না। জোর করে মনে করতে গেলে মাথার যন্ত্রণা বাড়ছে।

বৃদ্ধ বুঝতে পারলেন। বললেন, থাক এখন আর মস্তিষ্কে বেশি চাপ দিও না। ধীরে ধীরে মনে পড়বে। তোমার মাথার ডান পাশ আর ডান চোখ লৌহ জাতীয় কিছুর সাথে লেগে আঘাত পেয়েছিল। অনেক বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। আল্লাহ তোমাকে অনেক অল্পেই বিপদ কাটিয়ে দিয়েছেন। নদীতে কী করে পড়লে সেটাই বুঝতে পারছি না। তোমার তো কিছুই মনে পড়ছে না। জানার উপায় নেই। এখন খাবারের সময় হয়েছে। খেয়ে নাও বাবা।

ও বলল, আমাকে একটু গোসল করার জায়গাটা দেখিয়ে দিন চাচা! শরীর খুব ভার লাগছে।

বৃদ্ধ - এই দেখ, আমার মাথা থেকেই বেরিয়ে গেছিল বিষয়টা। চলো তাহলে। আমাদের বাড়িতে পুকুর আছে। পুরুষ মানুষ পুকুরে গোসল করি। তোমার শরীর এখনও বেশ দুর্বল। সিঁড়িতে বসে গোসল করে নাও। বেশি নীচে নামতে হবে না।

ও চাচার কথা মেনে নিয়ে তাঁকে অনুসরণ করল।

গোধূলি। চাচার খোঁজে বাইরে এসে দাঁড়াল ও। চাচা হয়তো বাড়িতে নেই। অপরিচিত জায়গায় কী করবে বসে বসে? গ্রামের পরিবেশ সুন্দর। এই বাড়িটাও সুন্দর। সূর্যের পড়ন্ত রোদ তেরছা ভাবে এসে পড়েছে কুঁড়েঘরের সামনের উঠোনে। কমলা রঙে ছেয়ে আছে বিশাল উঠোন। উঠোনের কিনার ধরে সারি সারি ফুল গাছের টব। নয়নতারা, সন্ধ্যামালতি, বেলী, ঘাসফুল, গন্ধরাজ আর উঠোনের ঠিক মাঝখানে একটা বড় শিউলি ফুল গাছ। দেখতে ভীষণ মনোরম। একটা মিহি ঘ্রাণে ভরে আছে উঠোন। ছায়া ঘেরা জায়গাটায় এখানে সেখানে পড়ে আছে শিউলি ফুল। দেখতে দেখতে মন জুড়িয়ে যায়। অপরপাশে একটা পুরোনো আধাপাকা দালান। টিনশেডের ছাদ। রঙহীন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তবুও আলো ঝলমলে।খোলা জানালা দিয়ে এক ঝলক দেখতে পাওয়া গেল সেদিনের সেই মেয়েটাকে। চুলে বেণী গাঁথছিল বোধ হয়। গোলগাল মুখে হাসি লেগে আছে। যেন দুনিয়ার সব রঙ সব সুখ এই মেয়ের মনেই। হঠাৎ চোখাচোখি। মেয়েটা বিব্রত হলো বোধ হয়। তবুও ও গাঢ় চোখে তাকিয়েই আছে। মেয়েটার কপাল কুঁচকে গেল। ঘন কালো ভ্রুদ্বয় কাছাকাছি এলো। শ্যামলা গোল মুখে নামল রাজ্যের রাগ। এরপর ঢপাস শব্দে বন্ধ হলো জানালার কপাট। মুখের ওপর এভাবে জানালা বন্ধ হওয়াতে ওর একটু অপমানিত লাগল বৈকি!
কখন যে পুরোপুরি সূর্য পালিয়ে গেছে আর অন্ধকার নামতে শুরু করেছে খেয়ালই হয়নি ওর।
"আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার" পাশেই মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আযান। ধ্যান ভাঙল সে শব্দে। অযূ সেরে মসজিদে গেল ও। মসজিদে গিয়ে পাওয়া গেল বৃদ্ধ চাচাকে। ইমাম বলেই হয়তো জলদি আসেন তিনি। ওকে দেখে বলল, তুমি মুসলিম কি না জানতাম না তো আর তোমারও কিছু মনে নেই তাই তোমাকে ডাকিনি বাবা। ভালো লাগল তোমাকে মসজিদে দেখে। ও বলল, আমি নামায- মসজিদের সাথে পরিচিত। বেসিক জিনিসগুলো মনে আছে হয়তো। উত্তরে বৃদ্ধ হাসলেন শুধু।
সালাত শেষে কিছু সময় মাসনূন আমল করালেন সকলকে সেই বৃদ্ধ ইমাম। তারপর ওর দিকে ইশারা করে সবাইকে বললেন এই সেই যুবক যাকে আপনারা নদী থেকে তুলে নিয়ে এসেছিলেন এক সপ্তাহ আগে। সবাই মুখ ঘুরিয়ে ওর দিকে তাকালে ও একটু বিব্রত বোধ করল এত লোকের সামনে। সামান্য হাসল। একজন বয়স্ক মুসল্লী বললেন, তুমি এখন সুস্থ? ও উত্তরে বলল, হ্যাঁ ভালো। ওর দিকে তাকিয়ে সেই মুসল্লীর পরিচয় দিলেন ইমাম সাহেব। ইনি মোতালেব ভাই। তুমি চাচা ডাকতে পারো। এই ভাইয়ের ছেলেই তোমাকে রক্ত দিয়েছিল।

এ কথা শুনে ও কৃতজ্ঞতা জানাল মোতালেব চাচাকে। মোতালেব চাচা বললেন, তোমার অবস্থা খুব খারাপ আছিল। আমরা তো আশা ছাইড়া দিসিলাম প্রায়। তবে রাখে আল্লাহ মারে কে? আল্লাহ তোমার হায়াত রাখছে। আমার ছেলেটা এসব সামাজিক সেবার কাজ করে বুঝছ। অয় তোমারে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলছিল। ইমাম সাব কইল হাসপাতাল তো দূরে। রক্ত অনেক গেছে। আঘাত খুব গভীর। চেষ্টা করে দেখি। ইমার্জেন্সি রুগী আগে ইমার্জেন্সি চিকিৎসা দিয়ে দেখি। আমি মনে হয় পারব ইন শা আল্লাহ।
ইমাম সাহেবের চিকিৎসার উপর বিশ্বাস আছে আমাগো গ্রামবাসীর। আল্লাহ ভরসা কইরা এইখানেই তোমার জন্য সব ব্যবস্থা করছি সবাই।

আবারও সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাল ও। সবার এই ভালোবাসায় ওর মন ভরে গেল৷ কাউকে চেনে না আবার তারাও ওকে চেনে না। অথচ কতটা করেছে ওর জন্য। এর ঋণ শোধ করা অসম্ভব।

অপর একজন মুসল্লী চাচা জানতে চাইলেন, তা বাবা তোমার নাম কী? কোন জায়গার পোলা তুমি?
এই প্রশ্নে উত্তরহীন হয়ে চেয়ে রইলে ইমাম সাহেব বললেন, ওর কিছু মনে নেই। দুর্ঘটনায় ওর মাথায় বড় ধরণের আঘাত লেগেছিল। স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এখন আপাতত এই গ্রামেই থাকতে হবে ওর যতদিন না সবকিছু মনে পড়ে যায়।

গ্রামের মেম্বার সাহেবও নামাযে এসেছিলেন। ছেলেটির ব্যাপারে জানতেন তিনি। মাঝে মাঝে খোঁজও নিয়েছেন। কিন্তু জ্ঞান ফেরার ও স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার খবর তিনি জানতেন না। মসজিদে এখন জানতে পেরে বললেন, তাহলে তো এই ছেলের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এই কয়দিন না হয় হুশ আছিল না তাই ইমাম সাহেবের বাড়িতে ছিল। এখন তো আর তারে ইমাম সাবের বাড়িতে রাখন যায় না। তাঁর বাড়িতে বিয়ের উপযুক্ত কন্যা আছে। পরিবারে আর কেউ নাই। এমন ফাঁকা বাসায় তো বেটা ছেলে রাখা নিরাপদ না।

এতে গ্রামের সকল মুসল্লী একমত হলো। একজন বলল, আসলেই তো। মেম্বার সাব একটা যুক্তির কথা কইছে। নাম ধাম নাই পরিচয় ঠিকানা কিছুই জানা নাই এমন একটা বেটা ছেলে মানুষ তো কারো বাড়িতেই রাখা ঠিক না। মেম্বার সাব! আপনিই একটা সিদ্ধান্ত নেন কই থাকতে দেওয়া যায় এই ছেলেরে।
তখন মেম্বার সাহেব বললেন, আমার বাড়িতে শুধু আমার বিবিই মহিলা মানুষ। সে তো বাহিরেও বের হয় না। বাড়ির বাইরের মেহমান খানায় থাকার ব্যবস্থা করলে ঠিকঠাক লাগে আমার কাছে। ওখানে আরামেও থাকতে পারবে সে আর আমার লোকেরাও ওর খাতির যত্ন করতে পারবে। আর যা চিকিৎসা বাকি আছে নিয়মিত ইমাম সাব আমার বাড়িতে আইসা দেইখা যাবে তারে। আপনারা কী বলেন!

এই সিদ্ধান্ত গ্রামের সবারই মনঃপুত হল। সবাই একযোগে রাজি হয়ে গেল। নতুন একটা নাম দিলেন ইমাম সাহেব ওকে। "ওমর"। এটাও সবাই পছন্দ করল। এসব আলাপ আলোচনায় ইশার ওয়াক্ত হয়ে গেল। তাই একেবারে ইশা পড়েই সকলে যার যার বাড়িতে গেল। আর ওমরকে মসজিদ থেকেই মেম্বারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হল।

Address

Satkhira

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jannatul Ferdous Ree Mu - জান্নাতুল ফেরদৌস রিমু posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share